a
ফাইল ছবি
লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ২ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। একদিনে আক্রান্তের হিসেবে এই সংখ্যা শুধুমাত্র ভারতে নয় বিশ্বেও সর্বোচ্চ।
এ বছর ৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২ লাখ ৮৯ হাজার ১৯৫ জন। দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে বুধবার নতুন রের্কড গড়ল ভারত।
দৈনিক মৃত্যুর নিরিখেও দেশটিতে বুধবার তৈরি হল নতুন রের্কড। দেশে এই প্রথম একদিনে মৃত্যু ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২৩ জনের।
করোনা ভাইরাসের এই মহামারীতে দেশে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৩ জন। সূত্র: আনন্দবাজার
জো বাইডেন ও পুতিন
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, রাশিয়া বা বিশ্বের অপরাপর কেউ প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ভয় পায় না এবং এটি আমেরিকার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
লিন্ডসে গ্রাহাম আরও বলেন, “এই দুর্বলতা এই ব্যক্তির (বাইডেনের) জন্য আত্মহত্যার সমতুল্য। কারণ, রাশিয়ায় কেউ তাকে ভয় পায় না। বিশ্বের কেউও বাইডেনকে পাত্তা দেয় না যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
তিনি মার্কিন নিউজ চ্যানেল ‘ফক্স নিউজের’ প্রাইম টাইম অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন অন্যান্য দেশের মোকাবিলায় দুর্বলতা প্রদর্শন করছেন, ফলে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আমেরিকার এই রিপাবলিকান সিনেটর বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কিছুদিন আগে জো বাইডেনকে টেলিভিশন বিতর্কের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পুতিন এ চ্যালেঞ্জ এজন্য দিতে পেরেছিলেন যে, তিনি জানেন বাইডেন এরকম বিতর্কে জয় লাভ করতে পারবেন না।
আমেকিরার এই সিনেটর বলেন, “রাশিয়া যখন আমেরিকার চেয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে এবং চীন তার হুমকি অব্যাহত রেখে চলেছে তখন আমেরিকার মিত্ররা আমাদের দুর্বল অবস্থানের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে। আমি কখনো দেখিনি, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এতটা নড়বড়ে হয়ে উঠেছে।”
সংগৃহীত ছবি
প্রতিষেধকের দু’টি ডোজ নেওয়া থাকলেও করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্টের আক্রমণ হতে পারে শরীরে। বিশ্বের ১০ শীর্ষ কোভিড-বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার থেকে উঠে এসেছে এই তথ্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বের ১২৪টি অঞ্চলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডেল্টা। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অন্তত ২০ কোটি মানুষ ডেল্টার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ডব্লিউএইচও।
বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ভারতে প্রথম চিহ্নিত হওয়া এই ভেরিয়েন্টটির আক্রমণে মানুষ শুধু গুরুতর অসুস্থই হয়ে পড়ছেন না, এটি খুব দ্রুত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে টিকা নেননি এমন ব্যক্তিদের দ্রুত আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন অত্যন্ত বেশি, তেমনি টিকার দু’টি ডোজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরেও ডেল্টায় আক্রান্ত হচ্ছেন এমন প্রমাণ অমিল নয়। বরং তা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।
বিশেষজ্ঞেরা শুরুতেই বলেছেন, করোনার বাকি ভেরিয়েন্টগুলোর মধ্যে এখনও পর্যন্ত ডেল্টাই সব চেয়ে সংক্রামক ও প্রাণঘাতী। ব্রিটেনের মাইক্রোবায়োলজিস্ট শ্যারন পিককের কথায়, ‘‘এই মুহূর্তে বিশ্বের সামনে সব চেয়ে বড় ঝুঁকি হল ডেল্টা।”
ব্রিটেনের সংস্থা ‘পাবলিক হেল্থ ইংল্যান্ড’ সম্প্রতি জানিয়েছে, ব্রিটেনে ডেল্টা ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত ৩ হাজার ৬৯২ জন করোনা-রোগীর মধ্যে ৫৮.৩ শতাংশের টিকাকরণ হয়নি তবে ২২.৮ শতাংশের টিকার দু’টি ডোজ সম্পূর্ণ হয়েছে।
সিঙ্গাপুরেও ডেল্টা ভেরিয়েন্টের দাপট সব চেয়ে বেশি। দেশটির সরকারি তথ্য বলছে, আক্রান্তদের তিন চতুর্থাংশই কিন্তু টিকা নিয়েছেন। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সেদেশে করোনা-আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এমন ৬০ শতাংশরই টিকা নেওয়া আছে।
আমেরিকায় করোনা আক্রান্তদের ৮৩ শতাংশই ডেল্টা ভেরিয়েন্টের শিকার। সেদেশের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউচি জানিয়েছেন, টিকাকরণের হার কম এমন এলাকাগুলোতে ডেল্টার বাড়বাড়ন্ত বেশি। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিকিৎসা উপদেষ্টা ফাউচির বক্তব্য, ‘‘আমেরিকায় ভ্যাকসিন না নেওয়া মানুষদের মধ্যে করোনা মহামারী আকার নিচ্ছে।”
ফ্লরিডা, টেক্সাস, মিসৌরির মতো প্রদেশগুলোতে টিকাকরণের হার কম বলে সংক্রমণ ঊর্ধ্বগামী। সার্জেন জেনারেল বিবেক মূর্তি সম্প্রতি জানিয়েছেন, সেদেশে করোনায় মৃতদের ৯৯.৫ শতাংশের টিকা নেওয়া ছিল না।
ইসরায়েলেও গত কয়েক মাস ধরে সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ডেল্টা স্ট্রেন। সরকারি তথ্যানুযায়ী, কোভিডে সর্বাপেক্ষা কার্যকর ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা বর্তমানে সেদেশে সংক্রমণ রুখতে মাত্র ৪১ শতাংশ কার্যকর হচ্ছে।
চীনের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০১৯ সালে প্রথম চিহ্নিত হওয়া উহান স্ট্রেনের তুলনায় ডেল্টা ভেরিয়েন্ট আক্রান্ত ব্যক্তির নাকে ১০০০ গুণ বেশি ভাইরাস থাকে।
মাইক্রোবায়োলজিস্ট শ্যারন পিকক বলেছেন, “ডেল্টা আক্রান্তের ‘ভাইরাল লোড’ বেশি হওয়ায় সম্ভবত অন্যকে সংক্রামিত করার ক্ষমতা বেশি। তবে এই বিষয়টি নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।”