a
ফাইল ছবি
জামানত ছাড়া কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে গুচ্ছভিত্তিক (ক্লাস্টার) ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য চলতি বছরেই এসএমই ঋণের ১০ শতাংশ ক্লাস্টার ঋণ হিসেবে দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নীতিমালা সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সিএমএসএমই খাতকে এগিয়ে নিতে গুচ্ছভিত্তিক অর্থায়ন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি ধারণা। সম্ভাবনাময় গুচ্ছগুলো যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখবে। এ জন্য সিএমএসএমই খাতে গুচ্ছ ভিত্তিতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করতে নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় ক্লাস্টারের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ৫ কিলোমিটার সীমানায় অবস্থিত অনুরূপ, সমজাতীয় বা সম্পর্কযুক্ত পণ্য উৎপাদন বা সেবায় নিয়োজিত ৫০ বা ততোধিক উদ্যোগের সমষ্টিকে সামষ্টিকভাবে একটি ক্লাস্টার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ক্লাস্টারের আওতায় অবস্থিত উদ্যোগগুলোর ব্যাবসায়িক শক্তি, দুর্বলতা, সুযোগ ও হুমকি হবে একই ধরনের। এতে আরো বলা হয়, চলতি ২০২২ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সিএমএসএমই খাতে যে ঋণ দেবে, তার ১০ শতাংশ গুচ্ছভিত্তিক হতে হবে। পরবর্তী সময়ে এ লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ প্রতি বছর কমপক্ষে ১ শতাংশ হারে বাড়িয়ে ২০২৪ সালের মধ্যে কমপক্ষে ১২ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে এই লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তন করতে পারবে। ক্লাস্টারে যে ঋণ দেওয়া হবে, তার ৫০ শতাংশ বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ক্লাস্টারে দিতে হবে। বাকি ৫০ শতাংশ দিতে হবে অন্য ক্লাস্টারে।
ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন ও মেয়াদি উভয় ধরনের ঋণ দেওয়া যাবে। ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। তবে ঋণ পরিশোধে গ্রেস পিরিয়ড হবে সর্বোচ্চ ছয় মাস। ঋণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত, সামাজিক বা গ্রুপ জামানতকে বিবেচনায় নেওয়া যাবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় ঋণ দেওয়া যাবে।
প্রসঙ্গত, সিএমএসএমই খাতে ঋণ বাড়াতে ২৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যার সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। এই তহবিলের ঋণে ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিএমএসএমই খাতের প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ নেওয়ার জন্য তারা প্রয়োজনীয় সহায়ক জামানত দিতে সক্ষম হন না। এ জন্য তাদের ঋণের বিপরীতে ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা প্রদান করার আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে। এ জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার তহবিলের ঋণেও এই সুবিধা দেওয়া হবে। এর আগে ২০১৯ সালে সিএসএমএই খাতের মাস্টার সাকুলারে ক্লাস্টারের কথা উল্লেখ থাকলেও এর ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞা নির্ধারণ করা ছিল না। ফলে কোন ঋণটি ক্লাস্টারের আওতায় পড়বে বা এর মানদণ্ডই বা কি হবে—তা নিয়ে ব্যাংকারদের মধ্যে স্পষ্ট কোনো ধারণা ছিল না।
এসব সমস্যা সমাধানে প্রথমবারের মতো ‘ক্লাস্টারভিত্তিক’ অর্থায়নে উত্সাহ দিতে এ বিষয়ে নীতিমালা জারি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জাতীয় শিল্প নীতিতে ক্লাস্টারের কোনো সংজ্ঞা নির্ধারণ করা নেই। সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ভবিষ্যতে ‘জাতীয় শিল্পনীতিতে নির্ধারণ করে দেওয়া সংজ্ঞাই ‘ক্লাস্টার’ এর সংজ্ঞা হিসেবে ধরা হবে। পণ্য ও সেবার ধরন অনুযায়ী ১৩টি খাতকে অগ্রাধিকার ও উচ্চ অগ্রাধিকার এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্লাস্টারসমূহের মধ্যে রয়েছে—কৃষি,খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী শিল্প, তৈরি পোশাক শিল্প, নিটওয়্যার, ডিজাইন ও সাজসজ্জা, আইসিটি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, পাট ও পাটজাত শিল্প।
অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে প্লাস্টিক ও অন্যান্য সিনথেটিক্স শিল্প, পর্যটন শিল্প, হোম টেক্সটাইলসামগ্রী, নবায়নযোগ্য শক্তি বা সোলার পাওয়ার, অটোমোবাইল প্রস্তুত ও মেরামতকারী শিল্প, তাঁত, হস্ত ও কারুশিল্প, বিদ্যুত্সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি (এলইডি, সিএফএল বাল্ব উৎপাদন), ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি নির্মাণ শিল্প/ইলেকট্রনিক ম্যারেটিরিয়াল উন্নয়ন শিল্প, জুয়েলারি শিল্প, খেলনা শিল্প, প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ শিল্প, আগর শিল্প, আসবাবপত্র শিল্প, মোবাইল/কম্পিউটার/টেলিভিশন সার্ভিসিং খাত। এর বাইরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও যে কোনো খাতকে ‘ক্লাস্টার’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তা অন্যান্য খাত হিসেবে দেখাতে পারবে। সূত্র: ইত্তেফাক
ছবি সংগৃহীত
তারেক রহমানের একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে স্বচ্ছলতা দেশে আসবে স্বনির্ভরতা--যুগান্তকারী কর্মসূচী।
কোন প্রকার লবিং নয়, উত্তরাধিকার সূত্রেও নয়, একেবারে প্রান্তিক পর্যায় থেকে অর্থাৎ বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য পদ গ্রহণের মাধ্যমে প্রায় তিন দশক রাজনীতির মাধ্যমে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থেকে আজকের পর্যায়ে এসেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে তিনি দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত ছুঁটে গিয়ে গ্রামের অসচ্ছল, দরিদ্র, বন্যা পীড়িত অসহায় মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন হাঁস-মুরগী, গবাদি পশু, শস্য বীজ। উন্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়েছেন মাছের পোনা। সমাজ বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থি হিসাবে আমি কেস স্টাডি করে দেখেছি কোন শিল্পপতি, ব্যবসায়ী কিংবা কোন ব্যক্তি যখন গ্রামের সহায় সম্বলহীন অসহায় মানুষের হাতে পাঁচশো টাকা তুলে দেন বেশির ভাগ মানুষই তা খরচ করে ফেলে। কিন্তু তারেক রহমান এ ধরনের সহযোগিতার প্যাটার্ণ চেইঞ্জ করে যখন কোন পরিবারের হাতে দশটা মুরগী কিংবা দশটা হাঁস, একটা ছাগল কিংবা গাভী তুলে দিয়েছেন তখন সাহায্য প্রাপ্ত ব্যক্তিরা তা বিক্রি না করে লালন-পালন করে সম্পদ বৃদ্ধি করে আত্মনির্ভরশীলতার পথ খুঁজে পেয়েছে। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের দারিদ্র্য দূরীকরণে ভূমিকা রেখেছে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল করার এ এক বিশুদ্ধ আয়োজন, সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচন। উৎপাদন, উন্নয়ন এবং স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রায়শই বলতেন, 'যে জাতি তার নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করার চেষ্টা করে না, আল্লাহ সে জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না।' তিনি বলতেন, আমাদের প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি বাড়িতে হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল, মৎস্য খামার গড়ে তুলতে হবে। সবাইকে কাজ করতে হবে। কেউ বেকার থাকতে পারবে না। কর্মের মধ্য দিয়ে সম্পদ বাড়াতে হবে। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে হবে। গ্রামের শত শত মাইল পায়ে হেঁটে তিনি এসব কর্মসূচি সরেজমিনে দেখেছেন। বলতেন, আই শ্যাল মেইক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর পলিটিশিয়ান। তিনি একথা বলেই ক্ষান্ত হননি বরং ড্রইং রুমের রাজনীতিকে নির্বাসনে পাঠিয়ে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর অলস হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করেছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাত কোটি, স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছরে এদেশের জনসংখ্যা প্রায় আঠারো কোটি। প্রতিদিন আমাদের আবাদি জমির পরিমাণ কমছে, বাড়ছে জনসংখ্যা, আবাদি জমিতে গড়ে উঠছে বসতবাড়ি। কাজেই উৎপাদন না বাড়াতে পারলে জনসংখ্যার খাদ্য ঘাটতি হবে। খাদ্য ঘাটতি হলে দেশ আমদানি নির্ভর হয়ে যাবে। নিকট অতীতে আমাদের মত বহু দেশ গরীব ছিল, নিরন্তর পরিশ্রম করে তারা ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে। পরিশ্রম করেই আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে।
আমাদের দেশে একটা প্রবাদ শোনা যায় 'বাপকা বেটা সিপাইকা ঘোড়া। তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে লাইক ফাদার লাইক সান এ কথা নতুন করে বলার প্রয়োজন নাই। দৈনিক দিনকাল ২ এপ্রিল ২০০৩ সালে একটা খবর প্রকাশিত হয়েছিল। 'উত্তর জনপদে অবহেলিতদের মাঝে হাঁস মুরগী বিতরণ- বিধবা নপিজানের দু-চোখে পানি।' রিপোর্টে লেখা হয়েছে- 'ঝলমলিয়া বাজারে তারেক রহমানের হাত থেকে একটি ছাগল পেয়ে বিধবা নপিজান মহাখুশি। সত্তুর বছরের নপিজান যখন ছাগল নিচ্ছিলেন তখন তার দুচোখ বেয়ে পানি পড়ছিল। নপিজান সাংবাদিকদের বলেন, আমি মহাখুশি। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন। দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৩ তারিখে মাহবুব আলম রতনের "হীরার বাড়ী" শীর্ষক ফিচার ধর্মী খবর প্রকাশের পর তারেক রহমান ময়মনসিংহ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মুক্তাগাছা উপজেলায় গ্রামের আঁকাবাকা পথ পেরিয়ে কান্দিগাঁও গ্রামে যান। সেখানে দেখলেন মরহুম নুরুজ্জামান হীরার দু'ছেলের একজন পুকুর কেটে মাছ চাষ, ভুট্টা চাষ, কলা, পেয়ারা, বরই, লেবু, কচু, শাক সবজির চাষ, আম, কাঁঠাল, নারিকেল, সুপারি, লিচু, জলপাই, জাম্বুরা, বেল সহ নানা জাতের গাছ লাগিয়েছেন। ময়মনসিংহের অস্বচ্ছল যুবক নিজ চেষ্টায় স্বচ্ছলতার দৃষ্টান্ত গড়েছেন। স্থাপন করেছেন হীরা এন্ড সন্স মিশ্র খামার। তার এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করার জন্য তারেক রহমান তাকে বিভিন্ন ফল, শাক সবজির বীজ একটা পাওয়ার টিলার ও শ্যালো মেশিন প্রদান করেন। (সূত্র দৈনিক প্রথম আলো ২৪ ডিসেম্বর ২০০৩) শুধু তাই নয় দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ভালুকায় মোতালেবের 'আরবের খেজুর বাগান পরিদর্শন করেন তারেক রহমান। ১৭ জুন ২০০৪ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার শীর্ষক রিপোর্টে জানা যায়, দেশে বিভিন্ন ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া আব্দুল মোতালেব ১৯৯৭ সালে সৌদি আরব গিয়ে খেজুর বাগানে কাজ করেন। ২০০০ সালে বউ-বাচ্চা আত্মীয় স্বজনের জন্য কিছু না এনে ৩৫ কেজি খেজুর নিয়ে দেশে ফেরেন আরবের খেজুর বাগান করবেন বলে। দেশে ফিরে আত্মীয় স্বজনকে খেজুর খাইয়ে বিচি সংগ্রহ করেন খেজুর বাগান করার ইচ্ছায়। দীর্ঘদিন পর দেশে খালি হাতে ফেরায় মান অভিমানে যখন তুঙ্গে তখন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিমান করে বাড়ির আঙ্গিনায় ফেলে দেওয়া বিচির বস্তায় একদিন চারা গজিয়ে উঠে। পরবর্তীতে বাবার দেওয়া ৭০ শতাংশ জমিতে রোপনকৃত ৩০০ টা খেজুর গাছ আজ বিশাল বাগানে পরিণত হয়েছে। বাগানের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন সবজি চাষ করে মোতালেব আজ স্বাবলম্বী। মোতালেবের খেজুর বাগানের এক একটা চারার মূল্য ২০০ থেকে ২৫০ রিয়াল বলে মোতালেব জানান।
এবার আমি পত্রিকায় প্রকাশিত তারেক রহমানের 'একটি উদ্যোগ একটু চেষ্টা এনে দেবে স্বচ্ছলতা দেশে আসবে স্বনির্ভরতা শীর্ষক কর্মসূচি সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করবো। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যেমে জনাব তারেক রহমান রাজশাহীর পুঠিয়া দুর্গাপুরে ৬০০ পরিবারকে ২০০ ছাগল, ২০০ মুরগী ও ২০০ হাঁস বিতরণ করেন। (সূত্র: ২ এপ্রিল ২০০২ দৈনিক প্রথম আলো) এবং রাজশাহীতে ২০০ ছাগল ২০০০ মুরগী, ৪৫০টা হাঁস ও উন্মুক্ত জলাশয়ে ১০০০০ মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। (সূত্র: দৈনিক আজকের কাগজ ৩ এপ্রিল ২০০৩) কক্সবাজারে ১০০ ছাগল ২০০০ মুরগী, ১৬০০ হাঁস বিতরণ করেন। (সূত্র: ১৬ এপ্রিল ২০০৩ দৈনিক ইনকিলাব) বরিশালের আগৈলঝড়ায় ৪২ টি পরিবারের মধ্যে কয়েক হাজার মুরগী এবং ১২ টি পরিবারের মধ্যে ছাগল বিতরণ করেন। (সূত্র: ২৬ এপ্রিল ২০০৩ দৈনিক ইত্তেফাক) নোয়াখালীতে ৯৬ টি পরিবারে ১ টি করে ছাগল ৬০ টি পরিবারে ৮ টি করে মুরগী ৩০০ টি পরিবারে ১ টি করে উন্নত জাতের নারিকেলের চাড়া ও সবজি বীজ বিতরণ করেন। (সূত্র: ২৮ আগষ্ট ২০০৩ দৈনিক ইনকিলাব) ঝিনাইদহে ২৫০ টি পরিবারের মধ্যে ছাগল বিতরণ করেন। (সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব ৮মে ২০০৩) শেরপুরের ঝিনাইগাতি ও শ্রীবর্দি উপজেলায় ২৫ টি ছাগল ১৫০ টি বিভিন্ন ফলজ গাছের চাড়া, ৩৩ ব্যাগ ব্রী ধান বীজ ও ৫০ ব্যাগ সবজি বীজ বিতরণ করেন। (সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক ৫ জুন ২০০৩) জামালপুরের বকশিগঞ্জে ৫০০ ব্যাগ ধান বীজ, ৭৫ প্যাকেট সবজি বীজ, ২৯৫ টি বিভিন্ন ফলজ চারা, ৬৮ টি ছাগল, ১৫ টি গরু, ৩৪০ টি মুরগী, ৩২০ টি হাঁস বিতরণ করেন। (সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো ৬ জুন ২০০৩) সিলেট জেলার রাজনগরের পাঁচ গাঁওয়ে ৪০০ এবং একটুনা বাজারে ৩৭৫ টি পরিবারের মধ্যে ধান ও সবজি বীজ এবং গাছের চাড়া ও হাঁস মুরগী বিতরণ করেন। (সূত্র: ২২ আগষ্ট ২০০৪ দৈনিক দিনকাল) এভাবে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার অস্বচ্ছল পরিবারকে সহযোগিতা করে স্বচ্ছলতার মুখ দেখান। প্রতিটি রাজনৈতিক দল কিংবা সামাজিক সংগঠন চাইলে এভাবে প্রত্যেকটি গ্রামে অন্তত দশজন ব্যক্তিকে স্বচ্ছল ও সাবলম্বি করারা উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।
কর্মের মধ্য দিয়ে এরকম হাজারো দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন আমাদের আদর্শের জনক স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তিনবার নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন প্রায় এক দশক গৃহবন্দী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। তাঁর একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে স্বচ্ছলতা দেশে আসবে স্বনির্ভরতা আজ দেশ বিদেশে প্রশংসিত। আসুন আমরা সকলে মিলে জনাব তারেক রহমানের এই মহতি উদ্যোগে শামিল হই এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সময়ের দাবি পরিশোধ করি। আত্মনির্ভরশীল হই, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত দেশ গড়ি।
Photo credit : Rumon Rahman
দুর্গেশ চন্দ্র পত্রনবীশ
দুর্গেশ চন্দ্র পত্রনবীশ! নেত্রকোণার মানুষের কাছে 'লালুবাবু' হিসেবেই অধিক পরিচিতি। ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, নাট্যাভিনেতা, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং খ্যাতি অর্জন করেছিলেন আইনজীবী হিসেবে। জীবনকে ছড়িয়েছেন এবং জড়িয়েছেন নানা মাত্রায়, নানা আঙিনায়।
ছিমছাম একহারা গড়নের প্রখর ব্যক্তিত্বের মানুষ ছিলেন দুর্গেশ চন্দ্র পত্রনবীশ। ১৯২১ সালের ১২ই এপ্রিল ময়মনসিংহ শহরের গিরীশ চক্রবর্তী রোডে মাতামহ আইনজীবী শরৎচন্দ্র অধিকারীর বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন দুর্গেশ চন্দ্র পত্রনবীশ। মূল নিবাস নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাড়রি গ্রামে।
পিতা স্বর্গীয় রমেশচন্দ্র পত্রনবীশ, মাতা স্বর্গীয়া লাবন্য প্রভা দেবী। তাঁর পিতাও ছিলেন আইনজীবী এবং নেত্রকোণা শহরের নিউটাউনস্থ নিজ বাসভবনে থেকেই আইনপেশায় যুক্ত ছিলেন তিনি। পাঁচ ভাই (শৈলেশ চন্দ্র পত্রনবীশ, জিতেশ চন্দ্র পত্রনবীশ, দুর্গেশ চন্দ্র পত্রনবীশ, ভবেশ চন্দ্র পত্রনবীশ, জ্ঞানেন্দ্র চন্দ্র পত্রনবীশ) এবং দুই বোন (অতশী রায় ও নীলিমা চক্রবর্তী।) এর মধ্যে সন্তান হিসেবে চতুর্থ ও ভাইদের মধ্যে তৃতীয় দুর্গেশ চন্দ্র পত্রনবীশ।
মানুষের ভেতর একটি আহবান আছে। সেই আহ্বান রবীন্দ্রনাথের কথায়, 'দুর্গম পথের ভেতর দিয়ে পরিপূর্ণতার দিকে, অসত্যের থেকে সত্যের দিকে, অন্ধকার থেকে জ্যোতির দিকে, মৃত্যুর থেকে অমৃতের দিকে, দুখের মধ্যে দিয়ে, তপস্যার মধ্যে দিয়ে।' এই আহবান মানুষকে কোথায়ও থামতে দেয় না, 'চিরপথিক' করে রেখে দেয়। দুর্গেশ পত্রনবীশ এই ডাক শুনতে পেয়েছিলেন। পেয়েছিলেন বলেই রয়ে গেলেন 'চিরপথিক' হয়ে। তাঁর জীবনাচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই সত্যটি সহজেই বুঝা যায়।
দুর্গেশ চন্দ্র পত্রনবীশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু নিজ গ্রামের বাড়রি স্কুলে (বর্তমানে বাড়রি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)। সেখান থেকে প্রথম শ্রেণির পাঠ শেষ করে ১৯২৮ সালে নেত্রকোণা শহরের তৎকালীন খ্যাতনামা বিদ্যাপীঠ চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে এ বিদ্যালয় থকেই ১৯৩৭ সালে প্রথম বিভাগে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। এরপর ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ থেকে ১৯৩৯ সালে প্রথম বিভাগে আইএ এবং ১৯৪১ সালে বিএ পাশ করেন।
রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় থাকায় মাঝখানে কয়েক বছর লেখাপড়ায় ছেদ পড়ে। '৪৭ এর দেশ বিভাগের পর রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে কলকাতার দমদম কারাগারে বন্দি অবস্থাতেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৯৫২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাশ করেন দুর্গেশ পত্রনবীশ।
এর এক যুগ পর ১৯৬৪ সালে ঢাকা সিটি ল' কলেজ থেকে এলএলবি পাশ করে নেত্রকোণা বারে যোগ দিয়ে আইনজীবি হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং দীর্ঘ ৪৫ বছর আইন পেশায় যুক্ত থেকে আইনজ্ঞ হিসেবে নিজেকে উত্তীর্ণ করেছিলেন ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠানে। দুর্গেশ চন্দ্র পত্রনবীশ ১৯৬০ সালে বগুড়ার এক রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের কন্যা মিনতি ভট্টাচার্যের (পরবর্তীতে পত্রনবীশ) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বৃটিশ খেদাও আন্দোলন, পাকিস্তান বিরোধী সংগ্রামে সেই পরিবারেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। এখনো প্রগতিশীল লড়াই সংগ্রামে সেই পরিবার বগুড়ায় অগ্রণী ভুমিকা পালন করে।
মিনতি ভট্টাচার্যের বাবার নাম ঋষিকেশ ভট্টাচার্য, মা সুষমা ভট্টাচার্য। বাবা ছিলেন আইনজীবী। এগার ভাই বোনের মধ্যে (৫ বোন ৬ ভাই) চতুর্থ সন্তান মিনতি ভট্টাচার্য আই এ পাশ করে বগুড়া ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ে এক যুগের অধিক সময় শিক্ষকতা করেন।
দুর্গেশ চন্দ্র পত্রনবীশ কৈশোর ও যৌবন কাটিয়েছেন এমন একটি কালে যে সময়টিকে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন 'অসম্ভবের সম্ভাবনার যুগ'। একদিকে রাশিয়ায় সংঘটিত অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মত মানুষের উপর মানুষের শোষনের অবসান ঘটিয়ে মানবমুক্তির অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যায়, অন্যদিকে এর অভিঘাতে ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষনের নিগড়ে আবদ্ধ দেশোগুলোতে স্বাধীনতার আকাঙ্খা অভাবনীয়ভাবে তীব্র গতি লাভ করে। আর এর প্রভাবে এই সব দেশের মানুষের চেতনাগত উৎকর্ষতা এক অন্যমাত্রায় উত্তীর্ণ হয়।
যেকোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত হয়ে যায় তারা। ভারতীয় উপমহাদেশেও এর ঢেউ এসে লাগে ভালোভাবেই। অহিংস অসহযোগ, খেলাফত আন্দোলন, ভারত ছাড় আন্দোলনের পাশাপাশি বিপ্লবী লড়াই, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, নৌ বিদ্রোহ ইত্যাদির কারণে উপমহাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিত তখন টালমাটাল।
নেত্রকোণা শহরের নিউটাউনস্থ আইনজীবী পিতার বাসভবনে যাতায়াত ছিল তৎকালীন অনেক বিপ্লবীর। তাঁদের সংস্পর্শে এসে দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত হন দুর্গেশ পত্রনবীশ এবং দেশমাতার মুক্তি ও শোষণের নিগড় থেকে মানুষকে মুক্ত করার সংগ্রামে যুক্ত করেন নিজেকে। দেশ তখন ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল ভালোভাবেই। এ সময় নিউটাউনের বাসায় বিপ্লবীদের আনাগোনায় তাঁর মধ্যে স্বদেশ চেতনার সাথে সাথে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারারও উন্মেষ ঘটে।
তিনি সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই মানুষের সার্বিক মুক্তির উপায় হিসেবে মনে করেন এবং যোগ দেন নিখিল ভারত ছাত্র ফেডারেশনে, যে সংগঠনটি ছিল রেভ্যুলেশনারী সোশালিস্ট পার্টির (আরএসপি) সহযোগী ছাত্র সংগঠন।
নেত্রকোণায় তিনি আরএসপি'র শাখা গঠন করেন এবং তাঁর কর্ম দক্ষতায় খুব দ্রুতই আরএসপি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে নেত্রকোণায়। কর্মনিষ্ঠার কারণে দুর্গেশ পত্রনবীশ ১৯৪২ সালে যুক্তবাংলা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। কলকাতায় গ্রেফতার হলেন দুর্গেশ পত্রনবীশ। দীর্ঘ চার বছর কারাভোগের পর মুক্তি পান।
১৯৫৪ সালে পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোণার দশটি এবং কিশোরগঞ্জের আটটি থানা নিয়ে গঠিত বর্ণ হিন্দুদের জন্যে সংরক্ষিত প্রাদেশিক পরিষদের একটি আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দুর্গেশ পত্রনবীশ। তখন পৃথক নির্বাচন পদ্ধতি প্রচলিত ছিল পাকিস্তানে। ১৯৫৬ সালে আবার তিনি গ্রেফতার হন।
আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করার প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় পুনরায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। একদিকে অতিরিক্ত পরিশ্রম অন্যদিকে বারবার কারাবাসের ফলে স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে এবং মারাত্মকভাবে যক্ষায় আক্রান্ত হন তিনি। তখন যক্ষা রোগের তেমন কোনো চিকিৎসা ছিল না; বলা হতো 'যার হয় যক্ষা, তার নাই রক্ষা।' এ অবস্থায় চূড়ান্ত ঝুঁকি নিয়ে ফুসফুসে অস্ত্রোপচার করা হয় তাঁর এবং ফুসফুসের আক্রান্ত একটি অংশের পাশাপাশি পাঁজরের তিনটি হাড় কেটে বাদ দেওয়া হয়। এ ঘটনা দুর্গেশ পত্রনবীশের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর সক্রিয় রাজনৈতিক তৎপরতা থেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে।
আনন্দমোহন কলেজে অধ্যয়নকালীন ১৯৪০ সালে কলেজ ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৪৮-৪৯ সালে বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক ছিলেন কলকাতার সাউথ সুব্বার্ন হাইস্কুলে শিক্ষকতাও করেছেন দুর্গেশ পত্রনবীশ। এরপর আবার তাঁকে কারাবরণ করতে হয় এবং ১৯৫৪ সালে কারাগার থেকে বের হয়ে করাচি থেকে প্রকাশিত 'গুডউইল' পত্রিকার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকাস্থ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় 'সাপ্তাহিক জনতা'।
সাহিত্য চর্চার সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন দুর্গেশ পত্রনবীশ। কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'প্রবাসী' পত্রিকায় তাঁর লেখা গল্প, প্রবন্ধ 'দ,চ,প' ছদ্মনামে নিয়মিত প্রকাশিত হতো। সিদ্ধার্থ মৈত্র ছদ্মনামে লিখেন উপন্যাস 'মিরা মিত্র', যা ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং বিদগ্ধ মহলে সাড়া জাগিয়েছিল। নেত্রকোণা থেকে প্রকাশিত 'উত্তর আকাশ' এবং 'সৃজনী' পত্রিকার সাথে যুক্ত থেকে সাহিত্যে চর্চায় যুক্ত থাকেন আজীবন।
শান্তিনিকেতনের বাইরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন প্রথম পালন করা হয়েছিল নেত্রকোণায়, রবীন্দ্র-স্নেহধন্য সংগীতাচার্য শৈলাজারঞ্জনের উদ্যোগে এবং আরেক প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তি সত্যকিরণ আদিত্যের নেতৃত্বে, ১৯৩২ সালে। সেই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছিলেন শিশু দুর্গেশ পত্রনবীশ এবং পরবর্তী সময়ে নেত্রকোণায় রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
১৯৭৩-১৯৭৪ সালে নেত্রকোণা সাধারণ গ্রন্থাগারের সম্পাদক ছিলেন। ২০০০ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন নেত্রকোণা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি। বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী হিসেবে ১৯৮৮ সালে নেত্রকোণা জেলা উদীচি শিল্পী গোষ্ঠী তাঁকে সম্মাননা প্রদান করে। নেত্রকোণা ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন দুর্গেশ পত্রনবীশ।
এছাড়াও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, নেত্রকোণা শিল্পকলা একাডেমি, পাবলিক লাইব্রেরি ও ডায়াবেটিক সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন দুর্গেশ পত্রনবীশ। ছিলেন নেত্রকোণা 'ল' কলেজের খন্ডকালীন অধ্যাপক ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজের আইন উপদেষ্টা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যুক্ত হয়েছিলেন ভিন্নধর্মী এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাটলির অন্বেষা বিদ্যালয়ের সাথে। আমৃত্যু তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি ছিলেন। ছিলেন প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠীর উপদেষ্টা।
২০০৭ সালের ২৯ নভেম্বর ৮৬ বছর বয়সে রাত আনুমানিক ৯.৩৪ এ নেত্রকোণার নিউটাউনস্থ বড়পুকুর পাড়ের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী দুর্গেশ চন্দ্র পত্রনবীশ। মৃত্যুকালে স্ত্রী মিনতি পত্রনবীশ, দুই পুত্র শান্তনু পত্রনবীশ (আইনজীবী) এবং অতনু পত্রনবীশ(ব্যবসায়ী), দুই পুত্রবধূ এবং দুই নাতি ও এক নাতনিসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গিয়েছিলেন তিনি। গত ৩১ জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ৩টায় ৯১ বছর বয়সে না-ফেরার ভুবনে পাড়ি জমান স্ত্রী মিনতি পত্রনবীশ।
তিনি জীবনাচরণে, চিন্তা ও মননে ছিলেন আধুনিক, জীবন ঘনিষ্ঠ, দেশপ্রেমিক এবং আন্তর্জাতিকতাবাদী।
জন্মশতবার্ষিকীতে অপার শ্রদ্ধা---/স্বপন পাল