a
ফাইল ছবি
দীর্ঘদিনের জল্পনা কল্পনার ইতি টেনে বর্তমান বদলগাছী উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও কৌতুক অভিনেতা চিকন আলীর স্ত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা তার স্বামী শামিনুর রহমান ওরফে চিকন আলীকে ডিভোর্স দিয়েছেন। ডিভোর্সের কাগজ হাতে পাওয়ার পর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা চিকন আলী।
১৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার, রাত সাড়ে দশটায় তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আক্ষেপ করে লিখেছেন যে,শুধু প্রেমিকের জন্য আমাদের বিবাহিত জীবনের ১৬ বছরের সম্পর্ককে ইতি টানলেন? দুই বাচ্চার মায়া ত্যাগ করে,তিনি গত গত ১৩ আগস্ট তারিখে আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়ে,পরের দিন শনিবার ১৪ আগস্ট,২০২১ তারিখে আমাকে ডিভোর্স দেয়। তাহলে বুঝা গেলো পুর্ব পরিকল্পনামতো তিনি কাজ করেছেন। আমি বাইক এক্সিডেন্ট করে যে দুইমাস তার সাথে ছিলাম, সে কোন ফোন ব্যবহার করে নাই। এখন সেই ফোন খোলা আপনারাই বলেন,এই নারীর কি বিচার হওয়া উচিৎ।
উল্লেখ্য যে গত বুধবার (১৮ আগষ্ট) রাত ১১ টায় ‘চিকন আলী শামীনুর রাহমান’ নামে তার ফেসবুক আইডি থেকে পোষ্টে লিখেছে- ‘বদলগাছী উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, খালেদা আক্তার কল্পনা, পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে গত শুক্রবার বের হয়ে গেছেন। যদি কেউ তার সন্ধান পেয়ে থাকেন। নিকটস্থ থানায় অবহিত করবেন…. ধন্যবাদ।
চিকন আলীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগষ্ট ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আক্তার বাড়ি থেকে বড় ছেলে আরিয়ান (১৫) ও ছোট ছেলে আহবানকে সঙ্গে নিয়ে পাশ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলায় চিকিৎসার জন্য যান। চিকিৎসা শেষে বড় ছেলেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি আর বাড়ি ফিরেননি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার সন্ধ্যান চেয়ে ফেসবুকে ছবিসহ একটি পোষ্ট দেন চিকন আলী।
শামীনুর রাহমান ওরুফে চিকন আলী বলেন, ভালবেসে তাকে (খালেদা আক্তার কল্পনা) বিয়ে করেছিলাম। বিয়ের আগে বুঝতে পারিনি বিভিন্ন জনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এরমধ্যে এক সন্তান জন্ম নেয়। সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে আর ডিভোর্সের কোন চিন্তা না করে সংসার চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু কিছুতেই সে সংশোধন হচ্ছিল না। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম আমার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তাকে জনপ্রতিনিধি করার। কারন জনপ্রতিনিধি হলে আত্মসন্মানের জন্য হয়তো ভাল হবে। এরপর ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার পর বয়স্ক, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আসতে থাকে। এলাকার কোন উন্নয়ন না করে সবকিছু আত্মসাৎ করত। এলাকাবাসী আমাকে ফোন করে এসব অভিযোগ করতো। আত্মসাতকৃত টাকা তার বাবার বাড়িতে পাঠাতো। এসব বিষয় নিয়ে তার সাথে একাধিকবার মনোমানিল্য হয়। তাকে সংশোধন হতে বলা হয়। উল্টো আমাকেই মামলার হুমকি দেয়। ছেলের চিকিৎসা করানো কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এমনকি তার ফোন নম্বরও বন্ধ আছে। তার বাবার বাড়িতে কয়েক ঘন্টা ছিল বলে শুনেছি। তার অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান তিনি।
ফাইল ছবি
সাবেক স্বামী চিত্রনায়ক শাকিব খানের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ ধীরে ধীরে গলছে বলে জানিয়েছে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। শাকিব খানের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান অপু বিশ্বাস। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অপু বিশ্বাস জানালেন, শাকিব খানের সঙ্গে এখন প্রায়ই তাঁর কথাবার্তা হয়। ব্যক্তিগত ব্যাপারের পাশাপাশি কাজ নিয়েও পরামর্শ পান তাঁর কাছে।
অপু বলেন, ‘আমরা দুজন মিলেই জয়কে স্কুল থেকে আনা-নেওয়া করি। কখনো আমি রেখে আসি, শাকিব নিয়ে আসে। শাকিব রেখে আসে, আমি নিয়ে আসি। তা ছাড়া শাকিব আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার বা মিডিয়াতে কাজের ব্যাপারেও মাঝেমধ্যে পরামর্শ দেয়।’
অপু বিশ্বাসের উপলব্ধিগুলো প্রকাশ্যে আসার পর ইন্ডাস্ট্রিতে কানাঘুষা চলছে, বিচ্ছেদ ভুলে আবার এক ছাদের নিচে আসছেন এ জুটি? বিষয়টি জানতে চাইলে অপু বিশ্বাস বললেন, ‘সেটা এখন বলব না, সময় বলে দেবে। আগে কী করছে না করছে, সেটা আমি জানি না, শাকিবের এখন অনেক পরিবর্তন লক্ষ করেছি। সন্তান, পরিবার-পরিজনের প্রতি দারুণ আবেগ কাজ করে তার। শাকিব একজন ভালো মনের মানুষ।’
আব্রাহাম খান জয় বেশির ভাগ সময়ই শাকিব খানের গুলশানের বাসায় দাদা-দাদির কাছে থাকে। সেই সুবাদে অপু বিশ্বাসের শাকিবের বাসায় যাতায়াত বেড়েছে। অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমার তো মা-বাবা নেই। শ্বশুর-শাশুড়িই এখন আমার মা-বাবা। তো বাবা-মায়ের বাসায় যাব না কেন? প্রায়ই যাওয়া হয় সেখানে। তাঁরা আমাকে একেবারেই মেয়ের আদরে দেখেন। আমাকে খুব ভালোবাসেন তাঁরা। আমার মা মারা যাওয়ার পর কাছের মানুষদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার বিষয়টি আমি নিজ থেকে বেশি অনুভব করেছি। এতে তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কটা আরও গাঢ় হয়েছে আমার।’
অপু বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমি শাশুড়ির কাছে ফোন করে ইলিশ মাছ খেতে চেয়েছিলাম। মা বললেন, “ঠিক আছে আমি রান্না করছি। একটু পর ফোন করে জানাও সঙ্গে কী দিয়ে রান্না করব।” এর পর আমি ফোন রেখে ভুলে গেছি। হঠাৎই শাশুড়ির ফোন। ধমকের স্বরে বললেন, “এই মেয়ে, তুমি কী দিয়ে ইলিশ খাবে, জানাতে বললাম, দেরি করছ কেন?” এই হলে আমার শাশুড়ি। সত্য কথা বলি, আমার জীবনে ভুলভ্রান্তি হতে পারে, কিন্তু আমি একটা পর্যায়ে এসে বুঝেছি, তাঁরা কতটা ভালো মনের মানুষ। এখন কতটা আমাকে ভালোবাসেন তাঁরা।’
শাকিবের ছোট বোন মনির সঙ্গেও অপুর মান-অভিমান ভেঙে আবার দুজনের বন্ধুর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। অপু বিশ্বাস বলেন, ‘সে আমাকে খুব ভালোবাসত, আমিও। কিন্তু মাঝে আমার আর শাকিবের ঘটনার কারণে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এখন আমাদের সেই পুরোনো সম্পর্ক ফিরেছে। মনি আমার কাছে ঠিক বন্ধুর মতোই। মনি তো জানে আমি কী খেতে পছন্দ করি। মাঝে মধ্যে মনি সেই আইটেমের খাবার রান্না করে আমাকে ডেকে নেয়।’ সূত্র:প্রথমআলো
ফাইল ছবি
বর্তমান প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে ইলন মাস্কের নামের সাথে পরচিত নন এমন মানুষ বোধহয় একজনও খুঁজে পাওয়া যাবে না। দুই হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক বিলিয়িনিয়ার ব্যবসায়ী, যাকে নিউইয়র্ক টাইমস “ধাতব স্যুটবহিীন আয়রনম্যান” বলে ঘোষণা করছে সেই ইলন মাস্ক এর সাফল্য, ব্যর্থতা ও স্বপ্নের কাহিনি কেমন তাই তুলে ধরা হচ্ছে
বর্তমান বিশ্বের বেশিরভাগ তরুণই উদ্যোক্তাই স্বপ্ন দেখে ইলন মাস্ক হয়ে ওঠার। তাঁকে আদর্শ মেনে অনেকেই উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখছে। আজকের বিশ্ববিখ্যাত পে-পাল, স্পেস এক্স, টেসলা তাঁরই অবদান।
ইলন মাস্কের জন্ম:
ইলন মাস্ক জন্মগ্রহণ করেন দক্ষিন আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায়। মার্কিন এই উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক এর পুরো নাম ইলন ‘রীভ’ মাস্ক। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৮শে জুন। সারাবিশ্বে তুমুল জনপ্রিয় পে-পাল, স্পেস এক্স ও টেসলা মটরস প্রতিষ্ঠাতা এই ব্যক্তি নিজেই। ২০০২ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। মাস্ক তাঁর জীবনের দ্বিতীয় দশকের শেষ দিকে কমপ্যাক্ট কম্পিউটার্সের একটি শাখার কাছে তাঁর প্রথম কোম্পানী “জিপ টু” বিক্রি করে প্রথমবারের মত মাল্টিমিলিয়নেয়ারের খাতায় নাম লেখান। ২০১২ সালের মে মাসে তিনি শিরোনামে উঠে আসেন যখন তাঁর কোম্পানী স্পেস এক্স প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে অর্থের বিনিময়ে ভ্রমনেচ্ছুক যাত্রী প্রেরণ করে।
সম্পদ: বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ২০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ফেব্রুয়ারী ২০২১), গত এক বছরে হু হু করে বেড়েছিল মাস্কের সম্পত্তির পরিমাণ৷ ২০২১ এর শুরুতে তিনি জেফ বেজোসকে পিছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির শিরোপা পান। তবে এবার বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়লেন তিনি। ২০০২ সালে পে পাল বিক্রি করার মধ্য দিয়ে তিনি প্রথমবারের মত বিলিয়ন ডলার আয় করেন। তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স এর মোট সম্পদের পরিমান তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের থেকেও বেশি।
শিক্ষা:
১৯৮৯ সালে সতের বছর বয়সে মাস্ক কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব এড়ানোর জন্য দক্ষিন আফ্রিকা থেকে কানাডায় পাড়ি জমান।
১৯৯২ সালে কানাডা ত্যাগ করে আমেরিকায় পাড়ি জমান পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা ও পদার্থ বিজ্ঞান অধ্যয়ন করার উদ্দেশ্যে। তিনি অর্থনীতিতে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করার পর পদার্থ বিজ্ঞানে আরেকটি ব্যাচেলর অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যায়ে থেকে যান।
পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে জ্বালানী পদার্থ বিদ্যায় পিএইচডি করার উদ্দেশ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেই সময়েই ইন্টারনেট বিপ্লবের সূচনা হয় এবং এই বিপ্লবের অংশ হওয়ার জন্য মাস্ক মাত্র দুইদিন পিএইচডি প্রোগ্রামে কাজ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় বের হয়ে যান।
ইলন মাস্ক ও পে-পাল:
১৯৯৯ সালে মাস্ক তাঁর ভাইয়ের সাথে মিলে অনলাইন আর্থিক লেনদেন সেবাদাতা সাইট এক্স ডট কম সহপ্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী বছর নতুন কিছু বিষয় যোগ হওয়ার মাধ্যমে এক্স ডট কম আজকের পে-পালে পরিনত হয়। ২০০২ সালের অক্টোবর মাসে ১.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের স্টকের মাধ্যমে ইবে পে পালকে কিনে নেয়।
স্পেস এক্স প্রতিষ্ঠা:
২০০২ সালে মাস্ক বাণিজ্যিক মহাকাশ ভ্রমণ সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে মহাকাশযান তৈরী করার জন্য স্পেস এক্স কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি রকেটের সম্পর্কে এর আগে তেমন কিছু জানতেন না। কিন্তু অল্পকিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিজেকে রীতিমত একজন রকেট বিজ্ঞানীতে পরিনত করেন। তিনি এটা কিভাবে সম্ভব করলেন জানতে চাইলে তাঁর উত্তর ছিল “আমি (এই বিষয়ে) অনেকগুলো বই পড়েছি।” ২০০৮ সালের ভেতরেই স্পেস এক্স একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মহাকাশযান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয় এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে মালামাল পৌঁছানোর চুক্তি স্বাক্ষর করে – যার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নাসার নিজস্ব মহাকাশযানের বদলে স্পেস এক্স এর যানে মহাকাশচারী আনা নেয়ার বিষয়ও ছিল!
ফ্যালকন ৯ রকেট:
২০১২ সালের ২২শে মে মাস্ক এবং তাঁর কোম্পানী একটি নামহীন ক্যাপসুলসহ ফ্যালকন ৯ রকেট উড্ডয়ন করে। মহাকাশযানটিতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে অবস্থানরত মহাকাশচারীদের জন্য ১০০০ পাউন্ড ওজনের রসদ ছিল।
২০১৩ সালের ডিসেম্বরে স্পেস এক্স আরও একটি মাইলফলক অতিক্রম করে ফ্যালকন ৯ এর মাধ্যমে একটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়ে। স্যাটেলাইটটি এতটা দূরত্বে পাঠানো হয় যাতে করে পৃথিবীর নিজের কক্ষপথ ও গতিকে অনুসরণ করে চলতে পারে।