a
ফাইল ছবি
ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে আগামী সপ্তাহে নৌ মহড়ার প্রস্তুতি নেওয়া অংশ হিসেবে রাশিয়া সমুদ্রে তার প্রবেশের পথ অবরোধ করে রেখেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা বলেন, আজভ সাগর সম্পূর্ণ অবরোধ করে রাখা হয়েছে এবং কৃষ্ণ সাগরে প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া। খবর বিবিসির।
খবরে আরো বলা হয়, রাশিয়ার নৌ মহড়া কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইতোমধ্যে দেশটি উপকূল এলাকায় সতর্কতা জারি করে বলেছে, এ মহড়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ও গুলি ছোড়ার অনুশীলন করা হবে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, বিশাল এলাকাজুড়ে মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে, যা নজির বিহীন। এতে উভয় সাগরেই জাহাজ চলাচল অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অপরদিকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ টুইটারে লেখেন, দুটি সাগরের আন্তর্জাতিক পানিসীমা রাশিয়া অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এক টুইটে ইউক্রেনের মার্কিন দূতাবাস বলেছে, রাশিয়া কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরে সামরিক মহড়ার অজুহাতে ইউক্রেনের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব ও জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করে তাদের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েছে।
এদিকে প্রতিবেশী বেলারুশের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া। বেলারুশ রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যার বিশাল সীমান্ত। এসব মহড়ার বিষয়ে ফ্রান্স বলছে, এটি ‘হিংসাত্মক অঙ্গভঙ্গি’। অপরদিকে ইউক্রেন বলছে, এটি ‘মানসিক চাপ’ তৈরি করছে।
এদিকে রাশিয়ার হামলার আশঙ্কায় ইউক্রেনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলছেন, কয়েক দশকের মধ্যে ইউরোপ বৃহত্তম নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।
রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে নেওয়ার পর থেকেই কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগর অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের তিনটি জাহাজ আটক করেছে। ইউক্রেনের সীমান্তে রাশিয়ার প্রায় এক লাখ সেনা সমাবেশের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ আশঙ্কা করছে, মস্কো হয়তো কিয়েভে হামলা চালাতে পারে।
যদিও রাশিয়া ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু দেশটি ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
ফাইল ছবি
চলমান ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলের নির্বিচারে আক্রমনের পরেও জামায়াতের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন কয়েক হাজার মুসল্লি। ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে গত কয়েকদিনের উত্তেজনা-সংঘর্ষ চলছে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের। এরপরও পবিত্র আল আকসা মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজে ঢল নেমেছে ফিলিস্তিনিদের। ইসরায়েলি নানান হুমকি অত্যাচারের কথা মাথায় রেখেই আজ বৃহস্পতিবার ১৩ মে সেখানে জামায়াতের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন কয়েক হাজার মুসল্লি।
সংবাদ মাধ্যম আনাদুলো এজেন্সি সূত্রে জানা যায়, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের একের পর এক বিমান হামলা ও আল-আকসায় সন্ত্রাসী ইসরায়িলি বাহিনীর আক্রমণের কারনে ঈদুল ফিতরের সব আয়োজন বাতিল ঘোষণা করেছিলেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। কিন্তু এমন সিদ্ধান্তের পরেও বৃহস্পতিবার ঈদের নামাজের জন্য মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদটিতে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে মুসল্লিদের পদচারণায়।
চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। আজ ঈদের দিন সকালেও কিছু এলাকায় হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েল।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
আরাফাত আলম, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন, ঢাকা: গতকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ইং, জাতীয় ঐক্য সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত মতবিনিময় সভা মালিবাগ চৌধুরী পাড়া পার্টি অফিসে অনুষ্ঠিত হয়।
ঐক্য সমন্বয় পরিষদের মিডিয়া উইং চীফ ও ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক ধর্ম ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী, বিএলডিপি'র চেয়ারম্যান এম. নাজিমউদ্দীন আল আজাদ।
মাননীয় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আজ পুরো জাতি অস্থিরতার মাঝে দিনাতিপাত করছে। দেশের আইন-শৃংখলা অবনতি, দ্রব্য মূ্ল্যের উর্ধ্বগতি এবং রমজান মাসে মানুষের দূর্ভোগ লাগবে সরকার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে পারলে সামনে দেশের পরিস্থিতি আরো সংকটময় হবে। আমরা সকল দল মিলে প্রফেসর ড. ইউনুসকে ক্ষমতায় বসিয়েছি কিন্তু এই অর্ন্তবর্তী সরকার জনগণের আশা-আকাংখার প্রতিফলন আশানুরূপ ঘটাতে সক্ষম হননি। আমরা এই সরকারকে প্রয়োজনে আরো সময় দিতে চাই, যাতে তারা দ্রুত সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করে দেশে আবারও গণতান্ত্রিকধারা নিশ্চিত হয়।
বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টির চেয়ারম্যান মীর্জা আজম তার মূল্যবান বক্তব্যে সদ্য ঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টি সম্পর্কে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা অনেক ভালো কথা বললেও রাষ্ট্র সম্পর্কে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) তেমন কোনো রাজনৈতিক দর্শন লক্ষ্য করা যায়নি। তাদের রাজনৈতিক দল গঠনও অনেকটা একপেশে। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও স্বৈরাচার হটাতে সর্বশ্রেণি মানুষের অংশগ্রহণ করা মানুষদের রাজনৈতিক মাঠে নেমে তারা সব ভুলে গেছেন। সুতরাং তারা অনেক বড় বড় কথা বলে সারাদেশে ঢাকঢোল পিটিয়ে জনসমাগোম করলেও সঠিক রাজনৈতিক দর্শন না থাকায় দেশের মানুষের আশা-আকাংখা পূরণে কতটুকু পূরণ করতে পারবে তা ভবিষ্যতে কথা বলবে। আমি তাদের শুরুটা খুব একটা ভালো কিছু দেখতে পারছিনা। এক্ষেত্রে আমাদের মতো ছোট বড় দলগুলো একজোট হয়ে ভবিষ্যতে এদেশের সর্বশ্রেণি মানুষের সেবার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে এবং সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
জাতীয় মুক্তিদলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহা. খোরশেদ আলম তার বক্তব্যে বলেন, এদেশে পতিত স্বৈচারচার সরকারগুলো বার বার রাষ্ট্রের কাঠামোগুলো ধ্বংস করে ফেলেছে এবং অর্থনৈতিক কাঠামোও প্রায় ভঙ্গুর পর্যায়ে। সেখান থেকে উত্তোরণে গনতন্ত্রকামী সবাইকে দলমত উর্ধ্বে উঠে নতুন করে প্রিয় বাংলাদেশকে মেরামত করতে হবে। জাতীয় মুক্তিদলের মহাসচিব জনাব মুহাম্মদ আবদুল আহাদ নূর ‘জাতীয় ঐক্য সমন্বয় পরিষদ’ আগামী দিনগুলোতে জরুরীভিত্তিতে যেসব কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যকীয় তা লিখিতভাবে উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জনতা পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক সরকার, এডভোকেট ছারোয়ার মিয়া, এস,এম আমানুল্লাহ প্রমুখ।