a
ফাইল ছবি
ইসরাইলকে ফিলিস্তিনিদের পানির উৎস কেড়ে নেওয়া বন্ধ করতে বললেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
আন্তর্জাতিক পানি দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার দেওয়া এক ভাষণে তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন। খবর ইয়েনি সাফাকের। আব্বাস ফিলিস্তিনি জনগণের জীবন নিয়ে এভাবে বর্বর আচরণ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, বিশ্বনেতৃবৃন্দকে ফিলিস্তিনি জনগণের পানির উৎসগুলো ইসরাইলের দখল থেকে রক্ষা করতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং তিনি দ্রুততম সময়ে এ বিষয়ে সমাধান চান। সূত্র: যুগান্তর
সংগৃহীত ছবি: টিউলিপ সিদ্দিকি ও আবদুল করিম
চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের নগরমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একটার পর একটা বিতর্ক লেগেই আছে শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে সম্পত্তিজনিত আয় নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তার খালা শেখ হাসিনার অনুচরের সুবিধা নিয়ে নতুন করে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, নিজের বাসা ভাড়া দিয়ে তার খালা শেখ হাসিনার বিশেষ বন্ধু আবদুল করিমের ২ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের বিলাসবহুল বাসায় বর্তমানে অবস্থান করছেন টিউলিপ। এই সম্পত্তি টিউলিপ সিদ্দিকের নিজের কেনা বাড়ির কাছেই অবস্থিত।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আবদুল করিম নামের এই ব্রিটিশ বাংলাদেশিকে বিশেষ মর্যাদায় সিআইপি উপাধি দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান পদটিও পেতে সাহায্য করেছিলেন। অভিজ্ঞতা না থাকলেও শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় করিম উক্ত ব্যাংকটিতে তার অবস্থান করে নেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
আর ধারণা করা হচ্ছে, টিউলিপের খালা শেখ হাসিনার বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট বর্তমানে এই ব্যক্তির কাছ থেকে অন্যায় সুবিধা আদায় করে নিচ্ছেন টিউলিপ। টিউলিপ ওই পাঁচ বেডের বিলাসবহুল বাসা ভাড়ার তথ্যও লুকিয়েছেন জাল জালিয়াতিভাবে।
ডেইলি মেইলের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ব্যবসায়ী করিমকে কত ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, তা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন টিউলিপ। ওই ব্যবসায়ী টিউলিপকে তাঁর বাড়িতে বসবাসের অনুমতি দিয়ে লাভবান হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নই বর্তমানে উঠে এসেছে। কারণ, গত দুই বছরে টিউলিপ তাঁর পারিবারিক বাড়ি ভাড়া দিয়ে হাজার হাজার পাউন্ড আয় করেছেন।
যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, যদি কোনো এমপি কম ভাড়া দিয়ে কোনো আবাসনে বসবাস করেন, তাহলে তা সরকারকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। তা না হলে দেশটির আইনে এটি একটি বড় অন্যায় হিসেবে দেখা হয়।
রিফর্ম দলের চেয়ারম্যান নাইজেল ফারাজ লেবার সরকারের মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের এই কার্যক্রমকে সন্দেহের চোখে দেখছেন।
নাইজেল ফারাজ বলেন, সরকারের একজন মন্ত্রী যদি সঠিক তথ্য প্রদান না করেন এবং ভাড়া কম বা ভাড়া প্রদান না করে ঘরে অবস্থান করেন, তাহলে সেটি বড় অন্যায়। আবদুল করিম নামের ব্যবসায়ী এর বিনিময়ে লেবার পার্টির মন্ত্রীর কাছ থেকে অন্যায্য সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতে পারেন। লেবার পার্টি এমন লোককে মন্ত্রী বানিয়েছে। তিনি বলেন, এই দল গোলমেলে কাজ করতে পছন্দ করে।
আবদুল করিম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার একজন সদস্য। যুক্তরাজ্যে টিউলিপের নির্বাচনে তার খালার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাজ করা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। ৫ আগস্ট ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে পতন হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের। পদত্যাগী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন সূত্রের খবর, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি: ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি
বাংলাদেশ থেকে ফিরে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি দেশটির সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে ব্রিফ করেছেন। এতে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি কংগ্রেস নেতা শশী থারুর।
বিক্রম মিশ্রি কমিটিকে জানান, সোমবার ঢাকা সফরের সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল বা সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত বাংলাদেশের জনগণের সাথে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয় এবং যে কোনো সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা যে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন তা ভারত সমর্থন করে না। এটি দুই দেশের সম্পর্কের একটি ক্ষুদ্র প্রতিবন্ধক।’
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, শেখ হাসিনা তার মন্তব্যের জন্য ‘ব্যক্তিগত যোগাযোগ ডিভাইস’ ব্যবহার করছেন। ভারত সরকার তাকে (শেখ হাসিনা) এমন কোনো প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ–সুবিধা দেয়নি, যা দিয়ে তিনি ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারেন। এটি তৃতীয় কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ না করার ঐতিহ্যগত রীতির অংশ।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার অভিযোগের স্বীকৃতির নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন ছিল। তবে সবশেষ খবর হলো, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে এ সংক্রান্ত সহিংসতার ঘটনায় ৮৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। এ খবরকে ভারত স্বাগত জানায়।
সূত্র : দ্য হিন্দু/বিডি প্রতিদিন