a লিবিয়ার পথে তুর্কি সেনারা: গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি। আমেরিকা নিরব!
ঢাকা শুক্রবার, ৯ মাঘ ১৪৩২, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

লিবিয়ার পথে তুর্কি সেনারা: গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি। আমেরিকা নিরব!


খোরশেদ আলম:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১, ০৮:৪৯
লিবিয়ার পথে তুর্কি সেনারা: গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি। আমেরিকা নিরব

ফাইল ছবি । ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কাসেম সোলেমানী

তুর্কি পার্লামেন্ট ২ জানুয়ারি লিবিয়ায় সৈন্য মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়ায় ত্রিপোলিতে জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার টিকিয়ে রাখার লক্ষে তুর্কি সেনারা লিবিয়ার পথে রওয়ানা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। খবর এএফপি’র। 

ন্যাটো সমর্থিত আন্দোলনে ২০১১ সালে স্বৈরশাসক মোয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর থেকেই লিবিয়ায় বর্তমানে বিশৃংখলা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমের প্রশাসন একক ক্ষমতা গ্রহণ করতে লড়াই চালিয়ে আসছে। 

বর্তমানে ফয়েজ আল-সরাজের নেতৃত্বে ত্রিপোলি সরকার ক্ষমতা চালিয়ে আসলেও এপ্রিল মাস হতে সামরিকভাবে শক্তিশালী নেতা জেনারেল খলিফা হাফতার বাহিনীর ব্যাপক আক্রমণে শিকার হয়ে আসছেন। এদিকে তুরস্কের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সৌদি আরব, মিশর, সংযোগ আমিরাত সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে খলিফার হাফতার বাহিনীকে সহযোগিতা করায় লিবিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রাণহানি ঘটছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোগানের দাবি, ত্রিপোলির পক্ষ থেকে সাহায্য চাওয়ায় লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত ন্যাশনাল অ্যাকর্ড সরকারের স্থিতিশীলতা আনতে সামরিক সহায়তা দিতে তাদের এ পদক্ষেপ। 

অপরদিকে তুর্কি সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি জানিয়েছে গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইসরাইল। প্রথমদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তুর্কি সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি জানালেও ৩ জানুয়ারি শুক্রবার বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশের পর থেকে নিজেকে ও নিজের দেশকে রক্ষায় বর্তমানে সবচেয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকায় তুর্কি সৈন্য লিবিয়ায় মোতায়েনের ব্যাপারে ঐ তিন দেশের সাথে আর কোন উচ্চবাচ্য করছেননা। 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ গ্রামের অসৎ মাতব্বরের সেই দুষ্টু ছেলেটির ন্যায়। যে পাশের ঘরে আগুন লাগিয়ে মাঁচার নীচে লুকিয়ে থাকার মতো। পাশের ঘর আগুন লাগালে সেই আগুন যে নিজের ঘরে লাগবেনা তা হলফ করে বলা যাবেনা। বর্তমানে ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ইরানের জেনারেলকে হত্যার মধ্য দিয়ে শক্তি, সাহস ও নৈতিকতা সব থেকে নিজেকে আড়াল করতে বাধ্য হচ্ছেন। যেমন- লিবিয়ায় তুর্কি সেনারা অবস্থান নেওয়ায়, গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইসরায়েলে হুশিয়ারি দিলেও আমেরিকা একেবারে নিরব। 

অপরদিকে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ত্যাগের নির্দেশের পাশাপাশি কাশেম সোলামানিকে হত্যার পর পরই ভারত মহাসাগরে ও ওমান উপসাগরে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করে ইরান, চীন ও রাশিয়া। 

ইরাকের পার্লামেন্টে বিল পাস হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে তার সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতে হবে। বিপরীতে ট্রাম্প ইরাককে অবরোধের হুমকি দিলেও জার্মানীর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা খুব একটা সহায়ক হবেনা। তিনি আরো উল্লেখ করেন, এই মুহুর্তে যুুক্তি বাদ দিয়ে হুমকি প্রদান করে কোন কাজ হবেনা।

এই মূহুর্তে ইঙ্গো-মার্কিন বলয়ের দেশগুলো বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের বিরাট হুমকির মধ্যে থাকলেও মার্কিনীদের সহযোগিতা আগের মতো আশা করা দূরুহ। ফলে উভয় সংকটের মাঝে তাদের বর্তমান অবস্থান পরিস্কার করাও খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের মাঝেই ভারতের নরেন্দ্র মোদি ট্রাম্পকে ফোন করেছেন। যদিও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন মোদি। পাকিস্তানও সতর্কতার সহিত তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। সৌদি আরব ও ওমান কাসেম সোলেমানিরক নিহতের ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে। 

এদিকে মালয়েশিার প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মাহাথী ব্যতিক্রমধর্মী মন্তব্য করেছেন। তিনি সোলাইমানি হত্যাকে সৌদির সাংবাদিক খাসোগীর হত্যার মতোই বে-আইনী আখ্যা দিয়েছেন এবং সারা বিশ্বের মুসলমানকে এখন এক জোট হবার আহ্বান জানিয়েছেন। 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, ইরানের কুদস ফোর্সের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যাকান্ডকে বিনা জবাবে ছেড়ে দেযা ঠিক হবেননা। ইরানের চারপাশে রয়েছে অজস্র মার্কিন লক্ষ্যবস্তু। ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে স্থাপিত যে কোন মার্কিন স্থাপনায়, সৈন্য, বিশেজ্ঞগণ ইরানের সহজ নিশানায়। 

এসব দেশে ইরান হুকুম না দিলেও সেখানে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভয়ানক হুমকি হিসেবেই কাজ করবে। ভীত সন্ত্রস্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে নিরাপত্তা হুমকি মনে করে গ্রিস সফর সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি দেশে ফিরে যান। উত্তর কোরিয়া, চীন, রাশিয়াসহ মার্কিনবিরোধী দেশগুলো তাদের অমীমাংসিত অ্যাসাইনমেন্টগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করলেও পূর্বের ন্যায় অপরাধী বা অপবাদী খ্যাত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা করার সুযোগ কমই থাকবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। 

তারা আরও বলেন, লিবিয়ায় তুর্কি সেনাদের মোতায়েনে বর্তমানে আমেরিকার নিরবতা সেটাই প্রমাণ করে এবং অদূর ভবিষ্যতে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তে পারে বিশ্বের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সামরিকসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসসূহ। 

খোরশেদ আলম: কলাম লেখক ও বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকানিউজ২৪/প্রকাশ: জানুয়ারি ৭, ২০২০

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

ইরান ইসরাইলের গুপ্তচরকে আটক করলো


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সোমবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২১, ১১:৪২
ইরান ইসরাইলের গুপ্তচরকে আটক করলো

ফাইল ছবি

ইরান নিরাপত্তা বাহিনী ইসরাইলের একজন গুপ্তচরকে আটক করেছে। একই সঙ্গে আরও কয়েক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এসব ব্যক্তি বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশ থেকে এসব গুপ্তচরকে আটক করা হয় বলে জানান।

আজ সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের গোয়েন্দা বিভাগের মহা-পরিচালক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে, এ প্রদেশে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের কোনো উপস্থিতি নেই বলে জানান।

ইরানের এ কর্মকর্তা গুপ্তচর আটকের কথা বললেও কতজনকে আটক করা হয়েছে তা জানাননি। এছাড়া আটক ব্যক্তিরা কোন দেশের নাগরিক তাও জানাননি। সূত্র: পার্সটুডে

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

অনিবন্ধিত সব অনলাইন বন্ধ করা সমীচীন হবে না: তথ্যমন্ত্রী


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০৬:৩২
অনিবন্ধিত সব অনলাইন বন্ধ করা সমীচীন হবে না: তথ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি । ড. হাছান মাহমুদ

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ৭দিনের মধ্যে অনিবন্ধিত সবগুলো অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করা হবে। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আদালতকে আমরা জানাবো সাতদিনের মধ্যে সবগুলো বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন হবে না। অনেকগুলো বন্ধ করবো, আদালতকে জানাবো, আসলে কি প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে।

কিছু গণমাধ্যমকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। বাকিগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে-জানতে তিনি বলেন, আবেদনের পর যাচাই-বাছাই করার জন্য আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এগুলো তদন্তকারী সংস্থাকে দেয়। সেটি শেষ করে না আসা পর্যন্ত আমরা দিতে পারি না। এ কারণেই সময় লাগছে। 
 
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন যেগুলো রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত, সেগুলো ছাড়া আর কোনো অনলাইন ভবিষ্যতে বের হবে না, তেমন নিয়মতো নেই। যেসব অনলাইন সত্যিকার অর্থে গণমাধ্যম হিসেবে কাজ করে না বরং নিজস্ব বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে এবং ব্যাঙের ছাতার মতো এত অনলাইন দেশে প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, যার যেমন ইচ্ছে একটি অনলাইন খুলে বসবে এবং সেটি নিয়ে যেমন ইচ্ছে তেমন সংবাদ পরিবেশন করবে, মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করবে, গুজব রটানোর কাজে ব্যস্ত হবে, অন্যের চরিত্র হনন করবে, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে, কোন ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সেখানে লেখালেখি হবে, এটি কখনোই সমীচীন নয়। সেক্ষেত্রে এ আদেশ অবশ্যই একটি সহায়ক আদেশ।  

হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা আদালতের লিখিত কপি পাওয়ার পর যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, সে সময়সীমার মধ্যে অবশ্যই কিছু অনলাইন বন্ধ করবো। তবে ভবিষ্যতেও অনলাইন রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে। একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে। আমরা আদালতের কাছে সে বিষয়টি উপস্থাপন করবো। কিছু অনলাইন আমরা বন্ধ করবো।

ইতিমধ্যে কিছু বন্ধও করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আমরা আদালতের নজরে এটিও আনবো, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া সবগুলোকে একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেটিও কতটুকুক সমীচীন, সেটিও ভাবার বিষয়। সেজন্য আমরা আদালতের নজরে আনবো। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক