a
করোনাভাইরাস
গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১১ হাজার ৯৩৪ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ১৩৮৬ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনাভাইরাসে শনাক্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ জন।
আজ রবিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আরও জানানো হয়, গত ১ দিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৩৩২৯ জন করোনারোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ১০ হাজার ১৬২ জন।
রুহুল কবির রিজভী
রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জানা গেছে। শনিবার বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, রিজভীর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হওয়ায় ও করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট আসায় তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে করোনা ইউনিটের অধীনে কেবিনে তার চিকিৎসা চলছে। তার অক্সিজেন স্যাচুরেশনের উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো তাকে নরমালি অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে তার শারীরিক অবস্থা ভালো। তিনি স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছেন এবং নিজে নিজেই হাঁটাচলা করতে পারছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ রুহুল কবির রিজভীর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপরই ১৭ মার্চ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গত ১ এপ্রিল হঠাৎ করেই রিজভীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং অক্সিজেন লেভেল কমে গেলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
ফাইল ছবি
ছাতকে দু"গ্রামবাসীর সংঘর্ষে একব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক লোক। শহরের ভাসখালা ও কালারুকা ইউনিয়নের মুক্তিরগাঁও গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
গত ১ মার্চ বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত সুরমা ব্রিজের গোলচত্তর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ছাতক ও দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকাগুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত সাইফুল ইসলাম, মামুন, সজিবকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়।
রাজ্জাক, জসিম, কুটিলাল, আফতাব উদ্দিনসহ অন্যান্য আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত সাইফুল ইসলাম মুক্তিরগাঁও গ্রামের চমক আলীর পুত্র।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গোলচত্তর এলাকায় যুবক- যুবতি টিকটক ভিডিও করার সময় তাদের বাঁধা দেয় ভাসখালা গ্রামের আহাদ মিয়ার পুত্র রাজ্জাক, আহমদ আলীর পুত্র মান্নাসহ তাদের সহযোগিরা। এ সময় মুক্তিরগাঁও গ্রামের আব্দুস সোবহানের পুত্র মামুনের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।এক পর্যায়ে মামুনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ নিয়ে প্রথমে দু' পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়েছে। পরে দুই গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র, ভাঙ্গা ইট-পাথর,কাঁচের বোতল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রায় ৩ ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
এ সময় সংঘর্ষকারীরা গোলচত্তর এলাকায় বেশ ক"টি দোকানে ভাংচুর করেছে। একটি পিকআপ ভ্যান, একটি মোটরসাইকেল ও ভাংচুর করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামী ১। শাকিব মাহমুদ (২৫), ২। আলী কাউছার (২১), উভয় পিতা-বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদ মিয়া, ৩। মোশারফ হোসেন হেলাল (১৮), পিতা-লালু মিয়া, ৪। ছায়েদ আহমদ লিমন (১৮), পিতা-দুলন মিয়া, ৫। মোঃ রাসেল মিয়া (২৪), পিতা-ইউছুফ আলী, ৬। মোঃ সালমান(২৫), পিতা-আব্দুল জব্বার, ৭। ছেরাগ আলী(৫৭), পিতা-মৃত সোনাফর আলী, ৮। রহিম আলী(৫৮), পিতা-আক্রম আলী, ৯। মোতাছির আলী(৬৮), পিতা-মৃত ইসকান্দর আলী, ১০। আহাদ আলী(৬৩), পিতা-মৃত ওমর আলী, ১১। সুরত আলী(৭০), পিতা-মৃত মোছাদ্দর আলী, ১২। দুলন (৩৮), পিতা-মৃত সাহিদ আলী, ১৩। নজির আলী(৭০), পিতা-মৃত ইছাক আলী, ১৪। মোঃ মামুন মিয়া (১৯), পিতা-আলকাব আলী, ১৫। যোবায়েল আহম্মদ ইমন(২০), পিতা-মোক্তার আলী, ১৬। মোঃ রাজিব মিয়া (২২), পিতা-আমির আলী, সর্ব সাং-বাঁশখলা, ৪নং ওয়ার্ড, ছাতক পৌরসভা, ১৭। আব্দুস শহিদ (৩৬), পিতা-মৃত মক্রম আলী, সাং-বাঁশখলা, বর্তমান সাং-কুমনা, ৪নং ওয়ার্ড, ছাতক পৌরসভা, ১৮। আবু বক্কর (২০), পিতা-আব্দুল জলিল, সাং-ব্রাহ্মনগাঁও, সর্ব থানা-ছাতক, ১৯। মোঃ মিলন মিয়া (৩২), পিতা-মোঃ লোকমান মিয়া, সাং-নসননগর, ইউ/পি-নরসিংহপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, বর্তমান সাং-বাঁশখলা গ্রামের মৃত খোয়াজ আলীর বাড়ী, থানা-ছাতক, সর্ব জেলা-সুনামগঞ্জ।
ছাতক থানা পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয়েছে। দোয়ারাবাজার থানা পুলিশসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেছে। ঘটনাস্থলে বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ছাতক সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রনজয় চন্দ্র মল্লিক-সাইফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, ফাঁকাগুলি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের পরিসংখ্যান এই মুহূর্তে সঠিক বলা যাচ্ছেনা। ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ১৯ জনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।