a বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যে ইউক্রেন ধ্বংস হচ্ছে, তামাশা দেখছেন বিশ্ববাসী!
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ চৈত্র ১৪৩২, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যে ইউক্রেন ধ্বংস হচ্ছে, তামাশা দেখছেন বিশ্ববাসী!


খোরশেদ, আন্তর্জাতিক সংবাদ:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সোমবার, ২১ মার্চ, ২০২২, ০১:০৪
বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যে ইউক্রেন ধ্বংস হচ্ছে, তামাশা দেখছেন বিশ্ববাসী

ফাইল ছবি

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরাশক্তি রাশিয়া। ইতোমধ্যে ইউক্রেনের অধিকাংশ নগরী, সামরিক স্থাপনা ধ্বংস ও দখলে নিয়েছে রুশ সৈন্যরা। এতে করে দেশটির বিভিন্ন জায়গায় সামরিক-বেসামরিক হতাহত হয়েছে অনেক।

রাশিয়ার দাবি ইউক্রেনে তাদের সামরিক অভিযানের অর্থ যুদ্ধ নয়। তারা দাবি করছে, বিশ্বব্যাপী একটি সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে এই অভিযান। মি. পুতিন আরও বলেন, ইউক্রেনকে নাৎসিমুক্ত করা, দেশটির নিরস্ত্রিকরণ ও ন্যাটো জোটে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তি প্রতিহত করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে এই প্রথমবারের মতো রাশিয়া শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এটি গত শুক্রবার পশ্চিম ইউক্রেনের বড় ধরনের ভূগর্ভস্থ অস্ত্রের গুদাম বরাবর আঘাত হানে এবং আঘাতে পুরো গুদামটি ধ্বংস হয়ে যায়।

এরপর গত রবিবার রুশ বাহিনীর হামলায় ইউক্রেনের বন্দরনগরী মারিউপলে অবস্থিত ইউরোপের বৃহত্তম স্টিল প্ল্যান্ট আজোভস্তল ‘ধ্বংস’ হয়ে গেছে বলে সেখানকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের সংসদ সদস্য লেসিয়া ভ্যাসিলেঙ্কো টুইটারে লিখেছেন, ইউরোপের সবচেয়ে বড় স্টিল প্ল্যান্ট ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে ইউক্রেনের অর্থনীতির বিশাল ক্ষতি বয়ে আনবে।

অপরদিকে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে তাদের পাল্টা হামলায় গত তিন সপ্তাহে ১৪ হাজার ৪০০ রাশিয়ান সেনা নিহত হয়েছে। জেনারেলসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাও এর মধ্যে রয়েছেন। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির  জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি আলোচনা-বৈঠকের তাগিদ দিয়ে বলেছেন, ‘এখনই সময় আলোচনার’। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, ইন্টারফ্যাক্স, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান।

জেলেনস্কি মাঝে মাঝে পরাশক্তি রাষ্ট্রপ্রধানের ন্যায় হুঙ্কার ছাড়ছেন এবং পশ্চিমা বড় বড় শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যা বলেন না, তিনি তাই বলে যাচ্ছেন এবং মাঝে মধ্যে মানবিক মায়া কান্নাও কেটে বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে তিনি বলছেন, আলোচনার এটাই সময় : ‘অবিলম্বে’ মস্কোর সঙ্গে অর্থবহ শান্তি ও নিরাপত্তা আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

গত ১৯ মার্চ, শনিবার  জেলেনস্কি বলেন, আগ্রাসন চালিয়ে রাশিয়ার করা ‘ভুলের’ ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখার এটাই একমাত্র সুযোগ। প্রতিদিনের মতো দেওয়া রাত্রিকালীন ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘নিজেদের ভুলের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য রাশিয়ার কাছে এটাই একমাত্র সুযোগ, এটাই সাক্ষাতের সময়, আলোচনার সময়, এটাই ইউক্রেনের ন্যায়বিচার ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনর্বহালের সময়।’ মস্কোকে সতর্ক করে জেলেনস্কি আারও বলেন, ‘অন্যথায় রাশিয়ার এমন ক্ষয়ক্ষতি হবে, তা কাটিয়ে উঠতে আপনাদের কয়েক প্রজন্মের প্রয়োজন পড়বে।’

