a
ফাইল ছবি
ইরাকের একজন সিনিয়র সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার চিন্তা করছে বাগদাদ। দেশের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো ও শত্রুর আগ্রাসন থেকে দেশকে রক্ষা করতে এই পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ইরাকের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান রিদা আল-হায়দারের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বিমান বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল শিহাব জাহিদ আলীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি মস্কো সফর করেছে এবং এ সফরে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ বিষয়ে চুক্তি করতে কিছু সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান। তবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
রিদা হায়দার বলেন, বাগদাদ এরইমধ্যে মস্কোর সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি করেছে যার আওতায় রাশিয়া ইরাকের আর্মার্ড ব্রিগেডকে আধুনিকায়ন করবে। তিনি আরও বলেন, ইরাকি সেনাদের রুশ সামরিক সরঞ্জাম বিশেষ করে ট্যাংক ও আর্মার্ড ভেহিক্যাল ব্যবহারের পুরনো অভিজ্ঞতা রয়েছে। সূত্র : পার্সটুডে
ফাইল ছবি
উত্তর আমেরিকার দেশ হাইতিতে আজ ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে হাইতিতে ভূমিকম্পে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে কি পরিমাণ হতাহত হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। আল জাজিরা জানায়, হাইতির পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। আজ শনিবার (১৪ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
ইউএসজিএস জানায়, হাইতির পেটিট ট্রু দে নিপ্পস শহর থেকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ৮ কিলোমিটার দূরে ছিল। এছাড়া রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্স থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে। অন্যদিকে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) থেকে জানানো হয়, এই অঞ্চলে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। হাইতির জনসুরক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান জেরি চান্ডার জানান, আমি নিশ্চিত হয়েছি বহু মানুষ মারা গেছে। তবে কতজনের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ভূকম্পন কেন্দ্রে এক বাসিন্দা ক্রিস্টেলা সেইন্ট হিলারি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, বহু বাড়ি ঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। অনেক মানুষের প্রানহানী হয়েছে। অনেক মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় সবাই ঘরবাড়ি ছেড়ে এখন রাস্তায় অবস্থান করছে।
তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ফুটেজে পাওয়া যাচ্ছে মানুষ ধংসস্তুপের নিচে চাপা পড়েছে। তবে ঠিক কখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম পৌঁছাবে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে খুবই খারাপ মুহূর্ত এখানে।
উল্লেখ্য ১১ বছর আগে ৭ মাত্রার এক ভূমিকম্পে হাইতিতে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ মানুষ ওই ভূমিকম্পে আহত হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার আজকের ভূমিকম্পে সে সংখ্যা ছাড়িয়েও যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘খ্রিষ্টীয় নতুন বছর-২০২২’ উপলক্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুক্রবার এক বাণীতে খ্রিষ্টীয় নতুন বছর-২০২২ উপলক্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি।
তিনি শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, প্রকৃতির নিয়মেই যেমন নতুনের আগমনি বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে, তেমনি অতীত-ভবিষ্যতের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পুরনো স্মৃতি সম্ভারে হারিয়ে যাওয়ার চিরায়ত স্বভাব কখনো আনন্দ দেয়, আর কখনোবা কৃতকর্মের শিক্ষা নব উদ্যোমে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকারের উদ্যোগে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের রাজধানী এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরে বঙ্গবন্ধুর নামে স্মারক ভাস্কর্য স্থাপন, সড়ক ও পার্কের নামকরণ করা হয়েছে। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে সৃজনশীল অর্থনীতিতে আন্তজার্তিক পুরস্কার প্রবর্তন করেছে।
গত ১৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত জনকল্যাণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির মানদণ্ডে বিশ্বের প্রথম ৫টি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।
তিনি বলেন, গোটা বিশ্বের অর্থনীতি যেখানে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত সেখানে করোনাকালেও আমরা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। আমরা দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছি। মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছি। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতেও অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছি, এখন আমাদের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর। ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিচ্ছি।
পদ্মা সেতু নতুন বছরের মধ্যবর্তী সময়ে খুলে দেয়ার পরিকল্পনা করছি। রাজধানীতে মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করেছি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থানের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রথম ‘বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা’- এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে রূপকল্প-২০২১ অর্জন করেছি। দেশকে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করেছি। মুজিববর্ষে আমরা অঙ্গীকার করেছি কেউ গৃহহীন থাকবে না। আমরা শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে দেব।
নানা প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান করোনা মহামারী পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে তিনি ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন, ক্রান্তিকাল উত্তরণে ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ান নিয়োগ করা হয়েছে। দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২৮টি প্যাকেজের আওতায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবের আদর্শে উন্নত-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুন বছরে মানুষে-মানুষে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার, সকল সংকট দূরীভূত এবং সকলের জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। সূত্র : বাসস