a সরকার এত দিন রিজার্ভ নিয়ে মিথ্যাচার করছে: ফখরুল
ঢাকা শুক্রবার, ১৮ পৌষ ১৪৩২, ০২ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

সরকার এত দিন রিজার্ভ নিয়ে মিথ্যাচার করছে: ফখরুল


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
শনিবার, ০৬ আগষ্ট, ২০২২, ০৮:২৯
সরকার এত দিন রিজার্ভ নিয়ে মিথ্যাচার করছে: ফখরুল

ফাইল ছবি : মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার এত দিন মিথ্যাচার করেছে, রিজার্ভে এত টাকা আছে, এত ডলার জমা আছে যে কোনো চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু এখন রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আইএমএফ থেকে কঠিন শর্তে সরকার ঋণ নিচ্ছে—যার ফলেই জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি।

শনিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ভোলা জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রদল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।  

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এতদিন সরকার মিথ্যাচার করেছে। এখন রিজার্ভ কমে যাওয়ার কারণে সরকার আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিবির কাছ থেকে ডলার ঋণ নিচ্ছে।

আইএমএফের ঋণের শর্ত খুব শক্ত। তারা বলেছে যেসব পণ্যে ভর্তুকি দিচ্ছ, সেসব বন্ধ করো। সেজন্য জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। গতকাল বিপু সাহেব বললেন জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বাড়ানো হতে পারে, যা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর দাম দেড়গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনারা জানেন, বার বার বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তারমধ্যে আজ সকালে দেখলাম কাঁচা মরিচের দাম তিনশ টাকা। মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।    

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার যে শুধু বিএনপির ওপরে আক্রমণ করেছে তা নয়, এই সরকার তার বেআইনি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য যে দুর্নীতি শুরু করেছে, যে আকাশ ছোঁয়া দুর্নীতির মধ্যে দিয়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিচ্ছে তার আরেকটি প্রমাণ হচ্ছে শুক্রবার (৫ আগস্ট) মধ্যরাতে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম ৫০ ভাগেরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। যে ডিজেলের দাম ছিল ৮০ টাকা, তার দাম করেছে ১১৪টাকা। অকটেনের দাম ছিল ৮৮টাকা তার দাম করেছে ১৩৫টাকা। ফলে আজ (৬ আগস্ট) রাস্তায় যানবাহন কমে গেছে। এটার ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়বে সারা দেশের অর্থনীতির ওপরে। দেশের সব মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ভাড়া, চাল, ডাল তেলের দাম আবার দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়ে যাবে। মাঝখান থেকে আমাদের সাধারণ মানুষ যারা দিন আনে দিন খান, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সূত্র: ইত্তেফাক

 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

দেশ গঠনে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে না উঠলে জাতির ভবিষ্যৎ অচিরই সংকটে পড়বে


কর্নেল(অব.) আকরাম, কলাম লেখক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫, ০৪:৫৩
দেশ গঠনে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে না উঠলে জাতির ভবিষ্যৎ অচিরই সংকটে পড়বে

ছবি সংগৃহীত

 

সংকট জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে সমান গুরুত্বপূর্ণ। সংকট সমাধানের জন্য তার মূলসূত্র জানা অপরিহার্য। যদি সংকটের প্রকৃত কারণ বোঝা না যায়, তাহলে ব্যক্তিগত বা জাতীয়—কোনো ক্ষেত্রেই কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই নানা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে ভুগছে।  

আমাদের জাতীয় সংকটের শেকড় মূলত রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতায় নিহিত। দেশভাগের আগের সময়টিতে আমাদের ভাগ্য ভালো ছিল যে কিছু উজ্জ্বল মুসলিম নেতা পেয়েছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দেশভাগের পর সঠিক নেতৃত্বের অভাব দেখা দেয়।  

পাকিস্তান শুরু থেকেই তীব্র নেতৃত্ব সংকটে পড়েছিল। প্রথমত, প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুর পর দেশটি গভীর সংকটে পড়ে। এরপর লিয়াকত আলী খানের হত্যার মাধ্যমে পাকিস্তান নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে। পাকিস্তানের সেই দুর্বল অবস্থার সুযোগ নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান থেকে খাজা নাজিমুদ্দিন নেতৃত্বে এলেও তার মৃত্যুর পর সংকট আরও গভীর হয়। চৌধুরী মোহাম্মদ আলী (বগুড়া) এবং পরে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি হয়, যা ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের পতনের মাধ্যমে শেষ হয়।  

পূর্ব পাকিস্তান থেকে তিনজন প্রধানমন্ত্রী আসলেও আমাদের জনগণ তখনো রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছিল। যদিও পাকিস্তান তখন 'উন্নয়নের দশক' পার করছিল, কিন্তু একইসঙ্গে গণতান্ত্রিক চর্চা ধ্বংস হয়েছিল, যা জাতীয় ঐক্যের ব্যর্থতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।  

দুর্বল নেতৃত্ব ও সামরিক শাসনের সুযোগ নিয়ে ভারত তার পূর্ব পাকিস্তানি এজেন্টদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল ভারতীয় রাজনৈতিক সংযোগের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যা স্বাধীনতার পর শেখ মুজিব নিজেই স্বীকার করেছিলেন।  

নিঃসন্দেহে, বাংলাদেশের জন্ম ভারতীয় কৌশলগত রাজনীতির ফল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভারত পূর্ব পাকিস্তানে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা শুরু করেছিল। যদিও আমরা একাত্তরে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতীয় রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছি। এখন ভারত ১৯৭১ সালের বিজয়কে তার নিজের জয় হিসেবে তুলে ধরতে চায়।  

ভারত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে শুরু থেকেই নিজের উপর নির্ভরশীল করার চেষ্টা করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে ভারতের উপনিবেশে পরিণত করা এবং আমাদের নেতৃত্ব তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলো—বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্বল করা। ভারত এতে সফল হয়েছে, আমাদের নেতৃত্বকে কার্যত শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে।  

আমাদের দুর্ভাগ্য যে, দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্ব এখনো আমরা পাইনি, ব্যতিক্রম শুধু জিয়াউর রহমান। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ভারতের আধিপত্যবাদী রাজনীতি বুঝতে পেরেছিলেন এবং একটি টেকসই রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-কেন্দ্রিক জাতীয় রাজনীতির অবসান ঘটে।  

১৯৮১ সালের মে মাসে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর থেকে আমরা নেতৃত্ব সংকটে ভুগছি। গত চার দশকে সমাজের জন্য যোগ্য নেতাদের তৈরি করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি, এমনকি বিএনপিও তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।  

বর্তমানে আমাদের জাতীয় জীবন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রকৃত পেশাদার নেতৃত্বের অভাব সর্বস্তরে দৃশ্যমান। গত সরকার কৌশলে সমাজের সব স্তর থেকে নেতৃত্ব বিকাশের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগকে দিয়ে একটি পারিবারিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যা শেখ হাসিনা অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে।  

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর নতুন পরিবেশে আমরা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। প্রথমত, এই বিপ্লবের কিছু অংশগ্রহণকারী বিপ্লবের চেতনাকে অগ্রাহ্য করছে। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন এবং নবগঠিত এনসিপি (NCP) গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়গুলোর—বিশেষ করে নির্বাচন ও সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্যে আসতে পারছে না।  

তারা জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে যাচ্ছে। অথচ জুলাই বিপ্লবে ছাত্ররা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে, যা ইতিহাস কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।  

তবে নেতৃত্বের জন্য শুধু আবেগ নয়, অভিজ্ঞতাও জরুরি। অল্পবয়সী ছাত্ররা এখনো রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যথেষ্ট পরিপক্ব নয়। তাদের ধাপে ধাপে রাজনীতি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। আমরা তাদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারি না, কারণ এটি কোনো পরীক্ষার বিষয় নয়। তাদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং প্রকৃত নেতা হয়ে উঠতে হবে।  

আমাদের সমাজের নেতৃত্ব সংকট দূর করতে হলে সুপরিকল্পিত নেতৃত্ব তৈরির কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু শেখ হাসিনা তার ভারতীয় প্রভুদের সহায়তায় ইচ্ছাকৃতভাবে এই প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছেন।  

জনপ্রশাসনের কোনো খাতই তিনি অক্ষত রাখেননি। যদি নেতৃত্ব বিকাশের জন্য জরুরি সংস্কার না করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্ব ধরে রাখতে পারবে না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে, যা তাদের স্থানীয় দোসরদের সহায়তায় ভারত অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে।  

যোগ্য ও মেধাবী মানুষ ছাড়া আমাদের পক্ষে এই বিশাল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টিকে থাকা অসম্ভব। ভারতের সমাজে মেধাবী ও দক্ষ মানুষের অভাব নেই। শুধু আবেগ ও বড় বড় কথা বলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।  

আমরা এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নিতে পারিনি, অথচ নেতৃত্ব সংকট এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের হাতে সময় খুবই কম। এখনই যদি নেতৃত্ব গঠনের ওপর গুরুত্ব না দিই, তাহলে জাতির ভবিষ্যৎ সংকটে পড়বে।


লেখক: ড. শেখ আকরাম আলী
কলাম লেখক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আজ সারা দেশে দমকা হাওয়াসহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা


আবহাওয়া ডেস্ক:
শনিবার, ০৮ মে, ২০২১, ১০:১২
আজ সারা দেশে দমকা হাওয়াসহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা

সংগৃহীত ছবি

 

আজ সারা দেশে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি সপ্তাহের মাঝামাঝিতে দেশে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে এবং তা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, আজ ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর সর্বশেষ

সর্বশেষ - রাজনীতি