a সাতটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ডিমের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে
ঢাকা রবিবার, ২৭ পৌষ ১৪৩২, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

সাতটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ডিমের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
সোমবার, ১৪ আগষ্ট, ২০২৩, ০৬:০৯
সাতটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ডিমের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে

ফাইল ছবি

ডিম মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে র‍্যাব।

প্রতিষ্ঠানগুলোর চারটি ডিমের দোকান, একটি ফলের দোকান ও  দুটি রেস্তোরাঁ রয়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

র‍্যাব-১ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। র‍্যাব সূত্র আরো জানায়, সম্প্রতি কতিপয় অসাধু ব্যক্তি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সুযোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মজুত করে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-১ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এর ধারাবাহিকতায় উত্তর বাড্ডার সাঁতারকুল রোড এলাকায় আবদুল্লাহ স্টোর, এমবিএ ট্রেডার্স, সুমন ডিমের আড়ত, ফলের মেলা, কামরুল রেস্টুরেন্ট, নিউ গ্রিন ঢাকা রেস্টুরেন্ট ও আমিন ট্রেডার্সে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

র‍্যাব-১ সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) পারভেজ রানা গণমাধ্যমকে বলেন, ডিম মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির অপরাধে ওই সাত প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, অভিযানে আমিন ট্রেডার্সের মালিক নুরুল আমিন (৪৫), সুমন ডিম আড়তের মালিক সুমনকে (২৫), এমবিএ ট্রেডার্সের মালিক মাহবুবুল আলম (৪৫) ও আবদুল্লাহ স্টোরের মালিক আমিনুলকে (৪৯) ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া ফলের মেলার মালিক রাসেলকে (৩৫) ২০ হাজার টাকা ও নিউ গ্রিন ঢাকা রেস্টুরেন্টের মালিক সৈয়দ আ. হান্নানকে (৪৮) ৫০ হাজার টাকা এবং কামরুল রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী পরিমল চন্দ্র দেকে (৫১) ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সূত্র: প্রথম আলো

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

মিথ্যা মামলা, শারীরিক নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চার কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ


সাইফুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫, ০৪:২২
মিথ্যা মামলা, শারীরিক নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চার কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ

ছবি: ‍মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

সাইফুল আলম, ঢাকা: পুলিশ কর্তৃক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা, শারীরিক নির্যাতন করে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন 'মেডিকো’র প্রতিষ্ঠাতা ডা. মো. জোবায়দুর রহমান জনি।

আজ মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিতে (ডিআরইউ) নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ‘মেডিকো’র প্রতিষ্ঠাতা ডা. মো. জোবায়দুর রহমান জনি। তিনি বলেন, পরিবারের ভয় এবং স্ত্রী সন্তানদের ‘ক্রসফায়ারের ভয়’ দেখিয়ে চার কোটি টাকা আদায় করা হয় তার কাছ থেকে। 

ডা. মো. জোবায়দুর রহমান বলেন, শুরুতেই আমি আমার সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ, রাজনৈতিক সহকর্মীবৃন্দ, শুভাকাংখী, আত্মীয়-স্বজনসহ যারা ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত বিষয়ে আমাকে নিয়ে বিব্রত হয়েছিলেন তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আজকে ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার কতিপয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। 

এরপর কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ২ আগস্ট। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগর চামেলীবাগের গ্রিন পিস অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে তৎকালীন সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমার নেতৃত্বে ৭/৮ জন পুলিশ প্রবেশ করেন। ঘুমন্ত অবস্থায় ওই বাসা থেকে দেশের অন্যতম মেডিকেল ভর্তি কোচিং প্রতিষ্ঠান ‘মেডিকো’র প্রতিষ্ঠাতা ডা. মো. জোবায়দুর রহমান জনিকে তুলে নিয়ে যায় সিআইডির সদস্যরা। সেসময় জনির বিরুদ্ধে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ আনে সিআইডি।

