a
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
আজ ১৪ আগষ্ট ২০২১ ইং দুপুর ২২-৩০ মিনিটে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়, হবিগঞ্জে দৈনিক মুক্ত সংবাদ প্রতিদিন এর সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি সাংবাদিক শেখ আঃ কাদির কাজল এর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব, হবিগঞ্জ জেলা আয়োজিত পরিচিতি, আলোচনা ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
হবিগঞ্জের সকল উপজেলার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান খান, মীর দুলাল, আছাদুজ্জামান সুমন, মোতালিব তালুকদার দুলাল, শাহেনা আক্তার, ডাঃ সৈয়দ রুবায়েল আহমেদ জুয়েল, রাহেনা শিরিন প্রমুখ।
সভাপতি উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানোর মতো। আপনারা পেশাদারীত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদীহিতা নিশ্চিত করে কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন।
পরিশেষে শোকের মাস আগষ্ট উপলক্ষে-১ মিনিট নিরবতা পালন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার ও সকল নৃশংস হত্যাকান্ডের নিন্দা ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন ভাতা না দিয়ে আত্নগোপন করেছে কটন পাওয়ার এক্সেল নিট নামে এক পোশাক কারখানার মালিক। এ অভিযোগে শ্রমিকরা অনেকদিন যাবৎ বিভিন্নভাবে আন্দোলন করেও সুফল পাচ্ছিল না।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) কে শ্রমিকরা এ বিষয়টি অবগত করলে এগিয়ে আসেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।
আজ ১২মে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ নিজ সম্মেলন কক্ষে নিজ থেকে ওই কারখানার ২৯ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিককে ডেকে এনে নগদ অর্থসহ খাদ্য সামগ্রী দিয়ে মানবিক সহায়তা করেছেন।
সহায়তা পেয়ে শ্রমিকরা জেলা প্রশাসকের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় শ্রমিকরা বলেন,সামনে ঈদ আমাদের হাতে কোন আর উপায় ছিল না নিরুপায় হয়ে জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হয়েছি। আমাদের পাওনা বুঝে পেয়ে আমরা সকলেই আনন্দিত।
একইসাথে আত্মগোপন করা গার্মেন্টস মালিককে খুঁজে বের করে বাকি শ্রমিকদের পাওনা আদায় করে দেয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করেছেন।
জানা যায় লোকমান মিয়ার মালিকানাধীন কটন পাওয়ার এক্সেল নিট নামে পোশাক কারখানাটি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনের সামনে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় অবস্থিত।
ফাইল ছবি
নিউজ ডেস্কঃ রাজনৈতিক খেলা দেশের জাতীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি শেষ পর্যন্ত সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। রাজনৈতিক খেলা সংবিধানে অনুমোদিত এবং দেশের সব প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি জাতীয় নির্বাচনে চূড়ান্ত খেলার অংশগ্রহণ করে। চূড়ান্ত খেলা দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এবং যারা সংসদে অধিক সিট পায় তারা সরকার গঠন করে। এটি বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি সাধারণ প্রথা, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতও রয়েছে।
রাজনৈতিক খেলার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস রয়েছে এবং এটি প্রথম শুরু হয় ইংল্যান্ডে ১৬৮৯ সালের বিল অব রাইটসের পর। সেখানে উইগ পার্টি এবং টোরি পার্টি রাজনৈতিক খেলা শুরু করেছিল, এবং পরবর্তীতে তারা যথাক্রমে কনজারভেটিভ পার্টি এবং লেবার পার্টি নামে পরিচিত হয়। যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক খেলা দীর্ঘদিন ধরে দ্বিদলীয় রাজনীতি হিসেবে চলে আসছে, যা এখন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির রূপে পরিণত হয়েছে।
ভারতে ব্রিটিশ শাসনের শেষ পর্যায়ে ১৯৩৫ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক খেলা শুরু হয় এবং এর চূড়ান্ত ফলস্বরূপ ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দেশভাগ ঘটে। পাকিস্তানের সূচনা থেকে রাজনৈতিক খেলা সুষ্ঠু ও ন্যায্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি ছিল পাকিস্তানের ভাঙন এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম। পাকিস্তানে রাজনৈতিক খেলা পুরো বিশ বছর ধরে ন্যায্যতার অভাবে চলে এবং ভারত বাংলাদেশ দলের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জন্য খেলা জিততে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের শুরু পাকিস্তানের মতোই ছিল এবং খুব শীঘ্রই ১৯৭৫ সালের শুরুতে বাকশাল ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক খেলায় সুষ্ঠুতা শেষ হয়ে যায়। আমাদের জন্য এটি খুব দুঃখজনক যে আমাদের দেশে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তিত হয়।
এটি শুধুমাত্র জিয়াউর রহমানই ছিলেন যিনি দেশে বহু দলীয় রাজনীতি চালু করেছিলেন যাতে সুষ্ঠু রাজনৈতিক খেলা হতে পারে, তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী ছিল না এবং এরশাদ শাসনামলে সুষ্ঠু রাজনৈতিক খেলা বন্ধ হয়ে যায়।
১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের সাথে পরিবর্তন আসে এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক খেলার সুযোগ আসে, এবং বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দ্বি-দলীয় রাজনীতি শুরু হয়। এটি ভালভাবে চলছিল এবং দেশে একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল। তবে এরশাদ পতনের পর পরই যে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মঈন-ফকর সরকার দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে এবং একটি মনগড়া নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে পেরেছিল, যার ফলে সুষ্ঠু রাজনীতি ধ্বংস হয় এবং একদলীয় রাজনৈতিক খেলা আবার ফিরে আসে, যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে একদলীয় রাজনীতি পতন পর্যন্ত চলে।
দেশের পুরো জাতি সুষ্ঠু রাজনৈতিক খেলার প্রত্যাশায় ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের ভাল সংকেত দিচ্ছে না। এটি মনে হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জগুলি আমাদের সামনে রয়েছে যা শুধু সাম্প্রতিক বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত ঐক্যকেই নয়, দেশের রাজনীতিকে স্থিতিশীলতা থেকেও বিপথে চালিত করতে পারে।
এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে, কিছু বিদেশী শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় তথাকথিত "কিং পার্টি" উঠতে পারে এবং ছাত্রদের নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায়।
এটি দেশের জন্য এবং জাতির জন্য ভালো সংকেত নয়, এবং দেশ আবার এক কঠিন সংকটে পড়বে, যা খুব শীঘ্রই সমাধান হবে না।
এখন জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত প্রয়োজন এবং বিএনপি যে জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে তা আমাদের এই সংকট থেকে উত্তরণে সাহায্য করতে পারে, ইনশাআল্লাহ।
লেখকঃ সম্পাদক, মিলিটারি হিস্ট্রি জার্নাল