a
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। এতে নবীন সেই ছাত্রীর ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের প্রমাণ পাওয়া যায়। মারধর-অত্যাচারের সময় ছাত্রীটি যখন আর্তনাদ করছিলেন তখন অট্টহাসি আর উল্লাসে মেতেছিল নির্যাতনকারীরা। এছাড়া চিৎকার করলে তার মুখে গামছা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পিপাসায় কাতর হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী ছাত্রী। পানি চাইলেও তাকে দেওয়া হয়নি। উলটো ডাইনিংয়ে নিয়ে পরিত্যক্ত ময়লা গ্লাস চেঁটে পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়। পুরো ঘটনায় সবচেয়ে উগ্র ভূমিকায় ছিলেন মীম ও ঊর্মি নামের দুই ছাত্রী। ১১ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের লিখিত তথ্য-প্রমাণসহ শতাধিক পৃষ্ঠার রিপোর্ট দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
এসব ঘটনায় সচেতন অভিভাবকগণ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা তাদের ছেলেমেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান। ভর্তির পর ভাল পড়াশুনা ও নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত হোস্টেলগুলোই নিরাপদ মনে করেন। অথচ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র-জুনিয়র বন্ধু-বান্ধবদের দ্বারা অমানবিক নির্যাতনে শিকার হচ্ছে যা শুনলে গা শিউরে উঠে। মাঝে মধ্যে কিছু কিছু ঘটনা আমাদের সামনে উঠে আসলেও প্রায়ই ঘটনাগুলো আমাদের অগোচরেই থেকে যাচ্ছে। ইডেনসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে লোমহর্ষক ঘটনা ইতিমধ্যে সংঘটিত হলেও এবার কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটনাসমূহ অন্যসব ঘটনা ছাপিয়ে যায়। আজ সেদিনের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া সামান্য ঘটনাসমূহ তুলে ধরা হলো-
২৬ ফেব্রুয়ারি রোববার সকাল ১০টায় তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আলীবদ্দীন খান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচএম আলী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্ট ডিভিশনের নির্দেশনা মোতাবেক উপাচার্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। আমরা সেই কমিটির রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। প্রতিবেদনের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর মহামান্য হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দেবেন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
বিভিন্ন সূত্র মতে, তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই রাতে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ৩০৬ নং কক্ষ থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে গণরুমে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ইসরাত জাহান মীম ও চারুকলার একই বর্ষের ছাত্রী হালিমা খাতুন ঊর্মি তাকে গণরুমে (দোয়েল ১) নিয়ে যান। এ সময় পাশের গণরুমের ছাত্রীদের কক্ষ থেকে বের না হতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি তাদের ওয়াশরুমেও যেতে নিষেধ করা হয়। এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রীর সিনিয়র, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মোয়াবিয়া জাহানকে তার কক্ষ থেকে ডেকে আনেন একই বিভাগ ও সেশনের তাবাসসুম ইসলাম। শুরুতে মোয়াবিয়াকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে থাপ্পড় মারতে বাধ্য করা হয়। এরপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। চড়, থাপ্পড় ও গলায় ফাঁস দিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে বিবস্ত্র করা হয়। এসময় বাধা দিলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
হালিমা খাতুন ঊর্মি তার ফোন দিয়ে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করেন। এসময় প্রচণ্ড যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে ওঠেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। বারবার তাকে ছেড়ে দিতে আকুতি জানান। কিন্তু তাতেও তারা কর্নপাত করেনি, বরং অট্টহাসি আর উল্লাসে মেতে উঠে নির্যাতনকারীরা। পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করে বিকৃত মনের এসব হায়েনারুপী নরপিশাচ।
এক পর্যায়ে যন্ত্রনায় চিৎকার করলে তার মুখে গামছা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। একইসঙ্গে তাকে বাজে অঙ্গভঙ্গি করে নাচতে বাধ্য করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লে, পানি চাইলেও না দিয়ে ডাইনিংয়ে নিয়ে পরিত্যক্ত ময়লা গ্লাস চেঁটে পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া হয়। পুরো নির্যাতনে মীম ও ঊর্মি উগ্র ভূমিকায় ছিল। এ সময় গণরুমের সাধারণ ছাত্রীরা মুখ চেপে চেপে কাঁদছিল।
পরদিন সকালে আতঙ্কে ক্যাম্পাস ছেড়ে যায় অনেক ছাত্রী। এ ঘটনা প্রকাশ না করতে মীম ও ঊর্মি গণরুমের ছাত্রীদের ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে ঘটনা জানাজানি হলে ভিডিও ডিলিট করে নিজের অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি ব্যবহার করা বন্ধ করে উর্মি।
তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, এমন বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা শুনে বিব্রত ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরাও। ভুক্তভোগীর নির্যাতনের বর্ণনার সময় কিছু ঘটনা এমন ছিল যে কমিটির পুুরুষ সদস্যদের বাইরে বের হওয়ার অনুরোধ করেছিলেন নারী সদস্য।
তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. রেবা মণ্ডল বলেন, আমি খুবই ব্যস্ত, খুব কাজের চাপে আছি। প্রতিবেদনের বিষয়ে এখন কিছুই বলার নেই বলে এড়িয়ে যান।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. দেবাশীষ শর্মা বলেন, এ বিষয়ে কিছু বলার অনুমতি আমাদের নেই। আমরা কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তারা চাইলে বলতে পারেন। অন্য সদস্যরাও কোনো প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, তদন্ত কমিটি আমাদের কাছে প্রতিবেদনের দুটি কপি জমা দিয়েছে। একটি কপি সিলগালা করে অলরেডি হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছুটিতে আছেন, তিনি ফিরলে তদন্ত প্রতিবেদন খোলা হবে। এর বাইরে আমি কিছুই বলতে পারছি না।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো প্রকার নির্দেশনা বা সুপারিশ করেনি কমিটি। শুধু ঘটনার সত্যতার বিষয়ে তদন্ত এবং ওই রাতে কী ঘটেছিল সে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ১০ দিনে প্রায় ৮৪ ঘণ্টা অভিযোগ গ্রহণ, শুনানি ও পর্যালোচনা করেন। তদন্তে ভুক্তভোগীর বড় বোনের বক্তব্যও শোনা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, প্রত্যক্ষদর্শীসহ গণরুমের অন্তত ২০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন কমিটির সদস্যরা।
১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে এক নবীন ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারনের অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরার বিরুদ্ধে। ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় ১৫ ফেব্রুয়ারি আইন বিভাগের প্রফেসর ড. রেবা মণ্ডলকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে হলের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. আহসানুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের প্রতিবেদন লেখার কাজ চলছে। কালকের (আজ) মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করব।
ইবি শাখা ছাত্রলীগের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক কামরুল হাসান অনিক রোববার গণমাধ্যমকে বলেন, আজ (রোববার) রাতেই আমরা কমিটির চারজন বসে অলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। রাতেই অনলাইনে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আমরা প্রতিবেদন সাবমিট করব। সোমবার (আজ) কুরিয়ারের মাধ্যমেও প্রতিবেদনের হার্ড কপি কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
সিসিটিভি ফুটেজ ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন : হলের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১২টি সিসিটিভি রয়েছে বলে জানিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে হল ডাইনিং ও গণরুমে প্রবেশপথে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী ওই ক্যামেরার ফুটেজ খুঁজে পেলে ওই রাতের ঘটনায় কারা কারা জড়িত ছিল তা আরও স্পষ্টত ধারণা পাওয়া যেতো। কিন্তু ঘটনার ১৫ দিনেও সিসি ফুটেজ উদ্ধার করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটি থেকে ফুটেজ চাওয়া হলেও হল কর্তৃপক্ষ তা দিতে পারেনি। এ ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষ আইসিটি সেলকে দায়ী করছে।
হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. শামসুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, বায়োসের ব্যাটারি নষ্ট থাকায় সিসি ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমি আইসিটি সেলকে উদ্ধার করতে নির্দেশ দিয়েছি। তারা এখনো উদ্ধার করতে পারেনি। তবে আইসিটি সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. আহসানুল আম্বিয়া বলেন, বাইরে থেকে এক্সপার্ট আনা হলে তা উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
সচেতন অভিভাবক মহলের আরজি, মাঝে মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র্যাগিং ও হল বাণিজ্যের নামে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে আসা ছাত্র/ছাত্রীদের উপর আর কোন অমানবিক ও হিংস্র আচরণ পূণরাবৃত্তি না হয়। ভবিষ্যতে এসব ঘটনা ঘটতেই থাকলে এর দায়-দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনসহ অন্য সকলকে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। উচ্চ শিক্ষা নাম করে অন্যের ছেলেমেয়েদের নিয়ে খেলাধুলা করার অধিকার কারও নেই। সূত্র: যুগান্তর
ছবি:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
দেশের ২২টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করে পর্যাপ্ত সহায়তা করেছে জবিস্থ চাঁদপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ।
শনিবার (৩০ জুলাই) গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে উক্ত ছাত্রকল্যাণ পরিষদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, ফজলে রাব্বি ও রাফি, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্য সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। সহায়তা কেন্দ্র থেকে শিক্ষার্থীদের আসন পরিকল্পনা বিষয়ক তথ্য প্রদান করা হয়। হেল্প ডেস্কে শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, মোবাইল গচ্ছিত রাখা হয়। এছাড়াও আগত পরীক্ষার্থীদের মাঝে মাস্ক, কলম, পানি বিতরণ করা হয়, অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে জবিস্থ চাদপুর জেলা ছাত্রকল্যাণের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা আমাদের জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সাধ্যমত সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। তাদের সাথে নিয়ে আসা জিনিসপত্র (ব্যাগ, ঘড়ি, মোবাইল) সংগ্রহ করে আমাদের হেফাজতে রেখে তাদেরকে পরীক্ষা শেষে আবার ফিরিয়ে দিয়েছে।’
সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী বলেন, নিজ জেলা থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের মাঝে মাস্ক, কলম পানিসহ অন্যান্য সহায়ক দ্রব্যাদি বিতরণের মাধ্যমে তাদের পাশে থাকার চেষ্টায় ছিলাম আমরা। আমাদের এ আয়োজনে যারা পাশে ছিলো তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ভবিষ্যতেও আমরা এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।
নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে আরো জানা যায় যে, সামনে আরো দুই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য যে, গুচ্ছভুক্ত ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা আজ থেকে শুরু হয়েছে। ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দ্বিতীয়বারের মত গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা।
ফাইল ছবি
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের ১৭টি ফাইল গায়েব হয়ে যাওয়ায় তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় এখন কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়- এর আগেও একবার একই কায়দায় ফাইল চুরি হলেও সে ঘটনাও ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। তবে এবার নড়ে চড়ে বসেছেন স্বাস্থ্য সচিব আলী নূর।
তিনি কঠোর মনোভাব নিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের কঠোর শাস্তির কথা বলেছেন। সচিব জানিয়েছেন- ফাইল গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ‘কেউই সন্দেহের উর্ধে নন। এরই মধ্যে ওই শাখার তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে সিআইডি। রবিবার বেলা ১২টার দিকে সচিবালয় থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। সিআইডির পাশাপাশি আরও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাও এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সক্রিয় হয়েছে।
জানা গেছে, এ ঘটনায় সচিবালয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা। তদন্তের জন্য সচিবালয়ে এসেছিলেন সিআইডির বিশেষ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান। তিনি জানান, যেহেতু একটা জিডি হয়েছে। সেটার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তের জন্য খোঁজখবর নিতে আমরা এসেছি। কিছু তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিন ক্রাইম সিনের সদস্যরা সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিচতলায় অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহাদাত হোসাইন ও যুগ্ম সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনের কক্ষে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এ সময় তারা সবার আঙ্গুলের ছাপ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করেন। অন্তত ১৩ জনের আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হয়।
এদিকে সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, তাদের দফতরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে ৬ জনকে ডেকে আনা হয়েছে তারা হলেন- জোসেফ, আয়শা, বাদল, বারী, মিন্টু ও ফয়সাল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই কক্ষের ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুপুর সোয়া ১টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে সিআইডি কার্যালয়ে নেয়া হয়। জানা গেছে, তদন্তকারীদের সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই তারা অসংলগ্ন কথা বার্তা বলছেন। কিছু প্রশ্নের জবাবে তারা রহস্যজনকভাবে নীরব থাকে। এদের আরও ব্যাপক জেরা করার প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হতে পারে।
রবিবার ফাইল গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় কেউই সন্দেহের উর্ধে নন বলে জানিয়েছেন বিভাগটির সচিব মোঃ আলী নূর। তিনি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি নথি হারানোর বিষয়টি বৃহস্পতিবার জানতে পেরেছি। জানার পর পুলিশকে জানিয়েছি। পরে সিআইডিকে বিষয়টি টেকওভার করতে বলেছি।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে আলী নূর বলেন, শুক্রবার রাতে অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহ্ আলমকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মোঃ আহসান কবীর এবং উপ-সচিব আবদুল কাদের। কমিটিতে বিভাগের উপসচিব মল্লিকা খাতুনকে যুক্ত করা হয়েছে। কবেনাগাদ প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করছি এই সপ্তাহের মধ্যেই রিপোর্ট পাব।
এ ঘটনায় কাউকে সন্দেহ করছেন কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোঃ আলী নূর বলেন, আমরা কেউই সন্দেহের উর্ধে নই। সিআইডিকে বলা হয়েছে, আপনাদের যাকে যাকে মনে হয়, জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কারও কোন আপত্তি থাকবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব আলী নূর গতকাল সন্ধ্যায় গনমাধ্যমকে বলেন, সিআইডি আমাদের অনুমতি নিয়েই ৬ জনকে নিয়ে গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজনেই নিয়ে গেছে। আমরা চাই এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক।
জানা গেছে, ফাইল চুরির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। মাত্র দেড় মাস আগেও একই শাখা থেকে ফাইল গায়েব হয়েছিল। তবে সেই ঘটনার এখনও কোন সুরাহা হয়নি। বরং ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। মাস দেড়েক আগে ওই একই শাখা থেকেই ফাইল গায়েব হয়ে গিয়েছিল। সেই ফাইলটি ছিল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ সংক্রান্ত। ফাইল গায়েব হওয়ার পর তিন দিনের ভেতরে ফাইল খুঁজে দেয়ার জন্য আয়েশা সিদ্দিকাকে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু তিনি চিঠির জবাব দেননি। পরে তাকে শো-কজ করা হয়। আয়েশা সিদ্দিকা বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। সে সময় চিঠির জবাবে তিনি বেশিরভাগই তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানান। তখন তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এরপর নিয়ম অনুযায়ী, সে জবাব সন্তোষজনক না হওয়াতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনিক শাখায় অভিযোগ পাঠিয়ে দেয়া হফ। পরে তার শরীরের অবস্থা বিবেচনা ও সন্তানের ওপর কোন প্রভাব পড়ে কিনা চিন্তা করে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
একই ঘটনায় অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহাদাৎ হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ফাইল গায়েব হওয়ার ঘটনায় জিডি করা হয়েছে শাহবাগ থানায়। সিআইডি, এনএসআই এসেছে। এখন তো আমাদের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া আর কোন পথ নেই। তারা আমাদের সবার মোবাইল নম্বর নিয়েছে। আগামীকাল থেকে এর হদিস বের করার চেষ্টা করা হবে। রবিবারে সব স্টাফরা আসার পর পুলিশসহ সবাই তদন্ত করবে।
নথি গায়েবের ঘটনাকে ভয়াবহতা উল্লেখ করে শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এটা অনেক ভয়াবহ একটা ব্যাপার, কারণ নথি তো একটা ডকুমেন্ট। এটা সরকারী ডকুমেন্ট। এই সরকারী ডকুমেন্ট নাই এটা তো বারবার ঘটতে পারে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, পুনরাবৃত্তি না হয় এবং এর একটা সমাধান যেন হয়, সে জন্য যেভাবে যা করার আমরা করছি। সূত্র: জনকন্ঠ