a
ফাইল ছবি
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে ফ্রান্সে টিকা দেয়ার ব্যাপারে সরকার যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে তার বিরুদ্ধে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জনগণকে টিকার আওতায় আনার জন্য বেশকিছু নিয়ন্ত্রণমূলক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই কট্টর ডানপন্থিরা এ বিক্ষোভ শুরু করেছে। খবর আরব নিউজের।
সরকার যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে তার অন্যতম হচ্ছে স্বাস্থ্য পাস, যা লোকজনকে কোন পাবলিক প্লেসে প্রবেশের আগে পুলিশকে প্রদর্শন করতে হবে।
এই স্বাস্থ্য পাসের মাধ্যমে প্রমাণ হবে ওই ব্যক্তি টিকা নিয়েছেন অথবা করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়েছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণেই প্রধানত জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এবং তারা বিক্ষোভে নেমে পড়েছে।
লোকজন বলছে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিস্বাধীনতার মারাত্মক লঙ্ঘন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর পথ হচ্ছে টিকা গ্রহণ কিন্তু বিক্ষোভকারীরা বলছে, ফ্রান্স সরকারকে যোগাযোগ এবং শিক্ষার পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, নিয়ন্ত্রণমূলক আইন এবং স্বাস্থ্য পাস নয়।
করোনার নতুন স্বাস্থ্যবিধিটি গত শুক্রবার দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে পাশ হয়। এটি নিয়ে আলোচনার জন্য শনিবার সিনেট সভায় উত্থাপন করা হয়েছে।
ফাইল ছবি
ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় উগ্র ডানপন্থীরা বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। ফলে ফ্রান্সে বসবাসকারী ইহুদিদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তারা এখন দলে দলে বসবাসরত দেশটি ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রাথমিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনে মারিন লে পেন-এর উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) পেয়েছে ৩৪.৫ শতাংশ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে- বামপন্থী নিউ পপুলার ফ্রন্ট অ্যালায়েন্স। দলটি ২৮.৫ থেকে ২৯.১ শতাংশ ভোট। আর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর জোট ২০.৫ থেকে ২১.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
জরিপ সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আরএন ৫৭৭ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাবে। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডের পর তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২৮৯ আসন পাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
সংস্থাগুলোর হিসাবে ভিন্নতাও আছে। ইপসস-এর প্রজেকশন অনুযায়ী আরএন পাবে ২৩০ থেকে ২৮০ আসন; ইফপ-এর হিসাব হচ্ছে ২০৪ থেকে ২৭০; এবং এলাব একমাত্র সংস্থা যারা এরএন-এর আসন সংখ্যা ২৬০ থেকে ৩১০-এর মধ্যে করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে কোয়েলিটা অ্যাসোসিয়েশন ফর দি এবজরপশন অ্যান্ড এনকারেজমেন্ট অব জিউশ ইমিগ্রেশন বা আলিয়াহ’র সিইও অ্যারিয়েল কান্ডেল বলেছেন, “এখন প্রায় ৫০ হাজার ফরাসি ইহুদি ফ্রান্স ত্যাগের কথা ভাবছে।”
এনআরের সভাপতি জর্ডান বরদেল্লা এবং এর শীর্ষ আইনপ্রণেতা মারিন লে পেন ধর্মীয় উপাসনায় সরকারি অবস্থান সীমিত করতে চান। দলটির মুসলিমবিরোধী অ্যাজেন্ডার অংশ হিসেবেই তারা ইহুদিদেরও সংযত করতে চায়। তারা বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের পেনসন সুবিধাও সীমিত করতে চায়।
এনআর-এর অনেক সমালোচক দলটিকে অ্যান্টিসেমিটিক হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে অনেকে এই অভিমতের সাথে একমত পোষণ করতে পারছেনা।
কান্ডেল বলেন, যদি জ্যাঁ-লাক মেলেনচোনের নেতৃত্বে উগ্র বামরা ক্ষমতায় আসে, তবে ইহুদিদের ফ্রান্স ত্যাগের আরও প্রবল তাগিদ সৃষ্টি হবে। কারণ অনেক ইহুদিই মেলেনচোনকে অ্যান্টিসেমিটিক বিবেচনা করে।
উল্লেখ্য, যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ তৃতীয় বছরে গড়িয়েছে এবং জ্বালানি আর খাদ্য মূল্য অনেক উঁচুতে, তখন অভিবাসন-বিরোধী আরএন পার্টি এগিয়ে গেছে।
এই নির্বাচন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সে প্রথমবার উগ্র ডানপন্থীদের ক্ষমতায় আনতে পারে, এবং দলের নেতা লে পেনের শিষ্য ২৮-বছর বয়স্ক জর্ডান বরদেল্লাকে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ছবি সংগৃহীত