a জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক কৌশল, আজও জাতীর জন্য অনুকরণীয়: ড. শেখ আকরাম আলী
ঢাকা শনিবার, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৪ মার্চ, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক কৌশল, আজও জাতীর জন্য অনুকরণীয়: ড. শেখ আকরাম আলী


আরাফাত, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:১৬
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক কৌশল, আজও জাতীর জন্য অনুকরণীয়: ড. শেখ আকরাম আলী

ছবি সংগৃহীত: শহীদ জিয়ার বিভিন্ন স্মৃতিময় ছবি

 

নিউজ ডেস্ক: রাজনীতি এবং রাজনৈতিক কৌশল একটি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দল ও নেতারা জাতির বিকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কিছু জাতি সৌভাগ্যবান, যারা ভালো রাজনৈতিক নেতা পেয়েছে, আবার কিছু জাতি এমন নেতৃত্ব পায়নি। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই অঞ্চলে কিছু মহান নেতা আবির্ভূত হয়েছেন, যারা সফলভাবে তাদের দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই নেতারা জাতির নিকট বিনা বিতর্কে সম্মানিত হয়েছেন।  

কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। এ বিষয়ে এখনো মতানৈক্য রয়েছে এবং তীব্র বিতর্ক চলছে। শেখ মুজিবকে বাংলা জাতীয়তাবাদের নেতা হিসেবে দেখা হয়, অন্যদিকে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিএনপির রাজনীতি:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, যা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। বিএনপির সাফল্য ও ব্যর্থতা উভয়ই তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৮ সালে জন্মের পর থেকেই বিএনপিকে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।  

১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমানের পতনের পর দেশ এক রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যায় এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের জন্য এক বেসামরিক রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের অধীনে সামরিক শাসন চলে, যতক্ষণ না তিনি জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন। তবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ নিজ বাহিনীর হাতে নিহত হন, যা জিয়াউর রহমানের উত্থান ঘটায়।  

জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং একজন প্রকৃত জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যেখানে খালেদ মোশাররফকে ভারতপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ইতিহাসের এই সংকটময় সময়ে, মার্চ ১৯৭১-এর মতোই, জিয়াউর রহমান আবার দেশের রাজনৈতিক আকাশে উদিত হন। তিনি শুধু সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাননি, বরং জাতিকেও তার যোগ্য নেতৃত্বের প্রতি আত্মবিশ্বাসী করে তোলেন। যখন দেশ এক চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ছিল, তখন তিনি একমাত্র যোগ্য নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং জাতির ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।  

জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা এবং তিনি সময় নষ্ট না করে ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তার এই উদ্যোগ তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং বিচক্ষণতার প্রতিফলন ছিল। সে সময় দেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া বড় কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না, ফলে বিএনপির জন্ম ছিল সময়ের দাবির প্রতিফলন। আজ অনেকে বিএনপিকে "কিংস পার্টি" বলে আখ্যা দিলেও তারা সেসময়ের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভুলে যায়।  

জিয়াউর রহমানের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না—গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে তাকে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে হয়। অচিরেই তিনি দেশের সামরিক আইন প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। এভাবেই একজন সেনা কর্মকর্তা গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক হয়ে ওঠেন এবং জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ভবিষ্যতে যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন, তা ভালোভাবেই জানার পরও তিনি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার অনুমতি দেন। অনেকের মতে, তিনিই আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা।  

১৯৭৮ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রথমবার অংশগ্রহণ করে এবং ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৮টি আসন লাভ করে, যা তাকে দেশের প্রধান ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত করে। একটি সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি কীভাবে এত দ্রুত জনপ্রিয়তা পেল, এটি আজও অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের জন্য রহস্য। এর কারণ স্পষ্ট—২৬ মার্চ ১৯৭১-এ তার স্বাধীনতার ঘোষণার দিন থেকেই জিয়াউর রহমান এক জনপ্রিয় নেতা হয়ে ওঠেন। মুক্তিযুদ্ধে তার বীরত্ব এবং নেতৃত্ব তাকে কিংবদন্তি সৈনিক বানায়।  

তাছাড়া, মুসলিম লীগ ও ভাসানী ন্যাপের নেতাকর্মীরা, যাদের সমাজে ‘রাজাকার’ বলে চিহ্নিত করা হতো, তারা বিএনপিতে যোগ দিয়ে জিয়াউর রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে এবং দ্রুত grassroots পর্যায়ে দলটির ভিত্তি মজবুত করে। ফলে বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশে ‘আওয়ামী লীগ-বিরোধী’ শক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, যা এখনো কেউ অস্বীকার করতে পারে না।  

খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব:  
১৯৮১ সালের মে মাসে জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করতে বাধ্য হন। দ্রুতই তিনি প্রমাণ করেন যে, তিনি এই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সক্ষম। তিনি গণতন্ত্রপ্রেমী এক অকুতোভয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। এর ফলে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।  

এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপি একমাত্র কার্যকর জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে দাঁড়ায়, এবং বেগম জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অগ্রদূত হয়ে ওঠেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় এবং একটি শক্তিশালী সরকার গঠন করে। তার স্বামীর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীদের সমর্থনে, যেমন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান, মেজর জেনারেল মজিদুল হক, সাইফুর রহমান, ব্যারিস্টার জহিরউদ্দিন সিরকার, অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক, আবদুর রহমান বিশ্বাস ও কর্নেল অলি আহমদ—তিনি তার সরকারকে সফলভাবে পরিচালনা করেন।  

নেতৃত্বের ভুল ও ভারতীয় হস্তক্ষেপ:
তবে, কিছু বড় ভুলের কারণে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে, মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে, তিনি সেনাবাহিনীর অনেক সিনিয়র কর্মকর্তাকে অপসারণ করেন, যা সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করে ফেলে। এছাড়া, জেনারেল নাসিমকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করাও ছিল একটি মারাত্মক ভুল।  

এরশাদের শাসনামলে ভারত তার আধিপত্য বিস্তারের কাজ শুরু করে এবং শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনার মাধ্যমে সফল হয়। তবে, ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে ব্যর্থ হয়। খালেদা জিয়া জনপ্রিয় জনসমর্থন নিয়ে আবার ক্ষমতায় আসেন, তবে তার সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত, যেমন রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিনের ভুল নির্বাচন এবং সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল মইন উদ্দিনের নিয়োগ, বাংলাদেশে ভারতের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের পথ খুলে দেয়। এর ফলাফল ছিল শেখ হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক শাসনের ১৫ বছরব্যাপী এক অন্ধকার যুগ।  

জুলাই বিপ্লব ও শেখ হাসিনার পতন:
শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা অকল্পনীয় দমন-নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু তারা রাজপথ ছাড়েনি, যদিও তারা সরকার পরিবর্তনের কোনো বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।  

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটে। ‘জুলাই বিপ্লব’ শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে এবং ভারতের আধিপত্য চিরতরে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে দেয়। এই বিজয় ছিল ছাত্রদের, বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত ইসলাম এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল।  

ভবিষ্যতের করণীয়:
এখন জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে এই বিজয়কে স্থায়ী করার সময়। বিএনপি এখন বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি এবং তারা যদি বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো গুরুতর ভুল করে, তবে তা শুধু তাদের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে।  

বিএনপিকে এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পথ চলতে হবে, কারণ দলে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় রয়েছে। দেশের জনগণই বিএনপির প্রকৃত শক্তি, কোনো বাইরের শক্তি নয়। বিএনপির টিকে থাকা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তাদের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর। 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

শিক্ষামন্ত্রী বলেন ধর্ষককে কেন সম্ভ্রমহারা পুরুষ বলা হয় না


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন:
মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ, ২০২১, ১০:৩৬
শিক্ষামন্ত্রী বলেন ধর্ষককে কেন সম্ভ্রমহারা পুরুষ বলা হয় না

ফাইল ফটো: বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনি

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাঁচ থেকে ছয় লাখ নারী অসম্মানিত, লাঞ্ছিত, ধর্ষিত, বিধবা বা নানাভাবে হয়রানি ও অপমানের শিকার হয়েছেন। 

আর এসব লাঞ্ছণাকারী রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের ১৯৭৫ সালের পর এদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসানো হয়েছে, তাদের গাড়িতে পতাকা ওড়ানো হয়েছে। তারা ক্ষমতায় বসে দেশকে জঙ্গিবাদে পরিণত করেছে। নারীর অবমাননাকারীরা পূনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে এলে দেশে আবারও জঙ্গিবাদ ফিরে আসবে।

