a
ফাইল ছবি
হতাশায় ভরা এবারের মৌসুমে ট্রফির দেখা পেলো ইতালিয়ান ক্লাব ইউভেন্তাস। ২০ মে রাতে তারা আতালান্তাকে হারিয়ে দুই মৌসুম পর ১৪তম বারের মত ইতালিয়ান কাপ নিজেদের করে নিলো তুরিনের অল্ড ল্যাডি খ্যাত এই ক্লাবটি। রেজ্জিও মাপেইয়ের মাপেই স্টেডিয়ামে বুধবার ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা। দেজান কুলুসেভস্কির গোলে তারা এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা টানেন রুসলান মালিনভস্কি। ইউভেন্তুসের হয়ে জয়সূচক গোলটি আসে ফেদেরিকো চিয়েসার পা থেকে।
চলতি মৌসুমে ইউভেন্তুসের এটি দ্বিতীয় শিরোপা। গত জানুয়ারিতে নাপোলিকে হারিয়ে ইতালিয়ান সুপার কাপ জিতেছিল দলটি।
চলতি মৌসুমে তৃতীয় দেখায় তারা আতালান্তাকে হারাতে সক্ষম হলো ইউভেন্তাস। সিরি আ তে প্রথম দেখায় ১-১ ড্রয়ের পর গত এপ্রিলে দলটির মাঠে ১-০ গোলে হেরেছিল আন্দ্রেয়া পিরলোর দল।
একের পর এক বাজে পারফরম্যান্সে টানা ৯ মৌসুম পর লিগ শিরোপা হারানো ইউভেন্তাস ম্যাচের শুরুতেই বিপদে পড়তে পারতো। তৃতীয় মিনিটে পালোমিনোর শট রুখে দেন কিংবদন্তি গোলকিপার জিয়ানলু্ইজ বুফন তার দুই মিনিট পর দুভান সাপাতার নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
মাঠের খেলায় দারুন আধিপত্য বিস্তার করতে থাকা আতালান্তা বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও আধিপত্য ধরে রাখে। এ রকম আক্রমানাত্বক খেলার পরেও ইউভেন্তাসের কাছে ৩১তম মিনিটে পিছিয়ে যায় আতালান্তা ।
ডি-বক্সে রোনালদো ঢুকলেও তাকে আটকাতে পারেননি বিপক্ষ দলের রক্ষণভাগ। বল পেয়ে শট নেন কুলুসেভস্কি। বল বাঁক খেয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে পায়।
৪১তম মিনিটে সমতায় ফেরে আতালান্তা। ডি-বক্সের মুখ থেকে জোরালো শটে গোলরক্ষক বুফনকে পরাস্ত করেন ইউক্রেনের মিডফিল্ডার মালিনভস্কি।
বিরতির পর ইউভেন্তুসের খেলার ধার কিছুটা বাড়ে। ৬০তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যেতে পারতো তারা; চিয়েসার শট পোস্টে বাধা পায়। ৭৩তম মিনিটে আর ব্যর্থ হননি ইতালিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
বাঁ দিক দিয়ে ওঠা আক্রমণে কুলুসেভস্কিকে পাস দিয়ে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন চিয়েসা। প্রথম গোলদাতা চোখের পলকে বাড়ান ফিরতি পাস, বল ধরে একটু এগিয়ে ‘ওয়ান-অন-ওয়ানে’ গোলরক্ষকে ফাঁকি দিয়ে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো থেকে তারাতারিই বাদ পড়ে যাওয়া ইউভেন্তুসের লিগের মুকুট ধরে রাখার স্বপ্নও শেষ অনেক আগেই। অনেক হারানোর মৌসুমে এই শিরোপা জয়ে মনোবল চাঙ্গা হলো জুবদের।তার সাথে টেবিলের শীর্ষ চারে থেকে সেরি আ শেষ করার ইচ্ছাটাও টিকে রইলো।
কঠিন সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জয়ের আশা নিয়ে শেষ রাউন্ডে আগামী রোববার বোলোনিয়ার মাঠে নামবে ইউভেন্তুস। ৩৭ রাউন্ড শেষে লিগ টেবিলের পাঁচ নম্বরে আছে আন্দ্রে পিরলো শীষ্যরা।
ফাইল ছবি
লিওনেল মেসি নিজের মতো করে আলো ছড়াতে পারেননি। আলো ছড়ানো কী, শেষ দিকে সহজ একটা সুযোগ হারিয়েছেন। আর্জেন্টিনার কৌশল মেনে বারবার রক্ষণেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।
কিন্তু ভালো খেলতে না পারার আক্ষেপ মনে হয় না মেসিকে খুব একটা পোড়াবে। ক্যারিয়ারজুড়ে বয়ে চলা আক্ষেপ ঘোচার দিনে আর এসব কেন মনে রাখতে যাবেন মেসি!
