a
ফাইল ছবি
আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে তালেবান। যুক্তরাষ্ট্র সদ্যঘোষিত তালেবান সরকারের সদস্যদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে তালেবান সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে চীন।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, তালেবানকে স্বীকৃতি এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা নিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যখন পর্যবেক্ষণ নীতি অবলম্বন করছে, চীন তখন তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।
বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, তালেবানের নতুন সরকার গঠনকে চীন খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। এর মাধ্যমে আফগানিস্তানের তিন সপ্তাহের বেশি সময়ের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অবসান হলো। এখন তালেবানের জন্য শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দেশ গঠন করা জরুরি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র তালেবানের নতুন সরকার নিয়ে বলেন, সরকারে তালেবান ও তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা থাকলেও কোনো নারী নেই। তালেবান সরকারের কয়েক সদস্যের নানা সংশ্লিষ্টতা ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই মুখপাত্র আরও বলেন, নতুন সরকারকে তালেবান তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলছে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের মাথায় আছে। যুক্তরাষ্ট্র তালেবানকে তাদের কাজের মাধ্যমে মূল্যায়ন করবে।
প্রতিকী ছবি
ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোয় পবিত্র নগরী জেরুজালেমে এক মুসলিম কিশোরকে গাড়িচাপা দিয়েছে ইসরাইলের পুলিশ। গতকাল রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় আল-আকসা মসজিদের দক্ষিণে সিলওয়ান জেলার একটি রাস্তায় শিশুর ওপর ওই বর্বর হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী।
জাওয়াদ আব্বাসি (১৫) নামে ওই ফিলিস্তিনি কিশোর তার বাইসাইকেলে নিজ দেশের পতাকা উড়িয়ে রুটি কিনতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। খবর আরব নিউজের।
রাস আলমন্ড নামে এলাকায় আসার পর দখলদার ইসরাইলি পুলিশ ওই ফিলিস্তিনি কিশোরকে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে।
একপর্যায়ে ইসরাইলি পুলিশ তার ওপর গাড়ি তুলে দিতে গেলে গাড়ির ধাক্কায় সাইকেল থেকে পড়ে হাত, পা ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ইসরাইলি পুলিশের এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা সোস্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সেখানে ইসরাইল পুলিশকে বলতে শোনা যায়, ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানোর দায়ে তাকে গাড়িচাপা দেওয়া হয়েছে।
ফাইল ছবি
মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে বিজেপি নেত্রী নুপূর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ভারতের একাধিক শহরে আত্মঘাতী হামলার হুমকি এসেছে। এই হুমকির পর ভারতের ক্রেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন শহরে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। খবর: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৬ জুন আত্মঘাতী হামলা চালানোর হুমকি সংবলিত একটি চিঠি দিয়েছে আল-কায়েদা। তারা জানায়, নবী মুহাম্মদেরর সম্মানের জন্য এই লড়াই। দিল্লি, মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশ এবং গুজরাটের বিভিন্ন শহরে আত্মঘাতী হামলা চালানো হবে। এই হুমকির পর ভারতের ক্রেন্দ্রীয় সরকার শহরগুলোতে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে।
চিঠিতে লেখা রয়েছে, কয়েক দিন আগে হিন্দুত্বের ধ্বজাধারীরা আল্লাহর শরিয়ার বিরোধী। মুহাম্মদ আল-মুস্তাফা, আহমেদ আল-মুজতবা এবং তার পবিত্র ও মহান স্ত্রী, সবার আস্থার সায়িদা আয়েশা বিন্তে আবু বকর সিদ্দিকের নামে ভারতীয় চ্যানেলে অত্যন্ত খারাপ ভাষায় অপমান করা হয়েছে। এর কারণে বিশ্বজুড়ে সমস্ত মুসলিমের হৃদয় রক্তাক্ত হয়েছে। তাদের মন প্রতিহিংসায় পরিপূর্ণ হয়েছে। এর বদলা অবশ্যই নেওয়া হবে।
চিঠিতে আরও লেখা রয়েছে, বিশ্বের সমস্ত উদ্ধত, বেয়াদব মুখ বিশেষ করে হিন্দুত্ব সন্ত্রাসী যারা ভারতকে কব্জা করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে লড়ব আমরা। নবীর সম্মানের জন্য সবাইকে এই লড়াইয়ে শামিল হতে বলব।
ভারতের আলোচিত জ্ঞানবাপী মসজিদ ইস্যুতে গত মাসে এক টেলিভিশন টকশোতে মহানবী (সা.) প্রসঙ্গে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বিজেপির মুখপাত্র নুপুর শর্মা। এ ঘটনা উত্তর প্রদেশের মুসলিমদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। বৃহস্পতিবার নুপুর শর্মাকে সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে টুইট করেন রাজ্য বিজেপির অপর নেতা নবীন কুমার জিন্দাল। যদিও পরে সেই টুইট মুছে ফেলেন তিনি।
এদিকে, এ ঘটনার জেরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর উত্তর প্রদেশের কানপুর জেলায় দুটি গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে দাঙ্গা হয়েছে। এতে পুলিশের ২০ কর্মকর্তাসহ ৪০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার পুলিশ সহিংসতার এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সন্দেহভাজন অভিযুক্ত হিসেবে ৪০ জনের ছবি প্রকাশ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি থেকে সন্দেহভাজনদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সহিংসতার পর দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিল কানপুর পুলিশ। এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত জাফর হায়াতসহ ৫০ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নবীকে (সা.) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় রবিবার নুপুর শর্মাকে দল থেকে বরখাস্ত এবং জিন্দালকে বহিষ্কার করেছে বিজেপি। এরপরও বিজেপির জ্যেষ্ঠ দুই নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মুসলিম বিশ্বের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও তোপের মুখে পড়েছে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত ১৬টি দেশ ভারতের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। এসব দেশ ভারত ও বিজেপি সরকারের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দেশটিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক