a
করোনাভাইরাস
গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১১ হাজার ৮৭৮ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ১২৮৫ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনাভাইরাসে শনাক্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৭২ হাজার ১২৭ জন।
আজ শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আরও জানানো হয়, গত ১ দিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২৪৯২ জন করোনারোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৬ হাজার ৮৩৩ জন।
সংগৃহীত ছবি
ফাইজার বায়োএনটেক ও অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়ার দুই থেকে তিন মাস পর থেকে শরীরের অ্যান্টবডির মাত্রা কমে আসতে পারে। এমনকি অ্যান্টিবডির মাত্রা ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
সম্প্রতি জনপ্রিয় গবেষণা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফলে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জি নিউজ।
জানা যায়, এ হারে অ্যান্টিবডির মাত্রা কমে যেতে থাকলে টিকার প্রভাব কমে যেতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে কেমন প্রভাব রাখবে তা নিয়েই উদ্বেগ বেশি। কতো দ্রুত এমনটা হবে তা এখনই আন্দাজ করে বলা কঠিন।
গবেষণাটিতে আরও উঠে এসেছে, দুই ডোজ নেওয়ার পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তুলনায় ফাইজারের টিকায় মানবদেহে অধিক পরিমাণ অ্যান্টিবডির মাত্রা লক্ষ্য করা গেছে।
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ৬০০ জন মানুষের থেকে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের বয়স, গুরুতর অসুস্থতা ও লিঙ্গভেদে গবেষণার ফলাফল একই ছিল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
গবেষকরা দাবি করছেন, অ্যান্টিবডির মাত্রা কমে আসা কেমন ভূমিকা রাখতে পারে তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফাইজারের টিকার ক্ষেত্রে ২১-৪১ দিনের মধ্যে অ্যাটিবডির মাত্রা প্রতি মিলিলিটারে ৭৫০৬ ইউনিট করে কমতে থাকে, ৭০ দিন বা এর বেশি সময়ের মধ্যে প্রতি মিলিমিটারে ৩৩২০ ইউনিট করে কমে।
অন্যদিকে, অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকায় প্রথম ২০ দিনের মধ্যে অ্যান্টিবডির মাত্রা প্রতি মিলিলিটারে ১২০১ ইউনিট হ্রাস পায়, ৭০ বা তার বেশি দিনের মধ্যে এ পরিমাণ প্রতি মিলিলিটারে ১৯০ ইউনিট। অর্থাৎ প্রায় ৫ গুণ কমে যায়। সূত্র: ইত্তেফাক
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা: তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একাডেমিক, গবেষক, সমাজের সচেতন নাগরিক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সমন্বয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরনের দাবিতে একটি নীতিনির্ধারনী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ ১৮ মার্চ ২০২৫, রাজধানী ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে, এই সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাশের দাবিতে প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে আলোচনা হয়।
এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব এ.টি.এম. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য অনুবিভাগ), স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ডাঃ নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ, নির্বাহী পরিচালক, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, চেয়ার, গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভাক্সিন অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভ (গ্যাভী), ডাঃ মোঃ শিব্বির আহমেদ ওসমানী, যুগ্মসচিব (পিএইচ উইং), স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনাব মোঃ মহসীন, যুগ্মসচিব, বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা শাখা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনাব কাজী মোখলেছুর রহমান, যুগ্মসচিব (উন্নয়ন-১ অধিশাখা), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, অধ্যাপক ডাঃ হালিদা হানুম আক্তার, প্রজনন ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ (বিইউএইচএস), সদস্য, মহিলা বিষয়ক সংস্কার কমিশন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষ ব্যক্তিবর্গ।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ডাঃ নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ। মূল প্রবন্ধে তিনি ডব্লিউএইচও ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোবাকো কন্ট্রোল-এফসিটিসির সাথে সামঞ্জস্য রেখে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রণীত খসড়ার সংশোধনীগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৬টি প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। সেগুলো হলো- অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য সকল প্রকার পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা, তামাক পণ্যের প্রচার বন্ধ করার জন্য বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকপণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা, তামাকপণ্যের সকল প্রকার খুচরা ও খোলা বিক্রয় বন্ধ করা ও সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা।
জনাব এ. টি. এম. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করার জন্য বাংলাদেশের অনেক তামাক কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে। যেমন, তামাক কম্পানিগুলো মিথ্যা প্রচার করছে যে, প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী পাস হলে সরকার বিপুল পরিমাণে রাজস্ব হারাবে। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন ও ২০১৩ সালে সংশোধনের পর গত ১৮ বছরে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে সাড়ে ১২ গুণ। বাংলাদেশ সরকারকে এই দিকে নজর দিতে হবে।
অধ্যাপক ডাঃ হালিদা হানুম আক্তার, প্রজনন ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ (বিইউএইচএস) বলেন, বাংলাদেশে ৩৫.৩% প্রাপ্তবয়স্ক (১৫ বা তার বেশি বয়সী) তামাক ব্যবহার করে (গ্যাটস ২০১৭), এবং তার মধ্যে ৪৬% পুরুষ, ২৫.২% মহিলা তামাক ব্যবহার করে। কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। ৫৯% অপ্রাপ্তবয়স্ক পাবলিক প্লেসে এবং ৩১% বাড়িতে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর ১৯% (১ লাখ ৬১ হাজার ২৫২) তামাক ব্যবহার জনিত কারণে হয়। ২০১৭-১৮ অর্থ-বছরে সরকার তামাক থেকে যে পরিমান রাজস্ব পেয়েছিল তার চেয়ে ৩৪% বেশি টাকা খরচ হয়েছিল তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারজনিত রোগের চিকিৎসা বাবদ। তামাকের এসব ক্ষতি থেকে জনস্বাস্থ্যকে রক্ষার জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে শক্তিশালী করার মুখ্য সময় এখনি।
ডাঃ মোঃ শিব্বির আহমেদ ওসমানী, যুগ্মসচিব। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবাতায়নের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এ অধুমপায়ীদের থেকে ধূমপায়ীদের মৃত্যু তিনগুণ বেশি ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত। ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু (১৫ বছরের নিচে) পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগে ভুগছে। ঢাকার মিরপুর ও সাভারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের লালা পরীক্ষা করে ৯৫% ছাত্র/ছাত্রীর লালায় নিকোটিন পাওয়া গেছে। এরা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, একটি নির্দিষ্ট জেনারেশন, বিশেষত যুবসমাজ তামাকের করাল গ্রাসের শিকার। তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহার উৎসাহিত করার জন্য তামাক কোম্পানী গুলো বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখায়, যেমন, বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় নির্ধারিত ধূমপান এলাকা (ডেসিগনেটেড স্মোকিং এরিয়া) স্থাপন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্যাটল অব মাইন্ড। এইসব অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী অতীব জরুরী।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের পলিসি অ্যাডভাইজর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম, ডাঃ বরিষা পাল প্রোজেক্ট কো-অরডিনেটর, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যান্টি টোব্যাকো ক্লাবের সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী এবং দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।