a
মুক্তা দাশ
মন কেমনের লকডাউন
এমন মিঠে বৃষ্টির আলাপনে ...
বড্ড মন কেমন করে সারাক্ষণ !
কেউ কেউ এর মধ্যে ই শাসায়... লক ডাউন!
লকডাউন চিৎকারে, বড্ড বিরক্তি ধরায়ে দেয় ।
কিভাবে থাকি বলো তো !?
তোমাকে ছাড়া এই বৃষ্টিমুখর জলসায় !
একটু মুড়ি-চানাচুরমাখা মুখোমুখি বৈঠকে
হাসিতে মুখর মাথা ঠোকাঠুকিতে
নাকে নাকে মিলমিশ
চোখে মুখে প্রেমের বন্যা ..
কি করে থাকি বলো তো ???
তোমায় যে বড্ড বেশি প্রয়োজন ।
এমন বৃষ্টি ভেঁজা মাদল হাওয়ায়
তোমার সুখটানের ধোঁয়ায় আমি ভেসে যাই,
বৃষ্টি আমায় ভিজিয়ে দেয় আপাদমস্তক !
তোমার আলতো স্পর্শ পাই ,, হারিয়ে যাই
সৃষ্টি রহস্যে! উন্মাদনার আগুন জ্বলে উঠে
পুড়িয়ে দেয় মনোভূমি কৃষ্ণচূড়ার রঙে দেহবল্লরী।
অমাবস্যার ঘুটঘুটে আঁধারে নির্বিকার! আমি
জানালার এপাশেে বৃষ্টি খুঁজে ফিরি ,
স্বৈরাচারী করোনার শাসনে
ভালোবাসাও শাসিয়ে বলে ...!!
সবেতেই লকডাউন এ ধরায় ।।
সংগৃহীত: কৌতুক অভিনেতা রবিউল
রবিউলের পুরো নাম রবিউল আলম। দেশীয় চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের জনপ্রিয় ও সফল কৌতুক অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন রবিউল। পেশায় ছিলেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী।
জন্মেছিলেন ৯ জুন ১৯৩৯ সালে মুর্শিদাবাদে।চ লচ্চিত্রের পর্দায় তাঁর উপস্থিতিই দর্শকদের বিনোদিত করতো। যেমন ছিল তাঁর শারিরীক গঠন, তেমনি তাঁর অঙ্গভক্তি ও সংলাপ বলার পারদর্শিতা। এক ধরনের নির্মল আনন্দ দিতো দর্শকমনে।
তাঁর অভিনয়ের অন্যতম আরেকটি গুণ ছিলো তিনি হাতির কানের মতো কান দুটোকে সংলাপ বলার তালে তালে নাচাতে পারতেন, যা ছবির পর্দায় চরম হাস্যরসের সৃষ্টি করত।
তিনি সে সময়ের সিনেমাপ্রেমি দর্শকদের মাঝে প্রসংশনীয় কৌতুক অভিনেতা ছিলেন। রবিউল অভিনীত প্রথম ছবি ফতেহ লোহানী পরিচালিত 'আকাশ আর মাটি' মুক্তি পায় ১৯৫৯ সালে।
চলচ্চিত্র ছাড়াও বেতার-মঞ্চ ও টেলিভিশনের এই জনপ্রিয় অভিনেতা একশোরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে - তোমার আমার, জোয়ার এলো, নাচঘর, অনেক দিনের চেনা, নীল আকাশের নীচে, রাজা সন্ন্যাসী, অরুণ বরুণ কিরণমালা, সাত ভাই চম্পা, সমাপ্তি, দর্পচূর্ণ, অধিকার, কাঁচ কাটা হীরে, দীপ নেভে নাই, অশ্রু দিয়ে লেখা, বাঘা বাঙালি, আলোর মিছিল, মাসুদ রানা, পরিচয়, এপার ওপার, দোস্ত দুশমন, প্রতিনিধি, সমাধি, গুন্ডা, হাবা হাসমত, বন্ধু, অশিক্ষিত, জিঞ্জির, অভিমান, সাম্পানওয়ালা, ছুটির ঘণ্টা, যাদুনগর, আনারকলি, গাঁয়ের ছেলে, ভাঙাগড়া, রেশমী চুড়ি, লাল কাজল, বড় বাড়ির মেয়ে, ঝুমুর, রজনীগন্ধা, মৎস্য কুমারী, চোর, অভাগী অন্যতম।
১৯৮৭ সালের ১৮ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি এই অভিনেতা।
ছবি সংগৃহীত
কর্ণেল(অব.) আকরাম, সামরিক বিশ্লেষকঃ সৈন্যবৃত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা, যা অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রতিটি দেশের জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়েছে। অনেক গবেষক মনে করেন, এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম পেশা। আধুনিক সেনাবাহিনীর উৎপত্তি প্রুশিয়ায়, যেখানে পেশাদার সামরিক বাহিনী মূলত পেশাদার অফিসার বাহিনীর উপর নির্ভরশীল ছিল। ইউরোপের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, জার্মানি এবং ইতালি আধুনিক পেশাদার সেনাবাহিনীর বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে আধুনিক সামরিক বাহিনীর ব্যাপক প্রসার ঘটে। শীতল যুদ্ধের যুগে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত রাশিয়ার মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যা সামরিক বাহিনীকে আরও উন্নত ও পেশাদার করে তোলে।
