a
সংগৃহীত ছবি
তুরস্কের স্থলবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল উমিত ডুন্ডার রাওয়ালপিন্ডির গত সোমবার (৫ জুলাই) পাকিস্তানের চিফ অফ আর্মি স্টাফ (সিওএএস) জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেনা সদর দপ্তরে (জিএইচকিউ) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুইটি দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করা হয়।
সফররত তুর্কি জেনারেলকে গার্ড অব অনার দিয়ে পাকিস্তানে স্বাগত জানানো হয়। এছাড়াও পাকিস্তান তুরস্কের সাথে তার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ‘অত্যন্ত মূল্যবান’ বলে উল্লেখ করে জেনারেল কামার বলেন, 'এই সম্পর্ক আমাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ইতিহাসের সাথেও গভীরভাবে জড়িত।'
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলেছে, বৈঠকে দুই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা সহযোগিতার উপর বিশেষ জোর দিয়ে পারস্পরিক ও পেশাদার আগ্রহের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উভয় পক্ষই বিশেষত প্রশিক্ষণ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কাজ করার ক্ষেত্রে সামরিক সম্পর্কে আরও বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়েছে। তুর্কি জেনারেল আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসবাদকে পরাস্ত করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
আইএসপিআর জানিয়েছে, তুর্কি জেনারেল প্রেসিডেন্ট ডক্টর আরিফ আলভীর সাথে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপরে প্রেসিডেন্ট তুর্কি স্থলবাহিনী কমান্ডার জেনারেল উমিত ডুন্ডারকে ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ (সামরিক) পুরষ্কার প্রদান করেছেন। পাকিস্তান-তুর্কি সম্পর্ক জোরদারে তার ভূমিকাকে স্বীকৃতি জানাতে আইওয়ান-ই-সদরে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা দেয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট আলভী বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং সংস্কৃতি ক্ষেত্রে তুরস্কের সাথে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের জন্য পাকিস্তানের দৃঢ়তা পুনর্ব্যক্ত করেন। সফরকারী কমান্ডারের সাথে আলাপকালে তিনি দুই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ দেশের পারস্পরিক সুবিধার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্কের সাথে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিদ্যমান স্তরের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, উভয় দেশই অনুকরণীয় সম্পর্ক উপভোগ করেছে যা বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও বৃদ্ধি করা দরকার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি সামরিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।
জেনারেল উমিত বলেন, অভিন্ন বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও ঐতিহাসিক যোগসূত্রের উপর ভিত্তি করে সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস থাকার কারণে পাকিস্তান ও তুরস্ক অবিচ্ছেদ্য। তিনি বলেন, তুরস্কের জনগণ পাকিস্তানিদের তাদের ভাই হিসেবে বিবেচনা করে এবং সব দিক বিশেষত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। তিনি প্রেসিডেন্টকে ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ (সামরিক) পুরষ্কার প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন/বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় হামলার বিষয়ে বলেছেন, এটি কেবল শুরু। আমরা তাদের এমনভাবে আঘাত করব, যা তারা স্বপ্নেও ভাবেনি। নেতানিয়াহু বলেন, আমরা সামরিক অভিযানের মধ্যবর্তী অবস্থায় রয়েছি। হামাস ও ইসলামী জিহাদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অরাজকতা বন্ধ করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। ইসরায়েলের শহরগুলোতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ঠেলে সাজানো হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও নির্মমভাবে ও নৃশংস উপায়ে সমস্ত বাহিনী দিয়ে এই অরাজকতা বন্ধ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, হামাস-ইসরায়েল লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলা চলছে। সোমবার (১০ মে) দিনগত রাত থেকে এ পর্যন্ত ১৪ শিশু ও এক নারীসহ ৫৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে হামাস মুখপাত্র ফাওয়াজ বারহুম বলেন, যতদিন পর্যন্ত আমাদের নাগরিকদের ওপর জায়নবাদীদের আগ্রাসন বন্ধ না হবে, ততদিন পর্যন্ত ফিলিস্তিনিরা, বিশেষ করে হামাস প্রতিরোধ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। দখলদার বাহিনী গাজা, জেরুজালেম ও আল-আকসাকে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
এর আগে জেরুসালেমের একটি এলাকায় ইসরায়েলি পুলিশ এবং ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের জেরে এই লড়াইয়ের সূত্রপাত।
ছবি সংগৃহীত: বেগম খালেদা জিয়া
নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শীঘ্রই বিদেশে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে জানান, খালেদা জিয়াকে প্রথমে ‘লং ডিসেটেন্স স্পেশালাইজড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর সেখানে থেকে তাকে তৃতীয় একটি দেশে মাল্টি ডিসিপ্ল্যানারি মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) শারীরিক সুস্থতা ওপর নির্ভর করে আমরা যাতে অতি দ্রুত উনাকে বিদেশে মাল্টি ডিসিপ্ল্যানারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারি সেই প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। তারই অংশ হিসেবে আমরা ‘লং ডিসটেন্স স্পেশালাইজড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে’র ভাড়া করার জন্য কাজ শুরু করেছি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগও চলছে।
গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরের দিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি প্রদান করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দুর্নীতির দুই মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেখান থেকে মুক্তি পান।
এরই মাঝে বিভিন্ন জটিল রোগে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে একাধিকবার হাসপাতালেও ভর্তি করা হয় এবং তিনি দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালেই কাটিয়ে দেন। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার তাকে কোন ভাবেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তার পরিবার ও দল থেকে বিশেষ উদ্যোগে দেশেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। তিনি রাজধানীর বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালেই নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।