a
সংগৃহীত ছবি
বিভিন্ন খাবারে এলাচ মশলা হিসেবে ব্যবহার হলেও এলাচের রয়েছে বহু অসুখ নিরাময়ের অনেক গুণ। নীচে আমরা জেনে নিই এলাচের সেই গুণাগুণ সম্পর্কে-
১। সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয় এই এলাচ। চায়ের সঙ্গে মধু মেশানো এলাচ খেলে কমে সর্দি-কাশির উপদ্রব।
২। নিয়মিত এলাচ খেলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে।
৩। এলাচ ওজন কমাতে সাহায্য করে।
৪। এলাচের মধ্যে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা ত্বকে ছাপ, বলিরেখা পড়তে বাধা দেয়।
৫। মুখের দুর্গন্ধ হাত থেকে বাঁচতে মুখে রাখুন দু-তিনটে এলাচ।
৬। নিয়মিত এলাচ খেলে কমতে পারে ক্যানসারের সম্ভবনা।
৭। মুখের ঘা, মাড়ির ক্ষত ইত্যাদিতে এলাচ অব্যর্থ ওষুধের কাজ করে।
ফাইল ছবি
ঝিনাইদহ সদর পৌরসভার পবহাটি গ্রামের শিক্ষিত যুবক সোহেল রানা। আব্দুল খালেক ও আলেয়া বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড়। পিতার ৮ শতক জমির উপর বসতবাড়ি ছাড়া কিছুই ছিলো না। শহরের পবহাটি সিটি মোড়ে একটি মুদি দোকান আছে তাদের। সেই আয় দিয়ে ৭ সদস্য’র সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন পিতা আব্দুল খালেক।
টানা পোড়েন সংসারে ২০০৮ সালে এসএসসি ও ২০১৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেও অসচ্ছলতার কারণে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে বিএসএস কোর্স ও ২০১৮ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ কোর্স সম্পন্ন করেন।
পিতাকে সহযোগিতা করতে লেখাপড়ার পাশাপাশি ২০১২ সালে গ্রামের মাঠে ১০০ শতক জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন পেঁপে চাষ। ৬ মাসের মধ্যে পেতে শুরু করেন সফলতা। ৩ বছরে ভালো ফলন পান তিনি। কিন্তু টাকার জন্য আবাদ বৃদ্ধি করতে পারছিলেন না। ২০১৫ সালে কৃষি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে পুরোদমে শুরু করেন পেঁপের আবাদ। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কয়েক বছরে ভালো লাভ করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ৭৫০ শতক জমিতে পেঁপের আবাদ করছেন। উৎপাদিত পেঁপে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন কাচাবাজারে পাঠান তিনি। আবাদ করে যা লাভ হয়েছে তা দিয়ে করেছেন বাড়ি, বোনদের বিয়ে দিয়েছেন। এখন তিনি স্বাবলম্বী। বর্তমানে প্রতিবছর তিনি ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেন।
সোহেল রানা বলেন, ‘আমি এক সময় খুবই কষ্ট করেছি। অভাবের সংসারে ভালোমত লেখাপড়াও করতে পারিনি। তারপরও অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া শেষ করেছি। এর মাঝেই পেঁপের আবাদ করি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আজ আমি পেঁপে চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছি। শুধু চাকরির পেছনে না ঘুরে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে চাষাবাদ করলেও ভাগ্য ফেরানো সম্ভব।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, সোহেল রানা বিভিন্ন জাতের পেঁপে আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাকে বিভিন্ন ভাবে আমরা সহযোগিতা করেছি। আগামীতেও যদি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার জন্যে এগিয়ে আসেন, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করা হবে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ছবি: সংগৃহীত
