a
ফাইল ছবি
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে ভর্তিচ্ছুদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, অনেকে কম জিপিএ নিয়ে পছন্দের কলেজ-সাবজেক্ট পাচ্ছেন আবার কেউ কেউ এসএসসি-এইচএসসিতে জিপিএ-৫ নিয়েও পাচ্ছেন না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিচ্ছুকরা বলছেন, মূলত বিজ্ঞান বিভাগে চলতি শিক্ষাবর্ষে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় এ জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ বিভাগটিতে একদিকে যেমন প্রতিযোগির সংখ্যা বেশি অন্যদিকে জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও বেশি হওয়ায় তুলনামূলক কম জিপিএ পাওয়া ভর্তিচ্ছুরা প্রথম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া মানবিক এবং ব্যবসা শাখার শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী কলেজ-সাবজেক্ট পাচ্ছেন। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের (http://app8.nu.edu.bd/nu-web/applicantLogin.action) পাশাপাশি উত্তীর্ণদের মোবাইল ফোনে ম্যাসেজের মাধ্যমে ফলাফল জানানো হচ্ছে।
এদিকে, এবারও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তির ফল প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তিচ্ছুদের আবেদনের ভিত্তিতে এটি ছিল প্রথম মেধা তালিকা। পরবর্তীতে দ্বিতীয়, তৃতীয় মেধা তালিকাও দেবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, ডাবল জিপিএ-৫ নিয়ে পছন্দের কলেজ-সাবজেক্ট না পেলেও অনেকে আরও কম জিপিএ নিয়েও পেয়েছেন।
চলতি বছরে পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মূল্যায়নে পাস করেছেন সবাই। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬২০ জনই বিজ্ঞান ও গার্হস্থ্য বিভাগের (গ্রুপ) পরীক্ষার্থী। বাকিদের মধ্যে ১৯ হাজার ৬৬৪ জন মানবিক, ইসলাম শিক্ষা ও সংগীত বিভাগের এবং ১০ হাজার ৩৩০ জন ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থী আবেদনের পর যারা সাবজেক্ট পেয়েছেন এসব শিক্ষার্থীদের মাঝেও রয়েছে অসন্তোষ।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: সম্প্রতি ঘোষিত 'ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাব ও নীতিগত সিদ্ধান্তের কারনে ইডেন কলেজের সক্ষমতা সংকোচন ও স্বাতন্ত্র্য বিনষ্ট হওয়ার আশংকা প্রবল হয়েছে। ইডেন মহিলা কলেজ প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দের পক্ষ থেকে হেলেন জেরিন খান, প্রফেসর নিশরাত বেগম, সুলতানা রাজিয়া, খন্দকার ফারহানা ইয়াসমীন আতিকা, ডক্টর নাহিদ মনসুর, প্রফেসর শামীমা, প্রফেসর রহিমা সুলতানাসহ অন্যান্যদের নেতৃত্বে আজ তাদের স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন।
ইডেন মহিলা কলেজ প্রাক্তন ছাত্রীবৃন্দ আজ ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ইং দুপুরে রাজধানী ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। এখানে লিখিত মূল বক্তব্য পাঠ করেন হেলেন জেরিন খান। তারা বলেন, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারী কলেজকে ঘিরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠন ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইডেন মহিলা কলেজ উপমাহাদেশের প্রথম নারী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রায় ২২,০০০ শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে সুনাম ও কৃতিত্বের সাথে জাতির অগ্রযাত্রায় অবদান রাখছেন ।
আমাদের পর্যবেক্ষন
১। ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা কলেজ দীর্ঘকাল ধরে নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় অবিস্মরনীয় ভুমিকা পালন করে আসছে। বিশেষত ধর্মপ্রাণ ও নিম্ন-আয়ের পরিবারের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এগুলো নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ন শিক্ষাকেন্দ্র। কিন্তু খসড়া অধ্যাদেশের ৬(১)(খ) ধারা অনুযায়ী ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজে সহশিক্ষা চালুর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যা নারীশিক্ষার নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার পরিপন্থী । এটি নারী শিক্ষার্থীদের পছন্দের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করবে এবং শতবর্ষব্যপী নারী শিক্ষার ঐতিহ্য নষ্ট করবে। প্রস্তাবিত সংকোচন কার্যকর হলে রাজধানীতে নারীদের উচ্চশিক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, তাদের প্রবেশাধিকার সংকীর্ন হবে এবং সংবিধান প্রদত্ত সমান সুযোগের নিশ্চয়তা লঙ্ঘিত হবে। সংবিধানে ২৮(১) ও (২) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ২৮ (8) অনুচ্ছেদে নারীর জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানের অনুমোদন রয়েছে। একই সাথে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG ৪.৩ ও ৪.৪) নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমানভাবে উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারনের আহ্বান জানিয়েছেন । সুতারং প্রস্তাবিত সংকোচন কেবল সাংবিধানিক দায়িত্বের পরিপন্থী নয় বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
২। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ সেশনে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার সময় আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস করা হয়েছে। ফলে দেশের বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা হতে বঞ্চিত হবে এবং তুলনামূলক সামর্থবান অনেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকবে, যা শিক্ষার বানিজ্যিকীকরণ বাড়াবে।
৩ । বিসিএস সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পেশায় ইডেন মহিলা কলেজ ও বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা সফলতার সাথে কর্মরত রয়েছেন । উল্লেখ্য ইডেন মহিলা কলেজের ৫১ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে নিজ কলেজেই কর্মরত আছেন, আর সারাদেশে এ সংখ্যা আরও বেশি। আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় হলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের পদ সেখানে সংকুচিত হয়ে যাবে। ইতোপূর্বে জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের ফলে সেখানকার ৪০০+ পদ বিলুপ্ত হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য যে, গত ১০ বছরে এই ক্যাডারে কোনো নতুন পদ সৃষ্টি হয়নি। বর্তমানে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হলে সাত কলেজের ১৪০০+ পদ বিলুপ্ত হলে তা ভবিষ্যত বিসিএস সাধারন শিক্ষা ক্যাডার পদপ্রার্থীদের বিশাল সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবে।
৪। ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রস্তাবিত কাঠামোর প্রতি অনাগ্রাহ প্রকাশ করে আন্দোলনে নেমেছে। ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা মানব বন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাই সকল অংশীজনের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা না করলে ব্যাপক শিক্ষার্থী অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি তৈরি হবে।
আমাদের সুপারিশ:
১। জাতীয় ইতিহাস ও সামাজিক বাস্তবতায় ইডেন মহিলা কলেজকে বিলুপ্ত বা একীভূত করার উদ্যোগ
অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত হবে ।
২। কলেজগুলোর বিদ্যমান অবকাঠামো, সক্ষমতা ও ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনা করে ৭ কলেজকে কলেজিয়েট বা অধিভুক্তিমূলক কাঠামোর আওতায় রাখা ।
৩ । শিক্ষকদের পদ সংখ্যা বৃদ্ধি, গবেষণা বাজেট, আধুনিক ল্যাব, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, আবাসন ও বৃত্তি সুবিধা সম্প্রসারনের মাধ্যমে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা।
৪। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত যৌক্তিকীকরণ করা। পাশাপাশি পাঠদানকৃত বিষয়সমূহ ও সিলেবাস পুনর্বিবেচনা করে যুগোপোযুগী করে তোলা ।
৫ । শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের স্বার্থ সুরক্ষা করে শিক্ষা পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ।
৬ । সকল অংশীজনের জানার অধিকার ও তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ৷
৭। প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিকে অন্য কোন পৃথক ক্যাম্পাসে স্থাপন করে ঢাকার সাতটি কলেজসহ বিভাগীয় অন্য আরও শতবর্ষী কলেজকে অন্তর্ভূক্ত করা।
আমরা শান্তি চাই, স্থিতি চাই। ইডেন কলেজসহ সাত কলেজের ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র মর্যাদা যেন বলি না হয়, ইডেন মহিলা কলেজ ও বদরুন্নেসা মহিলা কলেজে যেন সহশিক্ষা চালু না হয়, শিক্ষার বানিজ্যিকীকরণ যেন না হয় - এটাই আমাদের কাম্য।
জো বাইডেন ও নরেন্দ্র মোদি
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে মহাবিপর্যয়ে আছে ভারত। অক্সিজেনসহ প্রায় সকল চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে ইতমধ্যে দিশেহারা হয়ে পড়েছে দেশটি।
মৃত্যু ও সংক্রমণ দুটোই দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণ সাড়ে ৩ লাখ ছাড়িয়েছে।
আমেরিকার মতোই করোনার ধাক্কায় ভারতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়েছে। এসব পরিস্থতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ সময় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমেরিকা এবং ভারত যৌথভাবে কাজ করতে একমত হয়েছেন।
সোমবার রাতে ফোনে এসব বিষয়ে আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্র প্রধানের সাথে। হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ খবর জানানো হয়।
দু’দেশের শীর্ষনেতার মধ্যে আলোচনায় ভারতের কোভিড রোগীরা যে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছেন, তা নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে বলে জানায় হোয়াইট হাউস।
করোনা টিকার কাঁচামাল সরবরাহ করার ব্যাপারে পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে ভারতকে রবিবারই টিকার কাঁচামাল সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছিল আমেরিকা। তার একদিন পর সোমবার বাইডেন জানিয়েছেন, ভারতের করোনা রোগীদের চিকিৎসায় আপৎকালীন সব ধরণের সহযোগিতা করবে তার প্রশাসন।