a সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মুহিতের প্রথম জানাজা গুলশানে সম্পন্ন
ঢাকা সোমবার, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৬ ফেরুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মুহিতের প্রথম জানাজা গুলশানে সম্পন্ন


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২, ০৪:৩৮
সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মুহিতের প্রথম জানাজা গুলশানে সম্পন্ন

ছবি : আবুল মাল আবদুল মুহিতে

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।  শনিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর গুলশান আজাদ মসজিদে নানা শ্রেণি–পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মুহিতের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। 

এর আগে সংসদ প্লাজায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দ্বিতীয় জানাজার কর্মসূচি বাতিল করা হয়।

গুলশান আজাদ মসজিদের জানাজায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা নামাজ শেষ মসজিদের দক্ষিণ ফটকে আবুল মাল আবদুল মুহিতের মরদেহ দেখতে তার বন্ধ, শুভাকাঙ্খীরা ভিড় করেন। বেলা সোয়া ১১টায় সবার দেখা শেষে মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নিয়ে যান তার পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

বার্ধক্যের নানা জটিলতায় সাবেক অর্থমন্ত্রী বেশ কিছুদিন থেকে অসুস্থ ছিলেন। মাঝে তাকে কয়েক দফায় হাসপাতালে ভর্তিও করা হয়। আবুল মাল আবদুল মুহিত লিভার ক্যানসারে ভুগছিলেন। করোনার মধ্যে দেড় বছর আগে এই রোগ সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। বিষয়টি পারিবারিকভাবেই গোপন রাখা হয়। এর মধ্যে করোনায়ও আক্রান্ত হন মুহিত।

আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরী ও বাবা আবু আহমদ আবদুল হাফিজ। মা-বাবা দুইজনই তৎকালীন সিলেট জেলার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৪ ভাইবোনের মধ্যে তার অবস্থান তৃতীয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তার ছোট ভাই।  সূত্র: যুগান্তর

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আজ বিএনপির একযোগে ৬৫০ স্থানে অবস্থান কর্মসূচি


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
শনিবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৩, ০৯:৪২
আজ বিএনপির একযোগে ৬৫০ স্থানে অবস্থান কর্মসূচি

ফাইল ছবি

মহানগর ও জেলা সদরে অবস্থান কর্মসূচির পর এবার মহানগরীর সব থানা এবং সব উপজেলায় দুই ঘণ্টা যুগপৎ অবস্থান কর্মসূচি করবে বিএনপি। বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং সরকারের পদত্যাগসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ১০ দফা দাবিতে আজ শনিবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ ১৩টি মহানগরীর ১২৮টি সাংগঠনিক থানায় এবং সাড়ে ৫০০ উপজেলা মিলে প্রায় সাড়ে ৬০০ স্থানে একযোগে এ কর্মসূচি হবে। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেবেন। ইতোমধ্যে নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৭ এপ্রিল) বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিটা থানা বিএনপিকে নিজ নিজ থানার সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি পালন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে দলটি। যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সমমনা বিভিন্ন দল ও জোটগুলোও এই কর্মসূচি পালন করবে। সূত্র:ইত্তেফাক

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

জুলাই-আগস্ট বিপ্লব এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
শুক্রবার, ০৩ জানুয়ারী, ২০২৫, ০৯:৩৭
জুলাই-আগস্ট বিপ্লব এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ছবি সংগৃহীত

 

বিপ্লব একটি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি যে কোনো সময় ঘটতে পারে, যদি জনগণ তা চায়। ইতিহাস জুড়ে আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নানা সময়ে বিপ্লব প্রত্যক্ষ করেছি। ফরাসি বিপ্লবকে সব বিপ্লবের জননী হিসেবে ধরা হয়।  

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সাক্ষী হয়েছি, তবে সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য ইরানি জনগণের সংগ্রাম আজও শেষ হয়নি। বিপ্লবের সূচনালগ্ন থেকেই ইরানি সমাজ অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে প্রকৃত রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য লড়াই করছে।  

বাংলাদেশের জন্মও ছিল ১৯৭১ সালের বিপ্লবের ফল, কিন্তু আমরা এখনও প্রকৃত জাতীয় চেতনার সন্ধান পাইনি এবং জাতি বিভক্ত রয়ে গেছে। গত পাঁচ দশকেও আমরা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছি, বরং প্রতিবার রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি।  