ইসলামিক রাষ্ট্র মদিনার সূচনালগ্ন থেকেই সামরিক বাহিনীর বিকাশ লক্ষ্য করা যায়, যা খলিফা উমর (রা.)-এর শাসনামলে পেশাদার রূপ লাভ করে। এই সময়ে ইসলামি বাহিনী প্রথমবারের মতো একটি সুসংগঠিত ও পেশাদার রূপ নেয়, যা যে কোনো যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রস্তুত ছিল। পরে অটোমান সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনী পেশাদারিত্বের জন্য প্রসিদ্ধ হয়। জনিসারিদের (Janissary) ইউরোপের মানুষ এক সময় আতঙ্ক হিসেবে দেখত, কারণ সেখানে শুধুমাত্র অফিসার থাকত, সাধারণ সৈনিক নয়।
ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের *মানসবদারি ব্যবস্থা* একটি ব্যতিক্রমধর্মী সামরিক কাঠামো ছিল। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে নবাবের বাহিনীও মানসবদারি কাঠামোর মতোই সংগঠিত ছিল।
ভারতে আধুনিক সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব ব্রিটিশদের। প্রথমে তারা *বাংলা আর্মি* গঠন করে, এরপর *বোম্বে আর্মি* এবং *মাদ্রাজ আর্মি* গড়ে ওঠে। তবে ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা তিনটি বাহিনী বিলুপ্ত করে নতুন *ভারতীয় সেনাবাহিনী* গঠন করে।
প্রথমদিকে শুধুমাত্র ব্রিটিশরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসার হতে পারত। স্থানীয় ভারতীয়দের সর্বোচ্চ পদ ছিল *সুবেদার মেজর*। কোম্পানির অফিসারদের পাশাপাশি ব্রিটিশ অফিসাররা সেনাবাহিনী পরিচালনা করত। ব্রিটিশ শাসনামলে এই অফিসাররা নবাবদের মতো বিলাসী জীবনযাপন করত।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ভারতীয়দের সেনাবাহিনীতে সীমিত আকারে অফিসার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আরও বেশি সংখ্যক ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসার হতে সক্ষম হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সূচনা:
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর ভারতীয় সেনাবাহিনী দুটি ভাগে বিভক্ত হয়—ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী। পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) সেনা অফিসারের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য। পূর্ববাংলার মানুষের সামরিক ঐতিহ্য বা পটভূমি তেমন ছিল না। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সূচনাকালে বাঙালি অফিসারের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা কয়েকজন, যেখানে পশ্চিম পাকিস্তান, বিশেষ করে পাঞ্জাব থেকে বহু সংখ্যক মুসলিম অফিসার অন্তর্ভুক্ত হয়। ব্রিটিশ আমলে প্রথম ভিক্টোরিয়া ক্রসজয়ী ছিলেন একজন পাঞ্জাবি মুসলিম।
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যবিত্ত মুসলিমদের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিসার হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও সেনাবাহিনী গঠন:
১৯৭১ সালে একদল তরুণ অফিসার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি (PMA) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেজর জিয়া, মেজর শফিউল্লাহ, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর জলিল, ক্যাপ্টেন ওলি আহমদ, ক্যাপ্টেন হাফিজসহ আরও অনেকে। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ওসমানীর নেতৃত্বে এই অফিসাররা নতুন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ভিত্তি স্থাপন করেন।
২৫ মার্চ ১৯৭১ রাতে মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং সামরিক দিক থেকে নেতৃত্ব দেন। এটি ছিল এক পেশাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একদল তরুণ অফিসারের চ্যালেঞ্জ, যা শেষ পর্যন্ত সফল হয়।
যুদ্ধের সময় কিছু তরুণ বেসামরিক নাগরিক ওয়ার কমিশন পায়, আর অন্যরা মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিকাশ ও সংকট:
স্বাধীনতার পর, নবগঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রথম দিকে অবহেলিত ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার সেনাবাহিনীর পরিবর্তে জাতীয় রক্ষী বাহিনী (JRB) নামে একটি আধাসামরিক বাহিনী গঠন করে, যা সরাসরি ভারতীয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছিল।
১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের পতন এবং জিয়াউর রহমানের উত্থান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাস পরিবর্তন করে। সেনাবাহিনী বিভিন্ন পটভূমির অফিসারদের দ্বারা গঠিত হলেও জিয়াউর রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে এটি একটি পেশাদার বাহিনীতে পরিণত হয়। এই পরিবর্তনের পেছনে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে ফেরত আসা বাঙালি অফিসারদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিভিন্ন পটভূমির অফিসারদের নিয়ে একটি পেশাদার সেনাবাহিনী গঠন করা চ্যালেঞ্জিং ছিল, কিন্তু দক্ষ অফিসারদের মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়। এটি ছিল প্রকৃত সামরিক দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রতিফলন। ইতিহাস একদিন এই অফিসারদের অবদান ও আত্মত্যাগকে যথাযথ সম্মান দেবে।
সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব সংকট:
প্রত্যাবর্তিত অফিসারদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পেশাদার রয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যখন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (BMA) থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অফিসাররা নেতৃত্বে আসে, তখন সংকটের সূত্রপাত হয়।
প্রথম BMA কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার হিসেবে জেনারেল মইনুদ্দিন সেনাপ্রধান হন, কিন্তু তিনি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আসতে সহায়তা করেন। এর ফলে দেশে এক নব্য ফ্যাসিবাদী শাসনের জন্ম হয়।
এই ফ্যাসিবাদী সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী জেনারেলরা জাতির প্রতি দায় এড়াতে পারেন না। জনগণ এখন তাদের বিশ্বাস করতে নারাজ। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, আজ আমাদের অনেক অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে।
নেতৃত্ব ও সততার অভাব:
আমি দীর্ঘদিন বিএমএ-তে নেতৃত্ব তৈরির কাজে যুক্ত ছিলাম। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমাদের সেনাবাহিনীর প্রধান সমস্যা হলো *সততার অভাব*। আমরা ক্যাডেটদের মধ্যে ব্যক্তিগত সততা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছি, যার ফলে তারা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।
আমাদের উচিত সততার প্রশ্নটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা, যদি সত্যিই আমরা এমন অফিসার চাই, যারা জাতির প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে। আমার মতামত কারও মনে কষ্ট দিলে আমি দুঃখিত, কিন্তু বাস্তব সত্য এটাই।