a
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস বলেছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় স্থল হামলার ইসরায়েলি হুমকিতে তারা ভীত নয়। এসব হামলা প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত আছে।
গতকাল সোমবার হামাসের সামরিক শাখার মুখপাত্র আবু ওবাইদেহ এসব কথা বলেছেন।
টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে আবু ওবাইদেহ বলেন, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ব্যাপক হামলার পর হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জেদিন আল-কাসাম ব্রিগেড ২০০ জন ইসরায়েলিকে বন্দী করে। এ ছাড়া গাজার অন্যান্য প্রতিরোধ দলের হাতে প্রায় ৫০ জন ইসরায়েলি বন্দী আছে।
আবু ওবাইদেহ বলেন, ‘আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে স্থল হামলা শুরু করার বিষয়ে দখলদারেরা (ইসরায়েল) যে হুমকি দিয়েছে, তাতে আমরা ভীত নই। আমরা এর জন্য প্রস্তুত।’
গাজায় স্থল হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলা চালানোর জন্য তারা ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে হামাসের কাছ থেকে এই বক্তব্য এল।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগেরি গতকাল বলেন, ইসরায়েলের ১৯৯ নাগরিককে হামাস জিম্মি করেছে বলে তারা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছেন।
হামাসের সামরিক শাখার মুখপাত্র বলেছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তাঁরা বিদেশি বন্দীদের মুক্তি দেবেন।
আবু ওবাইদেহ জানান, গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ২২ জন ইসরায়েলি বন্দী নিহত হয়েছেন।
হামাসের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২ হাজার ৭৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরায়েলে হাজার হাজার রকেট ছোড়ে হামাস। একই সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হামলা চালান হামাসের যোদ্ধারা। এ সময় তাঁরা বিদেশি নাগরিকসহ অনেক ইসরায়েলিকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যান।
জবাবে ৭ অক্টোবর থেকেই পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে তারা গাজায় টানা বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। অবরুদ্ধ গাজায় দেখা দিয়েছে চরম মানবিক সংকট। সূত্র: প্রথম আলো
ফাইল ছবি: ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ও ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি
আজ দীর্ঘ ১০৮ দিন ধরে যুদ্ধ চলছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে। ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ড ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ইসরায়েল। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শান্তি বৈঠকে আজ সোমবার যোগ দিচ্ছেন ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তারা ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন।
চলমান গাজা যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে সর্বাঙ্গীণ শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে ইইউ। ব্রাসেলসে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়মিত বৈঠকে আলাদাভাবে অংশ নেবেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি ও ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।
বৈঠকটি প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুকে কেন্দ্র করে হলেও তাতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও স্থান পাবে বলে আশা করা যায়। ইইউর শান্তি বৈঠকে সৌদি আরব, মিশর ও জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অংশ নেবেন। এছাড়া আরব লীগের মহাসচিবও এই বৈঠকে যোগ দেবেন।
বৈঠকের আগে ইইউর কূটনৈতিক পরিষেবা বিভাগ জোটের ২৭ সদস্যের কাছে আলোচনাপত্র পাঠিয়েছে। আলোচনাপত্রে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনির মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। এর কেন্দ্রে আছে একটি ‘প্রস্তুতিমূলক শান্তি সম্মেলন’ আহ্বান করা। এর আয়োজক হিসেবে থাকবে ইইউ, মিশর, জর্ডান, সৌদি আরব ও আরব লীগ। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ইসরায়েল বা ফিলিস্তিন পক্ষ সম্মেলনে অনীহা থাকলেও সম্মেলনটি হবে। তবে সম্মেলনের আলোচনার প্রতিটি ধাপে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে বৈঠক সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ। সূত্র: রয়টার্স
ফাইল ছবি
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেডিক্যাল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ (ইসিফোরজে) প্রকল্পের আওতায় সহায়তা দেওয়া হবে ১৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এ অনুদান পাবে মেডিক্যাল অ্যান্ড পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (এমপিপিই) পণ্য সামগ্রী উৎপাদনে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলো। এ অনুদানের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ লাখ মার্কিন ডলার এবং সর্বনিম্ন ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রকল্পটিতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করছে।
রবিবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনলাইনে বলেন, মানুষের জীবন বাঁচাতে মেডিক্যাল পণ্যের এখন খুবই প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংক এগিয়ে এসেছে মেডিক্যাল পণ্য উৎপাদনে সহযোগিতা দিতে। এ অনুদানের মাধ্যমে উৎসাহিত হবে মেডিক্যাল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
তিনি বলেন, কেবল স্থানীয় বাজারের জন্য নয়, বৈদেশিক বাজারে রফতানির সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তারাও সুবিধা পাবেন এ কর্মসূচির মাধ্যমে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) উৎপাদন, ডায়াগনস্টিক ইক্যুইপমেন্ট ও ক্লিনিক্যাল ইকুইপমেন্ট তৈরিতে যুক্ত উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেমপন।