a আওয়ামী লীগ কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের দাসত্ব করে না: ওবায়দুল কাদের
ঢাকা রবিবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
https://www.msprotidin.com website logo

আওয়ামী লীগ কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের দাসত্ব করে না: ওবায়দুল কাদের


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০২৪, ০২:৪২
আওয়ামী লীগ কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের দাসত্ব করে না: ওবায়দুল কাদের

ফাইল ছবি: ওবায়দুল কাদের

কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের দাসত্ব আওয়ামী লীগ করে না উল্লেখ করে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের হৃদয়ে বাংলাদেশ। আমাদের চেতনায় বাংলাদেশ। সেটাই আমরা মনে প্রাণে ধারণ করি।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন,  আজকে বিএনপির চারদিকে অন্ধকার। শেখ হাসিনার উন্নয়ন, মানবতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি বিএনপির রাজনীতিকে অন্ধ করে রেখে দিয়েছে। এখান থেকে বের হতে পারছে না। আজকে তারা দিনের আলোতে রাতের অন্ধকার দেখে।

রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি আয়োজিত ঈদ উপহার ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন কাদের।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে একটা স্বাধীন দেশ সে কথাও তারা ভুলে গেছে। নির্বাচনের আগে কীভাবে বিদেশি শক্তির তাবেদারি করেছে। নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করেছিল। নির্বাচন যখন হয়ে গেছে, সরকার ক্ষমতা দখল করেছে, শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্ব দেশ সংকট উত্তরণ করে ভালোর দিকে যাচ্ছে, সুসময় আসতে সময় লাগে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সারা বিশ্বে সংকট তার প্রতিক্রিয়া আমাদের দেশেও আছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্ব আছে বলেই বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে। তুলনামূলক অনেক দেশের মানুষের যে কষ্ট সে তুলনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনেক ভালো আমরা আছি। সূত্র: যুগান্তর

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

২০ দফা দাবি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করলো "জনতার বাংলাদেশ পার্টি"


সাইফুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫, ০৭:৪৬
২০ দফা দাবি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করলো জনতার বাংলাদেশ পার্টি

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

সাইফুল আলম, ঢাকা:  তারুণ্যের শক্তিতে আইনজীবীদের উদ্যোগে- জনতার বাংলাদেশ পার্টি হোক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে - এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণ বয়ে আনার জন্য ২০ দফা দাবি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করলো নতুন রাজনৈতিক দল "জনতার বাংলাদেশ পার্টি"।

দলের সভাপতি - এ্যাডভোকেট সফিকুল ইসলাম সবুজ খানের সভাপতিত্বে আইনজীবীদের উদ্যোগে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয় আজ ১৩ই মার্চ ২০২৫, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকার আব্দুস সালাম হলে। দলের সাধারণ সম্পাদকের সঞ্চালনায় এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান এর বলিষ্ঠ ও গঠনমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

নতুন এই দলের সভাপতি এ্যাডভোকেট সফিকুল ইসলাম সবুজ খান তার মূল বক্তব্যে বলেন, আজ জনতার বাংলাদেশ পার্টির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। আজ আনুষ্ঠানিক বীজ রোপণ করা হলো। একদিন ফুলে ফুলে ছেয়ে যাবে পুরো দেশ। তার সৌরভ উপলব্ধি করবে মানুষ। তার মূল উদ্দেশ্য একটি সুস্থ, সুন্দর, মানবিক ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আজন্ম বিপ্লবী ভূমিকায় থাকবে। এই দেশ সকলের, কৃষকের, শ্রমিকের, ছাত্র ও জনতার, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীর সকল মানুষের বাংলাদেশ এই ধারণাটা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই বাংলাদেশ হবে জনতার, কোন ফ্যাসিবাদের নয়। যখনই বাংলাদেশ রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে '৭১ থেকে ২০২৪ এই ছাত্র-জনতা বাংলাদেশকে প্রকৃত বাংলাদেশে '৭১-এর চেতনা ফিরিয়ে দিতে জীবন দিয়েছে এবং ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছে।

আগামী প্রজন্ম কোন বাংলাদেশে বাস করবে? ক্ষমতার না জনতার, দিন দিন অনিরাপদ বদ্ধভূমিতে পরিণত হচ্ছে। ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে যতক্ষণ না জনতার কাতারে দাঁড়াবে ততক্ষণ দেশ উন্নত হবে না। সবাই চায় ক্ষমতা। আর জনতার বাংলাদেশ পার্টি চায় জনতা, জনতা ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি।

আজ পুলিশের গায়ে মানুষ হাত তোলে। পুলিশ জনতার না হয়ে ক্ষমতার হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ হবে রাষ্ট্রের, কোন দলের নয়। পুলিশ হবে জনতার, নেতাদের নয়। পুলিশ আজ বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ? সারা দেশে হাসিনার ছাত্রলীগের পুলিশ ছেয়ে আছে। বর্তমানে পুলিশ দর্শকের ভূমিকায় নিজেদের অবস্থান ও হাসিনার শোকে এখনও কেঁদে চলছে, তাই অপরাধীরা দেশটাকে অস্থির করে তুলছে। পুলিশ হয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক, অন্যথায় দ্রুত নিরপেক্ষ পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হোক। দেশকে তো আর সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেওয়া যায় না। জনতার বাংলাদেশ পার্টি রাজনীতিতে টাকার প্রভাবকে ঘৃণা করে, সততা, আদর্শ ও যোগ্যতাকে সম্মান করে।

রাজনীতি হয়ে উঠেছে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের দাবার খেলা। এই রাস্তা আমাদের বদলাতে হবে। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ (Invest) করবে, মনোনয়ন নিবে, তারপর এমপি-এর পর হাজার হাজার কোটি টাকা উপার্জন করবে, এটা আর হতে দেওয়া যায় না। এই লোভের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ণ থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে। এখনি ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের শপথ নিতে হবে, অন্যথায় দেশ আরও পিছিয়ে যাবে। যে মানুষ আল্লাহকে ভয় পায় না, নবী-রাসুলের নিয়ম-কানুন মানে না সে কখনও আদর্শ নেতা হতে পারে না। তার দ্বারা নিজের লাভ হতে পারে কিন্তু দেশের লাভ হয় নাই। আমরা মানুষকে মূল্যায়ন না করে টাকাকে মূল্যায়ন করি। আর কত বছর গেলে আমরা ব্যক্তিত্ববান হবো? আমাদের চরিত্র ক্যানভাসারের মতো হয়ে গেছে।

আমরা আগামি নির্বাচনে যদি নিবন্ধন লাভ করি তাহলে ২০০ আসনে আইনজীবী প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাকি ১০০ আসন হবে অন্যান্য পেশাজীবীর। দেশের রাজনীতিতে নির্মূল হোক টাকার প্রভাব। সততা আর যোগ্যতা হোক প্রশংসিত। ফিরে আসুক সত্যের উদ্ভাসিত সূর্য ও
তারুণ্যের জয়গান।

জনতার বাংলাদেশ টাকার রাজনীতি নয়, যোগ্যতার রাজনীতি করতে চায়, দেশের সেবা করতে চায়। মিথ্যার বদ্ধভূমিতে দাঁড়িয়ে সত্যের জয়গান করতে চায়।

জনতার বাংলাদেশ পার্টি ২০ দফা নিম্নরূপ :
১। যানজট নিরসন ।
২। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ।
৩। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা ।
৪। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ।
৫। মাদকদ্রব্য নির্মূল করা।
৬। সুশিক্ষা বা নৈতিক শিক্ষার প্রসার ।
৭। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ।
৮। দুর্নীতি রোধ।
৯। মানবাধিকার সুরক্ষা ও নাগরিক হিসাবে সর্বোচ্চ জীবনযাপন করা।
১০। বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
১১। নিরাপদ বাসযোগ্য ভূমি ।
১২। রাজনীতিতে টাকার প্রভাব ও পেশিশক্তি কমিয়ে মেধাবিদের অগ্রাধিকার ।
১৩। মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা।
১৪ । কৃষিকে উৎসাহিত করা বা কৃষি বিপ্লব ঘটানো ।
১৫। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও সুস্থ মালিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করা।
১৬। ইসলামি ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
১৭। জনসংখ্যাকে প্রকৃত মানব সম্পদে রূপান্তরিত করা।
১৮। দেশকে উৎপাদনমুখী করা ।
১৯ । প্রশাসনকে শক্ত করে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া।
২০। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা।

সভাপতি আরো বলেন, এই অসুস্থ সমাজকে ৭ মাসে বদলে দেওয়া যায়, যেটি যুগ যুগ ধরে নষ্ট হয়ে আছে। এই আইন- আদালত ও আইন-শৃঙ্খলার প্রতি কি মানুষের আস্থা থাকবে? মানুষ কোথায় যাবে?
জনতার বাংলাদেশ পার্টির স্লোগান ও উদ্দেশ্য :
২৬ মে ২০২১ সালে জনতার বাংলাদেশ পার্টির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষ হিসাবে মানুষের সেবা করা, করোনা, বন্যায়, দুর্যোগে, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের পাশে থেকে সেবা ও কথা বলে আসছে। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করায়, দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলায় পুলিশ অসংখ্যবার আমার উপর আক্রমণ করে। আমাকে ২ বার গ্রেফতার করে ও আমার বিরুদ্ধে ২২টি রাষ্ট্র বিরোধী মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু জনতার বাংলাদেশ সকল বাধাকে অতিক্রম করে অনলাইন, অফলাইনে মিছিলে সরকার বিরোধী প্রোগ্রামে সরব অবস্থানে নিজেকে জানান দিয়ে গেছে। এখন জুলাই-২০২৪ বিপ্লবের পরে ফ্যাসিবাদী সরকার বিদায় নেওয়ায় সকলের জন্য রাজনীতি করার একটি উন্মুক্ত প্লাটফার্ম তৈরি হয়েছে। তাই জনতার বাংলাদেশ পার্টি সেই প্লাটফর্ম থেকে সারা বাংলাদেশকে জানান দিচ্ছে এবং সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান করছে।

বাংলাদেশে আমাদের ইতিহাস মৃত্যুর '৭১-এ জীবন দিতে হয়েছে। বিভিন্ন ধাপে ধাপে জীবন দিতে হয়েছে, আর '২৪ সালেও হাজার হাজার ছাত্র-জনতার জীবন দিতে হয়েছে। বার বার আমরা মরে জেগে উঠি। দেশের প্রয়োজনে রেড়ে উঠি। এভাবে আর কত মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হবে? প্রাণঘাতি শূন্যে নামিয়ে আনা উচিত। জনতার বাংলাদেশ আপনাকে স্পষ্ট বার্তা দিতে এসেছে, বাস্তবতা তুলে ধরবে, সত্য তুলে ধরবে, রাজনীতিতে টাকার প্রভাবকে নির্মূল করার চেষ্টা করবে, যতই কঠিন পরিস্থিতি হোক।

আইনজীবীরা সমাজের দর্পণ। A Natural Leader of Society সকল পেশার মানুষের অনুভূতি অনুধাবন করে আইনজীবীরা, মেধা আর যোগ্যতার বদৌলতে রাজনৈতিক হয়ে উঠছে পেশিশক্তি আর টাকার বাহার, এখন থেকে আর না। রাজনীতি হবে সৎ, একজন স্কুল শিক্ষকের জন্য, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য, মেধাবিদের জন্য, সাংবাদিকদের জন্য, আইনজীবীদের জন্য ও আদর্শ ছাত্র নেতাদের জন্য । টাকার ছড়াছড়ি রাজনীতি বন্ধ হোক।

আমরা যদি সুযোগ পাই, বাংলার মাটিতে কোন ভাড়াটিয়া থাকবে না। আমি বাংলাদেশী, আমি সরকারকে ট্যাক্স দেই। আমার দেওয়া ভোটে সরকার হয়। তাহলে আমি ভাড়া থাকব কেন? আমরা যদি ক্ষমতায় যেতে পারি তাহলে প্রত্যেক পরিবারকে ধাপে ধাপে একটি করে ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দিব ইনশাল্লাহ। কেহ গৃহহীন থাকবে না। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। গুলিস্তান থেকে রামপুরা, বাড্ডা, কুড়িল ফ্লাই ওভার পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণ করা, গুলিস্তান থেকে যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, সাইনবোর্ড, কাঁচপুর পর্যন্ত ফ্লাই ওভার নির্মাণ করা। যদি আপনারা আমাদেরকে সুযোগ দেন।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

দৈত্যকে আলিঙ্গন করছে বাংলাদেশ:চীন ইস্যুতে ডেকান হেরাল্ড


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মঙ্গলবার, ০৪ জুন, ২০২৪, ০৫:২৮
দৈত্যকে আলিঙ্গন করছে বাংলাদেশ:চীন ইস্যুতে ডেকান হেরাল্ড

ফাইল ছবি


একটি সাবমেরিন ঘাঁটি, ৫০০ কোটি ডলার সহায়তা, ভারতের শিলিগুড়ির কাছে অবকাঠামো প্রকল্প, বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য ও সামরিক এক্সারসাইজের মাধ্যমে বেইজিং ভারতকে খুব পরিষ্কার করে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানিয়ে দিচ্ছে। তা হলো এ অঞ্চলে ক্ষমতার কাঠামো বদলে যাচ্ছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের অংশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বেশ কিছু অঞ্চলে চীন তার এ অভিযান পরিচালনা করছে। সর্বাবস্থায় বন্ধু পাকিস্তান ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটানের দিকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা এখন বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার ও তা শক্তিশালী করছে।

শিলিগুড়ি করিডোর কন্টিনজেন্সি দিয়ে তার প্রস্তুতি শুরু করেছে চীন। তারা তখনকার বাংলাদেশি প্রেসিডেন্ট জেনারেল এরশাদকে দিয়ে ১৯৮৭ সালে বেইজিংয়ে একটি বিবৃতি দিতে বাধ্য করেছে যে, তিনি বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভিতর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতীয় সেনা পরিবহনে অনুমতি দেবেন না। এক্ষেত্রে স্যামডুরোং চু ঘটনার উল্লেখ করা হয়। তখন সেখানে ২০০ সেনাকে মোবিলাইজ করেছে চীন। তারা ‘নির্ভরযোগ্য বন্ধু’ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ২০০২ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশের কাছে চীন কমপক্ষে ৫০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করে।
   
বিশ্বব্যাপী যে অস্ত্র বিক্রি করে বেইজিং তার মধ্যে বাংলাদেশে বিক্রি করা হয় শতকরা প্রায় ১০ ভাগ। শিলিগুড়ি করিডোর নেপাল এবং বাংলাদেশকে পৃথক করেছে। এই করিডোর ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে উত্তর পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রক্ষা করেছে। এই শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছে তিস্তা নদীতে ১০০ কোটি ডলারের ড্রেজিং প্রকল্পে চীন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। ২০১৭ সালে ভারতের সঙ্গে দোকলামে অচলাবস্থার পর চীন জামফেরি রিজে একটি সড়ক নির্মাণে অগ্রসর হয় এবং নির্মাণ করে। এটা শিলিগুড়ি করিডোর থেকে খুব বেশি দূরে নয়। বাংলাদেশে বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পে বেইজিং খরচ করেছে ৪০০ কোটি ডলার। সামনের বছরগুলোতে তাদের কমপক্ষে মোট ৫০০০ কোটি ডলার খরচের পরিকল্পনা আছে। দুই দেশের মধ্যে ২০ বছর আগে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল ১২০ কোটি ডলার। তা গত বছরে বেড়ে হয়েছে ২২০০ কোটি ডলার। এর মধ্য দিয়ে ভারতকে সরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে চীন। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ঘাটতি প্রায় ২১০০ কোটি ডলার এবং তা বৃদ্ধি পাচ্ছেই।

বস্ত্র, পাট ও অন্যান্য পণ্য সহ বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বাজার উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। কিন্তু এক্ষেত্রে বেইজিং কর্ণপাত করছে না।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছেই। মে মাসে তা ১৯ বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল। এ অবস্থায় চীনের কাছে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে ঢাকা। তাদের উদ্দেশ্য এই অর্থ দিয়ে কাঁচামাল কেনা এবং বাজেটে সাপোর্ট দেয়া। পছন্দের শতকরা এক ভাগ সুদে ঢাকা যখন দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ চাইছে, তখন বেইজিং সুদের হার বাড়াতে চায়, আরও  শর্ত দিতে চায়- যা তারা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে করেছে। বিআরআইভুক্ত কমপক্ষে ১৬টি দেশের উচ্চ পর্যায়ে ঋণ আছে। পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার আর্থিক পতন থেকে শিক্ষা নিতে পারে ঢাকা। বাংলাদেশকে এরই মধ্যে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে চীন। মোট যে ঋণ আছে বাংলাদেশের তার মধ্যে এই ঋণ শতকরা ১০ ভাগ।  

চীনের আরেকটি দুঃসাহসী প্রকল্প হলো কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিএনএস শেখ হাসিনা সাবমেরিন ঘাঁটি। এটি এ বছর মার্চে উদ্বোধন করা হয়েছে। এটি নির্মাণে চীনের ১২১ কোটি ডলার তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে ৬টি সাবমেরিন এবং আটটি যুদ্ধজাহাজ নোঙর করতে পারে। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে চীনের কাছ থেকে ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলারে দুটি মিং-শ্রেণির সাবমেরিন কেনে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই চয়েস ছিল বিস্ময়কর। কারণ, মিং শ্রেণির সাবমেরিন ২০০৩ সালের এপ্রিলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে থাকা ৭০ নৌসেনার সবাই নিহত হন।

অন্য দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করে না- এটা বলা সত্ত্বেও, যেসব দেশ তাদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে তাদেরকে বাধ্য করা চীনের একটি আর্টে পরিণত হয়েছে। এর আগে তাইওয়ান, তিব্বত ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিরোধে এক চীন নীতিতে অন্য দেশগুলোকে শ্রদ্ধাশীল হতে বলে চীন। বেইজিং শেষের দিকে অন্য দেশগুলোর তাদের নিরাপত্তা নীতি প্রসারিত করার দাবি করেছে। ২০২১ সালের মে মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং ঢাকাকে সতর্ক করে দেন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-জাপান-অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে কোয়াডে যোগ দেয়ার বিষয়ে। কারণ, এতে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানান তিনি। উপরন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ২০২২ সালের জুনে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লিউ জিনসং ‘শীতল যুদ্ধের মানসিকতা’ প্রত্যাখ্যান করতে এবং ওই ‘ব্লক রাজনীতিতে’ যুক্ত না হতে বলেন। এসব দাবি পূরণের ক্রমবর্ধমান চায়না রাডারের অধীনে এখন ঢাকা। ঢাকাকে আরও গভীরে টেনে নিতে বেইজিংয়ের প্রচেষ্টাকে নয়া দিল্লি কিভাবে প্রতিহত করে সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: মানবজমিন

লেখক: শ্রীকান্ত কোন্দাপাল্লি

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর সর্বশেষ

সর্বশেষ - রাজনীতি