a
ফাইল ছবি
আফগানিস্তান থেকে বিদেশি বাহিনী প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ আগস্ট। এর আগেই দেশটি থেকে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সুইডেন ও স্পেন। অন্যান্য দেশগুলোও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের বাহিনী সরিয়ে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপি ও সিএনএন।
বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) রাতে কাবুল থেকে যাত্রীদের নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সর্বশেষ ফ্লাইটটি ছেড়ে গিয়েছে। আফগানিস্তানে তাদের আর কোনো নাগরিক নেই বলে জানানো হয়। তবে কাবুলে আরও কয়েকজন রয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে কিউই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে তারা আর কোনো বিমান পাঠাবে না।
আজ শুক্রবার প্রত্যাহার কার্যক্রম সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার ডাটন। তিনি বলেন, কাবুল থেকে চার হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে তারা। এ জন্য অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
শুক্রবার সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন লিন্ডে জানিয়েছেন, কাবুল থেকে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এক হাজার ১০০ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।
আজ সকালে স্পেনের সর্বশেষ দু'টি ফ্লাইটও কাবুল থেকে ছেড়ে গিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আফগান ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।
ছবি সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতার রাজনীতি (Power Politics) মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত একটি সর্বজনীন বাস্তবতা। তবে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে সমাজের পরিবর্তনের সাথে সাথে এটি নানা রূপ পরিগ্রহ করেছে। অন্যদের নিয়ন্ত্রণ করার বা প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতাই এই রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। আধুনিক কালে এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হয়ে উঠেছে এবং দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখছে।
রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রভাব বিস্তার করে, যার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে প্রধান বিবেচনা করা হয়।
প্রাচীন যুগে শারীরিক শক্তি ছিল বিজয়ের মাপকাঠি। মধ্যযুগে কামান ও আগ্নেয়াস্ত্র সেই জায়গা দখল করে। কিন্তু নেপোলিয়নিক যুগে ইউরোপের আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে আরও উন্নত অস্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়। সামরিক শক্তি ছোট ও দরিদ্র দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবহৃত হতে থাকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আধুনিক অস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বোমার ব্যবহার দেখা যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিশ্ব বিভক্ত হয় দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে। তখন থেকেই প্রকৃত অর্থে ক্ষমতার রাজনীতি শুরু হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুঁজিবাদী জগৎ এবং সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক ব্লক মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে ঠান্ডা যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং একমেরু বিশ্বে পরিণত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
তবে এই ফাঁকে চীন অর্থনৈতিক দৈত্য হিসেবে উঠে আসে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করে।
বাংলাদেশের জন্ম হয় ভারতের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এবং সেই সময়ে সোভিয়েত রাশিয়ার কূটনৈতিক ছায়ার নিচে থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের যাত্রা। ফলে নিজস্ব স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলার সুযোগ তখন মেলেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবহেলার ফলেই ১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবের পতন ঘটে সামরিক-নাগরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তিনি একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অনুসরণে সচেষ্ট ছিলেন। বিশ্বের দ্বিধাবিভক্ত পরাশক্তির কাঠামো তখন তার পক্ষে ছিল। তিনি একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন, অন্যদিকে চীন ও মুসলিম বিশ্ব (যেমন: পাকিস্তান) এর সাথেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনীতির শিকার হয়ে ১৯৮১ সালের মে মাসে প্রাণ হারান।
এরশাদের আমলে ভারত সন্তুষ্ট থাকলেও খালেদা জিয়ার শাসনামলে ভারতীয় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ক্ষমতার রাজনীতি এক চরম সংঘাতময় পরিস্থিতিতে পৌঁছায়। ১৯৯৬ সালে ভারত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে সক্ষম হলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে তাদের ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়।
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও তারা কিছু গুরুতর রাজনৈতিক ভুল করে বসে, যার ফলে ভারতের আধিপত্য আবারও প্রতিষ্ঠা পায়। নির্বোধ সেনাপ্রধান মঈন উদ্দিনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার ভারতনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনকাল শুরু হয়, যেখানে কার্যত কোনও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বিদ্যমান ছিল না।
২০২৪ সালের ছাত্রনেতৃত্বাধীন ‘জুলাই বিপ্লব’-এর মাধ্যমে অধ্যাপক ড. ইউনুসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। বর্তমান সরকার ভারতের ব্যাপারে সতর্ক এবং একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গঠনের লক্ষ্যে সচেষ্ট। সম্প্রতি ড. ইউনুসের চীন সফরকে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীন অর্থনৈতিক সহায়তা, মংলা বন্দর উন্নয়ন, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানের সাথেও সম্পর্ক দ্রুত উন্নয়নশীল এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে বলে আশা করা যায়।
তবে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার রাজনীতিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও অতিরিক্ত নির্ভরতা কোনওভাবেই বুদ্ধিদীপ্ত হবে না। ভারত এখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক বন্ধু। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করতে গিয়ে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, তারা যেকোনো সময় বাংলাদেশকে উপেক্ষা করতে পারে।
চীনের সাথে সম্পর্ককে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে এবং পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ককেও সম্মান ও গুরুত্বের সঙ্গে বজায় রাখা প্রয়োজন। শত্রুর শত্রু যে সবচেয়ে বড় বন্ধু—এই কৌশলগত বাস্তবতাও মনে রাখতে হবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রাজনীতি যেন জাতীয় স্বার্থকে বিপন্ন না করে। যারা ক্ষমতায় যেতে চাইছেন, তারা যেন কেবল ক্ষমতার স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন না দেন—এই প্রত্যাশাই থাকবে।
ফাইল ছবি: জাতীয় স্মৃতিসৌধ
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবস আজ। ৫০ বছর আগে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্তি লাভ করে বাংলাদেশ। আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন—একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মুক্তির ইতিহাস—স্বাধীনতার ইতিহাস। স্বাধীনতার ইতিহাস ৩০ লাখ শহিদের আত্মদান আর ২ লাখ মা-বোনের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও সংগ্রামের গৌরবগাথা, গণবীরত্বের ইতিহাস।
আরো পড়ুন: ঢাকার পথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
স্বাধীন বাংলাদেশের অভিযাত্রায় এক মহাসন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। আজ বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ করছে। কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংহত করার নতুন শপথে বলিয়ান হওয়ার দিন আজ।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষের’ মাহেন্দ্রক্ষণে উদ্যাপিত হচ্ছে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’। এটি সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য এক আনন্দঘন গৌরবের অনুভূতি। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় একের পর এক মাইলফলক অর্জন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনকে মহিমান্বিত করেছে।
বাঙালির শৃঙ্খলমুক্তির দিন আজ। বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে একসাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন তার চূড়ান্ত পরিণতি। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনার সেই গৌরব ও অহংকারের দিন আজ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ব্যাপক আয়োজনে থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।
দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ ঢাকাসহ সারা দেশে প্রত্যুষে ৫০ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সকাল ৭টায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
আরো পড়ুন: স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন বাহিনীর বাদকদল স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাদ্য বাজাবে।
দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ফেডারেশন মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। একইভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করবে। দেশের সব হাসপাতাল, জেলখানা, শিশুপরিবার, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের সব শিশু পার্ক ও জাদুঘরসমূহ বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হবে। একইভাবে চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর।
ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের পাগলা, বরিশাল ও চাঁদপুরে বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজসমূহ আজ দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে। আজ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সকাল ৭টা থেকে ৯টা এবং দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তিনি বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মহান স্বাধীনতা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের এই সন্ধিক্ষণে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশে পরিণত হোক—এ আমার প্রত্যাশা।
আরো পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, আসুন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা শপথ নিই—মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে আমাদের যা কিছু অর্জন, তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের হাত ধরেই অর্জিত হয়েছে। বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠতম অর্জন লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতালাভ। এই অর্জনকে অর্থবহ করতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে, মহান স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করতে হবে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মর্যাদাশীল উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছে। এটা আমাদের জন্য এক বিশাল অর্জন।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি: দিবসটি উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ৮টায় ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।
সকাল ৮টায় তেজগাঁও গির্জায়, সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডাস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনাসভার আয়োজন করেছে।
বিকাল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ আয়োজিত কর্মসূচিতে আমন্ত্রিত নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
আগামীকাল রবিবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনের জন্য দলের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক