a বাংলাদেশ সম্পর্কে তার জ্ঞান সীমিত: অমিত শাহকে ড. মোমেন
ঢাকা শনিবার, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৪ মার্চ, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

বাংলাদেশ সম্পর্কে তার জ্ঞান সীমিত: অমিত শাহকে ড. মোমেন


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১, ১১:৩২
বাংলাদেশ সম্পর্কে তার জ্ঞান সীমিত: অমিত শাহকে ড. মোমেন

ড. একে আব্দুল মোমেন

বাংলাদেশ নিয়ে বিজেপির সাবেক সভাপতি ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলছেন, ভারতের লোকদের ৫০ শতাংশের ভালো কোনো বাথরুম নেই। আর আমাদের ৯০ শতাংশ লোকই ভালো বাথরুম ব্যবহার করেন।

আমার দেশের শিক্ষিত লোকের চাকরির অভাব আছে। তবে অশিক্ষিত লোকের চাকরির অভাব নেই। আর ভারতের লক্ষাধিক লোক বাংলাদেশে চাকরি করে। তাই আমাদের ভারতে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) ড. মোমেন গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব মন্তব্য করেন।

বিজেপির সাবেক সভাপতি ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, পৃথিবীতে অনেক জ্ঞানী লোক আছেন, দেখেও দেখেন না। জেনেও জানেন না। তবে তিনি (অমিত শাহ) যদি সেটা বলে থাকেন, আমি বলবো, বাংলাদেশ নিয়ে তার জ্ঞান সীমিত। বরং ক্ষেত্র বিশেষে বাংলাদেশ তাদের দেশ থেকে অনেক এগিয়ে।

ড. মোমেন বলেন, তারা যদি এ ধরনের চিন্তা করে থাকেন, তাহলে আমি বলবো, তাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে। আর তাদের মনে হয় আমরা সঠিক তথ্য জানাতে পারিনি। এটা আমাদের দীনতা। তাদের সঠিক তথ্য জানাতে আমরা সচেষ্ট থাকবো।

বিজেপির সাবেক সভাপতি ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে  বলেন, বাংলাদেশের গরিব মানুষ এখনও খেতে পায় না, তাই ভারতে আসে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হবে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

রেকর্ড পরিমাণ টোল আদায় করলো বঙ্গবন্ধু সেতু


এম.এস প্রতিদিন ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১, ০২:১২
রেকর্ড পরিমাণ টোল আদায় করলো বঙ্গবন্ধু সেতু

ফাইল ছবি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেকর্ড পরিমাণ টোল আদায় হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে প্রায় ৫২ হাজার যানবাহন অতিক্রম করেছে। এতে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৯৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা। যা পূর্বের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার (১২ মে) ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ মে) ভোর ৬টা পর্যন্ত এ টোল আদায় হয়। 

সেতু কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, পণ্যপরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন, ট্রাক, পিকআপভ্যান, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল সেতু দিয়ে পার হয়েছে তাদের থেকে আদায়ক আদায়কৃত টোলের পরিমান প্রায়  দুই কোটি ৯৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা যা বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর সর্বোচ্চ আদায়কৃত টোল।

অপরদিকে, আজ বৃহস্পতিবার মহাসড়কে ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপভ্যানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি কিছু কিছু দূরপাল্লার বাস চলাচল করতেও দেখা যায়। বিগত কয়েকদিন তুলনায় এখন মানুষের চাপ অনেকটাই কম। রাস্তা প্রায়ই ফাকা।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / khurshedalm@msprotidin.com

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে ৩১ ঘণ্টায় ৪ বার ভূমিকম্প ও আমাদের করনীয়


বিশেষ প্রতিনিধি, নিউজ ডেস্ক
রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:৫৪
বাংলাদেশে ৩১ ঘণ্টায় ৪ বার ভূমিকম্প ও আমাদের করনীয়

ছবি সংগৃহীত

 

নিউজ ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকায় ও আশপাশের এলাকায় মাত্র ৩১ ঘণ্টার মধ্যে চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু করে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ধারাবাহিক কম্পন ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের কাছে নতুন সতর্কবার্তা যে, বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে।

দুই সেকেন্ডে রাজধানীতে দুটি ভূমিকম্পঃ
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকায় পরপর দুটি ভূমিকম্প হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, প্রথমটি অনুভূত হয় সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭। এর এক সেকেন্ড পর—৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে—আরও একটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বাড্ডায়। আর ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে।

এর আগে একইদিন সকালে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

গতকাল ২১ নভেম্বর ২০২৫, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। এতে শিশুসহ ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়া, ভবন হেলে যাওয়া ও ফাটল সৃষ্টি হওয়ার মতো অনেক ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি—৫ জনের মৃত্যু হয় নরসিংদীতে; ঢাকায় মারা যায় ৪ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ১ জন।

পরপর ৪ বার ভূমিকম্প হওয়ার যেসব ইঙ্গিত দিচ্ছেঃ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো একটি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস। ভূতাত্ত্বিকরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে বাংলাদেশ একটি সক্রিয় প্লেট সীমান্তে অবস্থান করছে, যেখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের কম্পন ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞ মত অনুযায়ী, বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের প্রধান উৎস দুটো। এর একটি হলো ‘ডাউকি ফল্ট’, যা ভারতের শিলং মালভূমির পাদদেশে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ-জামালগঞ্জ-সিলেট অঞ্চলে বিস্তৃত যা প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

আরেকটি হলো- সিলেট থেকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, টেকনাফ পর্যন্ত যা সব মিলিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই উৎসটিকে খুব ভয়ংকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

টেকটনিক প্লেটে বাংলাদেশের যে অবস্থান তাতে দুটো প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে- পশ্চিমে ইন্ডিয়ান প্লেট আর পূর্ব দিকে বার্মা প্লেট। আর বাংলাদেশের উত্তরদিকে আছে ইউরেশিয়ান প্লেট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার গণমাধ্যমে বলেন, ‘ভারতীয় প্লেটটি ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বার্মা প্লেটের নিচে অর্থাৎ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রামের নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। তলিয়ে যাওয়ার কারণে একটা সাবডাকশান জোনের তৈরি হয়েছে। আর নটরিয়াস (ভয়ংকর অর্থে) এই জোনের ব্যাপ্তি সিলেট থেকে টেকনাফে বিস্তৃত। পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চল এর মধ্যে পড়েছে। এখানে বিভিন্ন সেগমেন্ট আছে। আমাদের এই সেগমেন্টে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার শক্তি জমা হয়ে আছে। এটা বের হতেই হবে।’

তার মতে, নরসিংদীর মাধবদীতে যে ভূমিকম্পের উৎস ছিলো সেই এই সেগমেন্টেরই এবং নরসিংদীতে দুই প্লেটের যেখানে সংযোগস্থল, সেখানেই ভূমিকম্প হয়েছে।

অধ্যাপক হুমায়ুন আরও বলেন, ‘এখানে প্লেট লকড হয়ে ছিল ফলে অতি সামান্য ক্ষুদ্রাংশ খুলার কারণে শুক্রবারের ভূমিকম্প হয়েছে। এটিই ধারণা দেয়, সামনে বড় ভূমিকম্প আমাদের দ্বারপ্রান্তে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই যে বড় একটি প্লেট বাউন্ডারির খুব ক্ষুদ্র শক্তি খুলে গেলো তার মানে হলো সামনে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। কারণ একটু খুলে যাওয়া কিছু শক্তি বের হওয়ায় সামনে এই শক্তির বের হওয়া আরও সহজ হয়ে গেছে।’

আগের বড় ভূমিকম্পের নজিরঃ বাংলাদেশ ও আশপাশের এই অঞ্চলে আগেও ৮ মাত্রার ওপরে বড় ভূমিকম্প হয়েছে—

   * ১৮৯৭ সালে ডাউকি ফল্টে ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্প
   * ১৭৬২ সালে টেকনাফ-মিয়ানমার অঞ্চলে ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্প
   * ১৭৯৭ সালে ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথ বদলে যাওয়া
   * ১৮৬৮ ও ১৯২২ সালে সিলেট–মৌলভীবাজার অঞ্চলে ৭.৫ ও ৭.৬ মাত্রার বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। এই ইতিহাস ইঙ্গিত দেয়—অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকম্পপ্রবণ।

কেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ঢাকা?
বিশেষজ্ঞদের মতে— ঢাকার অধিকাংশ ভবন বিল্ডিং কোড মেনে নির্মিত নয়। অতিরিক্ত ঘনবসতি ও সংকীর্ণ রাস্তার পাশাপাশি উদ্ধার ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। তাই বড় ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা এই ঢাকা শহরেই।

অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘মাধবদীর ভূমিকম্প দেখাচ্ছে বড় শক্তি বেরিয়ে আসার পথ খুলছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঢাকা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে পারে।’

ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের ভবনগুলোর জরুরি অডিট, বিল্ডিং কোড প্রয়োগ, উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানো, জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি—সবই এখন সময়ের দাবি।

সতর্কবার্তাঃ ৩১ ঘণ্টায় ৪ দফা কম্পন জানান দিচ্ছে, ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ছে এবং বড় কম্পনের সম্ভাবনাকে আর হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। --তথ্য সূত্র যুগান্তর

 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - জাতীয়