এখানেই শেষ নয়, ডা. মো. জোবায়দুর রহমান জনিকে সিআইডি হেডকোয়ার্টারে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমার নেতৃত্বে বেধড়ক মারধর করা হয়। আটকের ২৯ ঘণ্টা পর আদালতে সোপর্দ করা হয় জনিকে। এরপর রিমান্ডের নামে জনির স্ত্রীকে তার স্বামীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে সিআইডির কর্মকর্তারা হাতিয়ে নেয় ৪ কোটি টাকা। টাকা পরিশোধ করতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে গাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি বিক্রি করতে বাধ্য করেছিলেন সিআইডির কর্মকর্তারা।

কোন ধরনের সঠিক তদন্ত ছাড়াই গ্রেফতারের প্রমাণ :
[১] সম্পূর্ণ ভুল তথ্য নিয়ে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে : তারা বাসায় এসে বলেছে আমি ডাক্তার না, আমার ওয়াইফ ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা, এমনকি শুরু দিকে তারা আমার নামটিও সঠিকভাবে যাচাই করে নাই ।
[২] তারা বলেছে ২০০৬ সাল থেকে মেডিকো ফুলে ফেঁপে উঠেছে, অথচ মেডিকো শুরু হয় ২০১১/১২ সাল থেকে । প্রয়োজনে ট্রেড লাইসেন্স চেক করুন।
[৩] আমার নামে কোন জিডি নাই, কোন মামলা নাই, মূল মামলার এজাহারে আমার নাম নাই, কোন নিউজ নাই। হঠাৎ কিভাবে দাগী আসামী হয়ে গেলাম যে বাসায় অভিযান চালাতে হবে? শুধুমাত্র আমার পরিবারকে ভয় দেখানোর জন্য অস্ত্রসহ অভিযানের নাটক করা হয়েছিলো ।
[৪] আমি এভেলেইভেল থাকা সত্যেও আজ পর্যন্ত কোনদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়নি, এমন না যে লুকিয়ে ছিলাম, বাসা থেকে সিআইডি অফিসে যেতে দুই মি. লাগে ৷
শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ :
[১] আমাকে দুই ঘন্টা যাবৎ শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে, ফ্লোরে ফেলে পিটানো হয়েছে, ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়েছে [২] কারাবাসের সম্পূর্ণ সময় ৪৩ দিন কারা হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে, ঠিকভাবে হাঁটতে পারতাম না
[৩] রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ৩য় দিনে অসুস্থ অবস্থায় রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছি
[৪] জামিনের পরে পপুলার হাসপাতাল ধানমন্ডিতে থেকে চিকিৎসা নিয়েছি
টাকা নেওয়ার প্রমাণ :
[১] রিমান্ডে নিয়ে আরও নির্যাতনের ভয় দেখায়, আরও মামলা দিবে, আমার ওয়াইফকে এরেস্ট করবে, মেডিকো সীলগালা করে দিবে- এগুলো বলে টাকা আদায় করেছে। ৪ আগস্ট ২০২৩ তারিখ শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১০টা মালিবাগের স্কাই সিটি হোটেলের সিসি টিভি ফুটেজ চেক করেন। আগারগাঁও আইসিটি ভবনের পাশের রাস্তার ভিডিও ফুটেজ চেক করেন।
[২] টাকা নেওয়া সংক্রান্ত একাধিক অডিও রেকর্ড আমার কাছে আছে।
[৩] টাকা ব্যবস্থা করতে গিয়ে আমি যা যা বিক্রি করেছি সেগুলোর তথ্য চাইলে দেওয়া যাবে।

টাকা চেয়ে হুমকি ও অব্যাহত চাপ দেওয়ার প্রমাণ :
[১] ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ রাখা হয়েছে ৬ মাসের অধিক। পেপারস আছে।
[২] নতুন মামলায় মা, বাবা, স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে ৩০ জুন ২০২৪ তারিখে।
[৩] প্রতি নিয়ত হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এরপর তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে আরো বলেন, আমাকে রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার :
[১] বাসা থেকে তুলে নেওয়ার সময় বলেছে পলিটিক্যাল বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিবে।
[২] চোখ বেঁধে টর্চার শুরুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে এবং গালাগালি করা হয়েছে।
[৩] আমার পরিবারকে বার বার রাজনীতি করা নিয়ে ভয় দেখিয়েছে।
[৪] প্রেস কনফারেন্সে আমার রাজনৈতিক পরিচয় হাইলাইট করে বার বার বলা হয়েছে, প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়েছে। ঐ সময়ের ভিডিও ও পত্রিকাগুলো চেক করেন।

[৫] তৎকালীন সিআইডি প্রধান আমার স্ত্রীর সাথে বাজে ব্যবহার করে রুম থেকে বের করে দিয়েছে। তার অভিযোগ যে তোমার হাজবেন্ড রাজনীতি করে, এ বিষয়ে কোন কথা বলা যাবে না ।
নিয়ে নয়? [৬] ২০০৫ সালের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কেন স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হল? কেন অন্য কোন বছরের পরীক্ষা নিয়ে করা হয়নি? 

এমন সব প্রশ্ন রেখে সর্বশেষে ডা. জোবায়দুর রহমান বলেন, জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় এতদিন অভিযুক্ত সিআইডির সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারিনি। ১৫ এপ্রিল আদালতে বিভিন্ন অভিযোগে সিআইডির তৎকালীন কর্মকর্তা বর্তমানে র্যাব-১৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমা, সাবেক সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া, তৎকালীন সিআইডিতে কর্মরত বর্তমানে বরিশাল মেট্রোপলিটনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদি হাসান এবং সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমানসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।

সূত্র: কালবেলা

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিশ্ব রাজনীতি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ৩০ মার্চ, ২০২২, ১২:১৫
ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিশ্ব রাজনীতি

ফাইল ছবি

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত এক মাসে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ইউক্রেন থেকে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী ইউরোপীয় দেশগুলোয় আশ্রয় নিয়েছেন ত্রিশ লাখেরও বেশি মানুষ। দুই পক্ষের অনেক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

বিধ্বস্ত হয়েছে ইউক্রেনের কয়েকটি শহর, আবাসিক এলাকা, বিদ্যালয়, এমনকি হাসপাতালও। পশ্চিমারা এরপরও ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনমূলক আক্রমণকে সফল বলছে না! এর কারণ, এখনো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পতন হয়নি। তার মানে আরও বেশি সাধারণ মানুষ এবং শহর, আবাসিক এলাকা, বিদ্যালয় ইত্যাদি ধ্বংসস্তূপে পতিত হলে সেটা পশ্চিমা চোখে বিজয় বলে পরিগণিত হবে (যেমনটি তারা বিভিন্ন দেশে করেছে)!

অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সেদেশের ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি পুরুষদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন, যাতে তারা দেশের পক্ষে লড়তে পারেন। কেউ কেউ এভাবে জোরপূর্বক আটকে রাখাকে নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করছেন। কারণ তাদের স্ত্রী-সন্তানরা আপনজনহীন অবস্থায় উদ্বাস্তু হয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে প্রাণ নিয়ে ছুটছেন।

পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে রাশিয়া গত বিশ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোনো নেতা সেটা যৌক্তিক বলে স্বীকারও করেছেন। তারপরও আমেরিকার আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি বদলায়নি। রাশিয়া বলছে, এটাই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মূল কারণ। কিন্তু আমাদের আরও অতীতে যেতে হবে এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য।

১৯১৭ সালে রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে আরও ১৪টি সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র নিয়ে ১৯২২ সালে গঠিত হয় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। পুঁজিবাদ তথা বৈষম্যমূলক অর্থনীতির জায়গায় সমতাকেন্দ্রিক অর্থনীতিনির্ভর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও জোরদার হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন সেসব আন্দোলনকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। দেশে দেশে সমাজতন্ত্রের বিজয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ভীত হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, সোভিয়েত ইউনিয়নবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং বিভিন্ন দেশে সোভিয়েতপন্থি সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান শুরু করে। সোভিয়েত ইউনিয়নবিরোধী কর্মকাণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালে ১২টি দেশ নিয়ে গঠন করে ন্যাটো সামরিক জোট। ১৯৫৪ সালে পশ্চিম জার্মানিকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন সাতটি সমাজতান্ত্রিক দেশ নিয়ে ১৯৫৫ সালে ওয়ারশ সামরিক জোট গঠন করে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর এ জোটও বিলুপ্ত হয়। ওয়ারশ জোট বিলুপ্ত হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে তার একক কর্তৃত্ব বহাল রাখার উদ্দেশ্যে ন্যাটোকে আরও বিস্তৃত করে। বর্তমানে ৩০টি দেশ ন্যাটো জোটের অন্তর্ভুক্ত। ইউক্রেনকেও যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। যে ইউক্রেন একসময় ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রজাতন্ত্র, সেই ইউক্রেন এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লেজুড় হতে চায়!

লেজুড় কেন বললাম? এটি বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকাণ্ডে চোখ বুলানো যাক। আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া ইত্যাদি দেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো, সেসব দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন, নিজেদের পছন্দের পুতুল সরকার বসানো বা বসানোর চেষ্টা ইত্যাদি অমানবিক কাজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করেছে গত কয়েক দশকে। ২০০৩ সালে মিথ্যা অভিযোগে ইরাক আক্রমণ, লাখ লাখ মানুষকে হত্যা এবং দেশটিকে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করার কাজে লিপ্ত থেকেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানে সোভিয়েতসমর্থিত সরকারকে হঠাতে জঙ্গিগোষ্ঠীকে সহযোগিতা, বিনিময়ে দশ বছরে (১৯৭৯-১৯৮৯) লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু, দেশান্তরি হওয়া-এসবের পেছনেও ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর আবার ২০০১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান দখলে রাখার চেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জঙ্গি সৃষ্টি এবং স্বার্থ-সংঘাতে জঙ্গি দমনে নির্বিচারে কোনো দেশে আক্রমণ চালানো-এসব কর্মকাণ্ড মার্কিন অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার জন্যই দরকার। কেন দরকার? কারণ, যুদ্ধ হলে প্রচুর অস্ত্র বিক্রি হয়, যা তার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে এবং আরও দেশ আক্রমণ করার সুযোগ দেয়।

তাই প্রশ্ন আসে, চার হাজার কিলোমিটার দূরের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে গিয়ে ইউরোপকে নিরাপত্তা দেবে-এটা কি বাস্তবসম্মত? নাকি, বিশ্বের দ্বিতীয় পরমাণু শক্তিধর রাশিয়াকে কোণঠাসা করা এবং নিজের সাম্রাজ্যবাদী কর্তৃত্ব বিস্তৃত করাই তার মূল লক্ষ্য? এখন সোভিয়েত ইউনিয়ন নেই, নেই ওয়ারশ জোটও। তাহলে কী প্রয়োজন ন্যাটোর? ইউরোপের দেশগুলোর নিজেদের স্বার্থ দেখার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন কি যথেষ্ট নয়? ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়াকে যুক্ত না করার উদ্দেশ্য কী? ইউক্রেন যেটা করেছে-পাশের দেশের সঙ্গে শত্রুতা রেখে চার হাজার কিলোমিটার দূরের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লেজুড় হওয়া-এটা কি সম্মানের? নাকি প্রতিবেশী রাশিয়াকে নিয়ে নিজেদের মাঝে মৈত্রী গড়ে তোলা জরুরি?

এখানে বলা দরকার, ১৯৯১ সালের আগে বিশ্ব যখন দুই পরাশক্তির (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন) প্রভাব বলয়ে ছিল, তখন মূলত তৃতীয় বিশ্বের ১২০টি দেশ নিয়ে গঠিত হয় জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম), যাদের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, উপনিবেশবিরোধী, বর্ণবাদবিরোধী ঐক্য। তারা কোনো পরাশক্তির জোটে ছিল না। আধুনিক ইউরোপ কি মতাদর্শগত দিক থেকে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর চেয়েও অনুন্নত? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশে যে অন্যায় আগ্রাসন চালিয়েছে, তার সহযোগী ছিল ন্যাটো এবং ন্যাটোভুক্ত কিছু দেশ! এসব কি লজ্জার নয়?

এ বাস্তবতায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তার ক্ষমতা ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চান। চান অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং রাশিয়ার ওপর আরও অর্থনৈতিক অবরোধ। এসবের পরিণতি কী? ইউক্রেনে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে, এর প্রতিক্রিয়ায় বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। এটা আমাদের আরেকটা শিক্ষাও দিচ্ছে। সেটা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবরোধে এবং আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা ‘সুইফট’ থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ডলারভিত্তিক বিশ্ববাণিজ্যও কিছুটা হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে রাশিয়া চীনের মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থা ব্যবহার করতে চাছে, ভারত রুপি দিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে সম্মত হচ্ছে, সৌদি আরব রুবল দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করতে রাজি আছে। এমনকি যে ইউরোপ তেলের জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম হুহু করে বেড়েছে।

তাহলে সমাধান কোথায়? জেলেনস্কি প্রথমে না চাইলেও রাশিয়ার প্রধান দাবি ইউক্রেনের ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার ব্যাপারে তিনি এখন নমনীয়। অন্যান্য দাবি (২০১৪ সালে রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়াকে স্বীকৃতিদান, রাশিয়া কর্তৃক স্বাধীন ঘোষিত ইউক্রেনের দুই এলাকা দোনেস্ক ও লোহান্সক বিষয়ক) নিয়েও তিনি আলোচনা করতে চান।

আমাদের এটিও বুঝতে হবে, আজকের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কোনো মার্কিনবিরোধী সমাজতান্ত্রিক যুদ্ধ নয়। কিংবা কোনো দেশে মার্কিন আগ্রাসনবিরোধী রাশিয়ার সহযোগিতা নয়। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও একজন পুঁজিবাদী রাষ্ট্রনায়ক। আর পুঁজিবাদের লক্ষ্য হলো সাম্রাজ্যবাদী হওয়া। আজকের রাশিয়া নব্য-সাম্রাজ্যবাদী হতে চাচ্ছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের রাশিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে। যে কারণে জেলেনস্কির আলোচনা প্রস্তাবে পুতিন এখনো সাড়া দেননি। দুই দেশের অন্য প্রতিনিধিদের পাঁচ দফা আলোচনাও যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখছে না।

আমরা ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ওপর রাশিয়ার আক্রমণ ও ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ অমানবিক যুদ্ধের পরিসমাপ্তি চাই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাঝে আত্মসম্মান জাগ্রত হোক, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করি। ইউক্রেনকে নিয়ে পশ্চিমাদের ন্যাটো-রাজনীতিরও তীব্র নিন্দা জানাই। ন্যাটোর বিলুপ্তি বৈশ্বিক দাবি হোক, যা বিশ্বে যুদ্ধ বন্ধ করার দাবিও। তা না হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর নব্য-সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়ার দ্বন্দ্বে পৃথিবীকে ভুগতে হবে অনেকদিন। সূত্র: যুগান্তর

অপূর্ব অনির্বাণ : সহকারী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা; পিএইচডি গবেষক, কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর সর্বশেষ

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - অপরাধ