a
ছবি সংগৃহীত: সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক মঞ্জুরুল হক
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫ সালের নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী সিনিয়র অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক।
সমিতির ১৪টি পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থকরা ৩টি কার্যকরী কমিটির সদস্য পদেও জয় লাভ করেছে। অন্যদিকে দুটি সহসভাপতি, দুটি সহসম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও আরও ৪টি কার্যকরী কমিটির সদস্য পদসহ মোট ১০টি পদে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থক সাদা প্যানেল।
শনিবার রাত সোয়া ১টার দিকে সমিতির নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবুল খায়ের এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
এদিকে ফলাফল ঘোষণার আগে সব পদের ভোট পুনরায় গণনার দাবি জানিয়ে নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির কাছে চিঠি দেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
এর আগে নানা নাটকীয়তার পর গতকাল বিকাল ৩টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট বারের দু-দিন ব্যাপী নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা উপলক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। যে ভবনটিতে ভোট গণনা করা হয় সেখানে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ (সাদা প্যানেল হিসেবে পরিচিত) মনোনীত প্যানেলের জয়ী প্রার্থীরা হলেন- সম্পাদক শাহ মঞ্জুরুল হক, সহ-সভাপতি রমজান আলী শিকদার ও দেওয়ান মো. আবু ওবাঈদ হোসেন সেতু, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল হুদা আনসারী, সহ-সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ হুমায়ন কবির। চারটি কার্য সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন- মো. বেলাল হোসেন, মো. রায়হান রনি, রাশেদুল হক খোকন ও খালেদ মোশাররফ।
অপরদিকে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল হিসেবে পরিচিত) থেকে বিজয়ীরা হলেন- সভাপতি পদে এ এম মাহবুব উদ্দিন (খোকন) ও তিনটি সদস্য পদে সৈয়দ ফজলে এলাহী অভি, সফিকুল ইসলাম এবং ফাতিমা আক্তার জয়ী হয়েছেন। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
করোনার বিস্তৃতি মোকাবেলায় বন্ধ আছে লঞ্চ চলাচল কিন্তু লঞ্চ শ্রমিকদের থাকতে হচ্ছে লঞ্চেই। পাহাড়া দিতে হবে কোটি কোটি টাকা দামের এই জলযান। কিন্তু ঈদের পূর্বে বেতন ও বোনাস পাওয়া নিয়ে তাদের ভিতর শঙ্কাবিরাজ করছে। লঞ্চমালিকরা শুধু খাওয়া খরচ দিয়ে দায় সাড়ছেন বলে অভিযোগ।
এদিকে লঞ্চ মালিকদের অভিযোগ তাদেরও দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। টানা লকডাউনে বন্ধ থাকা কিছু লঞ্চ সদরঘাট এলাকায় দেখা গেলেও সেখানে দেখা যায় শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। লঞ্চ চললে তাদের জন্য মিলবে বেতন বোনাস। তবে আদৌ এবার কি ঈদ উদযাপন করতে পারবেন এ সংশয় নিয়ে দিন পান করছেন লঞ্চ শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের বিষয়ে নৌযান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, সরকার শ্রমিকদের জন্য প্রনোদনার কথা বললেও এখনো পাইনি। অধিকাংশ শ্রমিকরাই বেতন বোনাস থেকে বঞ্চিত থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ফাইল ছবি
নরওয়েতে ন্যাটোর আর কোনো ঘাঁটি নির্মাণ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোয়েরে। তাই পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণে প্রধান ধাক্কা এলো ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ নরওয়ে থেকে।
পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে যখন রাশিয়ার সাথে এই সামরিক জোটের উত্তেজনা চলছে তখনি এ খবর এলো। এতে আমেরিকা ও ন্যাটোর জন্য এটি অশনিসংকেত! ভবিষ্যতে আরো কোন কোন দেশ নরওয়ের পথে হাটবে, তা এই মূহুর্তে বলা যাচ্ছেনা। কারণ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর উপর বর্তমানে যেভাবে যোগাযোগ রাখছে অতীতে সেরকম যোগাযোগ রাখেননি।
বর্তমানে বেশি আমেরিকার প্রীতি হওয়ার কারণে ইউক্রেণের পরিণতি যেন না হয় সে পথেই হাটার চেষ্টা করবে অন্য দেশগুলো। সেক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করাটাই তাদের বেশি নিরাপদ। তাছাড়া রাশিয়ার সাথে লাগোয়া দেশগুলো রাশিয়াকে চটাতে চাননা। বিশ্বের রাজনীতি পরিবর্তনে শুধু আমেরিকা নির্ভর না থেকে বর্তমানে অনেক দেশ নিজেদের কূট-কৌশলে সবার সাথে সহাবস্থানে থাকার কৌশল অবলম্বন করছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণে মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অনেক দেশে পূর্বাপর ধারাবাহিকতার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ব্রাসেলসে গতকাল বৃহস্পতিবার ন্যাটোর বৈঠকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেদেশে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি জোরদারের পক্ষে নন তার সরকার। এই নীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ নরওয়ের সাথে রাশিয়ার সীমান্ত রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আগেও দেশটিতে কখনোই রুশ সীমান্তের কাছে ন্যাটোকে সামরিক মহড়া চালানোর অনুমতি দেয়নি।
রাশিয়া প্রথম থেকেই পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণের বিরোধিতা করে আসছে। কিন্তু ইউক্রেন সেসব বিষয়ে আমলে নেয়নি কখনো। তাই রাশিয়া এই ইস্যুতে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।
রাশিয়া প্রথম থেকেই বলছে, ন্যাটোর পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। কিন্তু ন্যাটো বা আমেরিকা কখনো এসব বিষয় তোয়াক্কা করেনি।
বর্তমানে ন্যাটোকে শক্তিশালী ও অটুট রাখতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন যেভাবে দৌড়াদৌড়ি করছেন, অতীতে তা লক্ষ্য করা যায়নি। তাই নিজেদের নিরাপদ রাখতেই নরওয়ের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের অনেক দেশকে উৎসাহিত করবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
কলাম লেখক: খোরশেদ আলম