a
ফাইল ছবি
ইসরায়েলের সামরিক কারাগারে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যু সম্পর্কে ওই কর্মকর্তার পরিবারকে কোনো তথ্য দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় নিহত ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার পরিবারের লোকজন ইসরায়েলি সরকারের উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তারা বলছে, সরকার কতদূর পৌঁছেছে যে তারা তাদের কাছে এবং জনগণের কাছে এইসব তথ্য গোপন করছে।
নিহত কর্মকর্তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, ২০১৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেয়া তার সমস্ত পোস্ট ডিলিট করে দেয়া হয়েছে। ইসরায়েলের ইংরেজি পত্রিকা দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, কারাগারে নিহত এক কর্মকর্তার লাশ উধাও করে দেয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নিহত গোয়েন্দার এক আত্মীয় দৈনিক হারেৎজকে বলেছেন, আমরা কিছুই জানতে পারি নাই। প্রকৃতপক্ষে তার কি ঘটেছে আজ পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ তা ব্যাখ্যা করে বলেনি।
সামগ্রিকভাবে সেনাবাহিনীর আচরণে এটাই মনে হচ্ছে- যেন তারা অনেক কিছু গোপন করতে চাইছে। আর তাদের প্রশ্ন কিভাবে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার লাশ উধাও করে দেয়? সূত্র: পার্সটুডে
ফাইল ছবি
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অবরোধ সৃষ্টি করে ইহুদিবাদী ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে বলে মন্তব্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠক থেকে এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে ইইউ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল বলেন, গাজা উপত্যকার ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছে ব্রাসেলস। পাশাপাশি ধারণা করা হচ্ছে-চলমান এই সংকটের মধ্য দিয়ে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্দীপনা আসবে।
তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের বিষয়ে নতুন করে আলাপ-আলোচনা শুরুর সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি বৈঠক থেকে বলা হয়েছে, ব্যাপকভাবে বোমা ও বিমান হামলা চালিয়ে গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কর্মকাণ্ড থামিয়ে দেয়া যাবে না যারা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার জন্য আকাশ ও স্থলপথে ইসরায়েলে ঢুকে পড়েছে।
এর আগে জাতিসংঘ বলেছে, গাজার বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য পানি, বিদ্যুৎ ও খাদ্য বন্ধ করে দিয়ে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা আজ পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। দুই পক্ষের হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলছে।
বুধবার ফিলিস্তিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় ১০৫৫ ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। এছাড়াও আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৮৪ জনে।
অপরদিকে, হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০০ জনে। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭ জন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সকালে গাজা থেকে ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। কয়েক হাজার রকেট হামলা চালানোর পাশাপাশি ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে হত্যাকাণ্ড চালায় তারা। সূত্র : রয়টার্স।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: ২০০৯ - ২০২৪ সময়ে রাজনৈতিক ভাবে বৈষম্যের শিকার হওয়া বঞ্চিত সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অসংখ্য অফিসারদের দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তি সরকার ন্যায়বিচার প্রদানের লক্ষ্য একটি কমিটি গঠন করে। গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে, কমিটি তাদের রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেন। কিন্তু অত্যন্ত দুখ জনক ভাবে উক্ত রিপোর্টটি মিথ্যায় পরিপূর্ণ ও পুরাপুরি প্রহসন মুলক। বাস্তবে রিপোর্টটি সত্যের অপলাপ। কমিটি সংস্লিস্ট বঞ্চিত অফিসারদের না ডেকে, তাদের আবেদন বিবেচনা না করে উক্ত রিপোর্ট প্রদান করে বলে প্রায় ৬০০ অফিসার দাবি করেন।
কমিটির এই প্রহসন মূলক রিপোর্টের ফলস্রুতিতে কয়েকশত বঞ্চিত অফিসার দ্বিতীয়বার বঞ্চিত হবার আশংকা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় উক্ত অফিসারগন পক্ষ থেকে একটা টিম এর কারন জানার জন্য যোগাযোগ করে। এতে জানা যায় যে, কমিটি বাহিনী সদর দপ্তর থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় তাদের কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়নি। এমনকি কমিটির কার্যক্রমে চাকুরীরত সদস্যগন কোনভাবেই উপস্থিত হননি। কমিটি মূলত ইতোপূর্বে বাহিনী সদর দপ্তর কর্তৃক প্রেরিত সুপারিশ সমুহকেই পুনরায় সুপারিশ করেছে মর্মে জানা যায়। দু:খজনকভাবে বাহিনী সদর দপ্তরের সুপারিশে ফ্যাসিস্টদের সহযোগীরাই পুনরায় সুবিধা পেতে যাচ্ছে। আজ ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাস্টিস ফর কমরেডস আয়োজিত প্রোগ্রামে বক্তারা এই দাবি জানান।
এ প্রহসনের কারন হিসেবে উল্লেখ্য করা যায় যে পটপরিবর্তনের পরে অদ্যবধি বাহিনী সমুহে গুনগত সংস্কার না করায় ফ্যাসিস্ট এর দোসররাই এখানে বাহিনীসমূহ নিয়ন্য্রন করছে। এমনকি কমিটি তে নিযুক্ত সদস্যগনও ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগি। ফলে তাদের এই রিপোর্টটি পুরাপুরি পক্ষপাততুস্ট।
বক্তারা অভিযোগ করেন – কমিটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে যে তারা সকল আবেদনকারীর সাথে কথা বলেছেন/সাক্ষাতকার নিয়েছেন, অথচ বাস্তবে বেশিরভাগ বঞ্চিত অফিসারকে ডাকাই হয়নি। মূলত তাদের আবেদন বিবেচনাই করা হয়নি। সকল আবেদনকারীদের সাক্ষাতকার ছাড়া কমিটি পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেয়া এবং ‘সকল আবেদনকারীদের সাক্ষাতকারের মাধ্যমে সুপারিশ করা হয়েছে’ এইরূপ বক্তব্য সম্পূর্ন ভাবে মিথ্যা। বক্তাদের কাছে এটা প্রতিয়মান যে, বাহিনী সদর দপ্তর যেসব পছন্দনীয় ব্যক্তদেরকে সুপারিশ করেছিল, সরকার গঠিত কমিটিও তাদেরকেই সুপারিশ করেছে। এক্ষেত্রে ফ্যসিস্ট আমলে তৈরি করা অসত্য ডকুমেন্ট সমূহকেই তারা বিবেচনায় নিয়েছে। এই কাজে গোয়েন্দা সংস্থা সহ ইতোমধ্যে সুপারিশকৃত কিছু অফিসার কমিটিকে প্রভাবিত করে নিজেদের সুবিধা আরো বাড়িয়ে নিয়েছে।
সরকারের কাছে লেঃ জেনারেল হাফিজ এর কমিটি যে রিপোর্ট জমা করেছে তা বক্তারা প্রত্যাখ্যান করছে। বক্তারা জমাকৃত প্রতিবেদন স্থগিত বা বাতিল করার দাবি করেন। তারা সরকারের কাছে সকল আবেদনকারীদের জন্য কমিটির কার্যক্রম চালু রেখে অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মত আবেদনকরা বাকি ৬০০ অফিসার ও যারা এখনো আবেদন করতে পারেননি কিন্তু সত্যিকারভাবে বঞ্চিত তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।