a
ফাইল ছবি
১৯৯৬ সালে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা সিনেমার কিংবদন্তী নায়ক সালমান শাহ। তার রহজস্যজনক মৃত্যু এখনো বিনোদন জগতে হাহাকার তৈরি করে রেখেছে। কিংবদন্তি এই শিল্পীর চলে যাওয়ার পর তার স্ত্রী সামিরা বিয়ে করেছিলেন নায়ক সালমানের বন্ধু মোশতাককে। সেই সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে তাদের। শেষ পর্যন্ত বেশিদিন স্থায়ী হয়নি তাদের সংসার।
নতুন করে তৃতীয় বারের মত বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন তিনি। আর এই তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তার দ্বিতীয় স্বামী মোশতাক। কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল সামিরার বিয়ের ব্যাপারে। আজ শনিবার (১৪ আগস্ট) রাতে বিষয়টি জানান তার দ্বিতীয় স্বামী।
জানা যায়, সামিরার বর্তমান স্বামীর নাম ইশোতিয়াক আহমেদ। তিনি একজন সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক। গত ১৫ জুলাই উভয়ের পরিবারের সদস্যদের নিয়েই তাদের বিয়ের সম্পন্ন করা হয়।
বুবলি । ফাইল ছবি
সবারই আনন্দ-বেদনার স্মৃতি থাকে ঈদকে ঘিরে। তেমনি চিত্রনায়িকা বুবলির এরকম একটি স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। সম্প্রতি বুবলি ঈদ নিয়ে নিজের আবেগঘন একটি স্মৃতি শেয়ার করেছেন।
সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বুবলী বলেন, "একেবারে ছোটবেলার একটা ঘটনা মনে পড়ছে এখন। ড্রেসের জন্য খুব কান্না করেছি। তখনকার সময়ে ঈদের আগে আমরা কাউকে ড্রেস দেখাতাম না।
ঈদের দিন সকাল বেলা আমার তিনজন বান্ধবী আসে। দরজা খুলতেই দেখি ওদের একজনের ড্রেসের রংয়ের সঙ্গে আমার ড্রেসের রং মিলে গেছে। দেখে আমার খুব খারাপ লেগেছে। আম্মুকে বললাম আমার ড্রেসের কালার মিলে গেছে। এটা আমি পরতে পারব না।
একথা শুনে আম্মু আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন ঈদের দিন দোকান বন্ধ থাকে। কিন্তু আমার কান্না কিছুতেই থামছে না। প্রচন্ড কান্না করলাম। এর মধ্যে আব্বু আসলো। আমার কান্না থামাতে মার্কেটে বের হলাম। দেখলাম সমস্ত দোকান বন্ধ। একটা দোকান খোলা ছিল।
আব্বু দোকানদারকে বললো মেরুন কালার বাদ দিয়ে যত কালার আছে দেখান। উনারাও দেখছেন আমি তখনো কান্না করছি। উপস্থিত সবাই তখন হাসছিলেন। ওখান থেকে পিংক কালারের একটা ড্রেস কিনে নিই। ভাবতেই অবাক লাগে আমরা কতটা এক্সাইটেড ছিলাম।"
ফাইল ছবি
আফগানিস্তানের সশস্ত্র সংগঠন তালেবান দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ সামানগানের রাজধানী আইবাক দখল করে নিয়েছে। সোমবার শহরটি দখলের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠ প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে আইবাক তালেবানের নিয়ন্ত্রণে এলো।
তালেবানের মুখপাত্র সোমবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বার্তার মাধ্যমে শহরটি দখলের ঘোষণা দেন। অপরদিকে সামানগানের উপ প্রাদেশিক গভর্নর বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে শহরটি তালেবানের দখল করার খবর নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, শহরটি পুরোপুরি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। এদিকে আফগানিস্তানের দখল নিয়ে দেশটির সরকারি সামরিক বাহিনীর সাথে বিভিন্ন স্থানে তুমুল লড়াই চলছে তালেবানের। এরমধ্যে গত তিনদিনে দক্ষিণের একটি ও উত্তরের চারটিসহ মোট পাঁচটি প্রাদেশিক রাজধানী দখল করে নিয়েছে সশস্ত্র সংগঠনটি।
কান্দাহার, হেরাত ও লশকরগাহের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাদের শহরের চারপাশে প্রচণ্ড লড়াই চলছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টা কান্দাহার ও হেলমান্দ প্রদেশে তালেবানের সাথে তুমুল লড়াই হয়েছে আফগান সামরিক বাহিনীর। লড়াইয়ে কয়েক শ’ তালেবান যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
অপরদিকে আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিরওয়ায়িস স্তানাকজাই বলেছেন, লড়াইয়ে তালেবানের ‘বিপুল ক্ষতি’ হয়েছে এবং শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘শহরগুলোতে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী টহল দিচ্ছে।’
সোমবার তালেবানের এক মুখপাত্র ঘোষণা দিয়েছেন, তারা এখন দেশটির উত্তরের বৃহত্তম শহর মাজার-ই-শরিফকে লক্ষ্য করে অগ্রসর হচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মুখপাত্র ঘোষণা দেন, শহরটি দখলে তারা চারদিক থেকে আক্রমণ চালিয়েছেন।
অবশ্য শহরের বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা বলছেন, তালেবান আক্রমণের বিষয়টি বাড়িয়ে বলছে। বলখ প্রদেশের রাজধানী শহরটির আশেপাশের জেলাগুলোতে এখনো লড়াই চলছে।
এর আগে শুক্রবার দক্ষিণের নিমরোজ প্রদেশের যারানজ ও শনিবার উত্তরের জাওযজান প্রদেশের রাজধানী শেবারগান দখল করে নিয়েছে তালেবান। রোববার একদিনে তালেবান উত্তরাঞ্চলীয় তিন প্রদেশ কুন্দুজ, সার-ই-পুল ও তাখার প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী তালোকান দখল করে নেয়।
দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।
এই বছরের মে মাসে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এপ্রিলে এক ঘোষণায় ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা জানান। পরে জুলাই সময়সীমা আরো কমিয়ে এনে ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি।
মার্কিনিদের সাথে চুক্তি অনুসারে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের সাথে তালেবানের সমঝোতায় আসার কথা থাকলেও এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। সমঝোতায় না পৌঁছানোর জেরে তালেবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। সমঝোতা না হওয়ার জন্য আফগান সরকারকে অভিযুক্ত করছে তালেবান।
এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়া শুরু করে তালেবান এরমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সংযোগসহ গ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা তালেবান দখল করে নিয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা ও টিআরটি ওয়ার্ল্ড