a
ফাইল ছবি
ইউক্রেন ইস্যুতে যেসব পদক্ষেপের কারণে উত্তেজনা বেড়েই চলছে তা থেকে বিরত থাকতে আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। একইসঙ্গে বেইজিং জোর দিয়ে বলেছে, ইউরোপে নিরাপত্তার বিষয়ে মস্কো যে উদ্বেগ প্রকাশ করছে তাকেও আন্তরিকভাবে বিবেচনা আনতে হবে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে টেলিফোন আলাপকালে এসব কথা বলেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এসময় দুই মন্ত্রী ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর মধ্যে বেড়ে চলার উত্তেজনা নিয়ে কথা বলেন।
আলোচনাকালে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব পক্ষকেই স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার মানসিকতা সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে এবং ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও টেকসই ইউরোপীয় নিরাপত্তা কৌশল বের করতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার যৌক্তিক নিরাপত্তা উদ্বেগকে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। ওয়াং ই বলেন, পূর্বমুখী ন্যাটো জোটের বিস্তারের বিষয়ে মস্কোর উদ্বেগ বিবেচনায় নেয়া ছাড়া সামরিক জোট গঠন কিংবা তা শক্তিশালী করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না।
ফাইল ছবি
তালেবান যোদ্ধারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের পর সেখানকার কারাগার থেকে বের হয়ে গেছেন তিন বাংলাদেশি কারাবন্দী। কারাগার থেকে বের হওয়া তিনজন হলেন- খুলনার মঈন আল মেজবাহ, রাজধানীর মিরপুরের কাওসার সুলতানা ও ফেনীর উবাইদুল্লাহ হারুন।
কাবুলে প্রবেশের পর তালেবান যোদ্ধারা সেখানকার কারাগারের প্রধান দরজা খুলে দেয়। যার ফলে এই তিন বাংলাদেশি বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে উজবেকিস্তানে বাংলাদেশি দূতাবাস।
উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জাহাঙ্গীর আলম সমদূরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে আফগানিস্তানের দায়িত্বও পালন করছেন। তিনি বলেন, দেশটিতে বাংলাদেশের মিশন না থাকায় পুরো দেশের তথ্য সম্পর্কে আমরা অবগত নই। আপাতত কাবুলে থাকা বাংলাদেশিদের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বাংলাদেশের কোনো নাগরিক দেশটির অন্য কোথাও আছেন কি না, তা জানাতে আফগানিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
আফগানিস্তানে কোনো বাংলাদেশি যদি থেকে থাকেন, তাদের সহায়তার জন্য দুটি হটলাইন (+৯৯৮৯৭৪৪০২২০১ ও +৯৯৮৯০৩২৭৫১৫২) খোলা হয়েছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, আফগান কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়া তিন বাংলাদেশি হলেন খুলনার দৌলতপুর উপজেলার মঈন আল মেজবাহ, রাজধানীর মিরপুরের (ভাষানটেক) কাওসার সুলতানা ও ফেনীর ফুলগাজীর উবাইদুল্লাহ হারুন।
বেরিয়ে যাওয়া তিন বাংলাদেশি কারাবন্দীর অপরাধ সম্পর্কে একাধিক তথ্য পাওয়া যায়। কেউ বলছেন, তারা অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আবার কেউ বলছেন, ওই তিনজনসহ মোট চার বাংলাদেশিকে তালেবানকে সহায়তার অভিযোগে কয়েক বছর আগে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
রাষ্ট্রদূত মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়া মঈন আল মেজবাহ দূতাবাসে যোগাযোগ করলে তাকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়। দূতাবাস তাকে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. প্রতিষ্ঠিত দাওয়াতি সংগঠন ‘পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে দেশের কিংবদন্তি আলেম, বিশ্ববরেণ্য আরবী ভাষাবিদ, চট্টগ্রাম জামিয়া দারুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ‘আল্লামা মুহাম্মাদ সুলতান যওক নদভী রহ. : জীবন ও অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ মে) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক নদভীর সভাপতিত্বে ও আমির ড. মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আল্লামা আব্দুল হামীদ পীর সাহেব মধুপুর এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন: মাওলানা আবু তাহের নদভী, মাওলানা ফুরকানুল্লাহ খলীল, আমীরুল মুছলিহীন মাওলানা খলিলুর রহমান নেছারাবাদী, প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা আব্দুর রহীম ইসলামাবাদী, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ হাসান, মাওলানা লিয়াকত আলী, মাওলানা মুহাম্মাদ যাইনুল আবিদীন, মাওলানা জুলফিকার আলী নদভী প্রমুখগণ।
আলোচনা করেন মুফতি আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, ড. শুয়াইব আহমদ, মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, ড. মাওলানা গোলাম মুহিউদ্দীন ইকরাম, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ড. একেএম মুহিব্বুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, ড. মুফতি গোলাম রব্বানী, জনাব সাইফুর রহমান খান, ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান আজহারী, মুফতি শারাফাত হুসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, মুফতি জহির ইবনে মুসলিম, মাওলানা আফিফ ফুরকান, মুফতী আফজাল হুসাইন, হাকীম মাওলানা আজহারুল ইসলাম নোমানী, মুফতি ওমর ফারুক যুক্তিবাদী, মুফতী কামরুল হাসান নেছারী, মাওলানা ইয়াসীন আহমাদ জিহাদী, মাওলানা আহমাদুল্লাহ আব্বাসসহ বরেণ্য আলেম, লেখক, গবেষক ও ইসলামী স্কলারগণ।
আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, ‘বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে মুসলিম পুনর্জাগরণের জন্য যে ধরনের ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন ছিলো তা তৈরি হয়নি। এ সময় সর্বত্র ‘ক্বাহতুর রিজাল’ বা মানব দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিলো। এমন নাযুক সময়ে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল আলী নদভী রহ. মানুষ গড়ার সাধনায় ব্রতী হন। উপমহাদেশের যে ক’জন মানুষকে তিনি আপন চিন্তায় রাঙাতে পেরেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন-বাংলাদেশী আলেম মাওলানা সুলতান যওক নদভী রহ.। সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর সোহবতের বরকতে মাওলানা সুলতান যওক নদভী রহ. হৃদয়ে উম্মাহর দরদ ধারণ করতে পেরেছিলেন। তিনি ছিলেন গতানুগতিকতার বাইরের মানুষ, যেমনটি ছিলেন সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.। ফলে তাঁর চিন্তা ও কর্ম ছিলো গতানুগতিক চিন্তা ও কর্ম থেকে আলাদা।
উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কওমী শিক্ষা সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন মাওলানা সুলতান যওক নদভী রহ.। এ লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জামিআ দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া।’
বক্তাগণ আরো বলেন, ‘মাওলানা সুলতান যওক নদভী রহ. সীমাবদ্ধ গণ্ডির মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন বৈশ্বিক ব্যক্তিত্ব ও বিশ্ববরেণ্য আরবী ভাষাবিদ। বিস্তৃত কর্মের ময়দানে তিনি নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন রাবেতা আলমে ইসলামীর সদস্য, রাবেতা আদবে ইসলামীর বাংলাদেশ ব্যুরো চেয়ারম্যান, দেশের সবচেয়ে বড় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশেল প্রধান উপদেষ্টা, জামিয়া দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও দাওয়াতি সংগঠন পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের উপদেষ্টা। এছাড়া আরও অসংখ্য কল্যাণমুখী কাজে তিনি অভিভাবকত্ব করেছেন।’
বক্তাগণ আরো বলেন, ‘কীর্তিময়তায় উজ্জ্বল এই মনীষী ষাটের দশকে বাংলাদেশে ‘ আস-সুবহুল জাদিদ’ নামে আরবী ত্রৈমাসিক এবং ‘আল-হক’ নামে বাংলা মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। মাওলানা সুলতান যওক নদভী রহ. শুধু একজন মানুষ ছিলেন না, বরং একটি প্রতিষ্ঠান বা তার চেয়ে বেশি কিছু ছিলেন। সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর চিন্তা ও কর্মের প্রসার ছিলো তাঁর জীবনের লক্ষ্য। শিক্ষা, সংস্কার ও দাওয়াহ - সর্বত্র ছিলো তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত বিচরণ। এই কীর্তিমান মনীষী ২ মে ২০২৫ ঈসায়ী তারিখে মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান।’
বক্তাগণ আরো বলেন, ‘তাঁর ইন্তেকালে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা পূর্ণ হওয়া সম্ভব কেবল তখনই যখন আজকের যুবকেরা সুলতান যওক নদভীর মিশন ও ভিশনকে এগিয়ে নেওয়ার সাধনায় আত্মনিয়োগ করবে। মনে রাখতে হবে, গত শতাব্দীর শেষে যে মানব দুর্ভিক্ষ বা কীর্তিমান মানুষের অভাব দেখা দিয়েছিলো, সে অভাব বা দুর্ভিক্ষ আজও শেষ হয়নি, বরং আরও সংকটপূর্ণ হয়েছে। এমতাবস্থায় পূণ্যবান পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেকে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’
বক্তাগণ আরো বলেন, ‘একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর যে কর্মসূচি ও কর্মপন্থা ছিলো, মাওলানা সুলতান যওক নদভী রহ. সেই কর্মসূচি ও কর্মপন্থা জাতির সামনে পেশ করেছেন। বর্তমান শতাব্দীতে মুসলিম উম্মাহর উত্থানের জন্য সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর কর্মপন্থা অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই, বরং আলী মিয়াঁ নদভী রহ.-এর মিশন অনুসরণ করা ছাড়া এ জাতির মুক্তি সুদূর পরাহত। প্রকৃত মানুষের অভাবের সময় সুলতান যওক নদভী রহ. এর বিদায় যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা কখনো পূরণ হবার নয়। তবে তাঁর মিশন ও ভিশন বাস্তবায়নে আমরা যদি নিয়োজিত হতে পারি তবে কিছুটা হলেও সে শূন্যতা পূরণ হতে পারে।