সোমবার ( ৮ মার্চ ) জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু, প্রেস ক্লাবের প্রবীণ নারী সদস্য মাহমুদা চৌধুরী এবং নারী নেত্রী কাজী সুফিয়া আখতার। 

ডা. দীপু মনি আরও বলেন, ধর্ষক বিচারের রায়ে শাস্তি পায়। আর যে নারী ধর্ষণের শিকার হন তার জন্য প্রতিদিনই মৃত্যুদণ্ড। সারাটা জীবন তাকে অস্পৃশ্য ভাবা হয়। এটা পুরোপুরি মানসিকতার ব্যাপার। আমরা ভাষা দিয়ে কীভাবে একজন নারীকে দাবিয়ে রাখি। যখন কেউ ধর্ষণের শিকার হয় আমরা বলি সম্ভ্রমহানি হয়েছে। আমাকে কুকুর কামড় দিলে তো সম্ভ্রমহানি হয় না। একটা পুরুষ ধর্ষণ করলে একটা নারীর কীভাবে সম্ভ্রমহানি হয়? সম্ভ্রমহানি তো সেই পুরুষের হওয়ার কথা। আমরা কেন ধর্ষককে সম্ভ্রমহারা পুরুষ বলি না?’

সভাপতির বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বীরাঙ্গনাদের অনেকেই অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়। তাই সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি পাঠ্যসূচিতে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের কাহিনী অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি নারী মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন কাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি নির্মাণের সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / এম কে আলম

আরও পড়ুন

নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এর দায় সরকারের ওপরেও পড়বে: সিইসি


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০২:০৯
নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এর দায় সরকারের ওপরেও পড়বে: সিইসি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো নির্বাচনে আসছে না। ফলে সেই ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

সম্প্রতি ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনই মন্তব্য করেন। সিইসি বলেন, নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা অসাংবিধানিক ও আইনের পরিপন্থী। সংবিধানে সভা-সমাবেশ করার যে অধিকারের কথা বলে হয়েছে তা শর্তসাপেক্ষে।

এবারের নির্বাচন একটু ভিন্ন ধরনের। কারণ ২০১৪ সাল বাদে নির্বাচনের আগে সংঘাত ও সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হয়নি। কারণ নির্বাচনগুলো ছিল সর্বজনীন। তিনি বলেন, যারা সভা-সমাবেশ করছে নির্বাচনের পক্ষে তাদেরও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নির্বাচনের পক্ষে ও বিপক্ষে তারা মুখোমুখি হলে সংঘাতের ঝুঁকি থাকে। আমরা চাই, এ ধরনের যে কোনো ঘটনা যাতে না ঘটুক। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করলে কোনো সমস্যা নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থেকেই নির্বাচন করতে হবে কমিশনকে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সচেতন হতে হবে, ভোটকেন্দ্রে কোন কারচুপি হচ্ছে কিনা? যে কোনো উপায়ে জেতার মানসিকতা থেকে প্রার্থীদের বেরিয়ে আসতে হবে জানান সিইসি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি নিয়ে নির্বাচন কমিশন মাথা ঘামাচ্ছে না। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার সক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের আছে। ভোট করতে প্রয়োজন ১২ লাখ জনবল, কিন্তু কমিশনের আছে মাত্র ১ হাজার ৫০০ লোকবল। ফলে বিভিন্ন দপ্তর থেকে জনবল নিতে হয় কমিশনকে। সিইসি মন্তব্য করেন, এককভাবে কমিশনের পক্ষে নির্বাচন সফল করা সম্ভব হবে না, সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই নির্বাচন সফল হবে।

৭ জানুয়ারির নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য না হলে পদত্যাগ করবেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এককভাবে কমিশনকে দায়বদ্ধ করা যাবে না, এর দায় সরকারের ওপরেও বর্তাবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল মনে করেন, এটি একটি রাজনৈতিক বিতর্কিত প্রশ্ন। এই বিতর্ক সমাধান করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকেই। এ সময় তিনি বলেন, তবে আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্রসহ ২৭টি দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কোন কোন দল নির্বাচন বয়কট করতে কোনো বাধা নেই বলেও জানান তিনি। সূত্র: যুগান্তর

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - রাজনীতি