a
সংগৃহীত ছবি
ইরান এবং সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছে সৌদি আরব। কাতারের আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়ে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব এবং সিরিয়া।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে রিয়াদ নতুন নীতি গ্রহণ করতে যাওয়া প্রাক্কালে এই খবর এলো।
সৌদি আরব এবং সিরিয়ার মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা কমানোর ব্যাপারে ইরান সব সময় তৎপর। কয়েকটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এরফলেই সৌদি আরব কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন, এর পাশাপাশি ইরান বন্ধুদেশ সিরিয়াকে জড়িত করেছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সৌদির যুবরাজ সিরিয়াকে আশ্বস্ত করার জন্য তার টিমকে এই নির্দেশনা দিয়েছেন যে, রিয়াদ সিরিয়ায় সরকার পরিবর্তন চায় না বরং সিরিয়া হচ্ছে ভ্রাতৃসুলভ আরব দেশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সৌদি আরব এবং সিরিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়া উচিত।
সিরিয়ার সূত্র আরও জানায়, সৌদি যুবরাজের মনোভাবকে তাৎক্ষণিকভাবে ইরান স্বাগত জানিয়েছে।
ফাইল ছবি
তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে আবার উত্তেজনা বেড়েছে। দ্বীপটি ঘিরে আবার বড় ধরনের সামরিক কার্যক্রম চালানো শুরু করেছে বেইজিং। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আজ শনিবার ১৭টি চীনা যুদ্ধবিমান ও ৫টি যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ান ঘিরে চক্কর দিতে দেখা গেছে। এর মধ্যে চারটি যুদ্ধবিমান তাইওয়ান প্রণালিতে তাইওয়ান ও চীনের অলিখিত সীমা বা মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে বলে দাবি করেছে তাইপে।
তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের পর্যবেক্ষণে বেইজিংয়ের নতুন সামরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি ধরা পড়েছে। তাইওয়ান নিউজের বরাতে বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে চীনের সামরিক কর্মকাণ্ড দেখতে পাওয়া যায়।
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এয়ার ফোর্সের ১৭টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে ৮টি সীমানা অতিক্রম করে। এগুলোর মধ্যে ছিল চারটি শিআন জেএইচ–৭ ফাইটার বোম্বার, দুটি সুখোই এসইউ–৩০ ফাইটার ও দুটি সেনইয়াং জে–১১ জেট বিমান। এগুলোর মধ্যে জেএইচ–৭–এ এসইউ–৩০ যুদ্ধবিমানগুলো উত্তর প্রান্ত ও জে–১১ ফাইটার বিমানগুলো দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে সীমানা অতিক্রম করে।
তাইওয়ানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, চীনের সামরিক কর্মকাণ্ডের মুখে তারা নজরদারি ও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কমব্যাট এয়ার প্যাট্রোলস (সিএপি), নৌবাহিনীর জাহাজ ও প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সক্রিয় করার ব্যবস্থা নেয়।
চীনের কড়া হুঁশিয়ারির পরও এ মাসের শুরুতে তাইওয়ান সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তাঁর ওই সফর ঘিরে তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর গত রোববার মার্কিন কংগ্রেসের আরেকটি প্রতিনিধিদল তাইওয়ানে গেলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। চীনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বলা হয়, তাদের যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের দোরগোড়ায় রয়েছে। তাইওয়ানের কাছাকাছি পেংহু দ্বীপের ভিডিও প্রকাশ করে পিএলএ।
তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড মনে করে বেইজিং। কিন্তু তাইওয়ানের মানুষ নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেই দেখেন। এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি খাটানোর হুমকিও দিয়ে আসছে বেইজিং। চীন বলে আসছিল, ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফরে গেলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। কিন্তু বেইজিংয়ের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পেলোসি তাইওয়ান যান। তাঁর এই সফর কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনায় তাইওয়ান প্রণালিতে ব্যাপক সামরিক মহড়া চালায় চীন। মোতায়েন করা হয় যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র। ১৯৯৬ সালের পর এটাই ছিল চীনের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া। পেলোসি ও তাঁর পরিবারের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে চীন। অবশ্য তাইওয়ানের দাবি, সামরিক মহড়া শুরুর পেছনে পেলোসির সফরকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে চীন।
