a
প্রতিকী ছবি
ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোয় পবিত্র নগরী জেরুজালেমে এক মুসলিম কিশোরকে গাড়িচাপা দিয়েছে ইসরাইলের পুলিশ। গতকাল রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় আল-আকসা মসজিদের দক্ষিণে সিলওয়ান জেলার একটি রাস্তায় শিশুর ওপর ওই বর্বর হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী।
জাওয়াদ আব্বাসি (১৫) নামে ওই ফিলিস্তিনি কিশোর তার বাইসাইকেলে নিজ দেশের পতাকা উড়িয়ে রুটি কিনতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। খবর আরব নিউজের।
রাস আলমন্ড নামে এলাকায় আসার পর দখলদার ইসরাইলি পুলিশ ওই ফিলিস্তিনি কিশোরকে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে।
একপর্যায়ে ইসরাইলি পুলিশ তার ওপর গাড়ি তুলে দিতে গেলে গাড়ির ধাক্কায় সাইকেল থেকে পড়ে হাত, পা ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ইসরাইলি পুলিশের এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা সোস্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সেখানে ইসরাইল পুলিশকে বলতে শোনা যায়, ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানোর দায়ে তাকে গাড়িচাপা দেওয়া হয়েছে।
ফাইল ছবি
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির কাছে অবস্থিত ইরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র মতে, শনিবার রাতে একাধিক সশস্ত্র ড্রোন দিয়ে মার্কিন ঘাঁটির কাছে ইরবিল বিমানবন্দরে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর আনাদোলুর।
মার্কিন সামরিক জোটের ঘাঁটি হিসেবেও পরিচিত ওই বিমানবন্দর। এক বিবৃতিতে বিমানবন্দরের পরিচালক আহমেদ হোচেয়ার জানিয়েছেন, হামলায় বিমানবন্দরের কোনো ক্ষতি হয়নি।
কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের পরিচালক জানিয়েছেন, দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। সে সময় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে সাইরেন বেজে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিরাপত্তা সদস্যরা বিমানবন্দর এলাকা বন্ধ করে দিয়েছেন। গত কয়েক মাস ধরেই ইরাকে মার্কিন বাহিনী বা মার্কিন সদস্যদের অবস্থান লক্ষ্য করে একের পর এক হয়ে আসছে।
এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এসব হামলার দায় স্বীকার না করলেও ইরাকে অবস্থিত ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীকেই এসব হামলার জন্য দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
কয়েক সপ্তাহ আগে বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন দফা ড্রোন হামলা চালানো হয়। সেখানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন ছিল। বর্তমানে ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
ফাইল ছবি: ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি এখন ভালো থাকলেও নিজ হাতে লিখতে পারছেন না কিংবা কিছু টাইপ করতে পারছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্কারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন রুশদি। বুকার পুরস্কারজয়ী এই লেখক গত বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার শিকার হন।
নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে ১০ থেকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর থেকে বেশ অসুস্থ ছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর উপন্যাস প্রকাশ উপলক্ষে আবারও আলোচনায় এসেছেন। তবে রুশদি শারীরিক অবস্থার কারণে উপন্যাসের প্রচারকাজে নিজে অংশ নিচ্ছেন না।
রুশদি বলেন, ‘আমি এখন একা দাঁড়াতে পারি এবং হাঁটতে পারি। আমি যখন বলছি, আমি ভালো আছি, এর মধ্য দিয়ে আমি এটাই বলছি, আমার শরীরের বিভিন্ন অংশ প্রতিনিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। এটা ভয়ংকর হামলা ছিল।’ নিউইয়র্কের ওই হামলার পর থেকে বেশ ভয়ের মধ্যেও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ নামক বইয়ের জন্য বুকার পুরস্কার জেতেন তিনি। তবে ১৯৮৮ সালে তাঁর চতুর্থ বই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর জন্য তাঁকে ৯ বছর লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যে বসবাসকালে বেশির ভাগ সময় তাঁকে সরকারের সুরক্ষা নিয়ে থাকতে হয়েছে। ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনে বিভিন্ন মহল। এটি প্রকাশের পর থেকে সালমান রুশদি হত্যার হুমকি পেয়ে আসছিলেন। বইটি প্রকাশের এক বছর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনি সালমান রুশদির মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেন। সেই সঙ্গে তাঁর মাথার দাম হিসেবে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সূত্র: প্রথম আলো