a
ফাইল ফটো
সৌদি আরব গত এক সপ্তাহে তীব্র হামলার পর এবার ইয়েমেনে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমঝোতা চুক্তিসহ নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ গতকাল সোমবার এক ঘোষণায় ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদেরকে এ প্রস্তাব দেন।
ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যদি হুথি বিদ্রোহীরা উদ্যোগের শর্তগুলো মানতে সম্মত হয়, তাহলে সৌদি আরবও জাতিসংঘ-পর্যবেক্ষণাধীন দেশটিতে (ইয়েমেন) যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। তবে এই যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি ইয়েমেন ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সপ্তাহে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে তীব্র বিমান হামলা চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। রাজধানী সানা ও লোহিত সাগরের উপকূলে একটি শস্য বন্দরসহ আরো কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এর মাঝেই সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আসলো। সূত্র : সিএনএন
ফাইল ছবি
আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে নতুন করে ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু দেখতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় অঞ্চলের পরিচালক হ্যান্স ক্লুগে।
ইউরোপীয় অঞ্চলের ৫৩ দেশে এখনও কোভিডের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। ফলে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে করোনার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর’ ও ‘উদ্বেগজনক’ অ্যাখ্যা দেন তিনি। বিশেষ করে ইউরোপে প্রাণঘাতী কোভিডের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডব্লিউএইচও’র এই পরিচালক। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাঁচ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডব্লিউএইচও'র তালিকায় ইউরোপের ৫৩টি দেশের পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশও রয়েছে। যদিও মহামারির দূর করতে বিশ্বজুড়ে টিকাদান কার্যক্রম ভালই চলছে। তবে দরিদ্র দেশগুলো এক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। কোভিড টিকার সুষমে বণ্টনে সব ধনী দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। করোনায় এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৫০ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছেন।
ফাইল ছবি
সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম যেসব নথি কব্জায় নিয়েছিলেন, সেগুলো প্রকাশ পেলে দেশের ক্ষতি হয়ে যেত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি আরও দাবি করেন, রোজিনাকে ‘নির্যাতন করা হয়নি’। ওই সাংবাদিক টিকা আমদানি সংক্রান্ত এমন কিছু নথি ‘সরিয়েছিলেন’, যেগুলো প্রকাশ হলে ‘দেশের ক্ষতি’ হতো।
রোজিনাকে গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে আজ বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) উক্ত সম্মেলন বর্জন করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুপুরে আগারগাঁওয়ে একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে নিম্নের উত্তরগুলো দেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে যেটুকু জেনেছি, তাতে স্বাস্থ্য সচিবের পিএসের অনুপস্থিতিতে সোমবার দুপুরে তার কক্ষে ঢুকেছিলেন সাংবাদিক রোজিনা।
সেখানে যে ডিউটিতে ছিল, সে দেখল যে একজন ব্যক্তি ওখানে ফাইলের ছবি তুলছে, ফাইল কিছু বের করে ব্যাগে ঢুকিয়েছে, শরীরেও ঢুকিয়েছে। তখন সে চিল্লাচিল্লি করছে, আমাদের মহিলা অফিসাররা আসে; এসে তারা বলছে যে ‘আপনি কেন এসব করছেন?’ তখন তার কাছ থেকে ওই কাগজ আর ফাইলগুলো নিয়ে নিয়েছে।
মন্ত্রী যোগ করেন, এর মধ্যে পুলিশে খবর দেওয়া হয়, পুলিশ এসে বিষয়টি টেকওভার করে। এ সময় প্রথম আলোর সাংবাদিকের মোবাইল নিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে বেশ কিছু ছবি পাওয়া গেছে।
সোমবার দুপুরের পর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞার কক্ষে রোজিনাকে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন উপসচিব তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
সেখানে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় চুরি এবং ১৯২৩ সালের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয় এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
এজাহারে বলা হয়েছে—রোজিনা যেসব নথির ‘ছবি তুলেছেন’, তার মধ্যে ‘টিকা আমদানি’ সংক্রান্ত কাগজপত্রও ছিল।
সেই প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। কেননা এই ফাইলগুলো ছিল টিকা সংক্রান্ত। আমরা যে রাশিয়ার সঙ্গে টিকার চুক্তি করছি, চীনের সঙ্গে টিকার চুক্তি করছি। সেগুলো নন ডিসক্লোজার (গোপন) আইটেম। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে বলেছি— আমরা এটা গোপনে রাখব, এগুলো বলব না।
তিনি বলেন, সেগুলো যদি বাইরে চলে যায়, তা হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলাম এবং আমরা টিকা নাও পেতে পারি। এতে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য বিরাট ক্ষতি হতে পারতো। এগুলো সিক্রেট ডকুমেন্ট, বাইরে যাওয়া ঠিক হয়নি।
রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রেখে ‘শারীরিকভাবে হেনস্তা’ করা হয়েছে বলে তার স্বামী যে অভিযোগ করেছেন, সেটি অস্বীকার করেছেন জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, যেটা শুনলাম, তাকে অনেকক্ষণ আটকিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি নিজেই শুয়ে পড়ছেন, বসে পড়ছেন। তাকে পুলিশ নিতে পারছিলেন না। শারীরিকভাবে কোনো নির্যাতন বা আঘাত করা হয়নি। এটি সঠিক নয়।
একজন সাংবাদিক প্রশ্ন রেখেছিলেন, বর্তমান সরকার যেখানে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের পুরস্কৃত করার নিয়ম করেছে, সেখানে রোজিনার বিরুদ্ধে কেন ঔপনিবেশিক আমলের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনে মামলা দেওয়া হলো?
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি তো আইনজ্ঞ না। আইনের বিষয়ে কিছু বলব না।