a
ফাইল ছবি
বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাঁটানো অবৈধ ব্যানার-বিলবোর্ড-প্লাকার্ড অপসারণকে কেন্দ্র করেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় উপজেলা পরিষদ এলাকা। তিন দফা গুলি ও দফায় দফায় লাঠিচার্জে আহত হন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্যানেল মেয়র, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের পদদিধারী নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন জেলা আনসার কমান্ডারসহ পুলিশের দুইজন সদস্য। এ ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান ও জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।
অপরদিকে, এ ঘটনাকে উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত দাবি করেছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর। এদিকে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার বিচার চেয়েছেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ নগরীর অবৈধ ব্যানার-বিলবোর্ড অপসারণ চলছিল।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিসিসি কর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরের বিলবোর্ড অপসারণ করতে গেলে তাদের বাঁধা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। একপর্যায়ে তিনি বিসিসি কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং সরকারি কাজে বাধা দেন। এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে আনসার সদস্যরা আমাদের কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরের বাসিন্দা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর গুলির খবর পেয়ে মেয়র ঘটনাস্থলে গেলে তাকেসহ নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ফের গুলি করেন আনসার সদস্যরা। এতে তিনিসহ (হারুন) বেশ কয়েকজন আহত হন।
মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, মানববর্ম করে মেয়রকে গুলির হাত থেকে রক্ষা করে, তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন তারা। এরপর দফায় দফায় গুলি ও লাঠিচার্জ করে আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ২৩ জনকে শের-ই বাংলা মেডিকেলেসহ অন্যান্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা। তাদের মধ্যে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মনির হোসেন পেশকারের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহক শ্রমিকলীগ কর্মী নাসির আলমসহ পুলিশের দুই সদস্যকে ভর্তি করা হয় জেলা পুলিশ হাসপাতালে। কোতয়ালী থানার ওসি মো. নুরুল ইসলামের বুকেও একটি স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়েছে। তবে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হননি।
হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, গুলিবিদ্ধ ২৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে মনির নামে একজনের চোখে গুলি লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের চিকিৎসা চলছে।
এদিকে রাত ২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, রেঞ্জ ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারসহ অন্যান্যরা।
এ সময় তাদের সামনে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান। তিনি বলেন, রাতে ব্যানার অপসারণে বাধা দেওয়ায় কিছু লোক তার ওপর চড়াও হয়। তাদের হামলার হাত থেকে বাঁচতে গুলি করে আনসার সদস্যরা। তখন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুকে টেনে তিনি তার সরকারি বাসভবনে নিয়ে যান।
এ ঘটনা খতিয়ে দেখার কথা বলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। তদন্তে যে বা যারা দোষী হবেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি।
মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উদ্ভুত পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মোকাবিলা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে। তবে তাদের সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান পুলিশ কমিশনার।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে উদ্দেশ্যেমূলক বলে দাবি করেছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায় হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে এ ঘটনায় সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর।
সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন চোখের সামনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিবিদ্ধ হতে দেখে তিনি ব্যথিত। তিনি এ ঘটনায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করেন। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
পীরগঞ্জ উপজেলার মাটি ধান, গম, আলু, বেগুনের পাশাপাশি লেবুজাতীয় ফসল চাষের উপযোগী হওয়ায় মাল্টা ও কমলা চাষে ক্রমেই ঝুঁকছেন কৃষক। এসব ফসল চাষে কৃষকরা গতানুগতিক ফসলের চেয়ে বেশি দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৫০ একর জমিতে কমলা ও মাল্টা চাষ হচ্ছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রযুক্তিগত সহায়তায় ভেলাতৈড় মহল্লার কৃষক রিপু রানী রায় দুই একর জমিতে ১ হাজার ৫০টি বারি-১ মাল্টা ও চায়না কমলা গাছ লাগিয়েছেন। প্রতিটি গাছ ১৪০ টাকা দরে বগুড়া থেকে চারা সংগ্রহ, পরিবহন, বেড়া, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যায় এযাবৎ তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। এরই মধ্যে গাছে প্রথম ফলন এসেছে। তার প্রত্যাশা প্রথম ফলনেই তিনি দেড় শত মণ মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন।
প্রতি মণ মাল্টা ৩ হাজার টাকা দরে দেড় শত মণ মাল্টা বিক্রি করে এবারই সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং কমলা বিক্রি করে আরও ১০ হাজার টাকা আয় করবেন বলে এবং আসল টাকা উঠে লাভ করতে পারবেন বলে তিনি দৃঢ়ভাবে আশা করেন।
বৃদ্ধিগাঁও গ্রামের মাল্টাচাষি ওয়াজেদ ইসলাম জানান, দুই বছর আগে ৯ বিঘা জমিতে তিনি ১ হাজার ৮২৫টি গাছের মাল্টা বাগান করেছেন। এ বছর তিনি আশা করছেন, বাগান থেকে ১ হাজার মণ মাল্টা পাবেন। দর কম হলেও ৩ হাজার টাকা মণ দরে ১ হাজার মণ মাল্টার দাম ৩০ লাখ টাকা হবে। এ বাগান তৈরিতে তার খরচ হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। গত বছরও তিনি ১০ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন।
এছাড়া, উপজেলার করনাই গ্রামের তৈমুর রহমান এক একর জমিতে কমলা, ভেলাতৈড় গ্রামের মাসুদ রানা মেনন এক একরে মাল্টা, চন্দরিয়া গ্রামের জবাইদুর রহমান সাড়ে চার একরে মাল্টা, পটুয়াপাড়া গ্রামের নবাব দেড় একরে মাল্টা, রনশিয়া গ্রামের আজাহারুল পৌনে এক একরে মাল্টা, বীরহলী গ্রামের আবু জাহিদ ইবনুল ইকরাম জুয়েল দুই একরে মাল্টা ও কমলাসহ উপজেলায় প্রায় ৫০ একর জমিতে বর্তমানে কমলা ও মাল্টা চাষ হচ্ছে।
পীরগঞ্জের কৃষি কর্মকর্তা রাজেন্দ্র নাথ রায় বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও এলাকার মাটি মাল্টা ও কমলা চাষে উপযোগী। উপজেলায় ১৮ একর জমিতে প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। কৃষকরা নিজ উদ্যোগে আরও ৫০ একর জমিতে এসব ফলের চাষ করছেন। সূত্র: ইত্তেফাক
ছবি সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের মোড়ঘোরানো মুহূর্তসমূহ একটি জাতির রূপ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট এলাকা বা দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার উপর।দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ইতিহাসের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যা তাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। উদাহরণস্বরূপ, দ্বাদশ শতকের শেষ দিকে মুসলমানদের বিজয়ী হিসেবে আগমন এবং পরবর্তীকালে শাসক হিসেবে এই ভূখণ্ডে বসবাস শুরু, যা চলতে থাকে ১৭৫৭ সালে পলাশীর তথাকথিত যুদ্ধে ব্রিটিশদের দ্বারা বাংলা দখল পর্যন্ত। এই ১৭৫৭ সালকে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের ইতিহাসে একটি মোড়ঘোরানো বছর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ব্রিটিশ শাসনামলে মুসলমানরা তাদের ক্ষমতা হারায় এবং সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগীতে পরিণত হয়।১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রতিক্রিয়ায় তারা চরম নিপীড়নের শিকার হয়, যদিও হিন্দুরাও ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। এই ১৮৫৭ সালও ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ব্রিটিশ সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হলে মুসলমানদের সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হয়নি। কিন্তু বিশ শতকের শুরুতে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে, যখন ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠিত হয়। এই ১৯০৬ সালকেও ভারতের মুসলমানদের ইতিহাসে একটি মোড়ঘোরানো বছর হিসেবে দেখা হয়। ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ভারতের মুসলমানদের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।
১৯১৩ সালে মুসলিম লীগ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নেতা হিসেবে পেয়ে সৌভাগ্য অর্জন করে, যদিও ১৯১৫ সালের জানুয়ারিতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হন। আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু গ্র্যাজুয়েট মুসলিম লীগে যোগ দিয়ে জিন্নাহর হাত শক্তিশালী করেন। অল্প সময়েই জিন্নাহ ভারতের মুসলমানদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হন। এক সময় তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন, কিন্তু কংগ্রেস নেতাদের মনোভাব তাকে বুঝতে বাধ্য করে যে, হিন্দু মহাসভার অধীনে ভারতের মুসলমানদের অধিকার নিরাপদ নয়। ১৯২৩ সালের শুরুতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর বিখ্যাত দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা করেন এবং বলেন, ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দৈনন্দিন জীবনে মুসলমানরা হিন্দুদের থেকে আলাদা। এই তত্ত্ব ভারতের মুসলিম জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন প্রথম ভারতীয় সরকার গঠিত হয়, যা জিন্নাহকে স্পষ্ট করে দেয় যে, মুসলমানদের জন্য পৃথক মাতৃভূমির কথা ভাবা ছাড়া উপায় নেই। ফলে ১৯৪০ সালে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যেখানে মুসলিম রাষ্ট্রের দাবি তোলা হয়। এটিও ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
পাকিস্তানের জন্মকে ভারতীয় মুসলমানদের প্রায় দুই শত বছরের সংগ্রামের ফলাফল হিসেবে দেখা হয় এবং ১৯৪৭ সালকে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের ইতিহাসে একটি মোড়ঘোরানো বছর হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু পাকিস্তান শুরুর থেকেই অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুতার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। ভারত প্রথম থেকেই পাকিস্তানের বিরোধী হয়ে ওঠে এবং তা ভাঙার জন্য বদ্ধপরিকর ছিল।
ইয়াহিয়া খানের সামরিক সরকার পূর্ব পাকিস্তানে সাধারণ মানুষের ওপর সেনা অভিযান চালিয়ে ভারতের জন্য এক ‘সুবর্ণ সুযোগ’ তৈরি করে এবং ভারত এই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগায়, যার জন্য তারা বহুদিন অপেক্ষায় ছিল। বাংলাদেশের জন্ম ঘটে ভারতের সামরিক সহায়তা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে। আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেদের স্বার্থে ভারতের সাথে একটি সাত দফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা বাংলাদেশের জন্মকে ত্বরান্বিত করে কিন্তু তাকে চিরস্থায়ী দাসত্বের দিকে ঠেলে দেয়। এভাবেই ১৯৭১ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি মোড়ঘোরানো বছর হয়ে ওঠে।
জনগণ দ্রুতই বুঝে যায় যে তারা নিজেদের নেতাদের এবং ভারতের আধিপত্যবাদী রাজনীতির দ্বারা প্রতারিত হয়েছে। যে নেতা গণতন্ত্রের জন্য লড়েছিলেন, তিনিই নিজের হাতে তা ধ্বংস করেন এবং এর জন্য চরম মূল্যও দেন। ভারতের আধিপত্যবাদী রাজনীতির গতি স্তব্ধ হয় ১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবের পতনের মাধ্যমে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
নভেম্বর ১৯৭৫-এ সিপাহী-জনতার নেতৃত্বে একটি বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের উত্থান ঘটে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ জিয়াউর রহমানের আনা পরিবর্তনে সন্তুষ্ট হন। কিন্তু তার মর্মান্তিক মৃত্যু আবারো ভারতকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপের সুযোগ এনে দেয়।
১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদের পতন রোধ করা যায়নি এবং খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় আরোহন ঘটে। এসময় ভারত সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত শেখ হাসিনার প্রথম সরকারে আবারও সাফল্য পায়।
মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমেরিকার সহযোগিতায় ভারতকে আবারো বাংলাদেশে প্রকাশ্য রাজনৈতিক খেলা খেলার সুযোগ দেয়। আমরা বাঙালি মুসলমানরা পুনরায় শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন এবং ভারতের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার হই। ভারত বাংলাদেশকে নিজের উপনিবেশ মনে করতে শুরু করে।
কয়েক শত প্রাণের ত্যাগ ও কয়েক হাজার মানুষের অজানা দুঃখ-কষ্ট জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এর মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনে দেয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের এই পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছেন, এবং তা পুরোপুরি নির্ভর করছে আমাদের আন্তরিকতার উপর। আমরা যদি এই ট্রেন মিস করি, তবে তা চিরতরে হারিয়ে যাবে। জুলাই বিপ্লব ২০২৪ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মোড়ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং সরকারকে এটি উপলব্ধি করতে হবে এবং জুলাই বিপ্লবকে জাতির সর্বশেষ রাজনৈতিক মোড়ঘোরানো ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। জাতিকে দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সরকারের উদ্যোগকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।