এর মধ্যেই আবার মার্কিন কংগ্রেসের এক প্রতিনিধিদল তাইওয়ান সফর করে। এতে আরও বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করে বেইজিং। তাদের সফর ঘিরে সোমবার সেখানে আবারও সামরিক মহড়া চালায় বেইজিং। চীনের সামরিক বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের মুখপাত্র শি ই বলেন, তাইওয়ান প্রণালিজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ান। রাজনৈতিক কূটকৌশলও খাটাচ্ছে তারা। এই সামরিক মহড়া তারই একটি জবাব। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েবিন বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজন হলে চীন শক্ত পদক্ষেপ নেবে।
বেইজিংয়ের এমন হুমকির মুখে অবশ্য শক্ত অবস্থানে রয়েছে তাইপেও। তাইওয়ান এয়ার ফোর্সের ভাইস চিফ অব স্টাফ তুং পেই-লুন অবশ্য তাইওয়ান প্রণালিতে পেংহুর কাছে চীনের মহড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, বেইজিং কথার লড়াই চালাচ্ছে।
এদিকে তাইওয়ান প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তাইওয়ান ঘিরে চীনের সামরিক ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপের জবাব দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
গত বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, স্থিতাবস্থাকে ক্ষুণ্ন করার জন্য বেইজিংয়ের চলমান প্রচেষ্টার মুখে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রজুড়ে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহ এবং মাসগুলোতে তা প্রকাশ পাবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে এ চ্যালেঞ্জকে দীর্ঘমেয়াদি বলে মনে করছে। সূত্র: প্রথম আলো
ফাইল ছবি
গাজীপুর সিটি নির্বাচনে একের পর এক আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় মন্ত্রী ও প্রার্থীর একাধিকার আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপরও আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব ঘটনায় বিব্রত কমিশন ফের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমতউল্লাকে নির্বাচন কমিশনে তলব করেছে।
আজ রবিবার বেলা ৩টায় সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী দুই দফা আচরণবিধি তিনি ভঙ্গ করেছেন বলে গণমাধ্যমের ফুটেজ দেখে আমাদের প্রতীয়মান হয়েছে। সেজন্য তাকে আমরা নির্বাচন ভবনে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে বলেছি। এক্ষেত্রে তিনি যদি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেন, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। আর যদি না দিতে পারেন, তবে কিছু না কিছু শাস্তি তো হবেই। কী শাস্তি হবে তা নির্ভর করবে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায়। তিরস্কার যেমন শাস্তি তেমনি জেল-জরিমানা এবং প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও আছে আইনে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন পাঁচ সিটির ভোট সুষ্ঠু করতে বেশ তৎপর নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত এই ভোটে বিএনপি অংশ না নিলেও ভোটকে সুষ্ঠু করার জন্য কোনো কমতি নেই কমিশনের।
ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় পার্টি-জাপার মহাসচিব বরাবর আচরণবিধি প্রতিপালনে সহযোগিতা চাওয়া হয়। কিন্তু পাঁচ সিটির আগে অনুষ্ঠিত গাজীপুরে বিধি লঙ্ঘনের হিড়িক পড়েছে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিধি ভঙ্গের কারণে গত ৩০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে সতর্ক করেছিল ইসি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ইসিতে তলব করা হয়। এরপরও আরেকদফা বিধিভঙ্গ করেন সংশ্লিষ্ট তিন জনই।
গত বৃহস্পতিবার ছুটি রিসোর্টে গাজীপুর বাড়ীয়া ইউনিয়নের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সভায় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমতউল্লা অংশ নেন। নৌকার প্রার্থীর পক্ষে সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে ভোট প্রার্থনা করেন। ঐ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জরুরি বৈঠকে আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য আজমত উল্লা খানকে ফের তলবের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইসি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল সভা করে নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেছেন; যেখানে প্রার্থী নিজে উপস্থিত ছিলেন। এটি সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) ২০১৬ বিধি-৫-এর পরিপন্থি বলে জানিয়েছে ইসি। এজন্য বিধির ৩২ ধারা অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান। একান্ত সচিবের মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পুনরায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে সতর্ক করা হয়েছে। সূত্র: ই্ত্তেফাক