a
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য কতিপয় মূর্খ মানুষ দায়ী। এই সংঘাত বৃদ্ধির কারণে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়াতে আলোচনার মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধান জরুরি। নেভাদা অঙ্গরাজ্যে শনিবার ‘সেভ আমেরিকা’ শীর্ষক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। খবর উইওনের।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আমাদের পৃথিবীর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না কারণ ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে মূর্খ লোকদের কোনো ধারণা নেই। আমাদের অবশ্যই অবিলম্বে ইউক্রেনের যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ অবসানের জন্য আলোচনার দাবি জানাতে হবে। নয়তো আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে শেষ হয়ে যাব এবং আমাদের গ্রহের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। এর আগেও ট্রাম্প এই আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। একটি রেডিও শোতে তিনি বলেন, ইউক্রেনের সংঘাত অসাবধানতাবশত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, মানবসভ্যতার জন্য বিপর্যয়কর পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে বিশ্ব। বাইডেন সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া ছোট আকারের কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করলে দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। সেটা মানবসভ্যতাকে বিপর্যয়কর হুমকির (আরমাগেডন) মুখে ফেলবে। সূত্র: ইত্তেফাক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । ফাইল ছবি
প্রাথমিকভাবে ভোট গননায় অনেক ব্যবধানে এগিয়ে আছে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, ভোট প্রবণতায় ২০৮টি আসনে এগিয়ে আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। ১০০টি আসন পার করতে পারেনি বিজেপি। দলটি এগিয়ে ৮০ আসনে।
এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্রশান্ত কিশোরের দাবিই মিলতে চলেছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। রাজ্যে ভোটগ্রহণ হয়েছে ২৯২ আসনে। এর মধ্যে ২০৮ আসনে এগিয়ে ঘাসফুল শিবির। রাজ্যের সরকার গঠন করতে দরকার ১৪৮ টি আসন, যা ইতোমধ্যে অর্জন হয়ে গেছে তৃণমূলের।
ফাইল ছবি
সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা নেটওয়ার্কের অর্থনীতিবিদেরা এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করার পর ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা সুদের হার আরেক দফা বাড়ানোর কথা ভাবছেন।
গতকাল রবিবার এ নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের সঙ্গে নীতি-নির্ধারকরা অনির্ধারিত এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, পতনের ঝুঁকি ত্বরান্বিত হতে পারে সুদের হার বাড়ালেই। কারণ, তার ফলে সরকারি বন্ড এবং মর্টগেজ-বন্দকীর নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সম্পদের মূল্য কমে যাবে। এতে আমানতকারিদের পক্ষে স্বাভাবিক লেন-দেন চালিয়ে নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়তে পারে। এসব কারণেই সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক সংকটে পড়ে দেউলিয়া ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।
সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা নেটওয়ার্কের অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকের সম্পদের দাম একেবারে তলানিতে যাওয়ার ফলেই বীমাহীন আমানতকারিরা গচ্ছিত অর্থ দ্রুত সরিয়ে ফেলেন এবং ব্যাংকিং সিস্টেমকে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ১৮৬টি ব্যাংকও অনুরূপ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, যা ঠেকাতে সঠিক নীতিমালার কোন বিকল্প নেই। অর্থাৎ এসব ব্যাংকের পতন ঠেকাতে বেল আউটের মতো প্রক্রিয়া অবলম্বন তথা ফেডারেল সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
অর্থনীতি নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা বলেছেন, ‘কোনো ব্যাংকের আমানতকারিরা যদি খুব দ্রুত তাদের জমানো অর্ধেক অর্থ উইথড্র করেন, তাহলেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পতনের ঝুঁকিতে পড়ে।’
রবিবার প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং জায়েন্ট ইউবিএস বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টালমাটাল অবস্থার অবসানের অভিপ্রায়ে নীতি-নির্ধারকদের সমন্বয়ে একটি চুক্তির আওতায় প্রায় ৩.২৫ বিলিয়ন ডলারে কঠিন সংকটে পতিত ‘ক্রেডিট সুইস ব্যাংক’ কিনে নিচ্ছে। এটি ছিল ইউবিএসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী একটি ব্যাংক। ফেডারেল রিজার্ভ এবং আরো ৫টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোমবার থেকে শুরু হওয়া তাদের ডলারের ‘অদলবদল’ ব্যবস্থায় তারল্য বাড়ানোর জন্যে সমন্বিত পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।
ফেডারেল ব্যাংক অব কানাডা, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, ব্যাংক অব জাপান, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের সঙ্গে এই পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারপারসন জেরমি পাওয়েল বুধবার সুদের হার বৃদ্ধির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। গত বছরের ৮ বার সুদের হার বৃদ্ধির মতো আরেক দফা পদক্ষেপ নেবেন কি না সে সিদ্ধান্ত দেবেন।
জেরমি পাওয়েল ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রত্যাশিত ত্রৈমাসিক শতাংশের চেয়ে বেশি হার বাড়াতে পারেন। কারণ, মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশা অনুযায়ী হ্রাস পাচ্ছে না। অপরদিকে শ্রমবাজার শক্তিশালী রয়ে গেছে। তিনি সে ধারণা পোষণ করেছিলেন সিলিকন ভ্যালি এবং সিগন্যাচার ব্যাংক পতনের আগে।
গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার ফার্স্ট রিপাবলিকান ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ১১টি ব্যাংক থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি ঋণ নিয়েছে, আর এটি করা হয়েছে বাইডেন প্রশাসনের মধ্যস্থতায়।
ফার্স্ট রিপাবলিকান ব্যাংক কর্তপক্ষ দাবি করেছে যে, ঘনঘন সুদের হার বৃদ্ধি করায় ব্যাংকের সম্পদের মূল্য কমেছে। এতে করে আমানতকারিরা ভয় পেয়ে যায় এবং একাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ায় ব্যাংক পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে, বাইডেনের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বারবার দাবি করছেন যে, ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই কিন্তু অর্থনীতিবিদেরা দাবি করেন বাস্তবতা ভিন্ন। এর ফলে ছোট ও মাঝারি ধরনের সকল ব্যাংক থেকে গ্রাহকেরা আমানত উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র: বিডি প্রতিদিন