a
ফাইল ছবি
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র নৌ বিভাগের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী রেজা তাঙ্গসিরি বলেছেন, ইরানের পানিসীমায় প্রবেশের কোনো অধিকার আমেরিকার নেই। ভবিষ্যতেও অতীতের মতোই তাদেরকে মোকাবেলা করা হবে।
তিনি আরও বলেছেন, ইরানের সাহসী তরুণেরা সব সময় মাতৃভূমির সম্মান রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছে। আজ যারা সাগরে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলছে তারা শহীদদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছে।
আলী রেজা তাঙ্গসিরি বলেন, শত্রুর মোকাবেলায় প্রতিরোধের শিক্ষা নিতে হবে শহীদদের কাছ থেকে। আল্লাহর রহমতে ইরানের ইসলামী যোদ্ধারা পারস্য উপসাগরে মার্কিনীদেরকে শক্ত চপেটাঘাত করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের অহংকার চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে।
ইতিপূর্বে কয়েকবার সাগরে মার্কিন বাহিনীকে মোকাবেলা করে বিজয়ী হয়েছে ইরানিরা। সর্বশেষ গত ৩ নভেম্বর ওমান সাগরে ইরানের তেলবাহী একটি জাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় মার্কিন বাহিনী। কিন্তু ইরানের নৌ বাহিনী তাদের সেসব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপের তৈরি করা স্পাইওয়্যার পেগাসাসের কেলেঙ্কারি ঠেকাতে ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠন করেছে দেশটি।
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিকদের ফোনে নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তা সামাল দিতে এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে ইসরায়েল। খবর রয়টার্সের।
ইসরাইলের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে বুধবার রয়টার্স জানায়, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানসহ ১৬টি সংবাদপত্রের অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে পেগাসাস কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এসেছে। বলা হচ্ছে, এনএসও গ্রুপ থেকে এই স্পাইওয়্যার কিনে নিজের দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছে ‘কর্তৃত্ববাদী’ সরকারগুলো।
ইসরাইলের সংবাদ মাধ্যমগুলো মঙ্গলবার রাতে জানায়, এই টাস্ক ফোর্স খাতিয়ে দেখবে স্পর্শকাতর সাইবার সরঞ্জামাদি বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ‘নীতি পরিবর্তন’ দরকার আছে কিনা।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কর্তৃত্ববাদী’ সরকারগুলোর কাছে পেগাসাস স্পাইওয়্যার বিক্রির খবর ফাঁসের পর ইসরাইলের ওপর কূটনৈতিক চাপ বেড়েছে।
তাছাড়া এনএসওর গ্রাহকদের সংগ্রহ করা তথ্যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার প্রবেশাধিকার আছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে, যদিও ইসরাইল এবং এই নজরদারি প্রতিষ্ঠান উভয়ই এ ধরনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গানৎজ বলেন, এনএসওর পেগাসাস প্রকল্পের কথা জানাজানি হওয়ার পর তাদের সরকার বিষয়টি ‘খতিয়ে’ দেখছে।
আমরা সাইবার পণ্য রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছি শুধু বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে বিক্রি করতে এবং শুধু আইনসম্মতভাবে তা ব্যবহারের জন্য।
পেগাসাস স্পাইওয়্যার কোথাও বিক্রির ক্ষেত্রে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকারের অনুমোদন নিতে হয়।
অপরাধীদের ওপর নজরদারি চালাতে তা শুধু সরকারি কোনো সংস্থার কাছেই বিক্রি করা হয়। আর তার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ইসরাইল সরকার।
সংগৃহীত ছবি
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মডার্না ও সিনোফার্মের টিকাদান বিষয়ক নতুন নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। নির্দেশনায় ৩৫ বছরের বেশি সবাইকে নিবন্ধনের আওতায় আনাসহ কারা এসব টিকা পাবেন সেই তালিকা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মো. শামসুল হক স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যেসব কেন্দ্রে বিতরণ হবে এই দুই টিকা তা হলোঃ
১২টি সিটি করপোরেশন এলাকার নির্দিষ্ট টিকা কেন্দ্রে (ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, বরিশাল) মডার্নার টিকা দেয়া হবে।
আর সকল জেলা ও উপজেলায় সিনােফার্মের টিকা দেওয়া হবে। তবে, রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত কেউ টিকা নিতে পারবেন না।
মডার্না-সিনোফার্মের টিকা যারা পাচ্ছেনঃ
১। ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিককে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে হবে। রেজিস্ট্রেশনকারীদের মধ্যে বেশি বয়সী থেকে ক্রমান্বয়ে কম বয়সীদের পর্যায়ক্রমে প্রাধিকার অনুযায়ী এসএমএসের মাধ্যমে টিকাদান করা হবে।
২। বীর মুক্তিযােদ্ধা ও বীরাঙ্গনা
৩। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি
৪। রাষ্ট্র পরিচালনায় অপরিহার্য কার্যালয় তথা মন্ত্রণালয়, সচিবালয়, বিচারিক ও প্রশাসনিক কার্যালয় সমূহের কর্মকর্তারা।
৫। প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাহিনীসহ কোস্টগার্ড ও প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সদস্যরা।
৬। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), ট্রাফিক পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি।
৭। করোনা মহামারি মােকাবিলায় সরাসরি সম্পৃক্ত সরকারী হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন- চিকিৎসক, সেবিকা ও মিডওয়াইফ, এসএসিএমও, অল্টারনেট মেডিকেল কেয়ার, হােমিওপ্যাথি, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনােলােজিস্ট, ল্যাবরেটরি এটেনডেন্ট, ওয়ার্ড মাস্টার, ওয়ার্ড বয়, আয়া, ধােপা, টিকেট ক্লার্ক, কুক মশালটি, পরিচ্ছন্নতা বিষয়ককর্মী, ফিজিওথেরাপিস্ট, অ্যাম্বুলেন্স চালক এবং অন্যান্য সরাসরি সেবাদানের সঙ্গে সম্পৃক্তরা।
৮। আইনজীবী (বার কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত)।
৯। গণমাধ্যমকর্মী।
১০। জনসেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কর্মী।
১১। ধর্মীয় প্রতিনিধিরা।
১২। মৃতদেহ সৎকারে নিয়ােজিত ব্যক্তি।
১৩। মন্ত্রণালয়, বিভাগ, জেলা ও উপজেলাগুলোতে আবশ্যকীয় জনসেবায় নিয়ােজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী।
১৪। নৌ-বন্দর, রেল স্টেশন ও বিমান বন্দরগুলোতে কর্মরতরা।
১৫। জরুরি বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কাজের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী।
১৬। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা আগে নিবন্ধন করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি ডোজ টিকাও পাননি তাদেরকে টিকাদান করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে এসএমএসের মাধ্যমে জানাতে হবে।
১৭। যাদেরকে আগে এসএমএস পাঠানাে হয়েছিল, কিন্তু কোনো কারণবশত টিকা গ্রহণ করতে পারেননি তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে ক্রমান্বয়ে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের টিকাদান করতে হবে।
১৮। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিদেশগামী বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মী। তাদেরকে অবশ্যই জনশক্তি উন্নয়ন ব্যুরাে কর্তৃক অনুমােদিত ও রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে।
১৯। সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
২০। সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি, সরকারি মাটস এবং সরকারি আইএইচটির শিক্ষার্থীরা।
২১। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রেরিত তালিকা অনুযায়ী।
২২। বিডার আওতাধীন ও অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক সরকারি প্রকল্প কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যেমন- পদ্মাসেতু প্রকল্প, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্প, এক্সপ্রেস হাইওয়ে প্রকল্প, রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প ইত্যাদি।
২৩। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী। যারা আগে টিকা গ্রহণ করেননি।
২৪। ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকরা (এফডিএমএন)।
২৫। কৃষক ও শ্রমিক।
২৬। সৌদি আরব ও কুয়েতগামী প্রবাসী শ্রমিকদের ফাইজারের টিকাদানের জনা নির্ধারিত সাতটি কেন্দ্র সংরক্ষিত থাকবে। এসব কেন্দ্র থেকে অন্যান্যদের টিকা দেওয়া হবে না। কেন্দ্রগুলো হলো- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ রাসেল গাস্ট্রো-লিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শহীদ সােহারাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
২৭। সৌদি আরব ও কুয়েত ব্যতীত অন্যান্য দেশের প্রবাসী শ্রমিকেরা উল্লিখিত ৭টি নির্দিষ্ট কেন্দ্র ব্যতীত অন্য কেন্দ্রে নিবন্ধন করে টিকা নিতে পারবেন।
২৮। বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুক্ত হয়ে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে টিকার আওতায় আসবে।