a
ফাইল ছবি
মুসলমানদের জন্য পবিত্র রমজানে মাস উপলক্ষে সাবেক জার্মান তারকা মেসুত ওজিল সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য খাদ্য সহায়তা দেবে বলে তুর্কিসংবাদ মাধ্যম নিশ্চিত করেছে। ওজিলের খাদ্য সহায়তার অংশ বিশেষ বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিশুদের খাদ্য সহায়তা দেবেন সাবেক বনে যাওয়া জার্মানির তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল।
তুর্কি সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, পবিত্র রমজান মাসে দুস্থ ও অসহায় শিশুদের জন্য তার্কিশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৭০ ডলার দান করেছেন জার্মান মিডফিল্ডার ওজিল।
এই অর্থ খরচ করা হবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ইফতারের খাবার কেনার জন্য। যার একটি অংশ আসবে বাংলাদেশেও। ‘দ্য তার্কিশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ জানিয়েছে, ৭৫০টি খাবারের পার্সেল আসবে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা মুসলিম শিশুদের হাতে।এ ছাড়া তুরস্কে ২৮০০ জনের মাঝে তুলে দেওয়া হবে খাবার। পাশাপাশি ১ হাজার খাবারের প্যাকেট পাঠানো হবে ইন্দোনেশিয়ায়।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ওজিলের পাঠানো ইফতারের খাবার সিরিয়ার ইদলিবে এবং সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতেও পাঠানো হবে।
তুর্কিশ রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ড. ক্রেম কিনিক বলেন, অনেক বছর ধরে ওজিল বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার শিশুর মুখে হাসি ফোটানোর কাজ করছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
ওজিল তুর্কিশ-জার্মান পেশাদার ফুটবলার। তিনি আগে আর্সেনাল ফুটবল ক্লাবের হয়ে খেলতেন।
বর্তমানে ওজিল তুর্কির একটি ক্লাবে খেলছেন পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের নির্যাতিত নিষ্পেষিত শিশুদের পাশে প্রায়ই দেখা যায় এই তারকাকে।
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে বসুন্ধরা কিংসের সফল কোচ অস্কার ব্রুজনকে নিয়োগ দিয়েছে বাফুফে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। তার সঙ্গে সাপোর্টিং স্টাফ হিসেবে যোগ দেবেন জাভিয়ের ফ্লোরেজ। নিজেদর ভবিষ্যৎ ঠিক করতে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের বাসায় যান অস্কার ব্রুজন।
গেল কয়েক দিন ধরে গুঞ্জন, বসুন্ধরা ছেড়ে তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন জাতীয় দলের। সেই আনুষ্ঠানিকতা সারতেই ফেডারশনের বড় কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। অস্কারের চাওয়া বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক হবে অন্তত এক বছরের। কিন্তু সেখানে জটিলতা তৈরি হয় বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে। আর তাই নভেম্বরে শ্রীলঙ্কায় চার জাতি টুর্নামেন্টেও নিশ্চিত নয় এই স্পেনিয়ার্ডের উপস্থিতি।
বিষয়টি নিয়ে ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল বলেন, 'অস্কারের সঙ্গে আমাদের সব কিছু চুড়ান্ত হয়েছে। আসন্ন সাফে তিনি জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকছেন।' ব্রুজনের সঙ্গে চুক্তি বাড়বে কিনা এ বিষয়টি স্পষ্ট করেননি কাজী নাবিল। তিনি বলেন, 'আমরা আপাতত সাফ নিয়ে ভাবছি, পরেরটা পরে দেখবো।' এদিকে ব্রুজনের সঙ্গে চুক্তিতে দেশ ছাড়ছেন জেমি ডে। তার সঙ্গে চলে যাচ্ছেন গোলরক্ষক কোচ লেস ক্লেভলিও।
তবে ফিটনেস ট্রেইনার ইভান রাজলগকে রেখে দিচ্ছে বাফুফে। দেশের ক্লাব ফুটবলে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় দল গোছাতে বেগ পেতে হচ্ছে না স্কারের। তার পরামর্শে বেশ বড় সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে ২৩ সদস্যের দলে। মঙ্গলবার দল ঘোষনার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বুধবার দেয়া হবে সাফের দল। সেখানে চমক থাকবে বলে ইঙ্গিত আছে অস্কারের। 'আমি খুবই সন্তুষ্ট। যেভাবে চেয়েছিলাম তার সবই বাফুফে রেখেছে। এখন আমার দায়িত্বটা পালন করতে হবে। দলে করা থাকবে সব গুছিয়ে এনেছি।
আশা করছি, দেশের সেরা ফুটবলারদের নিয়ে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো।' ব্রুজনের সঙ্গে বাফুফের চুক্ত খন্ডকালীন। তবে বাতাসে জোর গুঞ্জন সাফে সফল হলে বাড়তে পারে এই মেয়াদ। আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে সাফের ১৩তম আসর।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মোহাম্মদের সমাধি
প্রিন্স মাহমুদ
যে স্বপন দেখিয়া ঘুম ভাঙ্গিল রজনী দ্বি-প্রহরে
তা’র বর্ণন করিবার আগে তওবা করি হাত ওঠায়ে বসিয়াছি বিছানার ওপরে
এলাহি কবুল করুন।
জান্নাতুল বাকীতে নাই বা যদি হয় মসজিদের ধারে
চিতায় না দিয়ে ঘুমা'তে দিয়েন বাসন্তীকে পাশের গোরে।
‘আল্লাহু-আকবার’ ডাক শুনি তা’রে লয়ে ওঠে
পরিতে পারি গো যেন আপনার চরণে লুটে।
দুনিয়ার জমিনের তলে
মোমেন মোমেনা যত ঘুমায়েছে পৃথিবীর আড়ালে
এই তওবা পৌঁছে দিন তা'দের তরে
আমার জনক জননীকে বিচার দিনে
আপনার হাবিবে সাফা নসিবে জুটায়ে দিয়েন জৌলুস আয়োজনে।
লা-ইলাহা ইল্লাললাহু মোহাম্মাদুর রাসূরুল্লাহ্ (স.)।।
উরুতে শুয়ে জিজ্ঞেস করিল মোহাম্মদ- মরণের পর
বলতে পার আয়েশা কোথা হবে আমার কবর?
হা প্রাণের স্বামী
কবরস্ত হবে কোথা তা জানি আমি।
বলিল মোহাম্মদ আনন্দে নাচি
"বল শুনি তুমি আমার অন্তর যাচি।"
ইয়া রাসূরুল্লাহ, মাতৃভূমি মক্কা মোয়াজ্জেমার উত্তরে
ঘুমায়ে রয়েছে খাদিজা জান্নাতুল মহল্লার তরে।
আমরা ন-জন নারী, সেবা করি
তাঁ'র গল্পই তবু তোমার প্রাণে জরি।
এ জন্যে আমার ধারনা
প্রথমা বিবির পাশ ছাড়া কোথাও ঘুমাইবে না।
আয়েশা! খাদিজার পাশে ঘুমা'ব, ঠিক করি নাই।
যদি অনুমতি দাও, আরেকটি জায়গার নাম বলতে চাই।
সম্মতি দিয়ে বলিল মোহাম্মদ- "এটা কোন স্থান?"
মদিনা থেকে মক্কা আসিবার পথে বাবলা বাগান
লাল বালির মরুভূমি'র আবয়া প্রান্তর
ঘুমায়ে রয়েছে বাবা-মা, কাল হতে কালান্তর।
ওনাদের পাশে
ঘুমাবে বলে পণ করেছ নিশ্চয়ই আশে আশে।
বলিল মোহাম্মদ- আয়শা! মরণের পর
ঠিক করি নাই হোক, বাবা-মা'র পাশে কবর।
আবার বলিল আয়শা- "ইয়া রাসূরুল্লা-হে
জান্নাতুল বাকীতে ঘুমা'বে বলতে পারি নিঃসন্দেহে।
তোমার স্বীয় হাতে গড়া মদিনার এই কবর স্থান
বানায়ে রাখিয়াছে আল্লা বেহেস্তের বাগান।
এই কবরে যা'রা ঘুমা'বে
আজাব বলতে কেয়ামত পর্যন্ত কিছু না বুঝবে।
স্বীয় হাতে দেয়া যখন দশ হাজার সাহাবীর কবর
বলতে পারি এই খানেই ঘুমাবে তুমি মরণের পর।
বলিল মোহাম্মদ- ওগো পূজারী মোর
ঠিক করি নাই হোক, জান্নাতুল বাকীতে গোর।
বুঝেছি, নাই বলিবে তুমি তোমার প্রশ্নের জবাবে
হার মেনে জিজ্ঞাসী প্রশ্নকরীকেই- "কোথা ঘুমাইবে?"
বলিল মোহাম্মদ- রয়েছি আজ যেথা যেই ভাবে শোয়ে
পশ্চিমে মাথা পূর্বে পা দক্ষিণে কাবায় মুখ ফিরে ঘুমায়ে
থাকতে চাই কেয়ামত পর্যন্ত যদি
মরণের পর দিবে কি তোমার ঘরে আমাকে সমাধি?
জবাবে বলিল আয়শা- ইয়া রাসুরুল্লাহে
তোমার কথা শুনে ভরে গেল হৃদয়, অক্ষয় উৎসাহে।
এই ঘরে! এইখানে, মরণের পর দিব তোমাকে কবর
মানুষ এসে ঘরটাও দেখে আমার সম্মান বাড়ায়ে চলিবে জনম ভর।
আজিকে সোম, মঙ্গল বুধ গিয়া বেলা আসর
গভীর ঘুমে ঘুমায়ে রয়েছে শেষ পয়গম্বর।
তিন দিন ধরি ঊনানে বসায়নি হাড়ি
দেখেনি চেয়ে শিশুরাও মায়ের বুকেরপুরী।
প্রিয় নবী প্রিয় নেতা নিয়াছে বিদায়
আঁধার পৃথিবী শোকে কাঁদে পিঠ লাগায়নি কেউ বিছানায়।
তলে তলে একে একে আসি পড়ে যানাজার নামায
ওয়াক্তের বেলায় নামিয়া আসিয়াছে সাঁঝ।
যায়নি শোনা বেলালের আযান ধ্বনির সুর
ইসলাম রবির আলো যাচ্ছে চলি দূর হতে দূর।
আরো সময় যায় যদি চলে ক্রমে ক্রমে
স্বীয় ধর্মের কথা যা'বে ভুলে এ জনমে।
রহিবে না আর কভু ধরিবার মত হাল
এই বিদায়ী-ই উড়ায়েছে ইসলাম রবির কিরণ-পাল।
হইবে না ঠিক আর রাখা মাটির ওপর
বিধাতার নিয়মেই দিতে হইবে কবর।
এই ভাবি সাহাবিগণ বসি এক সাথে
খাদিজার পাশে কেহ বলে মা-বাবা বা জান্নাতুল বাকীতে
প্রিয় নবী প্রিয় নেতাকে সমাহিত করিতে।
যত সব পরামর্শ, সিদ্ধান্ত বাক্য যায় গর্মিল জলে ভাসি
সবে মিলে বলিল শেষে, আয়েশার কাছে আসি
"প্রিয় নবী মরিবার পর
পৃথিবী আঁধারে ঢাকা, ভাঙ্গিয়াছে মক্কা মদিনার অধর।
আরো সময় যদি রাখি তাহাকে মাটির ওপরে
ইসলাম রবি নিভিয়া গিয়া চলিবে আর মোড়ে।
এই ভাবি কবরস্ত করিতে যত জায়গাই ঠিক করি
বৃথাই চলে জিজ্ঞাসী তাই- ‘পছন্দ রয়েছে না কি কোনো পুরী?’
জবাবে বলিল আয়শা- এই-খানে এক দিন রাসূল শোয়ে
বলিল- থাকতে চাই তোমার ঘরে ইহ জীবনের ঘুম ঘুমায়ে
তুমি নিবা না-কি বল আমার এ কথা কবুল করি?
জবাবে বলিলাম- আমার পরম ভাগ্য জনম জনম ধরি
তোমার কবর দেখিতে আসিয়া ঘরটাও দিখি দিখি
খোদার তরে আমার দাম বাড়ায়ে নিবে মানুষ ঠিকই।
ইয়া রাসূরুল্লাহে
আমার ঘরে তোমাকে ঘুমাতে দিব বলিলাম উৎসাহে।
আয়েশার কথা শুনি সাহাবিগণ এক সাথে মিলি
স্বীয় পরামর্শ দিয়া দিল বলী।
অতপর সব ব্যথা বুকে সয়ে
কবর খুঁড়িল সবে মোহাম্মদের লাশ একটু খানি সরায়ে।
পশ্চিমে মাথা পূর্বে পা দক্ষিণে কাবার দিকে মুখ ফিরে
শেষ পয়গম্বরকে রাখি চলিয়া গেল সবে যার যার নীড়ে।