৩৬ বছরের অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে চরম নাটকীয়তার এক ফাইনাল শেষে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বককাপ শিরোপা জিতলো আর্জেন্টিনা। রোববার (১৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ফাইনালে মাঠে নামে দু'দল। ম্যাচের ২৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দেন লিওনেল মেসি। এরপর ম্যাচের ৩৬ মিনিটে আর্জেন্টিনার লিড বাড়িয়ে দেন ডি মারিয়ে। এরপর আক্রমণ করেও গোল করতে ব্যর্থ হয় ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত আর কোন গোল না হলে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। বিরতি থেকে ফিরে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরায় কিলিয়ান এমবাপ্পে। শেষ পর্যন্ত আর কোন গোল না হলে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ফাইনাল ম্যাচটি। অতিরিক্ত সময়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় দু'দল। তবে অতিরিক্ত সময়ের বিরতি থেকে ফিরেই মেসির গোলে লিড পায় আর্জেন্টিনা। এরপর পেনাল্টি থেকে গোল করে আবারও ফ্রান্সকে সমতায় ফেরায় এমবাপ্পে। এরপর টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচটি। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতলো আর্জেন্টিনা।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। তবে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। এরপর ম্যাচের ৯৪ মিনিটে আক্রমণে যায় ফ্রান্স। তবে তা ক্লিয়ার করে দেন ডিফেন্ডাররা। ম্যাচের ৯৮ মিনিটে ডি পল ক্রস করলেও তা চলে যায় সাইড লাইনের বাইরে।
এরপর ম্যাচের ৯৯ মিনিটে কোম্যান ক্রস করলেও তা নিজের দখলে নেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ম্যাচের ১০০ মিনিটে বাম দিক থেকে ফ্রি কিক পায় ফ্রান্স। সেখান থেকে কোম্যানের নেওয়া দেড করে ক্লিয়ার করলেও কর্নার পায় ফ্রান্স। তবে কর্নার কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
ম্যাচের ১০৪ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর থেকে শট করেন আকুনা। তবে তা চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। ম্যাচের ১০৫ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। লাওতারো মার্টিনেজের নেওয়া শট আটকে দেন দায়ত উপামেকানো। এরপরে শট করলেও তা হেড করে ক্লিয়ার করেন রাফায়েল ভারানে। শেষ পর্যন্ত কোন গোল না হলে সমতায় থেকে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স।
অতিরিক্ত সময়ের বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। তবে জায়গা ছেড়ে বেড়িয়ে এসে ক্লিয়ার করে দেন হুগো লরিস। এরপর মেসির নেওয়া শটও আটকে দেন লরিস। ম্যাচে ১০৮ মিনিটে গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। ডি বক্সের ভেতর থেকে শট করে বল জালে জড়ান লিওনেল মেসি। তার গোলে ম্যাচে ফের লিড পায় আর্জেন্টিনা।
এরপর গোল শোধে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ফ্রান্স। ম্যাচের ১১৫ মিনিটে কর্নার পায় ফ্রান্স। সেখান থেকে ম্যাচের ১১৬ মিনিটে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে ফের গোল করে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরায় এমবাপ্পে। সেই সঙ্গে নিজের হ্যাট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। এরপর ম্যাচের ১১৯ মিনিটে কর্নার পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে অসাধারণ সেভে দলকে রক্ষা করেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। শেষ পর্যন্ত আর কোন গোল না হলে টাইব্রেকারে গড়ায় ফাইনাল ম্যাচ।
টাইব্রেকারের প্রথম শট থেকে গোল করেন এমবাপ্পে। এরপর আর্জেন্টিনার পক্ষে প্রথম শট থেকে গোল করেন মেসি। ফ্রান্সের পক্ষে কোম্যানের নেওয়া দ্বিতীয় শট রক্ষা করেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। আর্জেন্টিনার পক্ষে দ্বিতীয় শট থেকে গোল ক্রেন পাওলো দিবালা। এরপর ফ্রান্সের পক্ষে শট থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় চুয়ামেনি। তবে আর্জেন্টিনার পক্ষে তৃতীয় শট থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে আরও এগিয়ে নেন পারদেস।
এরপর ফ্রান্সের পক্ষে চতুর্থ শট থেকে গোল করেন কোলো মোয়ানি। এরপর আর্জেন্টিনার পক্ষে চতুর্থ শট থেকে গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন গঞ্জালো মন্টিয়েল। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ৩৬ বছর পর বিশকাপের শিরোপা জিতলো আর্জেন্টিনা। সূত্র: ইত্তেফাক