a
ফাইল ছবি
৭৪তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ প্রদর্শনের পর হলভর্তি দর্শকের করতালিতে অভিভূত হয়ে আনন্দ অশ্রুতে ভেসেছেন আজমেরী হক বাঁধন। ভাষাগত দূরত্ব ছাপিয়ে দর্শকদের মাঝে কেউ কেউ পর্দার রেহানার মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন।
সিনেমাটি দেখে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন অনেক ফরাসি নারী দর্শক। সিনেমাটি দেখে এক ফরাসি নারী দর্শক হলের ভেতরে বাঁধনকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেই মুহূর্তে জোর চেষ্টায়ও নিজের কান্না লুকাতে পারেননি বাঁধন। এ সময় তাকে অঝোরে কান্না করতে দেখা যায়।
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবিটি কানের ডবসি থিয়েটারে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ১৫ মিনিট) প্রদর্শনী শুরু হয়। প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টা ব্যাপ্তির এই সিনেমাটির শুরু থেকে শেষ অবধি হলভর্তি দর্শক দেখেছেন পিনপতন নীরবতায়। শেষ হওয়ার পর দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং হাততালিতে মুখরিত করেন ডবসি থিয়েটার।
চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের পর ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয়কারী আজমেরী হক বাঁধনকে নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেহানা মরিয়ম নূরকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।
হল থেকে বেরিয়েও কেউ কেউ চরিত্র হিসেবে রেহানার প্রতি ও বাঁধনের অভিনয়ের প্রতি মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন।
প্রদর্শনী শেষে বুধবার লাঞ্চের ফাঁকে এক বিদেশি পরিচালক বাঁধনের অভিনয়ের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘ইউ আর অ্যামাজিং’।
ডিনার থেকে ফেরার পথে এক ফরাসি নারী বাঁধনকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছেন, ‘তুমি তো রেহানা, তোমার ছবিটি দেখেছি। দুর্দান্ত। আমি কি তোমায় একটু ছুঁয়ে দেখতে পারি?’
বাঁধন বলছেন, এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়ে তিনি বোকা বনে গিয়েছিলেন। তাকে এভাবে কেউ চিনবে সেটি জীবনে কল্পনা করার সাহসই পাননি।
আগামী ১৮ জুলাই অভিনেত্রীসহ পুরো টিম দেশে ফিরবেন বাঁধন। অভিনেত্রীর এই ছবিটি শুরু থেকে বেশ আলোচনায়। এই ছবিটির জন্য বাঁধনকে বেশ চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে বলেও জানান।
তার ভাষ্য, এই ছবির জন্য দেড় বছর আমি অন্য কোনো কাজ করিনি। এই ছবির কাজের দেড় বছর আমার জন্য মূল্যবান সময় ছিল। এখানে কাজ করতে গিয়ে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি। চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমি এই কাজটি করেছি। যে সময় সবার একটাই কথা ছিল আমি হারিয়ে যাচ্ছি। আমার ক্যারিয়ার শেষ। ঠিক সেই সময়ে আমি এই কাজ শুরু করি। অবশেষে আমার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। সূত্র: যুগান্তর
ফাইল ফটো:
গতকাল সোমবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে নায়ক শাহীন আলম ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। কিডনিজনিত জটিলতা নিয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত ৬ মার্চ থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। সোমবার রাত ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় এই নায়ক ১৯৮৬ সালে এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন। ফিল্ম ক্যারিয়ারে অনেক উল্লেখযোগ্য সিনেমা রয়েছে তার। তবে মৃত্যুর আগে অনেক বছর ধরেই তিনি ছিলেন সিনেমা জগতের বাইরে ছিলেন। মৃত্যুর আগে কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে ইসলামকে ভালোবেসে অভিনয় ছেড়ে দেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
শাহীন আলম বলেছিলেন, ‘আমি তো মুসলমান। পরকালে বিশ্বাসী। আমাকে একদিন না একদিন ওই সর্বশক্তিমানের কাছে ফিরতেই হবে। তখন কী জবাব দেব? একটা মানুষ কত দিন বাঁচে? ধরুন খুব বেশি হলে ১০০ বছর। এরপর তো আল্লাহর কাছে গিয়ে জবাবদিহি করতে হবে। তাই আমি বলব, আগে পরকালের হিসাবের খাতাটা ঠিক রাখতে হবে। এসব বিবেচনা করেই সিনেমা থেকে সরে এসেছি। আস্তে আস্তে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।’
সিনেমাজগৎ থেকে সরে আসার আরো কয়েকটি কারণ জানিয়েছিলেন এক কালের রূপালী পর্দা কাঁপানো জনপ্রিয় নায়ক শাহীন আলম।
উল্লেখ্য, মঞ্চনাটকের মাধ্যমে অভিনয়ের শুরু করেন শাহীন আলম। ১৯৮৬ সালের এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘মায়ের কান্না’, যেটি ১৯৯১ সালে মুক্তি পায়। যদিও গোয়েন্দা কাহিনি 'মাসুদ রানা' দিয়ে অভিনয় জগতে পা রাখার কথা ছিল তার। অর্থ সংকটে পড়ে বিগবাজেটের ছবিটি ৩০ শতাংশ কাজ হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায়। তবে 'নয়া বাইদানি' ছবিতে অভিনয়ের পর শাহীন আলমকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
তবে 'স্বপ্নের নায়ক’ ছবিতে অমর নায়ক সালমান শাহর সঙ্গে অভিনয় করে বেশি আলোচনায় আসেন জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক।
ক্যারিয়ারে দেড়শ’র বেশি ছবিতে অভিনয় করা এ চিত্রনায়কের অন্যতম ছবিগুলো হচ্ছে - ঘাটের মাঝি, এক পলকে, গরিবের সংসার, তেজী, চাঁদাবাজ, প্রেম প্রতিশোধ, টাইগার, রাগ-অনুরাগ, দাগী সন্তান, বাঘা-বাঘিনী, আলিফ লায়লা, স্বপ্নের নায়ক, আঞ্জুমান, অজানা শত্রু, দেশদ্রোহী, প্রেম দিওয়ানা, আমার মা, পাগলা বাবুল, শক্তির লড়াই, দলপতি, পাপী সন্তান, ঢাকাইয়া মাস্তান, বিগবস, বাবা ও বাঘের বাচ্চা।
ফাইল ছবি
করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে সিঙ্গাপুরে এমন এক পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে যাতে একটি কিটের মাধ্যমে নিঃশ্বাস নিয়ে এক মিনিটেই ফল পাওয়া যাবে।
এই ‘ব্রেদালাইজার কিট’ তৈরি করেছে সিঙ্গাপুরের এক কোম্পানি ব্রেদোনিক্স। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যুক্ত এ কোম্পানিটি বলছে, তারা এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে।
কোভিড-১৯ শনাক্ত করতে বর্তমানে যে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়, তার পাশাপাশি এই শ্বাস-প্রশ্বাস বিশ্লেষণের পরীক্ষাটিও চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত বছর এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হয়েছিল সেখানে ৯০ শতাংশ সঠিক ফল এসেছিল বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। সূত্র: বিবিসি