রুশ নাগরিকদের উদ্দেশে জেলেনস্কি বলেন, ‘কেবল কল্পনা করুন মস্কোর স্টেডিয়ামে পড়ে আছে ১৪ হাজার মৃতদেহ এবং হাজার হাজার আহত ও অঙ্গহানির শিকার হওয়া মানুষ। এই আগ্রাসনে ইতোমধ্যে রাশিয়ার বহু হতাহত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এটাই যুদ্ধের মূল্য। তিন সপ্তাহের সামান্য কিছু বেশি সময়ে। এই যুদ্ধ অবশ্যই থামাতে হবে।’

উল্লেখ্য, রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পর ইউরোপ, আমেরিকা ও ন্যাটোসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইউক্রেন সামরিক সাহায্যের আবেদন করলেও কোন দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণে সাহস দেখায়নি। ন্যাটো, ইউরোপ, আমেরিকাসহ প্রতিটি দেশ তাদের সৈন্যদের যুদ্ধক্ষেত্রে না পাঠিয়ে, নিরাপদ অবস্থান থেকে কৌশলে তারা ইউক্রেনকে মারণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যু্দ্ধ করতে প্রকারন্তরে ইউক্রেনকে উৎসাহ দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।

আবার আমেরিকাসহ কিছু দেশের অস্ত্র যখন ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে ভাল প্রতিরোধ গড়ছে, তখন সেসব দেশের অস্ত্র ব্যবসায়ীরা রাতে রাতে ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলোতে ধুঁয়া তুলছে প্রতিটি দেশকে নিরাপদ রাখতে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম মজুদ করার এখনই উপযুক্ত সময়! তাই বিশ্বের নজর যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে, এই সুযোগে অস্ত্র রফতানীকারক দেশগুলো ভিতরে ভিতরে অস্ত্র ব্যবসায়ে তৎপর।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সৈন্য, যুদ্ধ-বিমান, নো-ফ্লাই জোনসহ নানাবিধ সাহায্য চেয়ে বার বার বিফল হয়েছে। ইউরোপসহ, আমেকিার রাষ্ট্র প্রধানরা জানিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে সৈন্য বা সামরিক বিমান পাঠালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে নিজেদের নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেছে। ফ্রান্স, জার্মান, ইসরায়েল, ভারতসহ অনেক দেশ আমেরিকার কূটনৈতিক চাল থেকে নিজেদের কৌশলগত স্বতন্ত্র অবস্থানে রাখার চেষ্টা করে আসছে এবং তারা পরোপক্ষভাবে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে নিজেদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

এদিকে ইউক্রেন সংকটের ঘটনাপ্রবাহ অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করছে পশ্চিমাঘেষা সোস্যাল মিডিয়া।এক্ষেত্রে ইউক্রেন সংকটের শুরু থেকেই আলোচিত সোস্যাল মিডিয়ার ভূমিকা। বিশ্বে এর আগে কখনও কোনো যুদ্ধ কিংবা লড়াইয়ের ঘটনাপ্রবাহ সামাজিক মাধ্যমে এভাবে সরাসরি ও তাৎক্ষণিকভাবে নাক গলায়নি বা বাগাড়ম্বর সংবাদ পরিবেশন করেনি। বর্তমানে যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহও যেন ঠিক করে দিচ্ছে সামাজিক মাধ্যমগুলো।

পাশাপাশি যুদ্ধের ব্যাপারে পশ্চিমা বিশ্বের নীতি নির্ধারকদের প্রতি করণীয় ঠিক করার ব্যাপারে চাপ তৈরি হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম থেকেই। সিরিয়া যুদ্ধে এই প্রবণতা দেখা গেলেও, ইউক্রেন সংকটে তা যেন ব্যাপকহারে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

পাশাপাশি সোস্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া এ জনমতের চাপ তার কতটুকু আসল আর কতটুকু কৃত্রিম, সে প্রশ্নও উঠছে। বর্তমানে রাশিয়ার আক্রমণে যখন ইউক্রেনের বড় বড় শহর ও স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তখন অপরপক্ষগুলো শান্তি স্থাপনের উদ্যোগ না নিয়ে প্রকারন্তরে ইউক্রেনে সমরাস্ত্র পাঠাচ্ছেন। এবিষয়ে রুশ পার্লামেন্টের চেয়ারম্যান যথার্থই বলেছেন ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এক জরুরি বৈঠকে শান্তির কথা না বলে ইউক্রেনে সমরাস্ত্র পাঠিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন।

