a টানেলে বন্যার পানি ঢুকে চীনে ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু
ঢাকা বুধবার, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৮ ফেরুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

টানেলে বন্যার পানি ঢুকে চীনে ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই, ২০২১, ১২:৩৯
টানেলে বন্যার পানি ঢুকে চীনে ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু

ফাইল ছবি

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের ঝুহাই শহরে নির্মাণাধীন টানেলে বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ার পর সেখানে আটকে পড়া ১০ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় এর আগে ওই টানেল থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে টানেলটি থেকে মোট ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। 

গতকাল বুধবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

১৫ জুলাই টানেলটিতে হঠাৎ বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। টানেলে প্রবেশমুখ থেকে এক কিলোমিটারেরও বেশি ভেতরে আটকে পড়েন ১৪ শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এখনো নিখোঁজ একজন। তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, নিখোঁজ ওই শ্রমিকের সঙ্গে এখনো কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেননি তাঁরা।

চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ঝুহাই শহরে নির্মাণ করা হচ্ছে টানেলটি। এটি একটি এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অংশ। এই মহাসড়ক প্রকল্পের আওতায় উপকূলবর্তী স্থানীয় শহরগুলোকে ম্যাকাও ও হংকংকে সংযোগকারী একটি সেতুর সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

টানেলটিতে এর আগেও নির্মাণশ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত মার্চে সেখানে প্রাচীরধসের ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত হন।

এদিকে বন্যার জেরে চীনের হেনান প্রদেশে কমপক্ষে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ ৭ জন। প্রদেশটি থেকে এক লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যার পানিতে ঢুবে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে রেল ও সড়ক যোগাযোগ। জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। প্রদেশের বাঁধগুলো পানির চাপে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হেনানে ২৫ জনের মধ্যে ১২ জনেরই মৃত্যু হয় প্রদেশটির ঝেংঝউ শহরে পাতালরেলের ভেতর বন্যার পানি ঢুকে। টানা ভারী বৃষ্টিপাতে শহরের পাতালরেল স্টেশন ডুবে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্টেশন থেকে আরও ৫০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মেট্রো স্টেশনে ট্রেনের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, ট্রেনের বগির ভেতরে পানি থেকে বের হতে চেষ্টা করছেন যাত্রীরা। একপর্যায়ে বগির ছাদ কেটে তাঁদের বের করতে হয় বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

হেনানে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে গংই শহরে বন্যায় বাড়ি ধসে নিহত চারজন রয়েছে। ঝেংঝউয়ের মতো এই শহরও ইয়োলো নদীর তীরে অবস্থিত। বৃষ্টিপাতের পর নদী থেকে পানি উপচে শহরে ঢোকে।

গত শনি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ঝেংঝউ শহরে ৬১৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাধারণত, এক বছরে শহরটিতে এ পরিমাণ বৃষ্টি হয়। এমন বৃষ্টি ‘হাজার বছরে একবার দেখা যায়’ বলে উল্লেখ করেছে চীনের আবহাওয়া ব্যুরো। ঝেংঝউয়ে বছরে গড়ে ৪৬০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

তুমুল বৃষ্টিপাত ও বন্যার মধ্যে হেনানে শিগগির এ দুর্যোগ থামছে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া ব্যুরো। তারা জানিয়েছে, প্রদেশটিতে আগামী তিন দিনও ঝরবে বৃষ্টি। বৃষ্টিপাত ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে উপদ্রুত এলাকাগুলোয় ৫ হাজার ৭০০ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

আমেরিকা পারস্য উপসাগরে ড্রোন টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:০২
আমেরিকা পারস্য উপসাগরে ড্রোন টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে

ফাইল ছবি

ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশকে সাথে নিয়ে পারস্য উপসাগরে একটি যৌথ সমুদ্র ড্রোন টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে আমেরিকা। 

বুধবার মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ঘোষণা করেছে যে, তারা একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠন করবে যার সঙ্গে এয়ারবোর্ন, নৌ জাহাজ ও আন্ডারওয়াটার ড্রোন যুক্ত থাকবে। সমুদ্রে জাহাজে হামলার ঘটনা নিয়ে যখন ইরোনের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আরব দেশ ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চলছে তখন এই ধরণের খবর প্রকাশ পেল।

মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে তারা বলেছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল তাদের ড্রোন বহরের সক্ষমতা দেখবে।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মধ্য এশিয়ায় মার্কিন সেনারা একের পর এক ব্যর্থতার পর নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এর আওতায় লোকজনের মনোযোগ আকর্ষণ এবং মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বৈধতা দেয়ার লক্ষ্যে সমুদ্রভিত্তিক এই কথিত যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠনের তৎপরতা চালাচ্ছে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে, ১ দিনে রেকর্ডসংখ্যক ৮২০ ভর্তি


স্বাস্থ্য ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
রবিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৩, ১০:৩৮
ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে, ১ দিনে রেকর্ডসংখ্যক ৮২০ ভর্তি

ফাইল ছবি

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে, এক দিনে রেকর্ড ৮২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে হাপাতালগুলোতে। ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার বিস্তার রাজধানী ঢাকাসহ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। সব বয়সের মানুষেরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও আতঙ্কে রয়েছেন শিশুর অভিভাবকরা। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৫৭ জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অসংখ্য ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তবে সব হিসাব হয়তো সরকারের খাতায় আসছে না। বছরের শুরুতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও মে-জুন মাস থেকে ডেঙ্গু ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এ বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জনের। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এ বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ ৮২০ ডেঙ্গু রোগী। এর আগে গত ৪ জুলাই এক দিনে সর্বোচ্চ ৬৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।

গতকাল শনিবার ঢাকা শিশু হাসপাতালের ওয়ার্ডে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে আইদান হায়দার। সাত বছর বয়সি শিশু আইদান থাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কাদিরাবাদ হাউজিংয়ে। শিশুটির অভিভাবক আনিস রহমান জানান, ‘আইদান ও শিশুটিকে দেখভাল করার কাজে নিয়োজিত বিথী (১৫), দুই জনে বাসার ছাদে বৃষ্টিতে গোসল করতে গেলে তাদের ডেঙ্গু মশা কামড় দেয়। এর একদিন পরেই তাদের দুই জনেরই জ্বর আসে। বর্তমানে তারা দুই জনই শিশু হাসপাতালের ১৬ ও ১৭ নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। জ্বর সেরেছে, তবে চিকিৎসক বলেছেন, তাদের দুই জনের অবস্থায়ই ক্রিটিক্যাল। আমরা অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।’    

শিশু হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড চতুর্থ তলায়  ১০ বছর বয়সি সাজিম ও তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়। সাজিম যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসায় আবাসিকে থেকে লেখাপড়া করে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পর তার জ্বর আসে। সাজিমের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। জ্বরের সঙ্গে গায়ে র‍্যাশ দেখা দিলে, ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাওয়ান সাজিমের মা। জ্বর না সারায় তারা গত মাসের ২৭ তারিখে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করায় সাজিমকে। শিশুটির অবস্থা খারাপ হওয়ায় কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সাজিমের মা বলেন, ‘ওর বাবা থাকেন সৌদি আরবে, আমি একলা ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে খুব ভয়ে আছি।’      

ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক নিশাত জাহান গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিদিনই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুরা ভীড় করছেন। ডেঙ্গুতে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, চতুর্থ তলায় আমাদের ডেঙ্গু ওয়ার্ড, তবে সেখানে বেড ফাঁকা না থাকায় হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডেও ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে। তিনি বলেন, এই মাত্র একটি শিশু এসেছে শক সিনড্রোম নিয়ে। জ্বর সেরে যাওয়ার তিন দিন পরে হাসপাতালে এসেছে, এখন তার অবস্থা খুব একটা ভালো না। তিনি বলেন, এবার জ্বর ছাড়াও পেটে ব্যথা, পাতলা পায়খানা, বমি নিয়ে হাসপাতালে আসছে শিশুরা, আসার পর ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। 

ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. রাশিদা সুলতানা বলেন, সব হাসপাতাল রেডি রয়েছে। যে কেউ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে, তার চিকিৎসা দিতে হবে। সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সবাইকে সেবা নিতে হবে। আমি বলব, সবাইকে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে। নিজবাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও পরামর্শ দেন।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক