a
ফাইল ছবি
ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড গাজা উপত্যকায় অব্যাহত হামলার বিষয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করেছে রাশিয়ার এক সিনিয়র কর্মকর্তা। বুধবার ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে এমন হুশিয়ারি দেন তিনি। খবর-বিবিসির
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, গাজায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা আরও বাড়ার ব্যাপারে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা অগ্রহণযোগ্য।
ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘর্ষ দশম দিনে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনের ২২০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৩ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
অপরদিকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে হামাসের হামলায় ১২ ইসরাইলি নিহত হয়েছে। পাশাপাশি আহত হয়েছে প্রায় তিন শতাধিক ইসরাইলি সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তি।
ফাইল ছবি
আমেরিকার ওকল্যান্ড বন্দরের শ্রমিকরা ইহুদিবাদী ইসরাইলের একটি কার্গো জাহাজের মালামাল খালাস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বরতার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ইহুদিবাদীদেরকে বয়কটের যে ডাক দেয়া হয়েছে, তার সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে ওকল্যান্ড বন্দর শ্রমিকরা ওই পদক্ষেপ নেন। খবর এবিসি নিউজের।
ফিলিস্তিনপন্থী আমেরিকার বিক্ষোভকারীরা অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর ইহুদিবাদী ইসরায়েলের বর্বর আগ্রাসনের প্রতিবাদ হিসেবে ওকল্যান্ড বন্দরে ইসরাইলি জাহাজ নোঙ্গর ও খালাস করা নিষিদ্ধ করেন। পরবর্তীতে জাহাজটি ওকল্যান্ড বন্দর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।
এ সময় বন্দর শ্রমিকরা এবং অন্য বিক্ষোভকারীরা মিলে সেখানে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
বিক্ষোভ আয়োজনকারীদের মুখপাত্র ওয়াসিম হেজ সাংবাদিকদের বলেন, আজ আমরা ওকল্যান্ড শহরের পক্ষ থেকে একথা প্রমাণ করে দিলাম যে, আমরা বর্ণবাদী ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চাই না।
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস স্টেটের ডালাস সংলগ্ন এলেন সিটির এক বাংলাদেশি পরিবারের ৬ সদস্যই খুন হয়েছেন। সোমবার ভোর রাতে এলেন সিটির পুলিশ টেলিফোন পেয়ে ঐ বাসায় গেলে নৃশংসভাবে হত্যার শিকারদের লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিক বর্ণনায় পুলিশ জানায়, দু’ভাই মিলে তাদের মা-বাবা, নানি এবং একমাত্র বোনকে হত্যার পর নিজেরাও আত্মহত্যা করেছে।
এলেন সিটি পুলিশের সার্জেন্ট জন ফেলী গণমাধ্যমকে জানান, সম্ভবত, গত শনিবার এমন নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। ১৯ বছর বয়সী একজনের ফেসবুকের স্ট্যাটাসে এই পরিস্থিতির বর্ণনা করা হয়েছে। পুলিশের মতে ‘আত্মহত্যার প্রসঙ্গ’-তে রয়েছে, হতাশার ধারাবিবরণী।
ক্যারেন ফেল্লা নামের ওই পরিবারের এক প্রতিবেশী বলেন, যথারীতি আমরা রবিবার কাজে গেছি। কিছুই বুঝিনি যে, ওরা কেউ আর বেঁচে নেই। এই পরিবারের ব্যাপারে তাদের বেশি ধারণা নেই। ফেল্লা নিহত পরিবারের একমাত্র তরুণীর ব্যাপারে বলেন, সে খুবই মেধাবী ছাত্রী ছিল। আমার মেয়ের স্কুলেই পড়তো।
কেভিন পাটেল (২৮) নামক আরেক প্রতিবেশী জানান, তাদের বিষয়ে খুব বেশি জানতাম না। তবে তারা সুখী পরিবার ছিল বলেই মনে হতো। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় কাজ থেকে ফিরেই দেখি পুলিশের উপস্থিতি। অবাক হয়েছি ঘটনা জেনে।
