a
ফাইল ছবি
তখন ২০০৬ সাল। এক নারী আইপিএস কর্মকর্তা হঠাৎ করেই ভারতজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। বিজেপির এক বিধায়ককে প্রকাশ্যে চড় মারতে কার্পণ্য করেননি।
বিজেপির সেই চড় খাওয়া বিধায়ক বর্তমানে কর্নাটকের মন্ত্রী। নাম রেণুকাচার্য। ঘটনার দিন তিনি কংগ্রেস বিরোধী একটি প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। পুলিশ বারবার অনুরোধ করলেও রাস্তা ছাড়তে রাজি হননি তিনি।
বিধায়ক কথা না শুনার কারনে তাকে চড় মারেন নারী এই পুলিশ কর্মকর্তা। গ্রেফতারও করেন তাকে। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীকে গালিগালাজ করেছিলেন বিধায়ক।
ওই একটি ঘটনাই গোটা ভারতে পরিচিতি এনে দেয় নারী আইপিএসকে। তার নাম সোনিয়া নারং। যদিও পুলিশ মহল তাকে চেনে ‘আয়রন লেডি’ নামে।
হাসিমুখের আড়ালে সোনিয়ার দৃঢ়চিত্ততা বিস্ময়ের কারণ। পুলিশ মহলে তাকে নিয়ে চালু রয়েছে নানা কাহিনিও।
চণ্ডীগড়ের মেয়ে তিনি। সোনিয়ার আদর্শ তার বাবা এ এন নারং। পুলিশের ডেপুটি সুপার হিসেবে অবসর নেন তিনি। সোনিয়া জানিয়েছেন, বাবাকে দেখেই আইপিএস হওয়ার ইচ্ছে হয়েছিল তার। তাকেই তিনি নিজের আদর্শ মনে করেন।
সমাজের চোখে পুলিশ কর্মকর্তার সম্মান এবং তার সমাজ বদলানোর ক্ষমতা আকৃষ্ট করেছিল সোনিয়াকে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েই ইউপিএসসির প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন তিনি।
পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী সোনায়িা। উচ্চ মাধ্যমিকে শীর্ষ স্থান পেয়েছিলেন। পরে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পড়ে স্বর্ণ পদক পেয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
২০০৬ সালের ঘটনাটি যখন ঘটে সোনিয়া তখন কর্নাটকের দেবাঙ্গেরের পুলিশ সুপার। দু’বছর হলো যোগ দিয়েছেন পুলিশ সার্ভিসে। বয়স সবে ২৭ বছর।
তবে কম বয়স বা অভিজ্ঞতা সঠিক পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত করেনি সোনিয়াকে। বিধায়ককে চড় মারার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ তার বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয়েছিল। স্বয়ং বিধায়ক রেণুকাচার্য তার বদলির জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হননি।
সোনিয়া বলেছিলেন, সততা এবং পরিশ্রম এই দু’টি বিষয় প্রশাসনিক ক্ষেত্রে থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। এই দু’টি ক্ষেত্রে ঠিক থাকলে কেউ আটকাতে পারবে না।
২০০৪ সালে পুলিশ বিভাগে কর্মজীবন শুরু সোনিয়ার। ২৫ বছরের শিক্ষানবিশ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রথমেই পাঠানো হয়েছিল কর্নাটকের গুলবর্গা জেলায়। গুলবার্গ অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য কুখ্যাত। সেখানে তাকে ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়। গুলবার্গে সোনিয়ার সুষ্ঠু ভোট পরিচালনা পুলিশ মহলের প্রশংসা পায়।
বরাবরই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করানো হয়েছে সোনিয়াকে। প্রতি বারই সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন, সসম্মানে উতরেও গেছেন।
২০০৬ সালের ঘটনার পর তাকে সাম্প্রদায়িক সমস্যাসঙ্কুল বেলগামে পুলিশ সুপারের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয় । বেলগামের মতো এলাকায় তিনিই ছিলেন প্রথম নারী পুলিশ সুপার।
দিন রাত এলাকায় ঘুরে ঘুরে সমাজবিরোধীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সোনিয়া। সোনিয়ার এই পদক্ষেপে ভয় পেয়ে এলাকা ছেড়েছিল বহু অপরাধী।
২০১৩ সালে সরাসরি কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসেন সোনিয়া। কর্নাটকে তখন কংগ্রেসের সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ১৬ হাজার কোটি টাকার খনি কেলেঙ্কারিতে সোনিয়ার নাম করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের জবাব সর্বসমক্ষেই দেন সোনিয়া। ২০১৩ সালে তখন তিনি বেঙ্গালুরুর দক্ষিণ শাখার ডেপুটি কমিশনার। বেঙ্গালুরুর ইতিহাসে তিনিই দ্বিতীয় নারী পুলিশ কমকর্তা, যাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি সাধারণত অভিযোগকারী রাজনৈতিক পদাধিকারীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেই মিটিয়ে নেন পুলিশ কর্মকর্তারা। সোনিয়া কিন্তু সেই পথ ধরেননি।
তিনি প্রকাশ্যে একটি বিবৃতি জারি করে লেখেন, খবরের কাগজ মারফৎ জানতে পেরেছি মুখ্যমন্ত্রী আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। যে খনি কেলেঙ্কারির দায় তিনি আমার ওপর চাপিয়েছেন তা সত্য নয়। যে সমস্ত এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে, সেখানে কোনও দিন আমি দায়িত্বে ছিলামই না। তাহলে আমার নাম আসছে কোথা থেকে। এমনকি আমি খনি দফতরের দায়িত্বেও ছিলাম না কখনও। তবে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের বিরুদ্ধে আমি আইনি পথেই লড়তে চাই। কারণ আমি জানি আমি সৎ।
সোনিয়ার এই উত্তরে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন সিদ্দারামাইয়া। আইপিএস হিসেবে সোনিয়ার কর্মজীবনের আরেকটি পালক লোকায়ুক্ত অফিসের দুর্নীতি ফাঁস করে দেওয়া।
দুর্নীতি দমনের জন্য তৈরি লোকায়ুক্তের অন্দরেই চলছিল দুর্নীতি। সোনিয়ার বদৌলতে তা প্রকাশ্যে আসে। দায়িত্বে থাকা সাবেক বিচারপতি ওয়াই ভাস্কর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। গ্রেফতার হন তার ছেলে ওয়াই অশ্বিনও। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা/বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র হামলা ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সেই সঙ্গে ইউক্রেনের দক্ষিণ, পূর্ব এবং উত্তরের প্রধান শহরগুলোর চারপাশে তীব্র যুদ্ধ চলছে। খবর বিবিসির
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেছেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী চেষ্টা করছে রাজধানী কিয়েভ পুরোপুরি দখল করে নেওয়ার। এর পর তারা দেশটির নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করবে। কিয়েভের মাইডান স্কয়ারের কাছে একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং শহরের ত্রয়েশ্চিনা এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, কিয়েভের ওপর গোলা হামলার শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে, শহরের কেন্দ্র থেকে কয়েক মাইল দূর পর্যন্ত শব্দ পেয়েছেন তারা। কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলছে, শহরের চিড়িয়াখানার কাছে এবং শুলিয়াভকা শহরের আশপাশে ৫০টিরও বেশি বিস্ফোরণ এবং ভারি মেশিনগানের গোলাগুলি হয়েছে।
ইউক্রেনীয় স্টেট স্পেশাল সার্ভিসের মতে, রাজধানীর ট্রয়েসচিনা এলাকার সিএইচ পি-৬ পাওয়ার স্টেশনের কাছে তীব্র লড়াই চলছে। এ হামলার মাধ্যমে পুরো শহরটিকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করতে পারে।
কিয়েভের পেরেমহি অ্যাভিনিউয়ে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
ভাসিলকিভের একটি বিমানঘাঁটির কাছে তীব্র লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়ান প্যারাট্রুপাররা কিয়েভের ওপর হামলা চালানোর জন্য এই ঘাঁটি তাদের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করবে।
অন্যদিকে ইউক্রেনীয় বাহিনী দাবি করছে, তারা কৃষ্ণসাগরের শহর মাইকোলাইভে থেকে রাশিয়ানদের সফলভাবে হটিয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে কিয়েভ সেনাঘাঁটিতে হামলা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী শনিবার একটি ফেসবুক পোস্টে জানায়, কিয়েভের একটি সেনাঘাঁটিতে রাশিয়ান সৈন্যরা আক্রমণের চেষ্টা করলে তারা এর বিরুদ্ধে তুমুল লড়াই শুরু করে। এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থোনিও গুতেরেস রুশ সেনাদের ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, শান্তিকে আরেকটি সুযোগ দেওয়া উচিত। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর পরই তিনি মন্তব্য করেন, যেখানে ইউক্রেনে আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে রাশিয়ার ভেটো ক্ষমতার কারণে এই খসড়া প্রস্তাবটি ব্যর্থ হয়ে যায়। সূত্র: যুগান্তর
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: রাজধানীতে দিন দিন বাড়ছে দখল বাণিজ্য। জমি দখলসহ অন্যান্য স্থাপনা দখলে মেতে উঠেছে কিছু মহল। ৫ আগস্টের পর থেকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে নতুন পুরাতন কিছু পেশি শক্তি। জমি দখল, সন্ত্রাসী হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি - ভুক্তভোগীদের বাঁচাতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন শীর্ষক ২ রা জুন ২০২৫ ইং জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী পরিবার।
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের মাহদি নগর এলাকার কালুনগর মৌজায় ৮১ শতাংশ জমি নিয়ে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা, অবৈধ দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হচ্ছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবার । প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এবং দ্রুত প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। রফিকুল ইসলাম জানান, কালু নগর মৌজার এস.এ ১০ ও ১১ নং খতিয়ানে ৭১ নাম্বার দাগে এবং আর.এস ৫৭ নং খতিয়ানে ১৫৩৬ নং দাগে এবং ঢাকা সিটি জরিপের ২৯০৯ নং খতিয়ানে ৪১৭ নং দাগে ৮১ শতংশ সম্পর্তি ১৯৩৮ সালে মানিকজান বিবি খরিদ করিয়া মালিকানা ও ভোগ-দখল করিয়া নিয়ত থাকা অবস্থায় মারা গেলে, তাহার ওয়ারিশগণ মো: নজরুল ইসলামকে আম-মোক্তার নিয়োগ করেন। মো: নজরুল ইসলাম চার পাশে টিনের বেড়া ও সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করিয়া মানিকজানের ওয়ারিশদের পক্ষে ভোগদখল বজায় রাখে । ২০২১ সালের ৭ জুন নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মোঃ রফিকুল ইসলাম ও তার তিন বোন সাফ কবলা দলিল (নং: ২৬৫৬) মূলে জমিটি ক্রয় করেন এবং বর্তমানে জমিটি বৈধভাবে তাদের দখলে রয়েছে।
তবে ২০২৫ সালের ২৭ ই ফেব্রুয়ারি আলাউদ্দিন ( হিটলার আলাউদ্দিন), কুখ্যাত সন্ত্রাসী মনির কোম্পানি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোঃ হোসেন-এর নেতৃত্বে একদল দুর্বত্ত জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এতে কেয়ারটেকার ও বাড়ির ভাড়াটিয়ারা বাধা দিলে তারা চলে যায়। যাওয়ার সময় ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। তাহারা উক্ত সম্প্রতি জবর-দখলের জন্য মো: রফিকুল ইসলামের কেয়ারটেকার কে হুমকি ও ভয়ভীতি দিয়ে আসছে, ইতিমধ্যে তার কেয়ারটেকার কে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীর নিকট মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করিতেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, জাল দলিল তৈরির কারিগর মোঃ আলাউদ্দিন (ওরফে হিটলার আলাউদ্দিন ), ভূমিদুরশু মনির কোম্পানি ও হোসেনের নেতৃত্বাধীন চক্রটি নিয়মিতভাবে হুমকি, হামলা ও জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জমি সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন (লিভ টু আপিল নং: ১৬০৮/২০২১ ও ৩৮২২/২০২৪)। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে চলমান এই দখলচেষ্টা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা তাদেরকে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলেছে।
ভুক্তভোগীদের চার দফা দাবি:
১. আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ।
২. জমি দখল ও সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ।
৩. ভুক্তভোগীদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ।
৪. মনির কোম্পানি, হিটলার আলাউদ্দিন ও হোসেন বাহিনীর অবৈধ কর্মকা-ের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ ।
ভুক্তভোগী মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা এখন জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে । অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে আমাদের প্রাণনাশ হতে পারে। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আকুল আবেদন- আমাদের বাঁচান।”