a
ফাইল ছবি
ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড গাজা উপত্যকায় অব্যাহত হামলার বিষয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করেছে রাশিয়ার এক সিনিয়র কর্মকর্তা। বুধবার ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে এমন হুশিয়ারি দেন তিনি। খবর-বিবিসির
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, গাজায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা আরও বাড়ার ব্যাপারে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা অগ্রহণযোগ্য।
ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘর্ষ দশম দিনে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনের ২২০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৩ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
অপরদিকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে হামাসের হামলায় ১২ ইসরাইলি নিহত হয়েছে। পাশাপাশি আহত হয়েছে প্রায় তিন শতাধিক ইসরাইলি সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তি।
ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে উত্তর কোরিয়ার একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়ার জাহাজ আটকের কথা ঘোষণা করে।
এদিকে মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটি সিঙ্গাপুরের মালিকানাধীন এবং এটি তেলজাতীয় পণ্য নিয়ে উত্তর কোরিয়ায় যাচ্ছিল। উত্তর কোরিয়ার নামপো বন্দরে এই তেল খালাস করার কথা ছিল।
মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে মার্কিন সরকারের নির্দেশ অনুসারে কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষ জাহাজটি আটক করে এবং এতদিন ধরে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। গতকাল থেকে এ বিষয়ে মার্কিন ফেডারেল আদালতে বিচার শুরু হয়েছে এবং তখনই বিষয়টি জনসমক্ষে এনেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন দেশের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের যুদ্ধ-প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকা যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করবে। তার আগে কিম জং উন নিজের দেশের সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিলেন। তবে এই নির্দেশের সঙ্গে জাহাজ আটকের ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে না।
উত্তর কোরিয়া পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে আমেরিকা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যবহার করে দেশটি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার কোম্পানি কেসায়াতে সাইবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি র্যানসমওয়্যার হ্যাকার গ্রুপ। সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে সাত কোটি ডলার বা ৫৯০ কোটি টাকা দাবি করেছে হ্যাকার গ্রুপ।
এদিকে, এর সঙ্গে ক্রেমলিনের কোনো যোগসূত্র থাকলে তার জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কেসায়ার সিস্টেমে হামলা চালিয়েছে আরইভিল নামে একটি হ্যাকার গ্রুপ। এতে অন্তত ১৭টি দেশের কয়েকশো কোম্পানি বিপদে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম।
আরইভিল নিজেদের ব্লগে এই হামলা চালানোর দাবি করেছে। নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে বিটকয়েন মারফত সাত কোটি ডলার ‘মুক্তিপণ’ দাবি করেছে তারা।
হ্যাকার গ্রুপটি এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান জেবিএস এ হামলা চালিয়ে এক কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
এদিকে, এ ঘটনা তদন্তে এফবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ক্রেমলিনের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেলে তার জবাব দেয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মিয়ামিভিত্তিক কেসায়া বিভিন্ন কোম্পানিকে নেটওয়ার্ক ও সফটওয়্যার সেবা দিয়ে থাকে। আর্থিক খাত থেকে শুরু করে পর্যটন, রিটেইলার এমনকি বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। সারা বিশ্বেই তাদের সেবা গ্রহীতা কোম্পানিগুলো এই সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।
অর্থ লেনদেনের সফটওয়্যারে জটিলতার কারণে সুইডেনে কুপ নামে একটি চেইন শপ তাদের ৮০০টি শাখা শনিবার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। দেশটিতে একটি ওষুধ চেইন, গ্যাস স্টেশন চেইন, রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে এবং সরকারি গণমাধ্যম এসভিটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷
জার্মানির বার্তা সংস্থা ডিপিএ-এর প্রতিবেদন অনুসারে, দেশটিতে একটি প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার কাস্টমার র্যানসমওয়্যার বা ডেটা আত্মসাতের শিকার হয়েছেন। দুইটি বৃহৎ ডাচ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও সমস্যায় পড়েছে।
কেসায়ার প্রধান নির্বাহী ফ্রেড ভকোলা জানিয়েছেন, হামলার শিকার হওয়াদের মধ্যে বেশির ভাগই ছোট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান যার মধ্যে দাঁতের ক্লিনিক থেকে শুরু করে স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান, প্লাস্টিক সার্জারি সেন্টার, এমনকি লাইব্রেরিও রয়েছে।
আরইভিল এর এই হামলায় সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০টি প্রতিষ্ঠানের ৩৭ হাজার গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ম্যানডিয়ান্টকে দায়িত্ব দিয়েছে কেসায়া।
এদিকে, এক বিবৃতিতে এফবিআই জানিয়েছে, তারা হামলার বিষয়ে তদন্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের উপ পরামর্শক অ্যানি নিউবার্গার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন হামলা তদন্তে সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ হামলার শিকার হলে সে বিষয়ে এফবিআইকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এই হামলায় ক্রেমলিনের জড়িত থাকার সন্দেহ করা হলেও সিলভার্দো পলিসি অ্যাকসিলারেট এর সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি আলপেরোভিৎচ সেই সম্ভাবনা নেই বলে জানান। তবে তার মতে, রাশিয়া দেশটিতে সক্রিয় হ্যাকার গ্রুপগুলোর কার্যক্রম বন্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এটি সেই প্রমাণ দিচ্ছে। সূত্র: ডয়েচে ভেলে ও রয়টার্স