a
ফাইল ছবি
পাকিস্তান সরকারকে ৪২০ কোটি ডলার সহয়তা দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব সরকার। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে এ কথা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। খবর ব্লুমবার্গের।
তিন দিনের পশ্চিম এশিয়া সফরে গিয়ে বুধবার সৌদির রাজধানী রিয়াদে সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ইমরান খান। সেখানেই পাকিস্তান সেন্ট্রাল ব্যাংকে ৩০০ কোটি ডলার আমানতের প্রস্তাব দেন সৌদি যুবরাজ।
পাশাপাশি ১২০ কোটি ডলারের পেট্রলজাত পণ্য দেওয়ার কথাও জানান তিনি। সৌদি সরকারের এই সহায়তা প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন ইমরান খান।
প্রসঙ্গত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন সালমান। সেই সময় করোনার কারণে বিধ্বস্ত পাক অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের জন্য অর্থ সহায়তার আহ্বান জানিয়েছিলেন ইমরান খান।
ফাইল ছবি
প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে দেখা গেল তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাকে। রোববার তালেবান কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কান্দাহারে জনসম্মুখে ভাষণও দিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসির।
পাঁচ বছর আগে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাকে কখনই জনসমক্ষে দেখা যায়নি। গত আগস্ট মাসে তালেবান আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতা দখল করার পরও তিনি আড়ালেই থেকে যান। এর ফলে তালেবান সরকারে তার কী ভূমিকা হতে পারে তা নিয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়। এমনকি তিনি বেঁচে আছেন কিনা তা নিয়েও গুজব রটেছিল।
কান্দাহারের দারুল উলুম হিকমাহ্ মাদ্রাসায় শনিবার তিনি যে ভাষণ দিয়েছেন তার কোন ছবি বা ভিডিও পাওয়া না পাওয়া গেলেও ১০ মিনিটের ভাষণের একটি অিডও সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া যায়।
এই ভাষণে, তার মতে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যারা ২০ বছর ধরে লড়াই করেছেন তাদের জন্য প্রার্থনা করেছেন।
২০১৬ সালে তালেবানের তৎকালীন প্রধান মুল্লাহ্ আখতার মনসুর যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর হায়বাতুল্লাহ্ আখুনজাদা শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হন। তার নির্বাচনটি আল কায়দা নেতা আইমান আল জোয়াহিরিরও সমর্থন দেন।
ফাইল ছবি
চট্টগ্রামের পর বাধাবিপত্তি ডিঙিয়ে ময়মনসিংহেও বড় সমাবেশ করেছে বিএনপি। সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘তারা (সরকার) বিভিন্নভাবে আপনাদের ঠেকানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। চট্টগ্রামেও আপনারা শক্তি জানান দিয়েছেন। সেটা দেখে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’
গতকাল শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ শহরের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন।
জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় কর্মসূচিতে গুলি করে নেতা-কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে এবং নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে চট্টগ্রামের পর গতকাল ময়মনসিংহে বিএনপির সমাবেশ হয়। এ সমাবেশে জনসমাগম ঠেকাতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করাসহ নানাভাবে বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন সরকার সমর্থকেরা। সমাবেশের স্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। স্থানীয় প্রশাসন সমাবেশের ঘোষিত স্থান সার্কিট হাউস মাঠের অনুমতি বাতিল করে শেষ মুহূর্তে পলিটেকনিক মাঠে সমাবেশের অনুমতি দেয়। রাস্তায় যানবাহন না পেয়ে অনেকে হেঁটে, কেউবা অটোরিকশায়, আবার অনেকে বিকল্প পথে নৌকায় করে সমাবেশে যোগ দেন।
এ পরিস্থিতির উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এভাবেই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। এই স্বৈরাচার সরকারের পতনের মাধ্যমেই দেশকে ফিরে পেতে হবে। তিনি বলেন, তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত আন্দোলনের যে জোয়ার উঠেছে, সেই জোয়ারে আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলছি, এ সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং একটা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। সেই নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। সেই নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে একটা নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার তৈরি হবে। অন্যথায় জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাবে।’
গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনের উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এ নির্বাচনে ১ হাজার ২৪২টি সিসি ক্যামেরা ছিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল, পুলিশ-র্যাব পাহারায় ছিল, তার পরেও ওই নির্বাচন দুপুরের মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, দলীয় সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই এ সরকারকে হটিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে বাধ্য করা হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে দেশে দুর্ভিক্ষ লেগেছিল। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলেন, তারা ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়াবে। সেই চালের দাম এখন ৭০ টাকা হয়েছে। তারা বলেছিল, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে; এখন চাকরি পেতে হলে আওয়ামী লীগের লোকজন ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেন বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।
সরকার উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে খাচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির দাম বাড়িয়েছে; তারা উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করে, লুট করে বিদেশে টাকা পাচার করে। তারা কানাডা, লন্ডনে, বেগমপাড়ায় বাড়ি করে, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম বানায়। আর আমার দেশের মানুষ না খেয়ে থাকে।’
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অবৈধ এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের গণসমাবেশ বলে দেয় বিএনপি ঝিমিয়ে পড়ে নাই। এভাবে আন্দোলন চালিয়ে গেলে একপর্যায়ে সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে।’
সমাবেশে বৃহত্তর ময়মনসিংহের শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। সমাবেশে আসতে বাধা বা যান চলাচল করতে দেওয়া হবে না জেনে আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই নেতা-কর্মীরা বিক্ষিপ্তভাবে ময়মনসিংহ শহরে এসে জড়ো হতে থাকেন। তাঁদের কেউ শহরে আত্মীয়স্বজনদের বাসায়, কেউ আবাসিক হোটেলে, কেউবা রাতে রাস্তায় অবস্থান করেন। এর মাঝে সকাল থেকেই একে একে জড়ো হতে থাকেন মাঠে। নানা স্লোগানে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁরা মাঠে আসেন। দুপুর হতেই জনসভাস্থল ভরে যায়।
সমাবেশস্থল ছাড়াও নেতা-কর্মীদের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের সড়ক ও বাসাবাড়ির গলিতে। শহরের চরপাড়া থেকে মাসকান্দা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কে নেতা-কর্মীদের ভিড় লেগে যায়। নেতা-কর্মীদের কেউ দাঁড়িয়ে, কেউবা সড়কে বসে মাইকে বক্তব্য শুনছিলেন। একটু পরপরই পুরো সড়ক দখল করে নেতা-কর্মীদের মিছিল আসতে দেখা যায়। মিছিল থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর সরকারের নিপীড়ন ও অত্যাচারের প্রতিবাদ করা হয়। সূত্র: প্রথম আলো