আমরা কখনোই একটি স্থিতিশীল সরকার পাইনি এবং সর্বদা কোনো না কোনো সংকটের সম্মুখীন হয়েছি। এরশাদের পতনের পর ১৯৯০ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আমরা গণতান্ত্রিক চর্চার একটি ধারা দেখেছি, কিন্তু এটি মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের বিশ্বাসঘাতকতায় শেষ হয়। তারা একটি সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনে।  

ভারতের প্রত্যক্ষ সহায়তায় শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।  

পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা একজন স্বৈরশাসকে পরিণত হন এবং ভারতের সরাসরি সহায়তায় ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনার হাতে বন্দী হয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়, যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে শেষ হয়। তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতের আশ্রয় নেন।  

এই আন্দোলন শুরুতে ছাত্রদের নেতৃত্বে হলেও, পরে তা গণআন্দোলনে পরিণত হয়। শত শত নিরীহ মানুষের জীবন উৎসর্গ এবং কয়েক হাজার মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব ও আধিপত্যের রাজনীতির অবসান ঘটে।  

মানুষ মুক্তি পায় এবং বিপ্লবীদের উদ্যোগে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। তবে বিপ্লবী বা জাতীয় সরকার গঠন না করাটা ছিল বড় ভুল।  

শুরু থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বহুমুখী অভ্যন্তরীণ সমস্যার সম্মুখীন হয়, পাশাপাশি ভারতের হুমকি মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু তারা তেমন সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। সরকারকে ধীর এবং অনিশ্চিত মনে হয়েছে।  

এদিকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে একমত হতে ব্যর্থ হয়। বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চাইলেও জামায়াত ভিন্ন মত প্রকাশ করে।  

রাষ্ট্রপতির অপসারণসহ বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দল পৃথক অবস্থান নেয়। ছাত্রনেতারাও একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করে।  

গুঞ্জন আছে, জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যতে বিএনপির পরিবর্তে নতুন রাজনৈতিক দলের সাথে জোট গঠন করতে পারে। এটি বিপ্লব পরবর্তী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।  

এই ক্রান্তিকালে বিএনপি ও জামায়াতের ঐক্য অপরিহার্য হলেও তারা কেবল ক্ষমতার জন্য আলাদা পথে হাঁটছে, জাতির প্রতি দায়িত্ব ভুলে যাচ্ছে। উভয় দল পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে এবং জাতিকে ভুল বার্তা দিচ্ছে। এটি কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয়।  

জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির বিভক্তি এ সময়ে ভারতকে নতুন রূপে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে, যা কেউ ঠেকাতে পারবে না। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংকেত পাওয়া যাচ্ছে যে, অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শত্রুদের হুমকি বাড়বে।  

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে এককভাবে কিছু করা সম্ভব নয়। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যই ভবিষ্যতের সংকট সামাল দেওয়ার একমাত্র পথ।  

ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা রেখে একটি জাতীয় সরকার গঠন করা এখন একমাত্র বিকল্প। রাষ্ট্রপতিকে এমন একজনের মাধ্যমে পরিবর্তন করা দরকার, যিনি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য।  

সব প্রক্রিয়া বিপ্লবের সকল অংশগ্রহণকারীদের সাথে আলোচনা করে সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় ঐক্য ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।  

ছাত্রনেতাদের উচিত দেশের সিনিয়র নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। তারা রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে, যা নিঃসন্দেহে ভালো সিদ্ধান্ত, তবে তাদের রাজনীতি শেখার ধৈর্য থাকতে হবে।  

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই এবং এটি চর্চার মাধ্যমে আসে। রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতা ও পরিপক্কতা প্রয়োজন, যা তরুণদের এখনও নেই। নেতৃত্ব রাতারাতি গড়ে ওঠে না; সময় লাগে।  

জাতি ও সরকার সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ তরুণদের হাতে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়; তাদের সময়ের অপেক্ষা করতে হবে। তারা জাতির জন্য অসাধারণ কাজ করেছে, জাতি সময় মতো তাদের পুরস্কৃত করবে।  

এটি আল্লাহর দেওয়া একটি সুযোগ এবং আমাদের উচিত এটিকে উপেক্ষা না করা। বিপ্লব পরবর্তী রাজনীতিতে যে কোনো তাড়াহুড়ো বা ভুল সিদ্ধান্ত জাতীয় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিজয়ের সাফল্য নির্ভর করছে জাতীয় ঐক্যের উপর।  

 

লেখক: প্রফেসর ড. এসকে আকরাম আলী

সম্পাদক, সামরিক ইতিহাস জার্নাল এবং আইন ও ইতিহাসের অধ্যাপক

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - রাজনীতি