a
ফাইল ছবি
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বেশ জনপ্রিয় বৃত্তির গুলোর একটি হলো ‘শেভেনিং স্কলারশিপ’। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাজ্যের শেভেনিং স্কলারশিপের জন্য আবেদন গ্রহণ আজ মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী শেভেনিং বৃত্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে পড়ছেন। এ বছরের বৃত্তির আবেদনের শেষ দিন আগামী ৭ নভেম্বর। বৃত্তির বিস্তারিত জানা যাবে chevening.org ওয়েবসাইট থেকে।
বাংলাদেশ থেকে ৩৮০ জনেরও বেশি শেভেনিং বৃত্তি পেয়ে যুক্তরাজ্য পড়াশোনা করেছেন। এ স্কলারশিপে ফুল ফ্রি। এর সঙ্গে বিমানের টিকিট ও বাসস্থানও মিলবে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী শেভেনিং বৃত্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে পড়ছেন। যুক্তরাজ্যের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস (এফসিও) ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন এ বৃত্তির জন্য অর্থায়ন করে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবেন—এমন যোগ্যতাসম্পন্ন তরুণদের বৃত্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেয় শেভেনিং বৃত্তি। এ বৃত্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের একটি নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর করার সুযোগ পাওয়া যায়।
স্নাতক পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ডিগ্রি আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়। যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তির সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করা হয়। বৃত্তির জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। আইইএলটিএসে ন্যূনতম ৬.৫ স্কোর থাকতে হয়।
নেতৃত্বের ভিত্তিতে দেওয়া স্কলারশিপের মধ্যে শেভেনিং অন্যতম সবচেয়ে সেরা। চিকিৎসকসহ সবাই এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ বৃত্তি পেলে যুক্তরাজ্যের ১৫০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করতে পারবেন। বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা, নেতৃত্বদানের অভিজ্ঞতা, নিজের দেশ ও সমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাবের দিকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৃত্তির মাধ্যমে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে শিক্ষার্থীদের দুই বছর কাজের অঙ্গীকার করতে হয়।
বৃত্তি যাঁরা পাবেন, তাঁদের উদ্দেশে শেভেনিংয়ের পরিচালক মিরান্ডা থমাস বলেছিলেন, ‘আমরা আপনার জন্য একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করি, যা আপনাকে ব্রিটেনের ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে একাডেমিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোয় আপনাকে অভ্যস্ত করে তুলবে। এর আগে বৃত্তিপ্রাপ্তরা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিট পরিদর্শন করেছেন, লন্ডনের গ্যালারিগুলোয় শিল্পের প্রদর্শনী দেখেছেন। বিবিসিতে ইন্টার্ন করেছেন।’
শেভেনিং বৃত্তির আবেদনের জন্য যোগ্যতা হিসেবে পড়াশোনাকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্নাতক পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ডিগ্রি আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তির সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করা হয় বৃত্তির ক্ষেত্রে। বৃত্তির জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ ছাড়া বৃত্তির জন্য ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষা আইইএলটিএসে ন্যূনতম ৬.৫ স্কোর থাকতে হবে।
যুক্তরাজ্য সরকারের শেভেনিং বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হয় অনলাইনের মাধ্যমে। যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্সে আবেদন করতে হবে। আবেদনের জন্য বেশ কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন। ইংরেজি ভাষায় দুটি রেফারেন্স লেটার বা সুপারিশপত্র, পাসপোর্ট/ জাতীয় পরিচয়পত্র, সর্বশেষ পড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে। বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ভর্তির ‘অফার লেটার’ সংযুক্ত করতে হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচনের পর মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনে। শেভেনিংয়ের ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করা যাবে।
আবেদনের সময় যা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে—
*আবেদনের সময় সব তথ্য ঠিকঠাকভাবে দিতে হবে
*নেটওয়ার্কিংয়ের দক্ষতা, আগামী দিনের নেতৃত্বদানের সম্ভাবনা বৃত্তিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে গুরুত্ব পায়।
*আপনি যদি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, সেটিও কাজে আসবে।
*শেভেনিং বৃত্তির আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
সূত্র: প্রথম আলো
ফাইল ফটো: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবন
করোনার সংক্রমণ বাড়ার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রুখতে ১২ দফা সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসবের মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা, যে কোনো পাবলিক পরীক্ষা যেমন—বিসিএস, এইচএসসি ও এসএসসিসহ অন্যান্য পরীক্ষা বন্ধ রাখা।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও বর্তমানে করণীয় সম্পর্কে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১২টি প্রস্তাব গৃহীত হয়।
১. সম্ভব হলে কমপ্লিট লকডাউনে যেতে হবে, সম্ভব না হলে ইকোনমিক ব্যাল্যান্স রেখে যে কোনো জনসমাগম বন্ধ করতে হবে।
২. কাঁচাবাজার, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, শপিং মল, মসজিদ, রাজনৈতিক সমাগম, ভোট অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, পবিত্র রমজান মাসের ইফতার মাহফিল ইত্যাদি অনুষ্ঠান সীমিত করতে হবে।
৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেগুলো বন্ধ আছে সেগুলো বন্ধ রাখতে হবে। অন্যান্য কার্যক্রম সীমিত রাখতে হবে।
৪. যে কোনো পাবলিক পরীক্ষা (বিসিএস, এসএসসি, এইচএসসি, মাদ্রাসা, দাখিলসহ অন্যান্য) বন্ধ রাখতে হবে। ৫. কোভিড পজিটিভ রোগীদের আইসোলেশন জোরদার করা।
৬. যারা রোগীদের সংস্পর্শে আসবে তাদের কঠোর কোয়ারেন্টাইনে রাখা।
৭. বিদেশ থেকে বা প্রবাসী যারা আসবেন তাদের ১৪ দিনের কঠোর কেয়ারেন্টাইনে রাখা এবং এ ব্যাপারে সামরিক বাহিনীর সহায়তা নেওয়া।
৮. আগামী ঈদের ছুটি কমিয়ে আনা।
৯. স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আইন প্রয়োজনে জোরদার করা।
১০. পোর্ট অব এন্ট্রিতে জনবল বাড়ানো, মনিটরিং জোরদার করা।
১১. সব ধরনের সভা ভার্চুয়াল করা।
১২. পর্যটন এলাকায় চলাচল সীমিত করা।
ফাইল ছবি
বিশ্বের ধনী দেশগুলোর স্বার্থপরভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিয়ন্ত্রণকে অনৈতিক এবং অন্যায্য বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, দরিদ্র দেশগুলোকে ভ্যাকসিন লাভের সুযোগ না দেয়ায় মহামারির বিরুদ্ধে দেশগুলো সুরক্ষা হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকিতেই থাকছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, প্রত্যেক দেশে জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশী লোককে টিকাদান করতে হবে। কিন্তু কোভিড-১৯ সংকট কাটাতে কাজ খুব কম হয়েছে। ধনী দেশগুলোকে এসব দরিদ্র দেশে ভ্যাকসিন পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
হু চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রতিটি দেশের ১০ শতাংশ লোককে ভ্যাকসিন প্রদান সম্পন্ন করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল, তবে ৫৬ টি দেশে এই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। হু প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসিস বলেন, এ ক্ষেত্রে এসব দেশের নিজেদের কোন দোষ ছিল না।
সংস্থা বলেছে, প্রতিমাসে ১.৫ বিলিয়ন ভ্যাকসিন তৈরি করা হচ্ছে, অথচ এক সপ্তাহের কম সময়ের উৎপাদন দিয়ে এই ১০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যেতো।
হু প্রধান টেড্রোসের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, “ভ্যাকসিন সরবরাহে বৈষম্য কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় প্রতিবন্ধক হয়ে রয়েছে।”