a
ফাইল ছবি
রাশিয়া ও ক্রিমিয়ার মধ্যে একমাত্র যোগাযোগ রক্ষাকারী সেতুটিতে গতকাল শনিবার (৮ অক্টোবর) ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শনিবার এ ঘটনার কয়েকঘণ্টা পরই সেতুটিতে হালকা যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির
ইউরোপের দীর্ঘতম এ সেতুটিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র হতে জানা যায়।
রাশিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, লরি বিস্ফোরণের সময় নিহত তিনজন ওই সময়ে একটি গাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেতুটিতে রেল সংযোগও রয়েছে। যেখানে দেখা যায় ওই রেল সংযোগ দিয়ে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার যাওয়ার সময় তাতে আগুন ধরে যায় এবং পরবর্তীতে এটিতে বিস্ফোরণ ঘটে।
গতকাল বিকেলে সেতুটি খুলে দেওয়া হয়। সেতুটি খুলে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যেখানে সেতু দিয়ে যান চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।
রাশিয়া ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় এবং ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি রাশিয়ার পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বর্তমানে সেতুটি রুশ বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ রুট হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। সূত্র: যুগান্তর
ফাইল ছবি
আফগানিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গণি বারাদারকে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে দেখা গেছে। এটি তালেবানের রাজনৈতিক অফিসের টুইটারে পোস্ট করা হয় বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর)। এসব জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে, তালেবানের এক অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বারাদার। ভিডিওতে তিনি সেই প্রসঙ্গে বলেন, 'এটা সত্য নয়। আমি ঠিক আছি, সুস্থ আছি।' বারাদার আরও বলেন, 'মিডিয়া বলছে, অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। এটা সত্য নয়, আমাদের মধ্যে কিছু নেই। চিন্তার কিছু নেই।'
এদিকে আফগানিস্তানে ব্যাংক ও গণমাধ্যমের মতো প্রতিষ্ঠানে নারীদের চাকরি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে তালেবান। আফগানিস্তানে তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ৭ দিন পর বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এমন ঘোষণা দিলেন তালেবানের শীর্ষ নেতা ওয়াহিদুল্লাহ হাশেমি।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াহিদুল্লাহ হাশেমি বলেন, আফগান নারীদের স্বাধীনভাবে যেকোনো কর্মস্থলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। তবে চাপ থাকলেও পরিপূর্ণভাবে ইসলামি শরিয়ত ও আইন অনুযায়ী তাদের চলতে হবে। সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি
বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল পরীক্ষায় নতুন ভর্তি পদ্ধতি চালু হওয়ায় সংকটে পড়েছে বেসরকারি খাতের মেডিক্যাল শিক্ষা। জানা গেছে, এবার ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ৪৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৬ হাজার ৬০০ জন মেডিক্যালে পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নতুন ভর্তি পদ্ধতির কারণে অসচ্ছল ও মেধাবীদের জন্য সংরক্ষিত ৮১ আসন এখন শূন্য। অর্থাৎ বিনা খরচায় পড়ার আসনও শূন্য পড়ে আছে।
ডেন্টালের অবস্থা আরও ভয়াবহ, যেখানে ১ হাজার ৫০০ সিটের বিপরীতে পড়ার জন্য মাত্র ৫০০ জন আবেদন করেছেন।
উল্লেখ্য, আগে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো বাছাই করে পছন্দের মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতেন। কিন্তু চলতি বছর এ সুযোগ রহিত করে নতুন অটোমেশন পদ্ধতি চালু করা হয়। এবার প্রথমে শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য পাঁচটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পছন্দক্রম রাখা হয়। পরে এই নিয়মও বদলে ফেলে ছাত্রদের জন্য ৬০টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৬৬টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের তালিকা করা হয়। নতুন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী আবেদনের পর একটি নির্দিষ্ট মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি এসএমএসের মাধ্যমে তাকে জানানো হয়। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের প্রতিষ্ঠান পাননি। কারণ ব্যয়ের ব্যাপারটি মেডিক্যাল কলেজ ভেদে তারতম্য থাকায় শিক্ষার্থীরা সামর্থ্য অনুযায়ী কলেজ নির্বাচন করেন। তাই নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের যে কলেজে সুযোগ দেওয়া হয়েছে সেখানকার শিক্ষাব্যয় শিক্ষার্থীর পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভর্তি হতে পারেননি।
চট্টগ্রাম হালিশহরের মুহাম্মদ আবু সুফিয়ানের মেয়ে সানজিদা আকতারের স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হবেন। কিন্তু দূরবর্তী পটুয়াখালী সরকারি মেডিক্যালে চান্স পাওয়ায় মেয়েকে নিজ এলাকার কোনো প্রাইভেট মেডিক্যালে পড়াবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন সুফিয়ান। কিন্তু তিনি জানতে পারলেন এবার ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির নতুন অটোমেশন পদ্ধতি চালুর কারণে তাদের এই সিদ্ধান্ত আর কাজে আসবে না। অধিদপ্তর খুদে বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করবে তার মেয়ে কোথায় পড়বে।
অনুরূপ ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া কিশোরগঞ্জের এক শিক্ষার্থী বলেন, তার পছন্দ ছিল নিজ জেলার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ। কিন্তু তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিক্যালে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। কিন্তু এখানকার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে কঠিন। এ কারণে তিনি মেডিক্যালে না পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কাঙ্ক্ষিত মেডিক্যাল কলেজ না পেয়ে ভর্তিতে অনীহা, আবার ভর্তি হলেও মাইগ্রেশন পদ্ধতিতে কলেজ বদল করায় আসন পূরণ হয়নি বেশির ভাগ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের। বেশ কিছু আসন শূন্য রেখে ক্লাসও শুরু করতে হয়েছে কোনো কোনো বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজকে। এমনকি অসচ্ছল ও মেধাবী কোটাও পূরণ হয়নি তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই নতুন সিদ্ধান্তের কারণে।
প্রসঙ্গত, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ১০ মার্চ। ফলাফল প্রকাশিত হয় ১২ মার্চ। সরকারি-বেসরকারি সব মেডিক্যাল কলেজে ক্লাস শুরু হয়েছে ২৪ জুলাই। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি বেশ কিছু মেডিক্যাল কলেজে আসন পূরণ হয়নি। ভর্তি কার্যক্রমও শেষ হয়নি। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দায়ী করছেন বিএমডিসির অদূরদর্শী নীতিমালা ও ডিজি হেলথের সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি না নিয়েই অটোমেশন পদ্ধতি চালু করাকে।
বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গত ২৫ বছরে এই প্রথম বিএমডিসির অদূরদর্শী ও হুট করে চাপিয়ে দেওয়া নতুন অটোমেশন পদ্ধতির ফলে ৭৩১ আসন এখনো পূর্ণ হয়নি। নতুন এই ভর্তি পদ্ধতি যে চরম ভ্রান্ত ও নৈরাজ্যকর তা প্রমাণিত হয়েছে।
এ বছর ৩০০-এর অধিক মেডিক্যাল শিক্ষার্থী বিএমডিসির অনুমোদন নিয়ে বিদেশে পড়তে চলে গেছেন। এত মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা চলে গেছে দেশের বাইরে।
ক্লাস শুরুর আগে অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা বলেন, যেসব বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ এখনো নির্ধারিত আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারেনি, সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্ত এক মাস পেরিয়ে গেলেও সংকট নিরসনে কার্যত কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উলটো কলেজগুলোকে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মুবিন খান গণমাধ্যমকে বলেছেন, অটোমেশন প্রক্রিয়ায় বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তিতে সংকট তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো কলেজ শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। সবার মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। এ জন্য পুরোটাই বিএমডিসি ও ডিজি হেলথ দায়ী। সূত্র: ইত্তেফাক