a
ফাইল ছবি
ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের রায়পুরের একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ রোগী মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে শহরটির রাজধানী হাসপাতালের তিনতলায় আগুন লাগে বলে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়। তবে আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হাসপাতালটির অন্য রোগীদের আশপাশের হাসপাতালগুলোতে স্থানাস্তর করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা তারকেশ্বর প্যাটেল বলেন, আগুন লেগে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য রোগীদের অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে হাসপাতালটিতে আগুন লেগেছে সে বিষয়ে তারা জানাতে পারেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালটির মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে একটি মামলা করা হবে। এদিকে, মারা যাওয়া প্রত্যেক পরিবারকে ৪ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভুপেশ বাঘেল।
ফাইল ছবি
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তার দেশের ‘হস্তক্ষেপ না করার’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশিদের দ্বারা নির্ধারিত হওয়া উচিত। আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, ‘আমাদের নীতি অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর তা হলো- চীন কখনোই কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জোহানেসবার্গে বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যা বলেছেন তা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবন নিশ্চিত করতে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে চীন।
বৈঠকের বিষয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন বাংলাদেশকে সমর্থন করে। চীন বাংলাদেশের উন্নত ভবিষ্যতের পাশাপাশি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখে।’
তিনি বলেন, বর্তমানে ৬০০টিরও বেশি চীনা এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশে কাজ করছে এবং হাজার হাজার চীনা নাগরিক এখানে বসবাস ও কাজ করছেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও অনুসারে, চীনা কোম্পানিগুলো স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সামাজিক সেবা প্রদান, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা, জনশক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করে থাকে।
তিনি বলেন, ‘তাদের অবদান ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের হৃদয়কে আরও কাছাকাছি আনা হয়েছে।’
উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশের প্রেক্ষাপটে চীনা কোম্পানি ও নাগরিকদের স্বার্থ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইয়াও বলেন, চীনা নাগরিক বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও যৌথ উন্নয়নের জন্য এখানে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা অবশ্যই নিশ্চিত এবং বৈধ স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।’ গত বছরের শেষের দিকে ঢাকায় আসার পর তার প্রথম সাক্ষাৎকারে চীনা রাষ্ট্রদূত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন। সূত্র: ইউএনবি/ইত্তেফাক।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: আমরা যদি আওয়ামীলীগের সাথে জোট করতে পারি, যদি বিএনপির সাথে জোট করতে পারি তবে আমরা জাসদের একাংশ অন্য অংশকে সহ্য করতে পারিনা কেন? জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সকলকে এই প্রশ্ন ছুড়লেন ব্যারিস্টার ফারাহ খান।
আজ ১৫ ই মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে বরিশাল প্রেসক্লাবে, খুলনা বিভাগের পর এবার বরিশাল বিভাগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সকল অংশকে একত্রিত করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা করেছেন ব্যারিস্টার ফারাহ খান। তিনি স্বাধীনতার রুপকার নিউক্লিয়াস প্রধান জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল আলম খান দাদার ভাতিজি। ব্যারিস্টার ফারাহ খান বলেছেন, ১৯৭১ সালে যে স্বপ্নের সোনার বাংলার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি।
আমরা দেখেছি স্বাধীনতার পরে দেশের গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিলো, মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো, আমরা দেখেছি সারাদেশে লুটপাট শুরু হয়েছিলো, দেশে এক দলীয় শাষন ব্যাবস্থা কায়েম করা হয়েছিলো। আমরা এমন স্বাধীনতা চাইনি বলেই সিরাজুল আলম খান দাদার নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ গঠিত হয়েছিলো। জাসদ একটি আদর্শের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিলো কিন্তু সেই জাসদ ব্যক্তি স্বার্থে বিভিন্ন খন্ডে বিভক্ত হয়ে ব্রাকেট বন্দি জাসদে পরিনত হয়েছে। জাসদ নেতাদের দল নয়, কর্মিদের দল। জাসদের কর্মীরাই অদলের প্রান ভোমরা। তাই জাসদকে আবারো কর্মিদের কাছে ফিরিয়ে নিতে হবে। আমরা কোন অংশের কোন নেতা কে বাদ দিচ্ছিনা কিন্তু আপাতত আমরা নেতাদের ঐক্য করবো না। আমরা কর্মীদের ঐক্য করবো আগে কারণ আমরা নেতাদের ঐক্য হতে দেখেছি ১৯৯৭ সালে, আবার সেই ঐক্য আমরা ভাঙতেও দেখেছি বছর ঘুরতে না ঘুরতে যখন নেতাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। তাই এবার কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে আগে তারপর নির্চাবনের মাধ্যমে কর্মীরা দলের নেতা নির্বাচন করবেন। ব্রাকেট বন্ধি জাসদকে ঐক্যবদ্ধ জাসদে পরিনত করতে হবে।
শনিবার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্তিক দল জাসদের বিভক্ত বিভিন্ন গ্রুপের নেতাকর্মিদের সাথে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পটুয়াখালী জেলা জাসদের প্রবীন নেতা সাবেক সংসদ সদস্য সরদার রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় তিনি আরো বলেন, ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার ১ বছর পর সিরাজুল আলম খান দাদা ভাই একদল তরুন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু আমাদের জন্মলগ্ন থেকে বিভিন্ন সরকার আমাদের উপর বিভিন্ন সময় অন্যায় অবিচার করলেও, আমরা কখনো আওয়ামীলীগ কখনো বিএনপি আবার কখনো এরশাদের হাতকে শক্তিশালী করেছি। আমরা নিজেদের হাতকে শক্তিশালী করতে পারিনি। ৭২ সালে আমরা ছিলাম একটা বিশালাকৃতির বট গাছ, ৫৩ বছর পর আমরা হয়ে গেছি পরগাছা। বড় দলের নেতারা আমাদের একটি দুটি আসন দেয় আর আমরা সেই আসন নিয়ে খুশি হয়ে যাই। কিন্তু জাসদই হতে পারতো এই দেশের মুল কান্ডারী।
আমরা দেখি আমরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সাথে জোট বেঁধে রাজনীতি করে এলাকায় যেতে পারিনা কিন্তু আমরা অন্য দলের দল্য কেন শাস্তি ভোগ করবো। জাসদ ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। একটি বা দুটি আসনের জন্য বড় বড় দলের সাথে যুক্ত হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দরকার নেই। কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, আমরা যদি বিএনপি-জামাত ও আওয়ামী লীগের সাথে জোট বাধতে পারি তবে কেন আমরা ঐক্যবদ্ধ জাসদ হতে পারবো না, কেন সব ভুল ও মান অভিমান ভুলে নিজেদের ভাইদের সাথে আমরা এক হতে পারবো না। তিনি বলেন আপনারা আমাকে সাহায্য করুন। আমাদের জাসদের কোন অংশ বা নেতারা নতুন প্রজন্ম তৈরী করেননি। তিনি আরো বলেন সিরাজুল আলম খান সেটি উপলব্ধি করে নিজে উদ্দোগী হয়ে আমাকে তার জীবদ্দশায় এই দলের রাজনীতিতে প্রবেশ করিয়েছেন। জাসদের ঐক্য নিয়ে তাঁর সাথে আমার বিস্তর কথা হতো, আমি উনাকে কথা দিয়েছি আমি জাসদের ঐক্য করবো যত বাঁধা আসুক না কেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য ব্যারিস্টার ফারাহ খান বলেন আমাকে বাঁধা দেবার চেষ্টা করা হচ্ছে জাসদেরই ভেতর থেকে। আপনারা আমাকে সাহায্য করুন। আমি হেরে গেলে, আমরা হেরে যাবো, এই দল হেরে যাবে, জাসদের লক্ষ লক্ষ কর্মীর স্বপ্ন ভেঙে যাবে। আমার পরে এই প্রজন্মের আর কেউ নেই যে আপনাদের কাছে এমন করে জেলায় জেলায় বিভাগে বিভাগে আসবে এবং জাসদ ঐক্যের জন্য লড়াই করবে।
কর্মি সভায় বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বরিশাল জেলা জাসদের সাবেক সভাপতি মো: শহিদুল ইসলাম মীরন, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বাদল, বীর মুক্তযোদ্ধা ও জাসদ নেতা আব্দুল বারেক, জেএসডি নেতা সিরাজ উদ্দিন সিকদার, জাসদ নেতা হাসান মাহামুদ দুলাল, জাসদ নেতা চন্দ্র শেখর হালদার, জাসদ নেতা আল আজম খান সহ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার জাসদের বিভিন্ন গ্রুপের নেতাকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সকল নেতাকর্মিরাই দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবন্ধ জাসদ গড়ে তোলার পক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন। অবশেষে ব্যারিস্টার ফারাহ খানের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে সকলে স্লোগান ধরেন ‘আমাদের লক্ষ্য জাসদের ঐক্য।’