a
ফাইল ছবি
মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে বিজেপি নেত্রী নুপূর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ভারতের একাধিক শহরে আত্মঘাতী হামলার হুমকি এসেছে। এই হুমকির পর ভারতের ক্রেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন শহরে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। খবর: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৬ জুন আত্মঘাতী হামলা চালানোর হুমকি সংবলিত একটি চিঠি দিয়েছে আল-কায়েদা। তারা জানায়, নবী মুহাম্মদেরর সম্মানের জন্য এই লড়াই। দিল্লি, মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশ এবং গুজরাটের বিভিন্ন শহরে আত্মঘাতী হামলা চালানো হবে। এই হুমকির পর ভারতের ক্রেন্দ্রীয় সরকার শহরগুলোতে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে।
চিঠিতে লেখা রয়েছে, কয়েক দিন আগে হিন্দুত্বের ধ্বজাধারীরা আল্লাহর শরিয়ার বিরোধী। মুহাম্মদ আল-মুস্তাফা, আহমেদ আল-মুজতবা এবং তার পবিত্র ও মহান স্ত্রী, সবার আস্থার সায়িদা আয়েশা বিন্তে আবু বকর সিদ্দিকের নামে ভারতীয় চ্যানেলে অত্যন্ত খারাপ ভাষায় অপমান করা হয়েছে। এর কারণে বিশ্বজুড়ে সমস্ত মুসলিমের হৃদয় রক্তাক্ত হয়েছে। তাদের মন প্রতিহিংসায় পরিপূর্ণ হয়েছে। এর বদলা অবশ্যই নেওয়া হবে।
চিঠিতে আরও লেখা রয়েছে, বিশ্বের সমস্ত উদ্ধত, বেয়াদব মুখ বিশেষ করে হিন্দুত্ব সন্ত্রাসী যারা ভারতকে কব্জা করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে লড়ব আমরা। নবীর সম্মানের জন্য সবাইকে এই লড়াইয়ে শামিল হতে বলব।
ভারতের আলোচিত জ্ঞানবাপী মসজিদ ইস্যুতে গত মাসে এক টেলিভিশন টকশোতে মহানবী (সা.) প্রসঙ্গে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বিজেপির মুখপাত্র নুপুর শর্মা। এ ঘটনা উত্তর প্রদেশের মুসলিমদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। বৃহস্পতিবার নুপুর শর্মাকে সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে টুইট করেন রাজ্য বিজেপির অপর নেতা নবীন কুমার জিন্দাল। যদিও পরে সেই টুইট মুছে ফেলেন তিনি।
এদিকে, এ ঘটনার জেরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর উত্তর প্রদেশের কানপুর জেলায় দুটি গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে দাঙ্গা হয়েছে। এতে পুলিশের ২০ কর্মকর্তাসহ ৪০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার পুলিশ সহিংসতার এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সন্দেহভাজন অভিযুক্ত হিসেবে ৪০ জনের ছবি প্রকাশ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি থেকে সন্দেহভাজনদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সহিংসতার পর দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিল কানপুর পুলিশ। এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত জাফর হায়াতসহ ৫০ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নবীকে (সা.) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় রবিবার নুপুর শর্মাকে দল থেকে বরখাস্ত এবং জিন্দালকে বহিষ্কার করেছে বিজেপি। এরপরও বিজেপির জ্যেষ্ঠ দুই নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মুসলিম বিশ্বের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও তোপের মুখে পড়েছে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত ১৬টি দেশ ভারতের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। এসব দেশ ভারত ও বিজেপি সরকারের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দেশটিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক
ছবি সংগৃহীত: রামমন্দির
ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ‘বাবরি মসজিদের’ স্থলে নির্মিত আলোচিত সেই রামমন্দিরটি আজ উদ্বোধন করা হচ্ছে। ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ নামের এই অনুষ্ঠান আজ সোমবার উদ্বোধন করবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে উদ্বোধন করা হবে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট)।
রামমন্দিরের এই উদ্বোধন ঘিরে অযোধ্যাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে। লতা মঙ্গেশকর চকে মোতায়েন করা হয়েছে রাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের (এটিএস) সদস্যদের।
অযোধ্যা পুলিশ জানিয়েছে, অনুষ্ঠান ঘিরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিস্তৃত পরিসরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
রামমন্দির প্রতিষ্ঠা ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এ প্রতিশ্রুতি পূরণ এ বছর অনুষ্ঠেয় লোকসভা নির্বাচনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বহন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও লোকসভার বিরোধী নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকেও ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এ অনুষ্ঠানে কংগ্রেস না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এছাড়া শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরিও জানিয়ে দিয়েছেন, ওই অনুষ্ঠানে তারা যাবেন না।
উল্লেখ্য, মোগল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাঁকি ১৫২৮ সালে অযোধ্যায় মসজিদটি তৈরি করেন, যা পরবর্তী সময়ে বাবরি মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে দেশটির হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, সেখানে ‘রামের মন্দির ভেঙে’ মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল। সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ফাইল ছবি
হেরে লিগ কাপ থেকে বিদায় নিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। রোনালদোবিহীন রেড ডেভিলদের সঙ্গে ১-০ গোলে জয় পেয়েছে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড।
অন্যদিকে, টাইব্রেকারে অ্যাস্টন ভিলাকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে পরের পর্বে উঠেছে চেলসি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গেল সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে হেরে যায় ইয়ং বয়েজের কাছে।
এবার লিগ কাপেও সেই দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। হার নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় ঐতিহ্যবাহীদের। তাও আবার নিজেদের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে। কিন্তু ২ দিন আগেই তাদেরকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল থিয়েটার অব ড্রিমের নায়কেরা। হারের একটা বড় কারণ হিসেবে দাড় করানো যেতে পারে রোনালদোর না থাকাটাকে।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শুরুটা ভালো হয়নি। ম্যাচের ৯ মিনিটেই ওয়েস্টহ্যামের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার ম্যানুয়েল লানযিনির গোলে পিছিয়ে যায় রেড ডেভিলরা।
এরপর আক্রমণ আর বল দখলে এগিয়ে হ্যামারদের চাপে রাখে ওলে গানার সোলশায়ারের দল। প্রথমার্ধের ওই গোলটা দ্বিতীয়ার্ধে পুরো সময় চেষ্টা করেও আর পরিশোধ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ঐতিহ্যবাহীদের।
এদিকে আরেক ম্যাচে, চেলসির সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়েছে । নিজেদের মাঠ স্ট্যাম্পফোর্ড ব্রিজে ম্যাচের প্রথমার্ধ গোল শূণ্য ড্র করে চেলসি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে চেলসিকে এগিয়ে দেন টিমো ওয়ের্নার। ১০ মিনিট পর সেই গোল শোধ করে দেন অ্যাস্টন ভিলার আর্চার। জমে ওঠে ম্যাচ। দুই দলই করে এগিয়ে যাবার লড়াই। তবে ম্যাচের বাকি সময় গোলে না হলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। টান টান উত্তেজনার সেই ম্যাচে ৪-৩ ব্যাবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় ব্লুরা। নিজেদের মাঠ বলেই আত্মবিশ্বাসী ছিল থমাস টুখেলের দল। এই জয়ে পরের পর্বের টিকিট কাটলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিজয়ীরা।