আক্ষেপ তার একটাই ছিল—আর্জেন্টিনার জার্সিতে কিছু জিততে না পারা। সেই আক্ষেপ আজ ঘুচেছে। তা-ও কীভাবে! কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের মাটিতে, ব্রাজিলের ফুটবলতীর্থ মারাকানায় নেইমারের ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।
মেসির আক্ষেপ ঘুচেছে দি মারিয়ার গোলে। ২১ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে রদ্রিগো দি পলের চোখধাঁধানো পাস ধরে দারুণ চিপে বল জালে জড়ান দি মারিয়া। সেটিই শেষ পর্যন্ত ঘুচিয়েছে মেসির আক্ষেপ।
ফুটবল-বিধাতাই হয়তো ঠিক করে রেখেছিলেন, এমন একটা ম্যাচেই হবে মেসির আজন্ম অপেক্ষার অবসান। এর চেয়ে বড় কোনো উপলক্ষ তো আর হতে পারত না! নেইমার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আলো ছড়াতে শুরু করার পর থেকে মেসি বনাম নেইমারের একটা ফাইনালের অপেক্ষায় ছিল ফুটবল। কিন্তু বিশ্বকাপে তো তেমনটা কখনোই হয়ইনি, কোপা আমেরিকাও এমন কিছু দেখেনি। আজ মারাকানায় হলো প্রথমবার।
এতে নেইমার-মেসি দুজনই কাঁদলেন। নেইমারের কান্নাটা তাঁর ব্রাজিলের হয়ে বড় কোনো শিরোপার এত কাছে এসেও সেটি ঘোচাতে না পারার আর মেসির কান্নায় জুড়ে আছে অনেক কষ্টের শেষে সব পাওয়ার অপূর্ব আনন্দ।
কাগজে-কলমের সব হিসাব অবশ্য ম্যাচের আগে উল্টোটাই হওয়ার আভাস দিয়েছিল। ব্রাজিল এই মুহূর্তে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী দল। কি র্যাঙ্কিংয়ে, কি খেলোয়াড়ের নামের ভারে। প্রমাণ দেবে পরিসংখ্যানও। আর্জেন্টিনার কাছে আজকের হারটা ছিল ২০১৬ কোপায় পেরুর কাছে হেরে গ্রুপ পর্বে বিদায়ের পর লাতিন কোনো দলের কাছে ব্রাজিলের প্রথম হার। পাঁচ বছর আগের সেই ব্রাজিল ছিল দুঙ্গার ব্রাজিল।
তিতের অধীনে আলো ছড়াতে থাকা ব্রাজিলকে রুখতে আজ কী দারুণ কৌশলই না বেছে নিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি! ব্রাজিল কোচ তিতে সেমিফাইনালের একাদশে কোনো বদল আনেননি, কিন্তু ফাইনালের আগে বদল আনার ক্ষেত্রে স্কালোনি প্রায়োগিক ভাবনাকে দমিয়ে দেননি মোটেও। ফাটকাগুলো দারুণ কাজে লেগেছে!
রক্ষণের কেন্দ্রে হাঁটুর চোট কাটিয়ে ফেরা ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে এনেছেন স্কালোনি, ৭৮ মিনিটে মাঠ ছাড়ার আগে অসাধারণ খেলেছেন ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তায় খেলা ডিফেন্ডার। দুই ফুলব্যাকেও এসেছে বদল, গনসালো মন্তিয়েল আর মার্কোস আকুনিয়া দুজনই দারুণ খেলেছেন। তবে স্কালোনির যে বদলটা সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে, তা হলো আক্রমণে আনহেল দি মারিয়াকে আনা।
টুর্নামেন্টে আগের কয়েক ম্যাচে বদলি নেমে আলো ছড়িয়েছেন, কিন্তু আজ দি মারিয়াকে শুরু থেকেই খেলিয়েছেন স্কালোনি।
ব্রাজিলের দুই ফুলব্যাকের মধ্যে লেফটব্যাক রেনান লোদি আক্রমণে ওঠেন বেশি, তাঁর ফেলে রাখা জায়গা ধরে দি মারিয়া গতি কাজে লাগিয়ে ব্রাজিলকে ভোগাতে পারবেন, এই ভাবনা থেকেই দি মারিয়াকে নামানো।
এই ভাবনারই পুরস্কার হয়ে এল আর্জেন্টিনার গোল। প্রথম থেকে দুই দলের অতি-সাবধানী ফুটবলে সুযোগ তেমন মেলেনি কারওই। তবে প্রথমার্ধে দাপটটা পুরোপুরি ছিল আর্জেন্টিনারই। ২১ মিনিটে গোলটা অবশ্য এসেছে হঠাৎ করেই। আর্জেন্টিনার দুই উইং ধরে দি মারিয়া আর আকুনিয়া উঠে যাচ্ছিলেন বারবার, জায়গা নিয়ে অপেক্ষায় থাকতেন মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা বলের। সে কৌশলেই এল গোল।
মাঝমাঠের বৃত্তেরও একটু ভেতর থেকে দি মারিয়ার উদ্দেশে বাতাসে ভাসানো অসাধারণ এক থ্রু বাড়ান পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের প্রাণ হয়ে থাকা রদ্রিগো দি পল। দি মারিয়া সেটি নিয়ন্ত্রণে নিলেন, এদিকে পাশে থাকা রেনান লোদিও তাঁকে আটকাতে গিয়ে করলেন ভুল! আর যায় কোথায়! ব্রাজিল গোলকিপার এদেরসন এগিয়ে এসে আটকাতে চেয়েছিলেন দি মারিয়াকে, কিন্তু আর্জেন্টাইন উইঙ্গারের দারুণ চিপ ঠেকানোর সাধ্য ছিল না অসহায় দাঁড়িয়ে থাকা এদেরসনের।
ম্যাচের আগে আলোচনায় ছিল ব্রাজিল মেসিকে কীভাবে আটকাবে, আর আর্জেন্টিনা নেইমারকে। উত্তরটা পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। মেসির পায়ে বল গেলেই তিনজন ব্রাজিলিয়ান এসে ঘিরে ধরেছেন মেসিকে। কৌশলটা বেশ কাজেও দিয়েছে ব্রাজিলের। মেসি সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি।
নেইমারকে আটকানোর ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা ধরেছে ভিন্ন পথ। টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের মিডফিল্ডে সৃষ্টিশীলতার জোগান দিয়েছেন লুকাস পাকেতা, নেইমারের সঙ্গে মাঝমাঠের সম্পর্কও তৈরি করেছেন তিনিই। আর্জেন্টিনা আজ তাই নেইমারের পেছনে দু-তিনজনকে না রেখে পাকেতা-নেইমারের সংযোগটা ছিন্ন ক্রার কৌশলে খেলেছে। দ্বিতীয়ার্ধে মিডফিল্ডার ফ্রেডের বদলে স্ট্রাইকার রবার্তো ফিরমিনো নামার আগে সে কৌশলে ১০০-তে ১০০ পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
প্রথমার্ধে কোনো সুযোগই তৈরি করতে না পারা ব্রাজিলের আক্রমণের ধার বাড়ে দ্বিতীয়ার্ধে ফিরমিনো নামার পর। নেইমার এ স্ময়ে দারুণ খেলেছেন। বারবার সুযোগ তৈরি করেছেন, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি কেউ! ৫২ মিনিটে একবার বল জালেও জড়ায় ব্রাজিল, কিন্তু রিচার্লিসনের সেই গোল বাতিল হয় অফসাইডে। তার দুমিনিট পরই রিচার্লিসনেরই দারুণ শট বাজপাখির ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন এই টুর্নামেন্ট দিয়ে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে ঠাঁই করে নেওয়া গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খোঁজে ব্রাজিল আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে। ফিরমিনোর পর একে একে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গাব্রিয়েল বারবোসাকেও নামিয়েছেন তিতে। নেইমার আর রিচার্লিসন তো ছিলেনই! বারবোসা নেমে আর্জেন্টিনাকে ভুগিয়েছেন। একবার পেনাল্টির দাবিও তুলেছেন, যদিও তা ধোপে টেকার মতোই ছিল না। টেকেওনি। শেষদিকে ব্রাজিলের আক্রমণ জোর পেয়েছে, যদিও সেসব আক্রমণে পরিকল্পনার ছাপের চেয়ে মরিয়া ভাব বেশি ছিল।
ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক বদলির বিপরীতে মাঝমাঠ আর রক্ষণকে শক্তিশালী করা আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ঝাঁঝটা সয়ে গেছে। পাল্টা আক্রমণে বরং আরও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করেছে। ৮৯ মিনিটে মেসির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা পাল্টা আক্রমণটাতে শেষ টানতে ব্যর্থ মেসি নিজেই। দি পলের দারুণ থ্রু ধরে ব্রাজিল গোলকিপারকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি, কিন্তু শট ঠিকঠাক নিতে পারেননি।
ব্যর্থতাটা শেষ পর্যন্ত আর কাঁদায়নি মেসিকে। মেসি কেঁদেছেন ঠিকই, কিন্তু সে কান্না ব্যর্থতার নয়। এর চেয়ে সুখের কান্না মেসি সম্ভবত ফুটবল মাঠে আর কখনো কাঁদেননি! সূত্র: প্রথম আলো
ছবি: আলজেরিয়ান ফুটবলার ইউসুফ এটল
ফরাসি ওজিসি নেইস ফুটবল ক্লাবের আলজেরিয়ান ফুটবলার ইউসুফ এটলকে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরাইলের বর্বর হামলার বিপক্ষে প্রতিবাদ করায় ফ্রান্সে এই ফুটবলারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ফরাসি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) ফরাসি পুলিশ তার দেওয়া ওই পোস্ট সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে বলে জানা যায়। খবর আলজাজিরার।
এরপর শুক্রবার ৮০ হাজার ইউরো জরিমানার বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। পুলিশ আরও জানায়, আন্তর্জাতিক খেলা ছাড়া ফ্রান্স ছাড়তে পারবেন না ইউসুফ।
প্রসঙ্গত, গত মাসে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে ফরাসি ফুটবল লিগে সাতটি খেলার জন্য তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। অভিযোগ করা হচ্ছে, তার ভিডিওতে ইহুদিদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে উসকে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে ইউসুফের ক্লাব নেইস ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আর কমিটি বলেছে, ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তার বিচারকাজ শুরু হবে, সে পর্যন্ত ক্লাবের সব খেলা থেকে নিষিদ্ধ থাকবেন ইউসুফ।
ফুটবলার ইউসুফ এটেল বলেন, তিনি কখনই সহিংসতা বা কারও বিপক্ষে ঘৃণা ছড়ানো পছন্দ করেন না। বিশ্বের যেখানেই সহিংসতা হোক তিনি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবেন। সূত্র: যুগান্তর