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের সেক্রেটারি নাহিদা আলী হতাশার সাথে জানান, এমন সংবাদে সকলেই হতভম্ব। শোকাচ্ছন্ন গোটা কমিউনিটি। তৌহিদুল ইসলাম (৫৬) খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তার স্ত্রী আইরিন ইসলাম নীলাও (৫৫) আসতেন কমিউনিটির অনুষ্ঠানে। সব সময় তারা দুই পুত্র তানভির তৌহিদ (২১) এবং ফারহান তৌহিদ (১৯) কে নিয়ে উচ্ছ্বাস করতেন। একইভাবে মেধাবী কন্যা পারভিন তৌহিদকে (১৯) নিয়েও তার অহংকারের শেষ ছিল না। পারভিন পড়তেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। সপ্তাহখানেক আগে তাকে নিউইয়র্ক থেকে বাসায় নেয়া হয়। ফারহান গত বছর ভর্তি হয়েছিলেন অস্টিনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে। তানভিরও পড়তেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের অস্টিনে। তার এবারই গ্র্যাজুয়েশনের কথা। তবে ফারহান আর পারভিন ছিলো যমজ। এমন একটি পরিবারের সকলেই একইসাথে নিঃশেষ হয়ে যাবে-এটি কল্পনারও অতীত ছিল। সাথে তৌফিকের শাশুড়ি আলতাফুন্নেসাকেও (৭৭) মৃত্যুবরণ করতে হলো।
গত সপ্তাহেই আলতাফুন্নেসার বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। করোনা জটিলতায় তিনি সফর স্থগিত করেছিলেন। নাহিদা জানান, পুলিশী তদন্ত শেষে লাশগুলো পেলে যদি ঐ হতভাগা পরিবারের কোন স্বজন দায়িত্ব না নেন তাহলে আমরা এসোসিয়েশনের উদ্যোগে দাফনের পদক্ষেপ নেব। এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
জানা গেছে, তৌহিদুল ৮ বছর আগে টেক্সাসের এই সিটিতে বসতি গড়ার আগে নিউইয়র্কে বাস করতেন। তার দেশের বাড়ি ছিল পুরনো ঢাকায়। সর্বশেষ তিনি টেক্সাসে সিটি ব্যাংকে চাকরি করতেন।
পরিবারের প্রধান তৌহিদের পরিচিত ট্র্যাভেল ব্যবসায়ী শাহীন হাসান জানান, কোনো কারণে তৌহিদের দুই পুত্রই বিষন্নতায় আক্রান্ত ছিল। আত্মহত্যার সেই নোটে সে (ফারহান) উল্লেখ করেছে, ২০১৬ সালে নবম গ্রেডে পড়াবস্থায় আমি বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়েছি বলে চিকিৎসক জানায়। এজন্যে আমি পরীক্ষায় ফেল করেছি। আজ আমি নিজের শরীর দু’বার কেটেছি। খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমার মনে আছে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট, কাঁচির মত ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরে কেটেছিলাম। অনুভব করেছি কতটা অসহনীয় যন্ত্রণা। এরপর প্রায় দিনই শরীরে রান্নাঘরের চাকু দিয়ে কেটেছি। বিষন্নতার দুঃখবোধ লাঘবের পথ খুঁজেছি। এ অবস্থায় আমার ঘনিষ্ঠ তিন বন্ধু আমাকে ত্যাগ করেছে।
এমনি হতাশার মধ্যেই আমাকে ভর্তি করা হয় ইউনিভার্সিটি অব অস্টিনে কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে। এরপর আমি ভেবেছি যে, এবার জীবনটা সঠিক ট্র্যাকে উঠেছে। বাস্তবে তা ঘটেনি। বিষন্নতায় জর্জরিত হয়ে পুনরায় আমি নিজের শরীর রক্তাক্ত করি এবং কাঁদতে কাঁদতে বিছানায় ঘুমাতে যাই। সান্ত্বনা খুঁজি যে, আমি সুস্থ হয়েছি। অন্যদের মতই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটি সত্য বলে কখনোই মনে হয়নি।
এক পর্যায়ে সে লিখেছে, আমি যদি আত্মহত্যা করি তাহলে গোটা পরিবার সারাটি জীবন কষ্ট পাবে। সেটি চাই না। সেজন্যে পরিবারের সকলকে নিয়ে মারা যাবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বড়ভাইকে সামিল করলাম। দু’ভাই গেলাম বন্দুক ক্রয় করতে। আমি হত্যা করবো ছোটবোন আর নানীকে। আমার ভাই করবে মা-বাবাকে। এরপর উভয়ে আত্মহত্যা করবো। কেউ থাকবে না কষ্ট পাবার।
আত্মহত্যার প্রাক্কােলে লেখা ওই নোটে সে আরও উল্লেখ করেছে, বন্দুক ক্রয়ের ব্যাপারটি খুবই মামুলি। বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের নামে তামাশা চলছে সর্বত্র। বড়ভাই গেলেন দোকানে। বললেন যে, বাড়ির নিরাপত্তার জন্যে বন্দুক দরকার। দোকানি কয়েকটি ফরম ধরিয়ে দিলে সেখানে স্বাক্ষর করলেন ভাই। এরপর হাতে পেলাম কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি, যা দিয়ে নিজের কষ্ট এবং পরিবারের কষ্ট সহজে লাঘব করা যাবে।
এদিকে, ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান ও ক্যানসাসের ডেমোক্র্যাটিক ককাসের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারপার্সন রেহান রেজা এ সংবাদদাতাকে বলেন, এমন নিষ্ঠুর পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া দরকার। সময় মতো যথাযথ চিকিৎসার পদক্ষেপ নিলে হয়তো এমন দুঃখজনক পরিস্থিতির অবতারণা হতো না। তিনি অবিলম্বে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবিও জানিয়েছেন। সূত্র:বিডিপ্রতিদিন