a ভন্ডামি পরিবার, সমাজ তথা সর্বত্রই ক্ষতিকর ও অসংখ্য দুর্ভোগের কারণ
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ পৌষ ১৪৩২, ০৮ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

ভন্ডামি পরিবার, সমাজ তথা সর্বত্রই ক্ষতিকর ও অসংখ্য দুর্ভোগের কারণ


কর্নেল(অব.) আকরাম, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫, ১১:০২
ভন্ডামি পরিবার, সমাজ তথা সর্বত্রই ক্ষতিকর ও অসংখ্য দুর্ভোগের কারণ

ছবি সংগৃহীত

 

ভণ্ডামি পরিবার ও সমাজ—উভয়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এটি অসংখ্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যখন ব্যক্তিস্বার্থ সমাজের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে, তখন ভণ্ডামি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে, যা শেষ পর্যন্ত সমাজের অবক্ষয় ডেকে আনে।  

আমাদের সমাজে ভণ্ডামির চর্চা এখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এই অভ্যাসের শিকার। এর ফলে আমাদের ঐতিহ্যবাহী নীতি ও মূল্যবোধ দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। সমাজের সামাজিক বন্ধনগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও পবিত্র কোরআনে ভণ্ডামিকে গুরুতর পাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু আমরা তা মানতে খুব একটা আগ্রহী নই।  

সমাজের সর্বস্তরের নেতারাও এই ভণ্ডামির ভাইরাস থেকে মুক্ত নন। ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ নেতৃত্ব কাঠামো এতে আক্রান্ত হয়েছে, ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে নেতাদের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বেশিরভাগ নেতাই ভণ্ড, যাদের জনগণের স্বার্থের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ নেই। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো ধন-সম্পদ উপার্জন, যা এখন সমাজের নেতৃত্ব কাঠামোর সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। ভালো ও সৎ নেতা খুঁজে পাওয়া এখন বিরল ব্যাপার।  

যদি একটি সমাজের নেতারা বিপুল সংখ্যায় ভণ্ডামিতে নিমজ্জিত হয়, তবে সেই সমাজের জন্য ভালো কিছু আশা করা যায় না। দুর্ভাগ্যবশত, স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের সমাজ এই ধরনের ভণ্ড নেতাদের শিকার হয়ে আসছে। স্বাধীনতার পরবর্তী পরিস্থিতি আমাদের জন্য খুব বেশি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা বয়ে আনেনি। শুরু থেকেই নেতারা জনগণের কল্যাণের চেয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। তবে এর ব্যতিক্রমও ছিল, যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি জাতির সেবা করেছেন। গত ৫৩ বছরের ইতিহাসে এ রকম ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত খুবই কম দেখা গেছে।  

একটি সমাজ কখনোই উন্নতি করতে পারে না যদি তার নেতারা ভণ্ড ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়। আমরা এই অসৎ নেতাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি এবং ভবিষ্যতেও এর ফল ভোগ করতে হবে। জাতির রক্ষক হিসেবে বিবেচিত শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা অত্যন্ত অসৎ, এবং তারা দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে জনগণের অর্থ লুটপাট করেছে।  

শুধু রাজনৈতিক নেতারাই নয়, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আমলা এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যারা ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন, তারা সবাই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্পদের পাহাড় গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করেননি। গত ১৫ বছর ধরে এটিই ছিল সাধারণ চিত্র।  

এখন এই ভাগ্যবান দুর্নীতিবাজদের অনেকেই নির্দোষ সাজতে চাচ্ছেন এবং জনগণের সহানুভূতি আদায় করে ভবিষ্যতে আরও সুবিধা নিতে চাইছেন। যখন একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন, তখন তা শুধু হাস্যকরই নয়, বরং আরও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি একটি প্রচলিত ধারণা হয়ে উঠেছে যে, "সর্বোত্তম বন্ধুর" অনুমোদন ছাড়া গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কেউ জেনারেল হতে পারেননি।  

আমরা ভাগ্যবান যে, একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু একইসঙ্গে দেশজুড়ে বিভ্রান্তিও বিরাজ করছে। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো, রাজনৈতিক দলগুলোকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে নিষ্ঠাবান হতে হবে।  

প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি জাতির স্বার্থে ভবিষ্যতে ভণ্ডামি ছাড়া রাজনীতি করতে পারব? সময় এখনই, নয়তো কখনোই নয়।

 

লেখক: অধ্যাপক কর্নেল আকরাম, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরে ইউপিডিএফ (মূল) এর গোপন আস্তানার সন্ধান


রাঙ্গামাটি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ০২ জানুয়ারী, ২০২৫, ০৫:১৮
রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরে ইউপিডিএফ (মূল) এর গোপন আস্তানার সন্ধান

ছবি সংগৃহীত

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে নিহত ১
আজ ২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখ ০৫৫০ ঘটিকায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার পেরাছড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এসময় ইউপিডিএফ (মূল) এর গোপন আস্তানার সন্ধান পেয়ে সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে। এতে সেনাবাহিনীর সাথে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটলে ইউপিডিএফ (মূল) এর একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং বেশ কিছু সংখ্যক সন্ত্রাসী আহত অবস্থায় গহীন জঙ্গলে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে, উক্ত স্থানে তল্লাশি চালিয়ে  সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ০১ টি এ্যাসল্ট রাইফেল (এম-১৬), ০২ রাউন্ড এমজি/স্নাইপার এ্যমোনিশন, ৯০ রাউন্ড রাইফেল এ্যমোনিশন, ০১ টি ওয়াকি-টকি সেট ও ১২ টি মোবাইল ফোনসহ বেশ কিছু সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে। পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের সন্ধানে সেনা অভিযান চলমান রয়েছে। সূত্র: বাংলাদেশ আর্মি

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

পেলের রেকর্ড ভাঙ্গার দিনে মেসির হ্যাট্রিক


ক্রীড়া ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন 
শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:৪১
পেলের রেকর্ড ভাঙ্গার দিনে মেসির হ্যাট্রিক

ফাইল ছবি

গত সোমবার ৬ সেপ্টেম্বর নানা নাটকীয় ঘটনার পর ব্রাজিলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার আগের ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছিলো। দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন কবে পেলের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি সে অপেক্ষার অবসান হলো আজ। আজ শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বলিভিয়ার বিপক্ষে মুখোমুখি হয়ে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে লিও মেসিরা। তিনটি গোলই এসেছে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির পা থেকে।

আর্জেন্টিনার হয়ে আজ প্রথম গোল করেই ছুয়ে ফেলেন ফুটবল গ্রেট পেলেকে। কে জানতো আজই হয়ত তাকে ছাড়িয়ে যাবেন মেসি। কারন নাম টা যে মেসি তাই অবিস্বাস্য বলে কিছু রইলো না। মজার বিষয় ছিলো কিছুদিন আগে পেলে বলেছিলেন মেসি ডান পায়ে গোল করতে পারে না কিন্তু আজ তার রেকর্ড এ ভাগ বসানো গোলটি ই এসেছে মেসির ডান পা থেকে।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির এটি সপ্তম হ্যাটট্রিক। তার অন্য হ্যাটট্রিকগুলো এসেছে সুইজারল্যান্ড, গুয়েতামালা, ব্রাজিল, পানামা, ইকুয়েডর ও হাইতির বিপক্ষে।

আর্জেন্টিনার রিভারপ্লেট স্টিডিয়ামে প্রথম থেকেই বলিভিয়াকে ধরাশায়ী করে রাখে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্তু হয়ে পড়ে বলিভিয়া শিবির। যেখানে প্রায় একক আধিপত্য দেখিয়েছে মেসি বাহিনী, আরও নির্দিষ্ট করে বললে মেসি। পেরুও আক্রমণ করেছে, তবে তা ছিল আর্জেন্টিনার অর্ধেকেরও কম। মেসি প্রথম গোলটি পান ১৪ মিনিটের মাথায়। ডি বক্সের তার দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি বলিভিয়া গোলরক্ষক কার্লোস লাম্পে। আর্জেন্টিনার লিড তখন ১-০ গোলে।

তাতে পেলেকে ছুয়ে ফেলেন তিনি। জাতীয় দল ব্রাজিলের হয়ে পেলে করেছেন ৭৭ গোল। অনেক দিন ধরেই পেলেকে ধরার হাতছানি ছিল মেসির সামনে। কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে আগের চার ম্যাচে গোল পাননি তিনি। ফলে ব্রাজিলিয়ান কিংবন্তিকে ছোয়ার অপেক্ষা বাড়ে তার। সেই অপেক্ষা ফুরাল বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে। বিরতির আগে আর্জেন্টিনা আরও একটি গোল পেয়েছিল, তবে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার ক্রস থেকে হওয়া গোলটি রেফারি অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন। এরপর মেসির মতো সুযোগ নষ্ট করেছেন স্কালোনির অন্য শিষ্যরাও। ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা শিবির।

বিরতি থেকে ফিরে আগের মতোই চেপে রাখে বলিভিয়াকে। ৬৪তম মিনিটে আরও একটি গোল পায় আর্জেন্টিনা, সেটিও আসে মেসির পা থেকে। লাওতারো মার্টিনেজ পাস দেন মেসিকে, মেসি প্রথম চেষ্টার বল জালে জড়াতে পারেননি। গোলরক্ষক কার্লোস পিএসজি জাদুকরের চেষ্ঠা প্রতিহত করেন। কিন্তু তার কাছ থেকে বল ফিরে আসলে ফিরতি শটে বল জালে জড়ান মেসি। মেসি তৃতীয় গোলটি করেন ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে। আর্জেন্টিনার হয়ে তার গোলসংখ্যা এখন ৭৯টি।

এ জয়ের ফলে কনমেবল অঞ্চলের কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৮ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট হলো আর্জেন্টিনার। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচে ড্র ও পাঁচটি ম্যাচে জয়ে পেয়েছে তারা। খেলা শেষে উদযাপনের পরিবর্তে কান্না ভেঙ্গে পড়েন লিএ মেসি কারন ছিলো করোনা কারনে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মাঠে ফিরেছে দর্শকরা তাদের সাথে কোপার চ্যাম্পিয়ন উদযাপন না করতে পেরে আজ ম্যাচ শেষে সে উদযাপন করে নিয়েছে টিম আর্জেন্টিনা।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / khurshedalm@msprotidin.com
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর সর্বশেষ

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - অপরাধ