a
ফাইল ছবি
আলোচিত বক্তা মুফতি আমির হামজাকে আটক করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) একটি দল। সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ডাবিরাভিটা গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হামজাকে আটক করা হয় বলে জানানো হয়।
মুফতি আমির হামজা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের রিয়াজ সর্দারের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মুফাসসির পরিষদের কেন্দ্রিয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এর আগে, আমির হামজার স্ত্রী তামান্না সুলতানা গণমাধ্যমকে অভিযোগ করে বলেন, সাদাপোশাকে ছয়–সাতজন মানুষ এসে হাতকড়া পরিয়ে হুজুরকে (আমির হামজা) নিয়ে যায়। এ সময় তাদের একজনের কাছে রাইফেল ছিল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার খাইরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আপনার মতো আরেকজন সাংবাদিকও একই খোঁজ নিয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নাই। পরিবার থেকে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আমির হামজার স্ত্রীর ভাষ্যমতে, গতকাল রোববার তাঁরা পরিবারসহ গ্রামের বাড়ি ডাবিরাভিটা যান। আজ দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়িতেই শুয়ে ছিলেন তাঁর স্বামী আমির হামজা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ একটি কালো মাইক্রোবাস বাড়ির সামনে আসে। ছয়–সাতজন নেমে ঘরের ভেতরে যায়। একপর্যায়ে হুজুরকে ডাকতে বলে এবং তাদের সঙ্গে যেতে বলে। তিনি বের হলে তাঁর হাতে একজন হাতকড়া পরিয়ে ফেলে।
তামান্না সুলতানা আরও বলেন, ‘প্রত্যেকের শরীরে পাঞ্জাবি ও পাজামা পরা ছিল। তবে হাতকড়া পরানোর সময় কয়েকজন কালো কটি পরে। তাদের মধ্যে একজনের হাতে রাইফেল ছিল। ১০ মিনিটের মধ্যে তারা কালো গাড়িতে (হাইয়েস) করে দ্রুত চলে যায়। এরপর শহরের কয়েক জায়গায় যোগাযোগ করে এখনো তার কোনো সন্ধান পাচ্ছি না।’
বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে আমির হামজার দেওয়া বক্তব্য ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায়। সূত্র: প্রথম আলো
ফাইল ছবি
বেতন বোনাসের দাবিতে গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে কয়েক দফা বিক্ষোভ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। আজ ১০মে সোমবার সকাল থেকে গাজীপুর সদরের হোতাপাড়া এলাকায় বিক্ষোভ করেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জয়দেবপুর থানার ওসি মামুন আল রশিদ বলেন, সোমবার ফুয়াং ফুড লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের চলতি মে মাসের বেতন পরিশোধের কথা ছিল। বেতন ছাড়াও তাদেরকে আগামীকাল মঙ্গলবার ঈদ বোনাস দেওয়ার কথাও ছিল মালিকপক্ষের। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ নানা আজুহাত দেখাতে শুরু করলে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস এবং চলতি মাসের বেতন চাইলে তারা বেতন ও বোনাস দিবে কি দিবে না সে বিষয়ে শ্রমিকরা মালিক পক্ষ থেকে আশ্বাস না পেয়ে এই বিক্ষোভ করেন।
শ্রমিকরা জানান, এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস না পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে তারা কর্মবিরতি পালন করেন, পরে তাদের কথা তেমন গুরুত্ব না দেওয়ায় তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন।
মহাসড়ক অবরোধের ফলে সেখানে উভয় দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ওসি মামুন আল রশিদ জানান, শ্রমিকদের অবরোধ চলাকালে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বেতন ও ঈদ বোনাসের আশ্বাস দিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরে যেতে বলা হয়। পরে শ্রমিকরা কাজে যোগদেন।
কারখানার ম্যানেজার শুক্কুর মাহবুব বলেন, শ্রমিকদের কোনো বেতন বকেয়া রাখা হবে না। নির্ধারিত সময়েই তাদের বেতন, বোনাস পরিশোধ করবে মালিকপক্ষ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের দাবির মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষ ঈদ বোনাস দিতেও একমত হয়েছেন।
ফাইল ছবি
মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে গতকাল শুক্রবার রাতভর অভিযান পরিচালনা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এসময় নির্বিচারে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬০ জন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা।
জানা যায়, ভুক্তভোগী পরিবার বা স্থানীয়রা নিহত সব মরদেহ সংগ্রহ করার সংগ্রহ করতে পারেননি। মরদেহগুলো বেশিরভাগ নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যরা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিক্ষোভকারীদের দমন করতে জান্তা বাহিনী বন্দুকের পাশাপাশি মেশিনগানের গুলি, গ্রেনেড এবং মর্টার ব্যবহার করেছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমাদের এলাকার লোকজন জানত তাদের লোকজন আসবে এবং এর জন্য রাতভর অপেক্ষা করছিল কিন্তু তাদের অনেকে ফিরে আসেননি। সেনারা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেছে। আমরা মর্টার শেলও পেয়েছি। মেশিরগান থেকে প্রচুর গুলি করা হয়েছে। তাজা গুলির পাশাপাশি জান্তা বাহিনী গ্রেনেড লঞ্চার ব্যবহার করছিল বলে জানা যায়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, রাস্তা ফাঁকা করতে সাধারণ পথচারীদের দিকেও গুলি করেছে জান্তা বাহিনী।
অপর আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তারা রাত ৮টা পর্যন্ত মাত্র তিনটি মরদেহ সংগ্রহ করতে পেরেছেন। বাকিগুলো সেনারা নিয়ে গিয়ে জেয়ামুনি প্যাগোডা এবং কাছাকাছি একটি স্কুলে স্তুুপ করেছে।