তিনি আরও বলেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো ইউক্রেনে সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে যাচ্ছে। এসব দেশের সরকারগুলোর সম্মতিতে ইউক্রেনের উগ্র জাতীয়তাবাদীদের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য ভাড়াটে সেনাদের আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের জয়ের সামান্য বিষয়গুলো বড় করে প্রচার করার চেষ্টা করছেন। যেমন গত ২০ মার্চ প্রচার করা হয় ইউক্রেনের আকাশে বাধাহীন এবং মন্থরভাবে দেশটির যুদ্ধবিমান উড়ছে। দেশটিতে অবস্থানকারী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের রিপোর্টিং টিম এমন দৃশ্য দেখেছেন।

ইউক্রেন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র  ও যুক্তরাজ্যের  গোয়েন্দারা তাদের দৈনন্দিন আপডেটে দাবি করে আসছে এবং বলার চেষ্টা করছে ইউক্রেনের আকাশসীমায় রাশিয়া ‘প্রবল আধিপত্য’ বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি। এসব খবর রাশিয়াকে আরো বেশি ক্ষেপিয়ে তুলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সিএনএনের টিম দাবি করছে, তাদের দেখা দৃশের সঙ্গে পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্যের মিল রয়েছে।      

খবরে বলা হয়েছে, সিএনএনের একটি টিম শনিবার ইউক্রেন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি এলাকায় ভ্রমণ করেছেন। এই এলাকায় কয়েকশ কিলোমিটারের মধ্যে আকাশের নিম্নসীমায়  তারা ইউক্রেনের যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন। এসব খবরে পরাশক্তি রাশিয়া তার সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহারের কৌশল অবলম্বন করাটাই স্বাভাবিক। এতে ইউক্রেনের কিছু কৌশলগত সামরিক-বেসামরিক জায়গা নিরাপদ থাকলেও এসব খবরের পর তা প্রধান টার্গেটে পরিণত হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রাশিয়া এর আগে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেনি, কিন্তু ইউক্রেন এধরণের অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের পর রাশিয়া তার দ্বিগুণ গতিসম্পন্ন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেণের শহর-জনপথ ধ্বংস করে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন পূনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন সাহায্যের প্রয়োজন হবে। করোনারোত্তর সারা বিশ্ব যখন অর্থনৈতিক টালমাটাল অবস্থা, তখন যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা সারা বিশ্বের জন্যই হুমকিস্বরূপ।

এদিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হুমকিও দিয়ে বসলেন জেলেনস্কি, তিনি বলেন, পুতিনের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ হবে।

জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে তিনি একইসঙ্গে সতর্ক করেছেন, যদি আলোচনার চেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে লড়াই ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের’ দিকে নিয়ে যাবে।'

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রবিবার সকালে সিএনএন-এর ফরিদ জাকারিয়ার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

আবার রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, আমেরিকা পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এখন ইউক্রেনকে এস-৪০০ দিতে তুরস্ককে প্রস্তাব করেছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সহযোগিতার জন্য ইউক্রেনকে রাশিয়ার তৈরি সেই আলোচিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ দেওয়ার জন্য তুরস্কের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যদিও প্রথম থেকেই রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য তুরস্কের প্রতি নাখোশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে অবস্থা বেগতিক দেখে এখন সেই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাই ইউক্রেনকে দিতে অনুরোধ করছেন মার্কিন নেতারা।

অপরপক্ষে, রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দুমার চেয়ারম্যান ভ্যাজিস্লাভ ভোলোদিন তার ব্যক্তিগত টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বলেছেন, শান্তি চাইলে ইউক্রেনে মানবিক ত্রাণ না পাঠিয়ে অস্ত্র পাঠাচ্ছেন কেন?
ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এক জরুরি বৈঠকে ইউক্রেনে সমরাস্ত্র পাঠিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেওয়ার পর রুশ পার্লামেন্টের চেয়ারম্যান এ কথা বলেছেন।

ইউক্রেনে সমরাস্ত্র ও ভাড়াটে সেনা পাঠানোর ব্যাপারে আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্রদের হুশিয়ার করে দিয়েছে রাশিয়া। দেশটি ইউক্রেন সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে বিলম্ব করার জন্যও পাশ্চিমাদের দায়ী করেছে। খবর রুশ বার্তা সংস্থা তাসের।

তিনি বলেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো ইউক্রেনে সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে যাচ্ছে। এসব দেশের সরকারগুলোর সম্মতিতে ইউক্রেনের উগ্র জাতীয়তাবাদীদের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য ভাড়াটে সেনাদের আমদানি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার সহকর্মীরা শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানোর আগে তাদের নিজেদের আগে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে।
তাই শান্তিকামী বিশ্ববাসী মানুষের আশা, বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য পরিহার করে সত্যিকার শান্তি স্থাপনে সকল পক্ষ মনোযোগী হওয়া। যা তুরস্ক, ফ্রান্স ও জার্মানসহ কিছু রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনায়করা মাঝে মধ্যে উদ্যোগী হচ্ছেন। এসব উদ্যোগী রাষ্ট্র নায়করা সত্যিকার অর্থে শান্তি স্থাপনে উদ্যোগ নিতে পারলে বিশ্ববাসী হয়তোবা কথিত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হতে রেহাই পাবে।

মোহা. খোরশেদ আলম, সম্পাদক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

তালেবান ৩ প্রাদেশিক রাজধানী ১ দিনেই দখল করলো


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সোমবার, ০৯ আগষ্ট, ২০২১, ১০:০২
তালেবান ৩ প্রাদেশিক রাজধানী ১ দিনেই দখল করলো

সংগৃহীত ছবি

১ দিনেই আফগানিস্তানের ৩টি প্রাদেশিক রাজধানী দখল করেছে নিয়েছে তালেবান। এ নিয়ে মোট ৫টি রাজধানী নিয়ন্ত্রণে নিলো। রবিবার (৮ আগস্ট) ঘটেছে এই ঘটনা। দখলকৃত শহরগুলো হচ্ছে কুন্দুজ প্রদেশের কুন্দুজ, সার-ই-পুল প্রদেশের সার-ই-পুল এবং তাখার প্রদেশের তালোকান। এর আগে, জোজ্জন প্রদেশের রাজধানী শেবারগান ও নিমরোজের জারাঞ্জ শহর তালেবান নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল।

বিবিসি'র মতে, রবিবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই তিনটি প্রাদেশিক রাজধানী তালেবানের দখলে চলে যায়। কুন্দুজের প্রাদেশিক পরিষদের এক আইনপ্রণেতা বলেন, নগরীর কেবলমাত্র একটি বিমানবন্দর এবং সেনাঘাঁটি ছাড়া আর সবই দখল করে নিয়েছে তালেবান। তবে খোয়া যাওয়া সব এলাকা পুনর্দখল করতে খুব শিগগিরই বড় ধরনের সেনা অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর এক মুখপাত্র।

সার-ই-পুলেও তালেবান যোদ্ধারা প্রাদেশিক কর্মকর্তাদেরকে মূল নগরী থেকে হটিয়ে দিয়েছে। এই কর্মকর্তারা এখন কোণঠাসা হয়ে আছেন কাছের একটি সামরিক ঘাঁটিতে। প্রাদেশিক পরিষদের এক সদস্য জানিয়েছেন এমন কথাই। 

এদিকে, তাখার প্রদেশের পার্লামেন্টের এক প্রতিনিধি আশরাফ আয়ানি রোববার সন্ধ্যায় বলেন, তালেবানের হাতে প্রাদেশিক রাজধানী তালোকানের পতন হয়েছে। যোদ্ধারা সব সরকারি ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং বন্দিদের মুক্ত করে দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পাশের জেলায়।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

অর্থনৈতিক সংকটে আবাসন শিল্পে বিপর্যয়


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
রবিবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ০৮:৪৩
অর্থনৈতিক সংকটে আবাসন শিল্পে বিপর্যয়

ছবি সংগৃহীত

 

দেশের কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আবাসনশিল্প। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩ শতাধিক ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ বা সহযোগী শিল্পও ভালো নেই। সব মিলিয়ে আবাসনশিল্পের ৪৫৮ উপখাত ঝুঁকিতে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশের আবাসন খাতে চলছে ভয়াবহ অস্থিরতা। আতঙ্কিত ক্রেতারা টাকা হাতছাড়া করতে নারাজ। প্লট ও ফ্ল্যাটের কিস্তি পরিশোধ বন্ধ। নেই টাকার সরবরাহ। এমন পরিস্থিতিতেও আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক কোনো সহযোগিতা করছে না। অসংখ্য ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের হুমকিতে পড়েছে। সব মিলিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, সরাসরি অর্ধ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে আবাসনশিল্পে। আর এই শিল্পের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রায় ২ কোটি মানুষ নির্ভরশীল।

আবাসনশিল্প মালিকদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-রিহ্যাব জানিয়েছে, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য অনেক বেড়েছে। প্লট আর ফ্ল্যাট বিক্রি এখন শূন্যের কোঠায়। ক্রেতাদের কিস্তি পরিশোধও বন্ধ। নেই টাকার সরবরাহ। ফলে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। অনেক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার হুমকিতে পড়ায় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। উদ্যোক্তারা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলোতে আবাসন খাতে ১ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ক্রেতাদের জন্য সেই ব্যবস্থা নেই। তাই চলমান এই সংকট উত্তরণে আবাসন খাতের ক্রেতাদের জন্য স্বল্প সুদের বিশেষ ঋণ তহবিল গঠন করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে রিহ্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা এখন খারাপ। ক্রেতারা কিস্তি দিতে পারছেন না। ক্রেতারা টাকা ধরে রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ইতোমধ্যে আবাসন শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি ও সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছে রিহ্যাব। সরকারও সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। এই রিহ্যাব নেতা আরও বলেন, বর্তমানে প্লট ও ফ্ল্যাটের অত্যধিক রেজিস্ট্রেশন খরচ কমানোর বিষয়ে খুব দ্রুত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের সঙ্গে বৈঠক করবে রিহ্যাব। পাশাপাশি এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পের সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতি জানতে এবং করণীয় নির্ধারণে শিগগিরই বৈঠক করবে রিহ্যাব।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন- এফবিসিসিআই পরিচালক ও জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী জুয়েল বলেন, গত তিন মাস ধরে কিস্তি পরিশোধ বন্ধ করে দিয়েছেন ক্রেতাদের অনেকে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ক্রেতা তাদের অর্ডার (ক্রয় আদেশ) বাতিল করেছেন। কেউ কেউ কিস্তি দিচ্ছেন অনিয়মিত।

এ ব্যবসায়ী নেতা জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ থেকে ২০টি ফ্ল্যাট বিক্রি হলেও চলতি মাসে দু-একটিতে এসেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আবাসনসহ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যবসায়ও ধস নামবে। ফলে বেকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া বেড়েছে ঋণের সুদ। তৈরি হয়েছে তারল্য সংকট। চাহিদার তুলনায় কমেছে ঋণ। ফলে আবাসন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামবে। কমে যেতে পারে মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি। যত দ্রুত সম্ভব তারল্য সংকট দূর ও ঋণের সুদ কমাতে হবে। জনসাধারণের মধ্যে সৃষ্ট আতঙ্ক দূর করে আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। আবাসনশিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির জটিলতাও দূর করতে হবে। প্লট ও ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন খরচ কমাতে হবে।

রিহ্যাব বলছে, ২০১০-২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ১৫ হাজারের কাছাকাছি ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হয়েছে। ২০১৩-২০১৬ পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে বিক্রি হয় ১২ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট। ২০১৭-২০২০ পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ১৩-১৪ হাজার ফ্ল্যাট বিক্রি হয়। ২০২০ সালের জুলাই-২০২২ সালের জুন পর্যন্ত প্রতি বছর ১৫ হাজারের কাছাকাছি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে। এরপর নির্মাণ উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে ফ্ল্যাটের বিক্রি কমে আসে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিক্রি হয় ১০ হাজারের কাছাকাছি ফ্ল্যাট। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও কমে সেটি ১০ হাজারের নিচে অবস্থান করছে। এতে দেখা যায়, ফ্ল্যাটের চাহিদা দিন দিন কমেছে। এর সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে ও পরের কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে আবাসনশিল্প।

রিহ্যাব জানায়, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আবাসন সুবিধা সহজলভ্য করার জন্য সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। একসময় এই সিঙ্গেল ডিজিট সুদের ঋণ প্রদান ব্যবস্থা চালু ছিল। তখন অনেক মধ্যবিত্ত সিঙ্গেল ডিজিট সুদের ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। মধ্যবিত্তের আবাসনের স্বপ্ন পূরণ করতে এবং আবাসন খাতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একই ধরনের ব্যবস্থা আবারও গ্রহণ করা প্রয়োজন। বালাদেশে ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় সার্কভুক্ত দেশ এমনকি উন্নত বিশ্বের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি। রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কম হলে, ক্রেতারা দলিলে সঠিক মূল্য দেখাতে উৎসাহিত হবেন। সরকারও সঠিক রাজস্ব পাবে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক ও অর্থনীতিবিদ তৌফিকুল ইসলাম বলেন, আবাসন খাত এখন দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। এমনকি মধ্যবিত্তরাও ফ্ল্যাট কিনতে পারছেন না। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশে আবাসন খাতের ক্রেতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা নেই। আবার দেশের অর্থনীতিও কঠিন পরিস্থিতিতে আছে। ফলে চলমান পরিস্থিতিতে আবাসন খাত ধাক্কা খাচ্ছে।  

জানা গেছে, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে ইট, বালু, রড, সিমেন্ট, কনস্ট্রাকশন, স্যানিটারি, সিরামিক, গ্লাস, অ্যালুমিনিয়াম, ক্যাবল ও লাইটিং শিল্পের মতো ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ খাত দুশ্চিন্তায় রয়েছে। চরম ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে লাখ লাখ নির্মাণ শ্রমিকের কর্মসংস্থান। সব মিলিয়ে আবাসনশিল্পের ৪৫৮ উপখাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমেছে। এর মধ্যে রড, সিমেন্ট, তার, স্যানিটারি, তালা, চাবি, বোর্ড, দরজা অন্যতম। এ হিসেবে হিসাব করলে জিডিপির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আবাসন খাত। নির্মাণসামগ্রীর দাম কমলে মানুষ আবার এ খাতে বিনিয়োগে আসতে পারে।

আবাসনশিল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, এ খাতে জড়িত ৩ শতাধিক ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ বা সহযোগী শিল্প খাত রয়েছে। আর ১৮ খাতে বিভক্ত পণ্যভিত্তিক উপখাত হলো ৪৫৮টি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো- রড, সিমেন্ট, রেডিমিক্স, ইট, পাথরসহ ১১টি উপখাত নিয়ে সিভিল খাত। ক্যাবল, সার্কিট ব্রেকার, সুইচ-সকেট, মিটার, লাইট মিলিয়ে ৩০টি উপখাতের ইলেকট্রিক খাত। উড, দরজা, লকসহ ২৫টি উপখাত নিয়ে উড খাত। পাইপ, গ্লাস, ট্যাব, ফিটিংস, ওয়াটার পাম্প নিয়ে ২০টি উপখাতের প্লাম্বিং খাত। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রকারের টাইলস, মার্বেল, স্টোন, মোজাইক চিপস ইত্যাদি ১৩টি উপখাত নিয়ে টাইলস খাত। কমোড, বেসিন, বাথট্যাব, হ্যান্ড শোয়ার, কানেকশন পাইপ, গ্রেটিংসহ ৩৩টি উপখাত নিয়ে স্যানিটারি খাত। পেইন্ট, ফোম ল্যাব, বুন্স অ্যান্ড পোলিশ নিয়ে ৬টি উপখাতের পেইন্ট খাত। সুরকি, কেমিক্যাল, অ্যাডমিক্সার, স্টোনসহ ৬টি উপখাত। ফ্লোর ব্রোম, হেয়ার ব্রুশ, সেফটি নেট, রয়েল প্লাগ, প্লামব্রুশ, হস পাইপ, প্যাড লক, মাসকিন ট্যাব ইত্যাদি ৯৭টি উপখাত নিয়ে হার্ডওয়্যার খাত। লিফট, সাব-স্টেশন, সোলার সিস্টেম, জেনারেটর, ইন্টারকমসহ ১৮টি উপখাতের ইলেকট্র্রিক খাত। অ্যালুমিনিয়াম, গ্রিল, ফায়ার ডোর, স্টিল অবকাঠামো, স্কাই লাইট, এলপিজি সিস্টেম, সুইমিংপুল ইত্যাদি নিয়ে ৬৪টি উপখাতের সাব-কন্ট্রাক্ট খাত। এক্সকেভেটর, লিট ট্রাক, রোড রোলার মেশিন, বুলডুজার, ডাম্প ট্রাকস, পাইপ ড্রাইভিং মেশিনসহ ১৯টি উপখাতের কনস্ট্রাকশন মেশিনারিজ খাত। সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, স্যানিটারি, টাইলস, পেইন্টম সয়েল টেস্ট, পাইল ওয়ার্ক নিয়ে ২৬টি উপখাতের শ্রম খাত। এ ছাড়াও ভূমি উন্নয়ন, প্রশাসনিক, হোম এপ্লিক্যান্স ও অফিস স্টেশনারি খাতে আরও ৯০টি উপখাত জড়িত আবাসনশিল্পের সঙ্গে।  এসব খাতে ২ হাজারেরও বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ এখন হুমকিতে পড়েছে। ওই ৩ শতাধিক ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পের মধ্যে রয়েছে- ২৭টি কনস্ট্রাকশন সামগ্রী খাত। ৪৩টি বাথ ও কিচেন ফিটিংস পণ্যসামগ্রী উৎপাদন ও সরবরাহকারী খাত। আরও আছে- ৪৪টি ইলেকট্রিক্যাল, ৪৪টি ফার্নিচার, ১৮টি সাফেচ ফার্নিশিংসহ আরও অনেক ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্প।  ৩ শতাধাকি ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ বা সহযোগী শিল্প খাতের মধ্যে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে- দেশের সিমেন্ট, রড, স্টিল ও রি-রোলিং মিলস, সিরামিক ও টাইলস, কেমিক্যালস, ইট, বালু, পাথর, রং, পিভিসি পাইপ, উড, গ্লাস, অ্যালুমিনিয়াম, কিচেন ফিটিংস, গ্যাস স্টোভ, ওয়াটার হিটার, আয়রন, ফ্লাসিং ইকুইপমেন্টস, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, ট্রান্সফরমার, লাইট, ক্যাবলস, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার, এয়ার কুলার, বিল্ডিং ইস্টুলেশন, গ্লাস ডোর, টিমবার, ইলেকট্র্রিক্যাল সিকিউরিটি ডোর, বিল্ডিং সেফটি, মোজাইক, পেইন্ট, সিরামিকের বিভিন্ন পণ্য, বিভিন্ন ধরনের পাইপ, ফিটিংস, ক্যাবলস, কাচ ও কাচজাতীয় অন্যান্য পণ্য, পাথর ও পাথরজাত পণ্য, পেইন্ট, লোহাজাতীয় বিভিন্ন পণ্য, আসবাবপত্র ও কাঠজাত বিভিন্ন পণ্য, প্লাইউড, বৈদ্যুতিক ফিটিংস ও অন্যান্য সামগ্রী, নির্মাণকাজের যন্ত্রপাতি, আঠাজাতীয় বিভিন্ন পণ্য, স্টিলজাত পণ্য, অ্যালুমিনিয়াম খাতের মতো ৩ শতাধিক ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ বা সহযোগী শিল্প। আবাসন খাত হুমকিতে পড়ায় বিপর্যয় নেমেছে ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পেও। এসব খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, আবাসন খাত সচল হলেই ঘুরে দাঁড়াবে লিঙ্কেজ শিল্প। এ ছাড়াও আবাসন কোম্পানিগুলোতে ২০ হাজার নির্মাণকাজ ব্যবস্থাপক, ১০ হাজার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ৩ হাজার স্নাতক প্রকৌশলী এবং প্রায় ৫০০ স্থপতি নিয়োজিত আছেন। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক