a
ফাইল ছবি : ইশরাক হোসেন
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিল থানায় নাশকতার মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে, গত ৬ এপ্রিল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মতিঝিল এলাকায় লিফলেট বিতরণ করার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। জাতীয় শ্রমিক দল এই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। ঘটনাস্থল থেকে নেতাকর্মীদের মাঝ থেকে পুলিশ তাকে গাড়ীতে তুলে নেয়।
মতিঝিল থানার ডিউটি অফিসার ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি। সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি: বেগম খালেদা জিয়া
করোনা ঝুঁকির কারণে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ১৪ দিন চিকিৎসা শেষে আজ শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার পর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ত্যাগ করেন তিনি। বিকাল সাড়ে ৫টায় হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ৬টা পাঁচ মিনিটে বাসায় পৌঁছান তিনি।
মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার হাসপাতাল কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করোনার সংক্রমণ বাড়ার কারণে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রাখা যাচ্ছে না।
এখন তাঁর করোনা হলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে চলে যাবেন। তাই পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বোর্ড তাঁকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শাহাবুদ্দিন বলেন, খালেদা জিয়া এখনো অসুস্থ। তবে স্থিতিশীল আছেন। লিভার সিরোসিসের কারণে তিনি আবার রক্তক্ষরণের উচ্চঝুঁকিতে আছেন। তবে কিডনি জটিলতা কাটানো সম্ভব হয়েছে। এখনো তাঁর হৃদপিণ্ডে দুইটা ব্লক রয়ে গেছে।
৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া তীব্র বুকে ব্যথা নিয়ে গত ১০ জুন গভীর রাতে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে দ্রুত এনজিওগ্রাম করে তার হৃদযন্ত্রে একটি স্টেন্ট বসানো হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান বলেন, আন্তর্জাতিক নির্দেশনা হলো যেই রক্তনালীর ব্লকের কারণে সমস্যা হচ্ছে ওইটা অপসারণ করে রোগীকে বাঁচানো। যাদের অন্য রক্তনারীর ব্লক অপসারণ না করলে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে অথবা রোগীর কিডনি, লিভার বা হৃদযন্ত্রের অন্য কোনো সমস্যা নেই তাঁদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় ব্লক অপসারণ করা হয়।
মেডিক্যাল বোর্ড সদস্য অধ্যাপক এএফএম সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিরের ফলোআপ করা হয়নি ৬ মাসে। তাঁর আবার রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা আছে। প্রযুক্তিগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর সুষ্ঠু চিকিৎসা এই দেশে সম্ভব নয়। সেটা বিশ্বের কিছু দেশে উন্নত সেন্টারে করতে পারলে ভালো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ, ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডা. আল মামুন এবং হাসপাতালের মেডিক্যাল প্রমোশন বিভাগের প্রধান বিনয় কাউল উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: কালের কন্ঠ
ফাইল ছবি
বিতর্কে জড়িয়ে একের পর এক গ্রেফতার হচ্ছেন অভিনেত্রী ও মডেলরা। অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। আরও এক ডজন মডেল বর্তমানে নজরদারিতে রয়েছেন। এতে আতঙ্কে অন্তত ২১ প্রভাবশালী ব্যক্তির ‘ঘুম হারাম’ হওয়ার অবস্থা।
এক সময় এসব ব্যক্তি ওই মডেলদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাদের নিয়ে তারা দেশের বাইরেও ‘প্লেজার ট্রিপে’ গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মডেলদের বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার ও ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ রয়েছে। এখন তাদের অনেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তদবির করতে মাঠে নেমেছেন।
প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন কেউ কেউ। মোবাইল ফোন বন্ধ করে এবং ফেসবুক আইডি নিষ্ক্রিয় করে তাদের অন্তত চারজন গা-ঢাকা দিয়েছেন। তবে তাদের গতিবিধি নজরদারিতে রেখেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
রোববার রাতে মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ গ্রেফতার হয়েছেন। মাদক আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাদের শুক্রবার আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
এরপর রাজধানীর তিন থানার পৃথক তিনটি মাদক মামলায় পিয়াসার আট দিন ও মৌকে একটি মামলায় চার দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। বুধবার বিকালে পরীমনিকে গ্রেফতারের পর মাদক মামলায় তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
পরীমনি, পিয়াসা ও মৌর কয়েক সহযোগীও রয়েছেন রিমান্ডে। জিজ্ঞাসাবাদে স্বর্ণ চোরাচালান, ব্ল্যাকমেইলিং, মাদক ব্যবসা, জাল মুদ্রা তৈরি, অস্ত্র কারবারে সম্পৃক্ততাসহ নানা অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা গ্রেফতার অভিনেত্রী ও মডেলরা স্বীকার করেছেন।
এ সময় তাদের ‘সুগার ড্যাডি’দের নামও উঠে আসে। যারা টাকার বিনিময়ে অথবা চাপ দিয়ে অনেক মডেলের ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। নানা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করেছেন। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রশাসনিকভাবে এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনির অবৈধ কাজের সহযোগীদের নাম পাওয়া গেছে বলে শুক্রবার জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, পরীমনি যেসব অবৈধ কাজ ও ব্যবসা করতেন, সেগুলো কাদের নিয়ে করতেন, কাদের সহযোগিতায় করতেন, কারা তার নেপথ্যে রয়েছেন আমরা তাদের নাম পেয়েছি। তাদের বেশির ভাগই বড়লোক এবং খারাপ প্রকৃতির মানুষ।
যারাই তার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের গ্রেফতার করা হবে। আর প্রযোজক নজরুল মডেলদের নিয়ে ঘরোয়া পার্টি করতেন। উচ্চবিত্তদের মডেল সাপ্লাই দিতেন। সেই তথ্যও আমরা পেয়েছি। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ, র্যাব ও একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ২১ প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে স্বর্ণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনজন, পোশাক শিল্পের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দুজন, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছয়জন, অন্য সব ব্যবসায় জড়িত ছয়জন, বিশেষ দুই ব্যক্তি ও একটি বিশেষ পেশায় থাকা একজন এবং ফার্নিচার-প্লাস্টিকসহ কয়েকটি ব্যবসায় জড়িত একজন রয়েছেন।
রাজধানীর তারকা হোটেল ও পার্টি হাউজে তাদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এছাড়া ‘স্পা সেন্টার’সহ নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আড়ালে গুলশান-বনানীর ২৭টি স্থানে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা হতো। সেখানেও এ প্রভাবশালীদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এছাড়া বনানীর অন্তত ১৩টি সিসা লাউঞ্জেও ছিল তাদের অন্যতম আখড়া।
সূত্র জানায়, সুন্দরী রমণীদের নিয়ে দুবাই, ইউরোপ, আমেরিকা, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিায়সহ বিভিন্ন দেশে একাধিক ‘লেজার ট্রিপ’ দিয়েছেন অনেকে। ঘন ঘন তাদের বিদেশ যাত্রার তথ্য পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পিয়াসা, মিশু, জিসান ও একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ব্যক্তির দুই ছেলের একসঙ্গে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া ভ্রমণের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দেশের বাইরে অবস্থানকালে তাদের অনেকের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ও স্থিরচিত্র এখন গোয়েন্দাদের হাতে। এগুলো বিশ্লেষণ করে আরও একাধিক মামলা হতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, অভিনেত্রী ও মডেলদের গ্রেফতারের পর এসব প্রভাবশালী ব্যক্তির অনেকে গা-ঢাকা দিয়েছেন। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে তাদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন অথবা ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভ করেছেন। অনেকে অনলাইনে যোগাযোগের সময় পাঠানো বিভিন্ন ছবি, কথোপকথন, অডিও ও ভিডিও বার্তা মুছতে অপর প্রান্তে থাকা তরুণীদের অনুরোধ করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের কেউ কেউ দেশত্যাগের চিন্তাও করছেন। অনেকে আবার অভিযোগ থেকে বাঁচতে নেমেছেন লবিং-তদবিরে।
প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বিভিন্ন ব্যক্তির বাসায় ঘন ঘন যাতায়াত করছেন তারা। সাক্ষাৎকালে কেউ কেউ তদবির করতে না পেরে অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টাও করছেন।
ঢাকার তিনটি অভিজাত হোটেলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নিয়মিত ‘গেস্ট’কে গত সপ্তাহে তারা দেখতে পাননি। যাদের সঙ্গে প্রায় সব সময় রুপালি জগতের অভিনেত্রী, মডেলসহ অনেক সুন্দরী তরুণীকে দেখা যেত। এসব সুন্দরীর অনেককে মুখ ঢেকে কিংবা বোরকা পরেও হোটেলে ঢুকতে দেখা যেত। এবারের অভিযানে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চলাচল সীমিত করেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
অভিনেত্রী ও মডেলদের কেলেঙ্কারির ঘটনার এবার শেষ দেখতে চায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেজন্য রিমান্ডে পিয়াসা ও মৌর মোবাইল ডিভাইসগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করছেন তারা।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, সেখানে ‘ব্ল্যাকমেইলিং’র জন্য রাখা অন্তত ১০টিরও বেশি ভিডিওচিত্র ও অনেকগুলো স্থিরচিত্র পাওয়া গেছে। এতে পিয়াসা-মিজান, মৌ সিন্ডিকেটের অনেকের ছবি রয়েছে। পাশাপাশি অনেক প্রভাবশালীর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে। তাদের বিষয়েও খোঁজখবর নিচ্ছে পুলিশ। পিয়াসা-মৌকে গ্রেফতারের পর যেসব অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততার খবর পাওয়া গেছে- তাতে প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়েও চলছে অনুসন্ধান।
সূত্র জানায়, গুলশানের হোটেল পাড়ায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল এমন অনেক তথাকথিত মডেলও রয়েছেন গ্রেফতার আতঙ্কে। তাদের অন্তত তিনজন এখন ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন। ঢাকার বনানী, গুলশান, মোহাম্মদপুর, বনশ্রী এলাকায় তাদের ‘সেফ প্লেস’ হিসাবে পরিচিত কয়েকটি ফ্ল্যাট এখন ফাঁকা। গ্রেফতার আতঙ্কে তারা গা-ঢাকা দিয়েছেন। মোবাইল ফোন ও নম্বর পরিবর্তন করেছেন কেউ কেউ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল এসব অপকর্মের অন্যতম হোতা জনৈক ব্যক্তির। তিন দিন ধরে তাকে এ এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া এ এলাকায় অর্চনা ও তানসিয়ারের যাতায়াতও কমে গেছে। এভাবে গুলশানপাড়ার অনেক পরিচিত মুখকে এখন দেখা যাচ্ছে না।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পিয়াসার নেটওয়ার্কে ২০ থেকে ২৫ জন সুন্দরী রমণী রয়েছে। গুলশান, বনানী, বারিধারার অনেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী তাদের নিয়ে দেশের বাইরে ট্যুরে (প্লেজার ট্রিপ) যান। কোটি কোটি টাকা কামিয়ে ‘জিরো থেকে হিরো’ বনে গেছে চক্রটি। এছাড়া জিসান ও মিশুর চক্রে রয়েছে আরও ১০ থেকে ১২ জন। তাদের প্রতিটি পার্টিতে অংশ নিত ১৫-২০ জন। সূত্র: যুগান্তর